প্রবন্ধ
আসুন! ঈদুল আযহার জামাত সুন্নাতে নববী ﷺ অনুযায়ী পালন করি
৩০ মে, ২০২৬
৩৩৭
০
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد
ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহিমান্বিত ইবাদতের দিন। এটি শুধু আনন্দের দিন নয়; বরং তাওহীদ, আনুগত্য, ত্যাগ, সালাত, তাকওয়া ও সুন্নাহর বাস্তব অনুশীলনের দিন। তাই ঈদের দিনটিকে মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালনা করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (ঈদুল আযহা দিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ রয়েছে তা আমরা আলাদা আলোচনা করেছি। )
বর্তমানে অনেক স্থানে ঈদের জামাত এত দেরিতে অনুষ্ঠিত হয় যে, সকাল প্রায় শেষ হয়ে যায়। অথচ হাদীস, সাহাবায়ে কেরাম ও ফকীহদের বক্তব্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, বিশেষ করে ঈদুল আযহার নামায সকাল সকাল আদায় করাই ছিল সুন্নাহ।
এ জন্য সর্বপ্রথম ঈদের নামায কখন আদায় করা সুন্নত (মুস্তাহাব) ও এর উপকারীতা কি তা জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী।
নবীজি ﷺ কখন ঈদের নামায আদায় করেছেন?
রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের নামায সূর্যোদয়ের কিছু পরেই আদায় করতেন। সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তাঁরা দিনের অনেকটা সময় পার করে ঈদের নামায পড়তেন না।
সুতরাং সূর্য ওঠার পর যখন ইশরাক বা চাশতের সময় শুরু হয়, তখনই ঈদের নামাযের উত্তম সময় শুরু হয়। বিশেষ করে ঈদুল আযহার নামায কিছুটা আগে পড়া মুস্তাহাব, যেন মুসলমানরা দ্রুত কুরবানী করতে পারে।
আলহামদুলিল্লাহ! মক্কা-মদীনায় এখনও নবীজির ﷺ এই আমলকে পরিপূর্ণভাবে হেফাজত করা হয়।
বিস্তারিত টিকায় জানুন১
ঈদের নামায দ্রুত আদায়ের উপকারীতা:
১. তাড়াতাড়ি ঈদের নামায আদায়ের ফলে ফজর ও যোহরের নামাযের হেফাজত হয়:
ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সালাত। কুরবানী গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও সালাত তার চেয়ে বহু গুণ মর্যাদাপূর্ণ। কুরবানী ওয়াজিব; কিন্তু নামায ইসলামের স্তম্ভ।
বর্তমানে অনেক স্থানে ঈদের জামাত এত দেরিতে হয় যে,
মানুষ ফজরের নামাযেরও ইচ্ছা রাখে না। দেরিতে উঠে ঈদের নামায আদায় করে।
যারা ফজর পড়ে তারা ফজরের পর ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘুমের কারণে যিকির, তিলাওয়াত ও ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট হয়।
দেরিতে নামায আদায়ের ফলে কুরবানীর কাজ বিশৃঙ্খল হয়ে যায়।
এবং অনেক সময় যোহরের নামাযও বিলম্বিত হয়। (অনেকে তো ক্লান্ত হয়ে যোহর পড়াই ছেড়ে দেয়।)
অথচ সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) ঈদের নামাযে অযথা বিলম্ব পছন্দ করতেন না। কারণ তাঁরা জানতেন, মুসলিম জীবনের আসল ভিত্তি হলো সালাতের হেফাজত।
যদি সুন্নাহ অনুযায়ী সকাল সকাল ঈদের নামায আদায় করা হয়, তাহলে
ফজরের নামায সুন্দরভাবে সংরক্ষিত হয়। (মানুষ রাত জেগে গল্পগুজব বা অলসতায় সময় কাটায় না; বরং ফজর পড়ে ঈদের প্রস্তুতি নেয়।)
কুরবানীর কাজ স্বচ্ছন্দে সম্পন্ন হয়
কাটাকাটি, গোশত বণ্টন সব কাজ আরাম ও শৃঙ্খলার সাথে করা যায়।
যোহরের নামায সময়মতো আদায় সহজ হয়। অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় না।
পুরো দিনটি সুন্নাহময় হয়ে ওঠে
দিনের শুরুতেই সালাত, তাকবীর, কুরবানী ও ইবাদতের পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিস্তারিত টিকায় জানুন২
২. কুরবানীর ঈদ তাড়াতাড়ি আদায় করলে বাচ্চারাও আনন্দ-বিনোদন ও খেলাধুলার সময় পায়;
বর্তমান সমাজে এটিকে অবহেলিত একটি সুন্নাহ বলা যায়। ইসলাম কেবল ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি ভারসাম্য, সৌন্দর্য, মানবিকতা ও আনন্দেরও ধর্ম। ঈদের দিন মুসলমানদের বৈধ আনন্দের দিন।
আজকাল অনেক সময় দেখা যায়, ঈদের জামাত ও কুরবানীর কাজ এত দেরিতে হয় যে,
ছোট বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
তাদের আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়।
পরিবারের সবাই চাপগ্রস্ত হয়ে পড়ে,
এবং ঈদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়।
অন্যদিকে যদি সুন্নাহ অনুযায়ী সকাল সকাল ঈদের নামায আদায় করা হয়, তাহলে, বাচ্চারা আনন্দ-বিনোদনের পর্যাপ্ত সময় পায়। তারা খেলতে পারে, আত্মীয়দের বাসায় যেতে পারে এবং ঈদের সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে। পরিবারে প্রশান্তি আসে। সারাদিন তাড়াহুড়া ও অস্থিরতা থাকে না। এর ফলে আত্মীয়তা ও সামাজিক সম্পর্ক মজবুত হয়। মানুষ সহজে কুরবানী শেষ করে আত্মীয়স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ (গোশত বিতরণ) করতে পারে। সুন্নাহ, ইবাদত ও আনন্দ, সবকিছুর সমন্বয় ঘটে, এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। বিস্তারিত টিকায় জানুন৩
বিস্তারিত জানুন:
টিকা ১:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর রাযি. বলেন,
كُنَّا نَفْرُغُ مِنْ صَلَاةِ الْعِيدِ وَإِنَّهُ لَحِينَ التَّسْبِيحِ
“আমরা ঈদের নামায থেকে তখনই অবসর হতাম, যখন নফল (তাসবীহ) নামাযের সময় হতো।”
ইমাম আবু দাউদ রহ. পূর্ণ সনদে বর্ণনা করেন,
سنن أبي داود: (رقم الحدیث: 1135، ط: دار الرسالة العالمية)
حدثنا أحمد بن حنبل، حدثنا أبو المغيرة، حدثنا صفوان، حدثنا يزيد بن خمير الرحبي، قال:خرج عبد الله بن بسر صاحب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - مع الناس في يوم عيد فطر، أو أضحى، فأنكر إبطاء الإمام، فقال: إنا كنا قد فرغنا ساعتنا هذه، وذلك حين التسبيح۔
একবার ঈদের নামাযে কিছুটা দেরি হলে আবদুল্লাহ ইবনে বুসর রাযি. আপত্তি জানিয়ে বলেন,
إِنَّا كُنَّا قَدْ فَرَغْنَا سَاعَتَنَا هَذِهِ
“আমরা তো নবী যুগে এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামায শেষ করে ফেলতাম।” সুনানে আবি দাউদ, হাদীস নং: ১১৩৫
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
التلخيص الحبير لابن حجر العسقلاني: (196/2، ط: دار الكتب العلمية)
وفي كتاب الأضاحي للحسن بن أحمد البنا من طريق وكيع عن المعلى بن هلال عن الأسود بن قيس عن جندب قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي بنا يوم الفطر والشمس على قيد رمحين والأضحى على قيد رمح۔
“ঈদের দিনের শুরুতে ঈদের নামাযের প্রস্তুতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া উচিত নয়। প্রস্তুতি শেষে দ্রুত ঈদগাহের দিকে রওনা হওয়াই সুন্নাহ।” ফাতহুল বারী: ২/৫৮৯
ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের সময় হলো, সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা পরিমাণ উপরে ওঠার পর থেকে (অর্থাৎ ইশরাকের সময় থেকে) সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ঈদের নামায আদায় করা সহীহ নয়।
তবে ঈদুল ফিতরের নামাযে প্রথম সময় থেকে কিছুটা বিলম্ব করা মুস্তাহাব, যাতে মানুষ ঈদের নামাযের পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করার সুযোগ পায়। পক্ষান্তরে ঈদুল আযহার নামায তাড়াতাড়ি আদায় করা মুস্তাহাব, যাতে নামায শেষ করে দ্রুত কুরবানী করতে পারে।
যেমনটি “حاشیة الطحطاوی علی مراقی الفلاح”-এ উল্লেখ রয়েছে।
'' يستحب تعجيل الإمام الصلاة في أول وقتها في الأضحي و تأخيرها قليلاً عن أول وقتها في الفطر، بذلك كتب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عمرو بن حزم وهو بنجران: عجل الأضحى وأخر الفطر، قيل: ليؤدي الفطر، ويعجل إلى التضحية''. (كتاب الصلاة، باب أحكام العيدين، ط: قديمي)
“ঈদুল আযহার নামায প্রথম সময়েই দ্রুত আদায় করা ইমামের জন্য মুস্তাহাব। আর ঈদুল ফিতরের নামায প্রথম সময় থেকে কিছুটা বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব। এ ব্যাপারেই রাসূলুল্লাহ ﷺ নাজরানে অবস্থানরত আমর ইবনু হাজম রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে লিখেছিলেনঃ
‘ঈদুল আযহা তাড়াতাড়ি আদায় করো এবং ঈদুল ফিতর কিছুটা বিলম্বে আদায় করো।’ এর কারণ বলা হয়েছে—যাতে মানুষ সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারে এবং দ্রুত কুরবানীর দিকে অগ্রসর হতে পারে।”— حاشیة الطحطاوي علی مراقی الفلاح, কিতাবুস সালাত, বাবু আহকামিল ঈদাইন।
السنن الكبرى للبيهقي: (رقم الحديث: 6149، ط: دار الكتب العلمية)
أخبرنا أبو زكريا بن أبي إسحاق في آخرين قالوا: ثنا أبو العباس محمد بن يعقوب , أنبأ الربيع بن سليمان، أنبأ الشافعي، أنبأ إبراهيم بن محمد، أخبرني أبو الحويرث: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب إلى عمرو بن حزم وهو بنجران: " عجل الأضحى، وأخر الفطر، وذكر الناس "
হযরত আবুল হুওয়াইরিস রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ নাজরানে অবস্থানরত আমর ইবনু হাজম রাযি. এর কাছে একটি পত্র লিখে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেনঃ “ঈদুল আযহা তাড়াতাড়ি আদায় করো, আর ঈদুল ফিতর কিছু বিলম্বে আদায় করো এবং মানুষকে উপদেশ দাও।”
ইমাম ইবনে বাত্তাল রহ. উল্লেখ করেছেন,
أجمع الفقهاء أن العيد لا يصلى قبل طلوع الشمس، ولا عند طلوعها، فإذا ارتفعت الشمس وابيضت وجازت صلاة النافلة، فهو وقت العيد؛ ألا ترى قول عبد الله بن بسر: وذلك حين التسبيح، أي: حين الصلاة، فدل أن صلاة العيد سبحة ذلك اليوم فلا تؤخر عن وقتها لقوله عليه السلام: أول ما نبدأ به في يومنا هذا الصلاة»
— شرح صحيح البخاري لابن بطال (٢/٥٦٠)
“ফকীহগণ একমত যে সূর্য ওঠার পর ঈদের নামায আদায় করা হবে; অযথা দেরি করা উচিত নয়।”
টিকা ২:
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا
“নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরয করা হয়েছে।” সূরা নিসা, আয়াত নং: ১০৩।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ
“দীনের মূল হলো ইসলাম, আর তার স্তম্ভ হলো সালাত।” সুনানে তিরমিজি, হাদীস নং: ২৬১৬।
টিকা ৩:
রাসূলুল্লাহ ﷺ শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি তাদের সাথে খেলতেন, হাসতেন, স্নেহ করতেন এবং তাদের আনন্দকে গুরুত্ব দিতেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَرْحَمَ بِالْعِيَالِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শিশুদের প্রতি বেশী দয়া প্রদর্শনকারী কাউকে আমি দেখিনি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৩১৬
ঈদের দিন আনন্দ প্রকাশ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে,
لِتَعْلَمَ يَهُودُ أَنَّ فِي دِينِنَا فُسْحَةً
“ইহুদিরা যেন জানে, আমাদের দীনে প্রশস্ততা ও আনন্দ আছে।”
-মুসনাদে আহমদ; কানযুল উম্মাল।
অন্য বর্ণনায় আসছে,
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثٍ فَاضْطَجَعَ عَلَى الْفِرَاشِ وَحَوَّلَ وَجْهَهُ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَانْتَهَرَنِي وَقَالَ مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " دَعْهُمَا " فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا وَكَانَ يَوْمَ عِيدٍ يَلْعَبُ السُّودَانُ بِالدَّرَقِ وَالْحِرَابِ فَإِمَّا سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا قَالَ " تَشْتَهِينَ تَنْظُرِينَ " . فَقُلْتُ نَعَمْ فَأَقَامَنِي وَرَاءَهُ خَدِّي عَلَى خَدِّهِ وَهُوَ يَقُولُ " دُونَكُمْ يَا بَنِي أَرْفَدَةَ " . حَتَّى إِذَا مَلِلْتُ قَالَ " حَسْبُكِ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاذْهَبِي " .
আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে দুটি বালিকা ছিল। তারা বুয়াসের ঘটনাবলী সম্পর্কে গান গাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। তিনি আমাকে ধমকালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে শয়তানের বাজনা বাজান হচ্ছে? তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এদিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, এদেরকে গাইতে দাও। যখন আবু বকর (রাযিঃ) নিশ্চুপ হলেন তখন আমি তাদেরকে ইঙ্গিত করলাম এবং তারা বেরিয়ে গেল।
আর ঈদের দিনে সুদানীরা ঢাল-তলোয়ার জাতীয় যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলাধূলা করছিল। হয়ত আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আবেদন করেছিলাম কিংবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তোমার দেখার আগ্রহ আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। এরপর আমাকে তাঁর পিছনে দাঁড় করালেন। আমার গালে তার গালের উপর ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলছিলেন, এভাবে অনুশীলন জারি রাখ হে আরাফিদার বংশধরগণ! শেষ পর্যন্ত আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তখন তিনি বললেন, তোমার দেখা শেষ হয়েছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে যাও।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৯২।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ঈদ পালন করার তাওফীক দান করুন।
وَصَلَّى اللهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ. آمين
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
কুরআন তিলাওয়াত ও তারাবীর তিলাওয়াত : আমাদের অসতর্কতা
কুরআনুল কারীম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কালাম। মহান প্রভুর মহান বার্তা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- لَّا ...
احکام رمضان المبارک و مسائل زکوٰة
رمضان المبارک کے روزے رکھنا اسلام کا تیسرا فرض ہے۔ جو اس کے فرض ہونے کا انکار کرے مسلمان نہیں رہتا ا...
রোযা ও যাকাত বিষয়ে প্রচলিত কয়েকটি মাসআলার সমাধান
প্রসঙ্গ : রোযা একস্থানে রোযা শুরু করে অন্যস্থানে যাওয়ায় রোযা কম-বেশি হলে ধরে নেওয়া যাক, কোনো ব্যক...
মাহে রমযান : ফযীলত ও করণীয়
মাহে রমযান বছরের বাকি এগার মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের বিশেষত্ব অনেক। ১. এ ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন