প্রবন্ধ
আইয়্যামুল বীযের সওম (রোযা)
১৩ নভেম্বর, ২০২৪
৬১৯৬৬২
০
ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে দুটি প্রকার রয়েছে : এক. যা অবশ্য পালনীয়, দুই. যা ঐচ্ছিক। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অবশ্য-পালনীয় ইবাদতসমূহের গুরুত্ব ঐচ্ছিক ইবাদতসমূহের চেয়ে বেশি। হাদীস শরীফে পরিষ্কার বর্ণিত হয়েছে, ‘বান্দা আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি নৈকট্য অর্জন করে ফরয ইবাদতের মাধ্যমে।’ তবে নফল ও ঐচ্ছিক ইবাদতের ফযীলতও এত বেশি যে, তা মুমিনকে উদ্দীপ্ত ও আগ্রহী করে তোলে। তন্মধ্যে একটি হল প্রতি মাসে আইয়্যামুল বীযের রোযা রাখা। হাদীস শরীফে নফল রোযার অনেক প্রকার ও অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও নফল রোযা রেখেছেন, উম্মতকেও এর ফযীলত শুনিয়েছেন।
"আইয়্যামুল বীয" অর্থ উজ্জ্বল রাতের দিনগুলো।
চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখকে "আইয়্যামুল বীয" বলা হয়।
আইয়্যামুল বীযের রোযা রাখার ফজিলঃ
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صِيَامُ الدَّهْرِ، وَأَيَّامُ الْبِيضِ صَبِيحَةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ.
হযরত জারীর ইব্ন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেনঃ প্রত্যেক মাসের তিন দিন সওম (রোযা) পালন করা গোটা জীবন সওম পালন করার সমতুল্য। আর আইয়্যামুল বীয -তের, চৌদ্দ এবং পনের তারিখ।
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ
হযরত আবু যর রাযি.বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আমাকে বলিলেনঃ, হে আবু যর! প্রতি মাসে যদি তিন দিন রোযা পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের রোযা পালন করো।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي حَبِيبِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ لَنْ أَدَعَهُنَّ مَا عِشْتُ بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَصَلاَةِ الضُّحَى وَبِأَنْ لاَ أَنَامَ حَتَّى أُوتِرَ
হযরত আবুদ দারদা রাযি.থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমার বন্ধু নবী (ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন। যতদিন আমি জীবিত থাকব, ততদিন তা ছাড়ব না।
[১] প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখা।
[২] চাশতের নামায আদায় করা।
[৩] এবং বিতর আদায় না করা পর্যন্ত যেন আমি নিদ্রায় না যাই।
وعن عبد الله بن عمرو أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: صم من الشهر ثلاثة أيام، فإن الحسنة بعشر أمثالها، وذلك مثل صيام الدهر
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত: নবী (ﷺ) বলেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন কর। কারণ প্রতিটি নেকীর বিনিময়ে তার দশগুণ সাওয়াব রয়েছে। আর এটা পূর্ণ বছর রোযা পালন করার সমতূল্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নেক আমল করে তাহার নৈকট্য হাসিল করার তাওফীক দান করেন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
মাহে রমযান: অসংখ্য কল্যাণের হাতছানি
১. কোরআন নাযিলের মাস: شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِیْۤ اُنْزِلَ فِیْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَی...
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১৪৯২৮ বার দেখা হয়েছে
রোযাকে ঢাল বানান,এই ঢালকে অক্ষুণ্ণ রাখুন
রমযানুল মুবারক বান্দার জন্য আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নেয়ামত। এই মাসের দিবস-রজনীকে আল্লাহ তাআলা খায়ের...
শাঈখুল ইসলাম হযরত আব্দুল মালেক
৫ নভেম্বর, ২০২৪
৯৬৫৯ বার দেখা হয়েছে
ফযীলতপূর্ণ যিলহজ্ব মাস:
হিজরী বর্ষের সর্বশেষ মাস যিলহজ্ব। বড়ই ফযীলত পূর্ণ মাস এটি। ‘আশহুরে হুরুম’ তথা ইসলামের সম্মানিত চার ম...
'মুসলিম বাংলা' সম্পাদকীয়
৯ নভেম্বর, ২০২৪
২৮৬৭৩ বার দেখা হয়েছে
রমাদানের প্রস্তুতি/রমাদানের দিন রাত...
প্রথম স্তর ব্যস্ততা থেকে নিজেদের ফারেগ করা যাদের জন্য সম্ভব নয় তাদের জন্য! প্রতিজ্ঞা করি অন্তত এ কথ...
মুফতী ইসহাক মাহমুদ হাফি.
২ মার্চ, ২০২৫
৪৮২৪৫ বার দেখা হয়েছে
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন