আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
الجامع الصحيح للبخاري
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৭৩ টি
হাদীস নং: ২৮৯১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৫. নবী (ﷺ)-এর বর্ম, লাঠি, তরবারী, পেয়ালা ও মোহর এবং তার পরবর্তী খলীফাগণ সে সব থেকে যা ব্যবহার করেছেন, আর তা যার বণ্টনের উল্লেখ করা হয়নি এবং তার চুল, পাদুকা ও পাত্র নবী (ﷺ)- এর ওফাতের পর তার সাহাবীগণ ও অন্যরা (বরকত হাসিলে) শরীক ছিলেন।
২৮৯১। সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ জারমী (রাহঃ) .... আলী ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, যখন তারা ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়ার নিকট থেকে হুসাইন (রাযিঃ)- এর শাহাদাতের পর মদীনায় আসলেন, তখন তাঁর সঙ্গে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) মিলিত হলেন এবং বললেন, আপনার কি আমার কাছে কোন প্রয়োজন আছে? তবে তা বলুন। তখন আমি তাঁকে বললাম, না। যখন মিসওয়ার (রাযিঃ) বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর তরবারীটি দিবেন? আমার আশঙ্কা হয়, লোকেরা আপনাকে কাবু করে তা ছিনিয়ে নিবে। আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাকে এটি দেন, তবে আমার জীবন থাকা পর্যন্ত কেউ আমার নিকট থেকে তা নিতে পারবে না।
একবার আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) ফাতিমা (রাযিঃ) থাকা অবস্থায় আবু জাহল কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেয়। আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে তাঁর মিঁম্বারে দাঁড়িয়ে লোকদের এ খুতবা দিতে শুনেছি, আর তখন আমি সাবালক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উক্ত ভাষণে) বললেন, ‘ফাতিমা আমার থেকে (অতি আদরের)। আমি আশঙ্কা করছি সে দ্বীনের ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে পড়ে।’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আব্দে শামস গোত্রের এক জামাতার প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর জামাতা সম্পর্কে প্রশংসা করেন এবং বলেন, সে আমার সঙ্গে যা বলেছে, তা সত্য বলেছে, আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছে, তা পূরণ করেছে। আমি হালালকে হারামকারী নই এবং হারামকে হালালকারী নই। কিন্তু আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা একত্রিত হতে পারে না।
একবার আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) ফাতিমা (রাযিঃ) থাকা অবস্থায় আবু জাহল কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেয়। আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে তাঁর মিঁম্বারে দাঁড়িয়ে লোকদের এ খুতবা দিতে শুনেছি, আর তখন আমি সাবালক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উক্ত ভাষণে) বললেন, ‘ফাতিমা আমার থেকে (অতি আদরের)। আমি আশঙ্কা করছি সে দ্বীনের ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে পড়ে।’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আব্দে শামস গোত্রের এক জামাতার প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর জামাতা সম্পর্কে প্রশংসা করেন এবং বলেন, সে আমার সঙ্গে যা বলেছে, তা সত্য বলেছে, আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছে, তা পূরণ করেছে। আমি হালালকে হারামকারী নই এবং হারামকে হালালকারী নই। কিন্তু আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা একত্রিত হতে পারে না।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا ذُكِرَ مِنْ دِرْعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَصَاهُ وَسَيْفِهِ وَقَدَحِهِ وَخَاتَمِهِ وَمَا اسْتَعْمَلَ الْخُلَفَاءُ بَعْدَهُ مِنْ ذَلِكَ مِمَّا لَمْ يُذْكَرْ قِسْمَتُهُ، وَمِنْ شَعَرِهِ وَنَعْلِهِ وَآنِيَتِهِ، مِمَّا يَتَبَرَّكُ أَصْحَابُهُ وَغَيْرُهُمْ بَعْدَ وَفَاتِهِ
3110 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الجَرْمِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَنَّ الوَلِيدَ بْنَ كَثِيرٍ، حَدَّثَهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدُّؤَلِيِّ، حَدَّثَهُ أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ حُسَيْنٍ، حَدَّثَهُ: أَنَّهُمْ حِينَ قَدِمُوا المَدِينَةَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَقْتَلَ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، لَقِيَهُ المِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ، فَقَالَ لَهُ: هَلْ لَكَ إِلَيَّ مِنْ حَاجَةٍ تَأْمُرُنِي بِهَا؟ فَقُلْتُ لَهُ: لاَ، فَقَالَ لَهُ: فَهَلْ أَنْتَ مُعْطِيَّ سَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَغْلِبَكَ القَوْمُ عَلَيْهِ، وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ أَعْطَيْتَنِيهِ، لاَ يُخْلَصُ إِلَيْهِمْ أَبَدًا حَتَّى تُبْلَغَ نَفْسِي، إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ خَطَبَ ابْنَةَ أَبِي جَهْلٍ عَلَى فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ، فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ عَلَى مِنْبَرِهِ هَذَا وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مُحْتَلِمٌ، فَقَالَ: «إِنَّ فَاطِمَةَ مِنِّي، وَأَنَا أَتَخَوَّفُ أَنْ تُفْتَنَ فِي دِينِهَا» ، ثُمَّ ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ، فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِهِ إِيَّاهُ، قَالَ: «حَدَّثَنِي، فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَوَفَى لِي، وَإِنِّي لَسْتُ أُحَرِّمُ حَلاَلًا، وَلاَ أُحِلُّ حَرَامًا، وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ أَبَدًا»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৮৯২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১১ - ৩১১২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৫. নবী (ﷺ)-এর বর্ম, লাঠি, তরবারী, পেয়ালা ও মোহর এবং তার পরবর্তী খলীফাগণ সে সব থেকে যা ব্যবহার করেছেন, আর তা যার বণ্টনের উল্লেখ করা হয়নি এবং তার চুল, পাদুকা ও পাত্র নবী (ﷺ)- এর ওফাতের পর তার সাহাবীগণ ও অন্যরা (বরকত হাসিলে) শরীক ছিলেন।
২৮৯২। কুতাইবা (রাহঃ) .... ইবনে হানাফিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) যদি উসমান (রাযিঃ)- এর সমালোচনা করতেন, তবে সেদিনই করতেন, যেদিন তাঁর নিকট কিছু লোক এসে উসমান (রাযিঃ) কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত উসূলকারী কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। আলী (রাযিঃ) আমাকে জানিয়েছেন, উসমান (রাযিঃ)- এর নিকট যাও এবং তাঁকে সংবাদ দাও যে, এটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর ফরমান। কাজেই আপনার কর্মচারীদের কাজ করার আদেশ দিন। তারা যেন সে অনুসারে কাজ করে। তা নিয়ে আমি তাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমার এটির দরকার নেই। তারপর আমি তা নিয়ে আলী (রাযিঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি। তখন তিনি বললেন, এটি যেখান থেকে নিয়েছ সেখানে রেখে দাও।
হুমাইদী (রাহঃ) .... ইবনে হানাফিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি উসমান (রাযিঃ)- এর কাছে নিয়ে যাও, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্কা (যাকাত) সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।
হুমাইদী (রাহঃ) .... ইবনে হানাফিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, আমাকে পাঠিয়ে বলেন, এ ফরমানটি নাও এবং এটি উসমান (রাযিঃ)- এর কাছে নিয়ে যাও, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্কা (যাকাত) সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا ذُكِرَ مِنْ دِرْعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَصَاهُ وَسَيْفِهِ وَقَدَحِهِ وَخَاتَمِهِ وَمَا اسْتَعْمَلَ الْخُلَفَاءُ بَعْدَهُ مِنْ ذَلِكَ مِمَّا لَمْ يُذْكَرْ قِسْمَتُهُ، وَمِنْ شَعَرِهِ وَنَعْلِهِ وَآنِيَتِهِ، مِمَّا يَتَبَرَّكُ أَصْحَابُهُ وَغَيْرُهُمْ بَعْدَ وَفَاتِهِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ مُنْذِرٍ، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ لَوْ كَانَ عَلِيٌّ ـ رضى الله عنه ـ ذَاكِرًا عُثْمَانَ ـ رضى الله عنه ـ ذَكَرَهُ يَوْمَ جَاءَهُ نَاسٌ فَشَكَوْا سُعَاةَ عُثْمَانَ، فَقَالَ لِي عَلِيٌّ اذْهَبْ إِلَى عُثْمَانَ فَأَخْبِرْهُ أَنَّهَا صَدَقَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمُرْ سُعَاتَكَ يَعْمَلُونَ فِيهَا. فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ أَغْنِهَا عَنَّا. فَأَتَيْتُ بِهَا عَلِيًّا فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ضَعْهَا حَيْثُ أَخَذْتَهَا.
قَالَ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ، قَالَ سَمِعْتُ مُنْذِرًا الثَّوْرِيَّ، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ أَرْسَلَنِي أَبِي، خُذْ هَذَا الْكِتَابَ فَاذْهَبْ بِهِ إِلَى عُثْمَانَ، فَإِنَّ فِيهِ أَمْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّدَقَةِ.
قَالَ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ، قَالَ سَمِعْتُ مُنْذِرًا الثَّوْرِيَّ، عَنِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، قَالَ أَرْسَلَنِي أَبِي، خُذْ هَذَا الْكِتَابَ فَاذْهَبْ بِهِ إِلَى عُثْمَانَ، فَإِنَّ فِيهِ أَمْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّدَقَةِ.
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৮৯৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে আকস্মিক প্রয়োজনাদি ও অভাবগ্রস্তদের জন্য গনীমতের এক পঞ্চমাংশ। যখন ফাতিমা (রাযিঃ) তার নিকট আটা পিষার কষ্টের কথা জানিয়ে বন্দীদের থেকে তার খেদমতের জন্য দাসী চাইলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহলে সুফফা ও বিধবাদের অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তাকে আল্লাহর সোপর্দ করেন
২৮৯৩। বদল ইবনে মুহাব্বার (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাযিঃ) আটা পিষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতিমা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এসে একজন খাদিম চাইলেন। তিনি তাঁকে পেলেন না, তখন তিনি তা আয়িশা (রাযিঃ)- এর কাছে উল্লেখ করেন। তারপর নবী (ﷺ) এলে আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর কাছে বিষয়টি বললেন। (রাবী বলেন) নবী (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন। তখন আমরা শয্যা গ্রহণ করেছিলাম। আমরা উঠতে উদ্যত হলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চাইতে উত্তম বস্তুর সন্ধান দিব না? (তিনি বললেন) যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহ আকবার’ তেত্রিশবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং তেত্রিশবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এ-ই তোমাদের জন্য তার চাইতে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ।
كتاب الجهاد والسير
باب الدَّلِيلِ عَلَى أَنَّ الْخُمُسَ لِنَوَائِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمَسَاكِينِ وَإِيثَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلَ الصُّفَّةِ وَالأَرَامِلَ حِينَ سَأَلَتْهُ فَاطِمَةُ وَشَكَتْ إِلَيْهِ الطَّحْنَ وَالرَّحَى أَنْ يُخْدِمَهَا مِنَ السَّبْيِ، فَوَكَلَهَا إِلَى اللَّهِ
3113 - حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ المُحَبَّرِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي الحَكَمُ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، أَنَّ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلاَمُ اشْتَكَتْ مَا تَلْقَى مِنَ الرَّحَى مِمَّا تَطْحَنُ، فَبَلَغَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِسَبْيٍ، فَأَتَتْهُ تَسْأَلُهُ خَادِمًا، فَلَمْ تُوَافِقْهُ، فَذَكَرَتْ لِعَائِشَةَ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ لَهُ، فَأَتَانَا، وَقَدْ دَخَلْنَا مَضَاجِعَنَا، فَذَهَبْنَا لِنَقُومَ، فَقَالَ: «عَلَى مَكَانِكُمَا» . حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِي، فَقَالَ: «أَلاَ أَدُلُّكُمَا عَلَى خَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ، إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَبِّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلاَثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمَا مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (সূরা আনফাল ৮:৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসুলেরই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি বণ্টনকারী ও হেফাজতকারী আর আল্লাহ তাআলাই দিয়ে থাকেন
২৮৯৪। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের আনসারীর এক ব্যক্তির একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করল। মনসুর (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শুবা বলেন, সে আনসারী বলল, আমি তাকে আমার ঘাড়ে তুলে নিয়ে নবী (ﷺ)- এর কাছে এলাম। আর সুলাইমান (রাহঃ) হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তখন সে তার নাম মুহাম্মাদ রাখার ইচ্ছা করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনিয়াতের অনুরূপ কুনিয়াত রেখ না। আমাকে বণ্টনকারী করা হয়েছে। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর হুসাইন (রাহঃ) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি বণ্টনকারীরূপে প্রেরিত হয়েছি। আমি তোমাদের মধ্যে বণ্টন করি।’ আর আমর (রাযিঃ) জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, সে ব্যক্তি তার সন্তানের নাম কাসিম রাখতে চেয়েছিল, তখন নবী (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা আমার নামে নাম রাখ, আমার কুনিয়াতের অনুরূপ কুনিয়াত রেখ না।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41] " يَعْنِي: لِلرَّسُولِ قَسْمَ ذَلِكَ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَخَازِنٌ وَاللَّهُ يُعْطِي
3114 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، وَمَنْصُورٍ، وَقَتَادَةَ، سَمِعُوا سَالِمَ بْنَ أَبِي الجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا مِنَ الأَنْصَارِ غُلاَمٌ، فَأَرَادَ أَنْ يُسَمِّيَهُ مُحَمَّدًا، - قَالَ شُعْبَةُ فِي حَدِيثِ مَنْصُورٍ: إِنَّ الأَنْصَارِيَّ قَالَ: حَمَلْتُهُ عَلَى عُنُقِي، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَفِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ، وُلِدَ لَهُ غُلاَمٌ، فَأَرَادَ أَنْ يُسَمِّيَهُ مُحَمَّدًا -، قَالَ: «سَمُّوا بِاسْمِي، وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنِّي إِنَّمَا جُعِلْتُ قَاسِمًا أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ» ، وَقَالَ حُصَيْنٌ: «بُعِثْتُ قَاسِمًا أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ» ، قَالَ عَمْرٌو: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ سَالِمًا، عَنْ جَابِرٍ، أَرَادَ أَنْ يُسَمِّيَهُ القَاسِمَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَمُّوا بِاسْمِي وَلاَ تَكْتَنُوا بِكُنْيَتِي»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (সূরা আনফাল ৮:৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসুলেরই।
২৮৯৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে একজনের পুত্র সন্তান জন্ম হয়। সে তার নাম রাখল কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনিয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। সে ব্যক্তি নবী (ﷺ)- এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। আমি তার নাম রেখেছি কাসিম। তখন আনসারগণ বললেন, আমরা তোমাকে আবুল কাসিম কুনিয়াত ব্যবহার করতে দিব না এবং এর দ্বারা তোমার চক্ষু শীতল করব না। নবী (ﷺ) বললেন, ‘আনসারগণ ভালই করেছে। তোমরা আমার নামে রাখ, কিন্তু কুনিয়াত ব্যবহার কর না। কেননা, আমি তো কাসিম (বণ্টনকারী)।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41]
3115 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ قَالَ: وُلِدَ لِرَجُلٍ مِنَّا غُلاَمٌ فَسَمَّاهُ القَاسِمَ، فَقَالَتِ الأَنْصَارُ لاَ نَكْنِيكَ أَبَا القَاسِمِ، وَلاَ نُنْعِمُكَ عَيْنًا، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:85] فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وُلِدَ لِي غُلاَمٌ، فَسَمَّيْتُهُ القَاسِمَ فَقَالَتِ الأَنْصَارُ: لاَ نَكْنِيكَ أَبَا القَاسِمِ، وَلاَ نُنْعِمُكَ عَيْنًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحْسَنَتِ الأَنْصَارُ، سَمُّوا بِاسْمِي وَلاَ تَكَنَّوْا بِكُنْيَتِي، فَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (সূরা আনফাল ৮:৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসুলেরই।
২৮৯৬। হিব্বান ইবনে মুসা (রাহঃ) .... মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মত সর্বদা তাদের প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর আদেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত আর তারা থাকবে বিজয়ী।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41]
3116 - حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَاللَّهُ المُعْطِي وَأَنَا القَاسِمُ، وَلاَ تَزَالُ هَذِهِ الأُمَّةُ ظَاهِرِينَ عَلَى مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ، وَهُمْ ظَاهِرُونَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (সূরা আনফাল ৮:৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসুলেরই।
২৮৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিতও করি না। আমি তো কেবল বণ্টনকারী, যেভাবে আদিষ্ট হই, সেভাবে ব্যয় করি।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41]
3117 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، حَدَّثَنَا هِلاَلٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أُعْطِيكُمْ وَلاَ أَمْنَعُكُمْ، إِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ أَضَعُ حَيْثُ أُمِرْتُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৭. আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয় এক পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের। (সূরা আনফাল ৮:৪১) তা বণ্টনের ইখতিয়ার রাসুলেরই।
২৮৯৮। আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) .... খাওলাহ আনসারীয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি যে, কিছু লোক আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যয় করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ} [الأنفال: 41]
3118 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَيَّاشٍ وَاسْمُهُ نُعْمَانُ عَنْ خَوْلَةَ الأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ القِيَامَةِ»
হাদীস নং: ২৮৯৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩১১৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যুদ্ধে লভ্য বিপুল সম্পদের, যার অধিকারী হবে তোমরা। তিনি তা তোমাদের জন্য ত্বরান্বিত করেছিলেন (সূরা ফাতহঃ ২০) [আয়াতের শেষ পর্যন্ত] গনীমত সাধারণ মুসলমানের জন্য ছিল কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা ব্যাখ্যা করে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন (যোদ্ধাদের জন্য)
২৮৯৯। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উরওয়া আল বারেকী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, ঘোড়ার কপালে উপরিভাগের কেশগুচ্ছ বাঁধা রয়েছে কল্যাণ, সাওয়াব ও গনীমত কিয়ামত পর্যন্ত।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ» وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا، فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ} [الفتح: 20] «وَهِيَ لِلْعَامَّةِ حَتَّى يُبَيِّنَهُ الرَّسُولُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
3119 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ البَارِقِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «الخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الخَيْرُ الأَجْرُ، وَالمَغْنَمُ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৯০০
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
২৯০০। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন কিসরা ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপর আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধ্বংস হয়ে যাবে, তারপর আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তোমরা অবশ্যই ব্যয় করবে উভয় সাম্রাজ্যের ধন ভাণ্ডার আল্লাহর পথে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ»
3120 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
২৯০১। ইসহাক (রাহঃ) .... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন কিসরা ধংস হয়ে যাবে তারপর আর কোন কিসরা হবে না। আর যখন কায়সার ধংস হয়ে যাবে তারপরে আর কোন কায়সার হবে না, যার হাতে আমার প্রান তার কসম, অবশ্যই ব্যয় হবে উভয় সাম্রাজ্যের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ»
3121 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، سَمِعَ جَرِيرًا، عَنْ عَبْدِ المَلِكِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
২৯০২। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ»
3122 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ الفَقِيرُ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لِي الغَنَائِمُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
২৯০৩। ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং তাঁরই বাণীর প্রতি দৃঢ় আস্থায় তাঁরই পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহ তার জিম্মা গ্রহণ করেছেন, হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সে যে সাওয়াব ও গনীমত অর্জন করেছে তা সহ তাকে ঘরে ফিরাবেন, যেখান থেকে সে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ»
3123 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ [ص:86]: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «تَكَفَّلَ اللَّهُ لِمَنْ جَاهَدَ فِي سَبِيلِهِ، لاَ يُخْرِجُهُ إِلَّا الجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ، وَتَصْدِيقُ كَلِمَاتِهِ بِأَنْ يُدْخِلَهُ الجَنَّةَ، أَوْ يَرْجِعَهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ، مَعَ مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৮. নবী (ﷺ)- এর বাণীঃ তোমাদের জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে।
২৯০৪। মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন একজন নবী জিহাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, এমন কোন ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে না, যে কোন মহিলাকে বিবাহ করেছে এবং তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা রাখে, কিন্তু সে এখনো মিলিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও না যে ঘর তৈরী করেছে কিন্তু তার ছাদ তোলেনি। আর এমন ব্যক্তিও না যে গর্ভবতী ছাগল বা উটনী কিনেছে এবং সে তার প্রসবের অপেক্ষা করছে। তারপর তিনি জিহাদে গেলেন এবং আসরের নামাযের সময় কিংবা এর কাছাকাছি সময়ের একটি জনপথের নিকটবর্তী হলেন। তখন তিনি সূর্যকে বললেন, তুমিও আদিষ্ট আর আমিও আদিষ্ট। ইয়া আল্লাহ! সূর্যকে থামিয়ে দিন। তখন তাকে থামিয়ে দেওয়া হল। অবশেষে আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করেন।
এরপর তিনি গনীমত একত্রিত করলেন। তখন সেগুলি জ্বালিয়ে দিতে আগুন এল কিন্তু আগুন তা জ্বালালো না। নবী (ﷺ) তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে (গনীমতের) আত্মসাতকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন যেন আমার কাছে বাইআত করে। সে সময় একজনের হাত নবীর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেেই আত্মসাৎ রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের লোকেরা যেন আমার কাছে বাইআত করে। এ সময় দু’ব্যক্তির বা তিন ব্যক্তির হাত তাঁর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎ রয়েছে। অবশেষে তারা একটি গাভীর মস্তক সমতুল্য স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। তারপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। এরপর আল্লাহ আমাদের জন্য গনীমত হালাল করে দিলেন এবং আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা লক্ষ্য করে আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।
এরপর তিনি গনীমত একত্রিত করলেন। তখন সেগুলি জ্বালিয়ে দিতে আগুন এল কিন্তু আগুন তা জ্বালালো না। নবী (ﷺ) তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে (গনীমতের) আত্মসাতকারী রয়েছে। প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন যেন আমার কাছে বাইআত করে। সে সময় একজনের হাত নবীর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেেই আত্মসাৎ রয়েছে। কাজেই তোমার গোত্রের লোকেরা যেন আমার কাছে বাইআত করে। এ সময় দু’ব্যক্তির বা তিন ব্যক্তির হাত তাঁর হাতের সঙ্গে আটকে গেল। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎ রয়েছে। অবশেষে তারা একটি গাভীর মস্তক সমতুল্য স্বর্ণ উপস্থিত করল এবং তা রেখে দিল। তারপর আগুন এসে তা জ্বালিয়ে ফেলল। এরপর আল্লাহ আমাদের জন্য গনীমত হালাল করে দিলেন এবং আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা লক্ষ্য করে আমাদের জন্য তা হালাল করে দিলেন।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُحِلَّتْ لَكُمُ الغَنَائِمُ»
3124 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ العَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " غَزَا نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ، فَقَالَ لِقَوْمِهِ: لاَ يَتْبَعْنِي رَجُلٌ مَلَكَ بُضْعَ امْرَأَةٍ، وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَبْنِيَ بِهَا؟ وَلَمَّا يَبْنِ بِهَا، وَلاَ أَحَدٌ بَنَى بُيُوتًا وَلَمْ يَرْفَعْ سُقُوفَهَا، وَلاَ أَحَدٌ اشْتَرَى غَنَمًا أَوْ خَلِفَاتٍ وَهُوَ يَنْتَظِرُ وِلاَدَهَا، فَغَزَا فَدَنَا مِنَ القَرْيَةِ صَلاَةَ العَصْرِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ، فَقَالَ لِلشَّمْسِ: إِنَّكِ مَأْمُورَةٌ وَأَنَا مَأْمُورٌ اللَّهُمَّ احْبِسْهَا عَلَيْنَا، فَحُبِسَتْ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ، فَجَمَعَ الغَنَائِمَ، فَجَاءَتْ يَعْنِي النَّارَ لِتَأْكُلَهَا، فَلَمْ تَطْعَمْهَا فَقَالَ: إِنَّ فِيكُمْ غُلُولًا، فَلْيُبَايِعْنِي مِنْ كُلِّ قَبِيلَةٍ رَجُلٌ، فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلٍ بِيَدِهِ، فَقَالَ: فِيكُمُ الغُلُولُ، فَلْيُبَايِعْنِي قَبِيلَتُكَ، فَلَزِقَتْ يَدُ رَجُلَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ بِيَدِهِ، فَقَالَ: فِيكُمُ الغُلُولُ، فَجَاءُوا بِرَأْسٍ مِثْلِ رَأْسِ بَقَرَةٍ مِنَ الذَّهَبِ، فَوَضَعُوهَا، فَجَاءَتِ النَّارُ، فَأَكَلَتْهَا ثُمَّ أَحَلَّ اللَّهُ لَنَا الغَنَائِمَ رَأَى ضَعْفَنَا، وَعَجْزَنَا فَأَحَلَّهَا لَنَا "
হাদীস নং: ২৯০৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪৯. গনীমত তাদের জন্য, যারা অভিযানে হাযির হয়েছে
২৯০৫। সাদ্কা (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ)- এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, যদি পরবর্তী মুসলিমদের ব্যাপার না হতো, তবে যে জনপদই বিজিত হতো, তাই আমি সেই জনপদবাসীদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম, যেমন নবী (ﷺ) খায়বার এলাকা বণ্টন করে দিয়েছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْغَنِيمَةُ لِمَنْ شَهِدَ الْوَقْعَةَ
3125 - حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «لَوْلاَ آخِرُ المُسْلِمِينَ، مَا فَتَحْتُ قَرْيَةً إِلَّا قَسَمْتُهَا بَيْنَ أَهْلِهَا، كَمَا قَسَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫০. যে ব্যক্তি গনীমতের উদ্দেশে জিহাদ করে তার সাওয়াব কি কম হবে?
২৯০৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক বেদুঈন নবী (ﷺ)- এর নিকট প্রশ্ন করল যে, কেউ যুদ্ধ করে গনীমতের জন্য, কেউ যুদ্ধ করে জনসাধারণ্যে খ্যতি লাভের উদ্দেশ্যে আর যুদ্ধ করে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য, এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করল?’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা বুলন্দ থাকার উদ্দেশ্যে জিহাদ করে, সেই আল্লাহর রাহে জিহাদকারী।’
كتاب الجهاد والسير
باب مَنْ قَاتَلَ لِلْمَغْنَمِ هَلْ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِه
3126 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ أَعْرَابِيٌّ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِلْمَغْنَمِ، وَالرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ، وَيُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ، مَنْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ: «مَنْ قَاتَلَ، لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ العُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
হাদীস নং: ২৯০৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫১. ইমামের নিকট যা আসে, তা বন্টন করা এবং যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয় নি কিংবা যে দূরে আছে তার জন্য রেখে দেওয়া
২৯০৭। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওহহাব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মূলায়কা (রহ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)- কে সোনালী কারুকার্য খচিত কিছু রেশমী কাবা জাতীয় পোশাক হাদীয়া দেয়া হল। তিনি তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কয়েকজনকে তা বণ্টন করে দেন এবং তা থেকে একটি কাবা মাখরামা ইবনে নাওফল (রাযিঃ)-এর জন্য আলাদা করে রাখেন। তারপর মাখরামা (রাযিঃ) তাঁর পুত্র মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ)- কে সাথে নিয়ে এসে দরজায় দাঁড়ালেন আর (পুত্রকে) বললেন, তাঁকে আমার জন্য আহবান কর। তখন নবী (ﷺ) তাঁর আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি একটি কাবা নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন। আর এর কারুকার্য খচিত অংশ তাঁর সামনে তুলে ধরে বললেন, হে আবুল মিসওয়ার! আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি। আমি এটি তোমার জন্য রেখে দিয়েছি। আর মাখরামা (রাযিঃ)- এর স্বভাবে কিছুটা রুঢ়তা ছিল।
এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনে উলাইয়া (রাহঃ)-ও আইয়ুব (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাতিম ইবনে ওয়ারদান (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব (রাহঃ) ইবনে আবু মুলায়কা (রাহঃ) সূত্রে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে কয়েকটি কাবা জাতীয় পোশাক এসেছিল। (বাকী অংশ আগের মত) লাইস (রাহঃ) ইবনে আবু মূলাইকা (রাহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আইয়ুব (রাহঃ)- এর অনুসরণ করেছেন।
এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনে উলাইয়া (রাহঃ)-ও আইয়ুব (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাতিম ইবনে ওয়ারদান (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব (রাহঃ) ইবনে আবু মুলায়কা (রাহঃ) সূত্রে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে কয়েকটি কাবা জাতীয় পোশাক এসেছিল। (বাকী অংশ আগের মত) লাইস (রাহঃ) ইবনে আবু মূলাইকা (রাহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আইয়ুব (রাহঃ)- এর অনুসরণ করেছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب قِسْمَةِ الإِمَامِ مَا يَقْدَمُ عَلَيْهِ، وَيَخْبَأُ لِمَنْ لَمْ يَحْضُرْهُ أَوْ غَابَ عَنْهُ
3127 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُهْدِيَتْ لَهُ أَقْبِيَةٌ مِنْ دِيبَاجٍ، مُزَرَّرَةٌ بِالذَّهَبِ، فَقَسَمَهَا فِي نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، وَعَزَلَ مِنْهَا وَاحِدًا لِمَخْرَمَةَ بْنِ نَوْفَلٍ، فَجَاءَ وَمَعَهُ ابْنُهُ المِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ، فَقَامَ عَلَى البَابِ، فَقَالَ: ادْعُهُ لِي، فَسَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَهُ، فَأَخَذَ قَبَاءً، فَتَلَقَّاهُ بِهِ، وَاسْتَقْبَلَهُ بِأَزْرَارِهِ، فَقَالَ: «يَا أَبَا المِسْوَرِ [ص:87] خَبَأْتُ هَذَا لَكَ، يَا أَبَا المِسْوَرِ خَبَأْتُ هَذَا لَكَ» ، وَكَانَ فِي خُلُقِهِ شِدَّةٌ، وَرَوَاهُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَقَالَ حَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ المِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَدِمَتْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبِيَةٌ، تَابَعَهُ اللَّيْثُ، عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫২. নবী (ﷺ) কিরূপে বনু কুরায়যা ও বনু নাযীরের ধন-সম্পদ বন্টন করেছেন এবং প্রয়োজনে কিভাবে ব্যয় করেছেন?
২৯০৮। আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর জন্য কিছু খেজুর গাছ নির্দিষ্ট করতেন কুরায়যা ও নাযীরের উপর বিজয় লাভ করা পর্যন্ত। তারপর তিনি সে গাছগুলো তাদের ফেরত দিয়ে দেন।
كتاب الجهاد والسير
باب كَيْفَ قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرَ، وَمَا أَعْطَى مِنْ ذَلِكَ فِي نَوَائِبِهِ
3128 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: «كَانَ الرَّجُلُ يَجْعَلُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّخَلاَتِ، حَتَّى افْتَتَحَ قُرَيْظَةَ، وَالنَّضِيرَ، فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ يَرُدُّ عَلَيْهِمْ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩১২৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫৩. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও ইসলামী শাসকদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী যোদ্ধাদের সম্পদে, জীবনে ও মৃত্যুর পরে যে বরকত সৃষ্টি হয়েছে
২৯০৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উষ্ট্রযুদ্ধের দিন যুবাইর (রাযিঃ) যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান গ্রহণ করে আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে বললেন, হে পুত্র! আজকের দিন জালিম অথবা মাযলুম ব্যতীত কেউ নিহত হবে না। আমার মনে হয়, আমি আজ মাযলুম হিসেবে নিহত হব। আর আমি আমার ঋণ সম্পর্কে বেশী চিন্তিত। তুমি কি মনে কর যে, আমার ঋণ আদায় করার পর আমার সম্পদে কিছু অবশিষ্ট থাকবে? তারপর তিনি বললেন, হে পুত্র! আমার সম্পদ বিক্রয় করে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও। তিনি এক তৃতীয়াংশের ওসীয়্যাত করেন। আর সেই এক তৃতীয়াংশের এক তৃতীয়াংশ ওসীয়্যাত করেন। তাঁর (আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের) পুত্রদের জন্য তাঁর অর্থাৎ আব্দুল্লাহ, তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশকে তিন ভাগে বিভক্ত করবে ঋণ পরিশোধ করার পর যদি আমার সম্পদের কিছু উদ্ধৃত্ত থাকে, তবে তার এক তৃতীয়াংশ তোমার পুত্রদের জন্য।
হিশাম (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর কোন কোন পুত্র যুবাইর (রাযিঃ)-এর পুত্রদের সমবয়সী ছিলেন। যেমন খুবাইব ও আব্বাদ। আর মৃত্যুকালে তাঁর নয় পুত্র ও নয় কন্যা ছিল। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাকে তাঁর ঋণ সম্পর্কে ওসীয়্যাত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, হে পুত্র! যদি এ সবের কোন বিষয়ে তুমি অক্ষম হও, তবে এ ব্যাপারে আমার মাওলার সাহায্য চাইবে। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারি নি যে, তিনি মাওলা দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করেছেন। অবশেষে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে পিতা! আপনার মাওলা কে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখনই তাঁর ঋণ আদায়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনই বলেছি, হে যুবাইরের মাওলা! তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর ঋণ আদায় করে দিন। আর তাঁর করয শোধ হয়ে যেত।
এরপর যুবাইর (রাযিঃ) শহীদ হলেন এবং তিনি নগদ কোন দীনার রেখে যাননি আর না কোন দিরহাম। তিনি কিছু জমি রেখে যান যার মধ্যে একটি হল গাবা। আরো রেখে যান মদীনায় এগারোটি বাড়ী, বসরায় দু’টি, কূফায় একটি ও মিসরে একটি। আবুদল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর নিকট কেউ যখন কোন মাল আমানত রাখতে আসতো তখন যুবাইর (রাযিঃ) বলতেন, না, এভাবে নয়’ তুমি তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে রেখে যাও। কেননা, আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যুবাইর (রাযিঃ) কখনো কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা বা কর আদায়কারী অথবা অন্য কোন কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অবশ্য তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গী হয়ে অথবা আবু বকর, উমর ও উসমান (রাযিঃ)- এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি তাঁর ঋণের পরিমাণ হিসাব করলাম এবং দেখলাম তাঁর ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ পেলাম। রাবী বলেন, সাহাবী হাকিম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বলেন, হে ভাতিজা। বল তো আমার ভাইয়ের কত ঋণ আছে? তিনি তা প্রকাশ না করে বললেন, এক লাখ। তখন হাকিম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সম্পদ দ্বারা এ পরিমাণ ঋণ শোধ হতে পারে, আমি এরূপ মনে করি না। তখন আবুদল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তাকে বললেন, যদি ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ হয়, তবে কি ধারণা করেন? হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) বললেন, আমি মনে করি না যে, তোমরা এর সামর্থ রাখ। যদি তোমরা এ বিষয়ে অক্ষম হও, তবে আমার সহযোগীতা গ্রহণ করবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, যুবাইর (রাযিঃ) গাবাস্থিত ভূমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। আর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর নিকট কারা পাওনাদার রয়েছে, তারা আমার সঙ্গে গাবায় এসে মিলিত হবে। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) তাঁর নিকট এলেন। যুবাইর (রাযিঃ)- এর নিকট তাঁর চার লাখ পাওনা ছিল। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-কে বললেন, তোমরা চাইলে আমি তা তোমাদের জন্য ছেড়ে দিব। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) বললেন, যদি তোমরা তা পরে দিতে চাও, তবে তা পরে পরিশোধের অন্তর্ভুক্ত করতে পার। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) বললেন, তবে আমাকে এক টুকরা ভূমি দাও। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত জমি আপনার।
রাবী বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) গাবার জমি থেকে বিক্রয় করে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করেন। তখনও তাঁর নিকট গাবার জমির সাড়ে চার অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। তারপর তিনি মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর কাছে এলেন। সে সময় তাঁর কাছে আমর ইবনে উসমান, মুনযির ইবনে যুবাইর ও আব্দুল্লাহ ইবনে যামআ (রাযিঃ) উপস্থিত ছিলেন। মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, গাবার মূল্য কত নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক অংশ এক লাখ হারে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কত অবশিষ্ট আছে? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, সাড়ে চার অংশ। তখন মুনযির ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, আমি এক অংশ এক লাখে নিলাম। আমর ইবনে উসমান (রাযিঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। আর আব্দুল্লাহ ইবনে যামআ (রাযিঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) বললেন, আর কি পরিমাণ অবশিষ্ট আছে? আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, দেড় অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। মুআবিয়া (রাযিঃ) বললেন, আমি তা দেড় লাখে নিলাম।
রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) তাঁর অংশ মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর নিকট ছয় লাখে বিক্রয় করেন। তারপর যখন ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তাঁর পিতার ঋণ পরিশোধ করে সারলেন, তখন যুবাইর (রাযিঃ)- এর পুত্ররা বললেন, আমাদের মীরাস ভাগ করে দিন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মাঝে ভাগ করব না, যতক্ষণ আমি চারটি হজ্জ মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার না করি যে, যদি কেউ যুবাইর (রাযিঃ)- এর কাছে ঋণ পাওনা থাকে, সে যেন আমাদের কাছে আসে, আমরা তা পরিশোধ করব। রাবী বলেন, তিনি প্রতি হজ্জের মৌসুমে ঘোষণা প্রচার করেন। তারপর যখন চার বছর অতিবাহিত হল, তখন তিনি তা তাদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। রাবী বলেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর চার স্ত্রী ছিলেন। এক তৃতীয়াংশ পৃথক করে রাখা হল। প্রত্যেক স্ত্রী বার লাখ করে পেলেন। আর যুবাইর (রাযিঃ)- এর মোট সম্পত্তি পাঁচ কোটি দু’লাখ ছিল
হিশাম (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর কোন কোন পুত্র যুবাইর (রাযিঃ)-এর পুত্রদের সমবয়সী ছিলেন। যেমন খুবাইব ও আব্বাদ। আর মৃত্যুকালে তাঁর নয় পুত্র ও নয় কন্যা ছিল। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি আমাকে তাঁর ঋণ সম্পর্কে ওসীয়্যাত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, হে পুত্র! যদি এ সবের কোন বিষয়ে তুমি অক্ষম হও, তবে এ ব্যাপারে আমার মাওলার সাহায্য চাইবে। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারি নি যে, তিনি মাওলা দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করেছেন। অবশেষে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে পিতা! আপনার মাওলা কে? তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখনই তাঁর ঋণ আদায়ে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তখনই বলেছি, হে যুবাইরের মাওলা! তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর ঋণ আদায় করে দিন। আর তাঁর করয শোধ হয়ে যেত।
এরপর যুবাইর (রাযিঃ) শহীদ হলেন এবং তিনি নগদ কোন দীনার রেখে যাননি আর না কোন দিরহাম। তিনি কিছু জমি রেখে যান যার মধ্যে একটি হল গাবা। আরো রেখে যান মদীনায় এগারোটি বাড়ী, বসরায় দু’টি, কূফায় একটি ও মিসরে একটি। আবুদল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর ঋণ থাকার কারণ এই ছিল যে, তাঁর নিকট কেউ যখন কোন মাল আমানত রাখতে আসতো তখন যুবাইর (রাযিঃ) বলতেন, না, এভাবে নয়’ তুমি তা আমার কাছে ঋণ হিসাবে রেখে যাও। কেননা, আমি ভয় করছি যে, তোমার মাল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যুবাইর (রাযিঃ) কখনো কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা বা কর আদায়কারী অথবা অন্য কোন কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। অবশ্য তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গী হয়ে অথবা আবু বকর, উমর ও উসমান (রাযিঃ)- এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, তারপর আমি তাঁর ঋণের পরিমাণ হিসাব করলাম এবং দেখলাম তাঁর ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ পেলাম। রাবী বলেন, সাহাবী হাকিম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করে বলেন, হে ভাতিজা। বল তো আমার ভাইয়ের কত ঋণ আছে? তিনি তা প্রকাশ না করে বললেন, এক লাখ। তখন হাকিম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এ সম্পদ দ্বারা এ পরিমাণ ঋণ শোধ হতে পারে, আমি এরূপ মনে করি না। তখন আবুদল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তাকে বললেন, যদি ঋণের পরিমাণ বাইশ লাখ হয়, তবে কি ধারণা করেন? হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) বললেন, আমি মনে করি না যে, তোমরা এর সামর্থ রাখ। যদি তোমরা এ বিষয়ে অক্ষম হও, তবে আমার সহযোগীতা গ্রহণ করবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, যুবাইর (রাযিঃ) গাবাস্থিত ভূমিটি এক লাখ সত্তর হাজারে কিনেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তা ষোল লাখের বিনিময়ে বিক্রয় করেন। আর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর নিকট কারা পাওনাদার রয়েছে, তারা আমার সঙ্গে গাবায় এসে মিলিত হবে। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) তাঁর নিকট এলেন। যুবাইর (রাযিঃ)- এর নিকট তাঁর চার লাখ পাওনা ছিল। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ)-কে বললেন, তোমরা চাইলে আমি তা তোমাদের জন্য ছেড়ে দিব। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) বললেন, যদি তোমরা তা পরে দিতে চাও, তবে তা পরে পরিশোধের অন্তর্ভুক্ত করতে পার। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) বললেন, তবে আমাকে এক টুকরা ভূমি দাও। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত জমি আপনার।
রাবী বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) গাবার জমি থেকে বিক্রয় করে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করেন। তখনও তাঁর নিকট গাবার জমির সাড়ে চার অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। তারপর তিনি মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর কাছে এলেন। সে সময় তাঁর কাছে আমর ইবনে উসমান, মুনযির ইবনে যুবাইর ও আব্দুল্লাহ ইবনে যামআ (রাযিঃ) উপস্থিত ছিলেন। মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, গাবার মূল্য কত নির্ধারিত হয়েছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক অংশ এক লাখ হারে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কত অবশিষ্ট আছে? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, সাড়ে চার অংশ। তখন মুনযির ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, আমি এক অংশ এক লাখে নিলাম। আমর ইবনে উসমান (রাযিঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। আর আব্দুল্লাহ ইবনে যামআ (রাযিঃ) বললেন, আমি একাংশ এক লাখে নিলাম। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) বললেন, আর কি পরিমাণ অবশিষ্ট আছে? আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, দেড় অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। মুআবিয়া (রাযিঃ) বললেন, আমি তা দেড় লাখে নিলাম।
রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) তাঁর অংশ মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর নিকট ছয় লাখে বিক্রয় করেন। তারপর যখন ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তাঁর পিতার ঋণ পরিশোধ করে সারলেন, তখন যুবাইর (রাযিঃ)- এর পুত্ররা বললেন, আমাদের মীরাস ভাগ করে দিন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মাঝে ভাগ করব না, যতক্ষণ আমি চারটি হজ্জ মৌসুমে এ ঘোষণা প্রচার না করি যে, যদি কেউ যুবাইর (রাযিঃ)- এর কাছে ঋণ পাওনা থাকে, সে যেন আমাদের কাছে আসে, আমরা তা পরিশোধ করব। রাবী বলেন, তিনি প্রতি হজ্জের মৌসুমে ঘোষণা প্রচার করেন। তারপর যখন চার বছর অতিবাহিত হল, তখন তিনি তা তাদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। রাবী বলেন, যুবাইর (রাযিঃ)-এর চার স্ত্রী ছিলেন। এক তৃতীয়াংশ পৃথক করে রাখা হল। প্রত্যেক স্ত্রী বার লাখ করে পেলেন। আর যুবাইর (রাযিঃ)- এর মোট সম্পত্তি পাঁচ কোটি দু’লাখ ছিল
كتاب الجهاد والسير
باب بَرَكَةِ الْغَازِي فِي مَالِهِ حَيًّا وَمَيِّتًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَوُلاَةِ الأَمْرِ
3129 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي أُسَامَةَ، أَحَدَّثَكُمْ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: لَمَّا وَقَفَ الزُّبَيْرُ يَوْمَ الجَمَلِ دَعَانِي، فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ: " يَا بُنَيِّ، إِنَّهُ لاَ يُقْتَلُ اليَوْمَ إِلَّا ظَالِمٌ أَوْ مَظْلُومٌ، وَإِنِّي لاَ أُرَانِي إِلَّا سَأُقْتَلُ اليَوْمَ مَظْلُومًا، وَإِنَّ مِنْ أَكْبَرِ هَمِّي لَدَيْنِي، أَفَتُرَى يُبْقِي دَيْنُنَا مِنْ مَالِنَا شَيْئًا؟ فَقَالَ: يَا بُنَيِّ بِعْ مَالَنَا، فَاقْضِ دَيْنِي، وَأَوْصَى بِالثُّلُثِ، وَثُلُثِهِ لِبَنِيهِ - يَعْنِي بَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ - يَقُولُ: ثُلُثُ الثُّلُثِ، فَإِنْ فَضَلَ مِنْ مَالِنَا فَضْلٌ بَعْدَ قَضَاءِ الدَّيْنِ شَيْءٌ، فَثُلُثُهُ لِوَلَدِكَ "، - قَالَ هِشَامٌ: وَكَانَ بَعْضُ وَلَدِ عَبْدِ اللَّهِ، قَدْ وَازَى بَعْضَ بَنِي الزُّبَيْرِ، خُبَيْبٌ، وَعَبَّادٌ وَلَهُ يَوْمَئِذٍ تِسْعَةُ بَنِينَ، وَتِسْعُ بَنَاتٍ -، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَجَعَلَ يُوصِينِي بِدَيْنِهِ، وَيَقُولُ: «يَا بُنَيِّ إِنْ عَجَزْتَ عَنْهُ فِي شَيْءٍ، فَاسْتَعِنْ عَلَيْهِ مَوْلاَيَ» ، قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا دَرَيْتُ مَا أَرَادَ حَتَّى قُلْتُ: يَا أَبَةِ مَنْ مَوْلاَكَ؟ قَالَ: «اللَّهُ» ، قَالَ: فَوَاللَّهِ مَا وَقَعْتُ فِي كُرْبَةٍ مِنْ دَيْنِهِ، إِلَّا قُلْتُ: يَا مَوْلَى الزُّبَيْرِ اقْضِ عَنْهُ دَيْنَهُ، فَيَقْضِيهِ، فَقُتِلَ الزُّبَيْرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، وَلَمْ يَدَعْ دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا إِلَّا أَرَضِينَ، مِنْهَا الغَابَةُ، وَإِحْدَى عَشْرَةَ دَارًا بِالْمَدِينَةِ، وَدَارَيْنِ بِالْبَصْرَةِ، وَدَارًا بِالكُوفَةِ، وَدَارًا بِمِصْرَ، قَالَ: وَإِنَّمَا كَانَ دَيْنُهُ الَّذِي عَلَيْهِ، أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يَأْتِيهِ بِالْمَالِ، فَيَسْتَوْدِعُهُ إِيَّاهُ، فَيَقُولُ الزُّبَيْرُ: «لاَ وَلَكِنَّهُ سَلَفٌ، فَإِنِّي أَخْشَى عَلَيْهِ الضَّيْعَةَ» ، وَمَا وَلِيَ إِمَارَةً قَطُّ وَلاَ جِبَايَةَ خَرَاجٍ، وَلاَ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ فِي غَزْوَةٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ مَعَ أَبِي بَكْرٍ، وَعُمَرَ، وَعُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ: فَحَسَبْتُ مَا عَلَيْهِ مِنَ الدَّيْنِ [ص:88]، فَوَجَدْتُهُ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِائَتَيْ أَلْفٍ، قَالَ: فَلَقِيَ حَكِيمُ بْنُ حِزَامٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَقَالَ: يَا ابْنَ أَخِي، كَمْ عَلَى أَخِي مِنَ الدَّيْنِ فَكَتَمَهُ؟ فَقَالَ: مِائَةُ أَلْفٍ، فَقَالَ حَكِيمٌ: وَاللَّهِ مَا أُرَى أَمْوَالَكُمْ تَسَعُ لِهَذِهِ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: أَفَرَأَيْتَكَ إِنْ كَانَتْ أَلْفَيْ أَلْفٍ وَمِائَتَيْ أَلْفٍ؟ قَالَ: مَا أُرَاكُمْ تُطِيقُونَ هَذَا، فَإِنْ عَجَزْتُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ فَاسْتَعِينُوا بِي، قَالَ: وَكَانَ الزُّبَيْرُ اشْتَرَى الغَابَةَ بِسَبْعِينَ وَمِائَةِ أَلْفٍ، فَبَاعَهَا عَبْدُ اللَّهِ بِأَلْفِ أَلْفٍ وَسِتِّ مِائَةِ أَلْفٍ، ثُمَّ قَامَ: فَقَالَ مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ حَقٌّ، فَلْيُوَافِنَا بِالْغَابَةِ، فَأَتَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، وَكَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ أَرْبَعُ مِائَةِ أَلْفٍ، فَقَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ: إِنْ شِئْتُمْ تَرَكْتُهَا لَكُمْ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لاَ، قَالَ: فَإِنْ شِئْتُمْ جَعَلْتُمُوهَا فِيمَا تُؤَخِّرُونَ إِنْ أَخَّرْتُمْ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لاَ، قَالَ: قَالَ: فَاقْطَعُوا لِي قِطْعَةً، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَكَ مِنْ هَاهُنَا إِلَى هَاهُنَا، قَالَ: فَبَاعَ مِنْهَا فَقَضَى دَيْنَهُ فَأَوْفَاهُ، وَبَقِيَ مِنْهَا أَرْبَعَةُ أَسْهُمٍ وَنِصْفٌ، فَقَدِمَ عَلَى مُعَاوِيَةَ، وَعِنْدَهُ عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَالمُنْذِرُ بْنُ الزُّبَيْرِ، وَابْنُ زَمْعَةَ، فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: كَمْ قُوِّمَتِ الغَابَةُ؟ قَالَ: كُلُّ سَهْمٍ مِائَةَ أَلْفٍ، قَالَ: كَمْ بَقِيَ؟ قَالَ: أَرْبَعَةُ أَسْهُمٍ وَنِصْفٌ، قَالَ المُنْذِرُ بْنُ الزُّبَيْرِ: قَدْ أَخَذْتُ سَهْمًا بِمِائَةِ أَلْفٍ، قَالَ عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ: قَدْ أَخَذْتُ سَهْمًا بِمِائَةِ أَلْفٍ، وَقَالَ ابْنُ زَمْعَةَ: قَدْ أَخَذْتُ سَهْمًا بِمِائَةِ أَلْفٍ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ: كَمْ بَقِيَ؟ فَقَالَ: سَهْمٌ وَنِصْفٌ، قَالَ: قَدْ أَخَذْتُهُ بِخَمْسِينَ وَمِائَةِ أَلْفٍ، قَالَ: وَبَاعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ نَصِيبَهُ مِنْ مُعَاوِيَةَ بِسِتِّ مِائَةِ أَلْفٍ، فَلَمَّا فَرَغَ ابْنُ الزُّبَيْرِ مِنْ قَضَاءِ دَيْنِهِ، قَالَ بَنُو الزُّبَيْرِ: اقْسِمْ بَيْنَنَا مِيرَاثَنَا، قَالَ: لاَ، وَاللَّهِ لاَ أَقْسِمُ بَيْنَكُمْ حَتَّى أُنَادِيَ بِالْمَوْسِمِ أَرْبَعَ سِنِينَ: أَلاَ مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى الزُّبَيْرِ دَيْنٌ فَلْيَأْتِنَا فَلْنَقْضِهِ، قَالَ: فَجَعَلَ كُلَّ سَنَةٍ يُنَادِي بِالْمَوْسِمِ، فَلَمَّا مَضَى أَرْبَعُ سِنِينَ قَسَمَ بَيْنَهُمْ، قَالَ: فَكَانَ لِلزُّبَيْرِ أَرْبَعُ نِسْوَةٍ، وَرَفَعَ الثُّلُثَ، فَأَصَابَ كُلَّ امْرَأَةٍ أَلْفُ أَلْفٍ وَمِائَتَا أَلْفٍ، فَجَمِيعُ مَالِهِ خَمْسُونَ أَلْفَ أَلْفٍ، وَمِائَتَا أَلْفٍ
হাদীস নং: ২৯১০
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৩০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫৪. ইমাম যদি কোন দূতকে কোন কাজে পাঠান কিংবা তাকে অবস্থান করার নির্দেশ দেন; তবে তার জন্য অংশ নির্ধারিত হবে কিনা?
২৯১০। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কন্যা ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী আর তিনি ছিলেন পীড়িত। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, ‘বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব ও (গনীমতের) অংশ তুমি পাবে।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا بَعَثَ الإِمَامُ رَسُولاً فِي حَاجَةٍ أَوْ أَمَرَهُ بِالْمُقَامِ هَلْ يُسْهَمُ لَهُ
3130 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَوْهَبٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: إِنَّمَا تَغَيَّبَ عُثْمَانُ عَنْ بَدْرٍ، فَإِنَّهُ كَانَتْ تَحْتَهُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَتْ مَرِيضَةً، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لَكَ أَجْرَ رَجُلٍ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا وَسَهْمَهُ»
তাহকীক: