প্রবন্ধ
সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্য ও পিতা-মাতার জন্য সুসংবাদ
৩০ জুন, ২০২৬
১৯৭
০
সন্তান আল্লাহ তাআলার অমূল্য নিয়ামত ও শ্রেষ্ঠ আমানত। একজন মা-বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ যেমন সন্তানের আগমন, তেমনি সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হলো সন্তানের মৃত্যু। এ শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু একজন মুমিন জানেন, পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর মালিকানাধীন। তিনি যাকে ইচ্ছা সন্তান দান করেন, আবার তাঁর অসীম হিকমত অনুযায়ী ফিরিয়েও নেন। তাই ইসলামের শিক্ষা হলো শোক থাকবে, চোখে অশ্রু ঝরবে, কিন্তু আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তোষ নয়; বরং ধৈর্য, তাওয়াক্কুল এবং উত্তম প্রতিদানের আশা।
সন্তান আল্লাহর দান ও আমানত
আল্লাহ তাআলা বলেন,
لِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ یَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّیَہَبُ لِمَنۡ یَّشَآءُ الذُّکُوۡرَ; اَوۡ یُزَوِّجُہُمۡ ذُکۡرَانًا وَّاِنَاثًا ۚ وَیَجۡعَلُ مَنۡ یَّشَآءُ عَقِیۡمًا ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। যাকে চান কন্যা দেন এবং যাকে চান পুত্র দেন। অথবা পুত্র ও কন্যা উভয় মিলিয়ে দেন। আবার যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
যিনি সন্তান দান করেন, তিনিই তাঁর অসীম হিকমতের ভিত্তিতে তা ফিরিয়ে নেওয়ারও মালিক। একজন মুমিন এ বাস্তবতাকে ঈমানের সঙ্গে মেনে নেন।
ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَالۡجُوۡعِ وَنَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَالۡاَنۡفُسِ وَالثَّمَرٰتِ وَبَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ. الَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَتۡہُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا لِلّٰہِ وَاِنَّاۤ اِلَیۡہِ رٰجِعُوۡنَ . اُولٰٓئِکَ عَلَیۡہِمۡ صَلَوٰتٌ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَرَحۡمَۃٌ ۟ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُہۡتَدُوۡنَ
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব (কখনও) কিছুটা ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। সুসংবাদ শোনাও তাদেরকে, যারা (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়।
যারা তাদের কোনও মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, ‘আমরা সকলে আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিশেষ করুণা ও দয়া রয়েছে এবং এরাই আছে হিদায়াতের উপর।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫–১৫৭
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ নয়
সন্তানের মৃত্যু একজন মা-বাবার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এ শোক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু একজন মুমিন এও বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলার প্রতিটি ফয়সালার মধ্যেই রয়েছে অসীম হিকমত, দয়া ও কল্যাণ। তাই শোক তাকে ভেঙে দিলেও, সে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। কারণ সে জানে, আসমান-জমিনের মালিকের জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
যে আল্লাহ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শূন্য কোল ভরে সন্তান দান করেছেন, সেই আল্লাহই তাঁর অসীম প্রজ্ঞা অনুযায়ী আবার সেই সন্তানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর যিনি একবার দান করতে পেরেছেন, তিনি চাইলে আবারও দান করতে পারেন। তিনি চাইলে এর চেয়েও নেককার, উত্তম ও কল্যাণময় সন্তান দান করতে পারেন। তাঁর দানের ভাণ্ডার কখনো শূন্য হয় না, তাঁর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না এবং তাঁর কুদরতের সামনে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারে না।
অনেক সময় মানুষ কোনো বিষয়ের বাহ্যিক দিকটুকুই দেখতে পায়; কিন্তু আল্লাহ তাআলা জানেন তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। তাই আমরা যে বিষয়কে নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করি, আল্লাহর জ্ঞানে তা অকল্যাণকরও হতে পারে। আবার যে বিষয়টি আমাদের হৃদয় ভেঙে দেয়, তার মধ্যেই আল্লাহ এমন কল্যাণ লুকিয়ে রাখেন, যা আমরা তখন উপলব্ধি করতে পারি না। এ কারণেই কুরআনে আল্লাহ তাআলা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, অনেক সময় মানুষ এমন জিনিসকে অপছন্দ করে, যাতে তার জন্য কল্যাণ রয়েছে; আবার এমন জিনিসকে ভালোবাসে, যাতে তার জন্য অকল্যাণ রয়েছে।
হযরত খাজির আলাইহিস সালাম-এর ঘটনায় আল্লাহ তাআলা আমাদের এ শিক্ষাই দিয়েছেন যে, বাহ্যিকভাবে কোনো ঘটনা যতই বেদনাদায়ক মনে হোক, আল্লাহর সিদ্ধান্তের পেছনে এমন প্রজ্ঞা থাকে, যা মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে। হযরত খাজির আলাইহিস সালাম একটি শিশুকে হত্যা করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যদি সে বেঁচে থাকত, তবে সে তার ঈমানদার পিতা-মাতাকে কষ্ট ও অবাধ্যতার দিকে প্রভাবিত করবে। তাই আল্লাহ তাদের জন্য তার পরিবর্তে আরও পবিত্র ও অধিক স্নেহশীল সন্তান নির্ধারণ করেছিলেন।
অতএব, সন্তানের মৃত্যুতে একজন মুমিনের অন্তর ভেঙে যায়, চোখে অশ্রু ঝরে; কিন্তু তার ঈমান ভেঙে পড়ে না। সে জানে, আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দার প্রতি অবিচার করেন না। আজ যে সন্তানকে তিনি নিজের কাছে ডেকে নিয়েছেন, আখিরাতে তাকেই হয়তো মা-বাবার জন্য জান্নাতের দরজায় অপেক্ষমাণ রাখবেন। আর যদি দুনিয়ায় কল্যাণ নিহিত থাকে, তবে তিনিই আবার তাদের কোল ভরিয়ে দিতে সক্ষম। তাই একজন মুমিনের হৃদয়ে শোকের চেয়ে বড় হয় আল্লাহর প্রতি ভরসা, আর অশ্রুর চেয়ে শক্তিশালী হয় তাঁর রহমতের প্রতি আশা।
সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যশীল পিতা-মাতার জন্য সুসংবাদ
[১]
একটি হাদীসে কুদসীতে এসেছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: مَا لِعَبْدِي المُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءٌ، إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبَهُ، إِلَّا الجَنَّةُ
হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি যখন আমার মুমিন বান্দার কোন প্রিয়তম কিছু দুনিয়া থেকে তুলে নেই আর সে ধৈর্যধারণ করে, আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন প্রতিদান নেই।
[২]
তিন নাবালক সন্তানের কারণে জান্নাত----
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنَ النَّاسِ مُسْلِمٌ، يَمُوتُ لَهُ ثَلاَثَةٌ مِنَ الوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الحِنْثَ، إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ إِيَّاهُمْ
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি তাঁর রহমতের ফযলে সে ব্যক্তিকে (মা-বাপকে) জান্নাতে দাখিল করবেন।
[৩]
একটি নাবালক সন্তান মৃত্যুতেও জান্নাত ----
أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ ابْنٌ لَهُ فَقَالَ لَهُ " أَتُحِبُّهُ " . فَقَالَ أَحَبَّكَ اللَّهُ كَمَا أُحِبُّهُ . فَمَاتَ فَفَقَدَهُ فَسَأَلَ عَنْهُ فَقَالَ " مَا يَسُرُّكَ أَنْ لاَ تَأْتِيَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ إِلاَّ وَجَدْتَهُ عِنْدَهُ يَسْعَى يَفْتَحُ لَكَ
এক ব্যক্তি তার এক শিশুপুত্রকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল। একদিন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি একে ভালোবাস? সে ব্যক্তি বলল, আমি একে যেমন ভালোবাসি, তেমনি আল্লাহ তা'আলা আপনাকে ভালোবাসুন। ছেলেটি মারা যায়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটিকে আর দেখতে পান না। তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন (লোকে বলল, তার ছেলেটি মারা গেছে)। তারপর সে আসলে তিনি বললেন, তোমার জন্য এটা কি আনন্দদায়ক নয় যে, তুমি জান্নাতের যে দরজায়ই উপস্থিত হবে, সেখানে তাকে দেখতে পাবে যে, সে তোমার জন্য দরজা খুলছে?
[৪]
জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ----
عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ شُفْعَةَ قَالَ لَقِيَنِي عُتْبَةُ بْنُ عَبْدٍ السُّلَمِيُّ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ لَهُ ثَلَاثَةٌ مِنْ الْوَلَدِ لَمْ يَبْلُغُوا الْحِنْثَ إِلَّا تَلَقَّوْهُ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ دَخَلَ
হযরত 'উতবা ইবন 'আব্দুস সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম ব্যক্তির তিনটি নাবালক সন্তান মারা যায়, সে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৬০৪
[৫]
পিতা-মাতার জন্য ('বাইতুল হামদ') প্রশংসার ঘর----
عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللَّهُ لِمَلاَئِكَتِهِ قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي . فَيَقُولُونَ نَعَمْ . فَيَقُولُ قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ . فَيَقُولُونَ نَعَمْ . فَيَقُولُ مَاذَا قَالَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ . فَيَقُولُ اللَّهُ ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُّوهُ بَيْتَ الْحَمْدِ
হযরত আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন কোন বান্দার সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদের বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তান কবয করে নিয়ে এলে? তার বলে, হ্যাঁ। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, তোমরা তার হৃদয়ের ফল কবয করে নিয়ে এলে? তার বলে হ্যাঁ। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলে, আপনার হামদ করেছে এবং ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়েছে। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, আমার এই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং তার নামকরণ কর ‘‘বায়তুল হামদ’ বা প্রশংসালয়।
[৬]
পিতা-মাতার কাপড় বা হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ----
عَنْ أَبِي حَسَّانَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّهُ قَدْ مَاتَ لِيَ ابْنَانِ فَمَا أَنْتَ مُحَدِّثِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحَدِيثٍ تُطَيِّبُ بِهِ أَنْفُسَنَا عَنْ مَوْتَانَا قَالَ قَالَ نَعَمْ " صِغَارُهُمْ دَعَامِيصُ الْجَنَّةِ يَتَلَقَّى أَحَدُهُمْ أَبَاهُ - أَوْ قَالَ أَبَوَيْهِ - فَيَأْخُذُ بِثَوْبِهِ - أَوْ قَالَ بِيَدِهِ - كَمَا آخُذُ أَنَا بِصَنِفَةِ ثَوْبِكَ هَذَا فَلاَ يَتَنَاهَى - أَوْ قَالَ فَلاَ يَنْتَهِي - حَتَّى يُدْخِلَهُ اللَّهُ وَأَبَاهُ الْجَنَّةَ
আবু হাসসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বললাম, আমার দুটি পুত্র সন্তান মারা গিয়েছে। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরফ থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করবেন, যাতে আমরা মৃতদের সম্পর্কে আমাদের অন্তরে সান্ত্বনা পেতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদের জন্য তাদের ছোট সন্তানরা জান্নাতের প্রজাপতি তুল্য। তাদের কেউ কেউ তার পিতার সঙ্গে মিলিত হবে, অথবা তিনি বলেছেন পিতামাতা উভয়ের সঙ্গে মিলিত হবে। এরপর তার পরিধানের বস্ত্র কিংবা হাত ধরবে, যেভাবে এখন আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরছি। এরপর আর বিরত হবে না, অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাকে তার বাপ-মা সহ জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত ছাড়বে না।
শেষে সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যের এক অনন্য ও শিক্ষণীয় ঘটনা উল্লেখ করে প্রবন্ধটি সমাপ্ত করছি----
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَاتَ ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ مِنْ أُمِّ سُلَيْمٍ فَقَالَتْ لأَهْلِهَا لاَ تُحَدِّثُوا أَبَا طَلْحَةَ بِابْنِهِ حَتَّى أَكُونَ أَنَا أُحَدِّثُهُ - قَالَ - فَجَاءَ فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ عَشَاءً فَأَكَلَ وَشَرِبَ - فَقَالَ - ثُمَّ تَصَنَّعَتْ لَهُ أَحْسَنَ مَا كَانَ تَصَنَّعُ قَبْلَ ذَلِكَ فَوَقَعَ بِهَا فَلَمَّا رَأَتْ أَنَّهُ قَدْ شَبِعَ وَأَصَابَ مِنْهَا قَالَتْ يَا أَبَا طَلْحَةَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ قَوْمًا أَعَارُوا عَارِيَتَهُمْ أَهْلَ بَيْتٍ فَطَلَبُوا عَارِيَتَهُمْ أَلَهُمْ أَنْ يَمْنَعُوهُمْ قَالَ لاَ . قَالَتْ فَاحْتَسِبِ ابْنَكَ . قَالَ فَغَضِبَ وَقَالَ تَرَكْتِنِي حَتَّى تَلَطَّخْتُ ثُمَّ أَخْبَرْتِنِي بِابْنِي . فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَارَكَ اللَّهُ لَكُمَا فِي غَابِرِ لَيْلَتِكُمَا " . قَالَ فَحَمَلَتْ - قَالَ - فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ وَهِيَ مَعَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى الْمَدِينَةَ مِنْ سَفَرٍ لاَ يَطْرُقُهَا طُرُوقًا فَدَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ فَضَرَبَهَا الْمَخَاضُ فَاحْتُبِسَ عَلَيْهَا أَبُو طَلْحَةَ وَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - يَقُولُ أَبُو طَلْحَةَ إِنَّكَ لَتَعْلَمُ يَا رَبِّ إِنَّهُ يُعْجِبُنِي أَنْ أَخْرُجَ مَعَ رَسُولِكَ إِذَا خَرَجَ وَأَدْخُلَ مَعَهُ إِذَا دَخَلَ وَقَدِ احْتُبِسْتُ بِمَا تَرَى - قَالَ - تَقُولُ أُمُّ سُلَيْمٍ يَا أَبَا طَلْحَةَ مَا أَجِدُ الَّذِي كُنْتُ أَجِدُ انْطَلِقْ . فَانْطَلَقْنَا - قَالَ - وَضَرَبَهَا الْمَخَاضُ حِينَ قَدِمَا فَوَلَدَتْ غُلاَمًا فَقَالَتْ لِي أُمِّي يَا أَنَسُ لاَ يُرْضِعُهُ أَحَدٌ حَتَّى تَغْدُوَ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمَّا أَصْبَحَ احْتَمَلْتُهُ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَصَادَفْتُهُ وَمَعَهُ مِيسَمٌ فَلَمَّا رَآنِي قَالَ " لَعَلَّ أُمَّ سُلَيْمٍ وَلَدَتْ " . قُلْتُ نَعَمْ . فَوَضَعَ الْمِيسَمَ - قَالَ - وَجِئْتُ بِهِ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَجْوَةٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلاَكَهَا فِي فِيهِ حَتَّى ذَابَتْ ثُمَّ قَذَفَهَا فِي فِي الصَّبِيِّ فَجَعَلَ الصَّبِيُّ يَتَلَمَّظُهَا - قَالَ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْظُرُوا إِلَى حُبِّ الأَنْصَارِ التَّمْرَ " . قَالَ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ اللَّهِ
হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহার ঔরষজাত উম্মে সুলায়মের ছেলে মারা গেলো। তখন উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) তার পরিবারে লোকদের বললো, আবু তালহাকে তাঁর ছেলের খবর দিও না, যতক্ষণ আমি না বলি। তিনি বলেন, অতঃপর আবু তালহা (রাযিঃ) এলেন। উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) রাতের খানা সামনে আনলে তিনি পানাহার করলেন। তারপর উম্মে সুলায়ম ভালোমতো সাজগোজ করলেন। আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁর সাথে মিলিত হলেন। যখন উস্মু সুলায়ম (রাযিঃ) দেখলেন যে, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত, তখন তাঁকে বললেন, হে আবু তালহা! কেউ যদি কাউকে কোন জিনিস রাখতে দেয়, এরপর তা নিয়ে নেয়, তবে কি সে তা ফিরাতে পারে? আবু তালহা (রাযিঃ) বললেন, না। উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, আমি তোমার ছেলের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি।
আবু তালহা (রাযিঃ) রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমাকে আগে বল নি, আর এখন আমি অপবিত্র, এখন খবরটা দিলে? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে খবরটা দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তোমাদের বিগত রাতটিতে আল্লাহ তাআলা বরকত দিন, উম্মে সুলায়ম অন্তসত্তা হয়ে গেছে। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। উম্মে সুলায়মও এ সফরে ছিলেন। তিনি যখন সফর থেকে ফেরতেন, তখন রাতের বেলা মদীনায় প্রবেশ করতেন না। লোকেরা যখন মদীনার কাছে পৌছলো তখন উম্মে সুলায়মের প্রসব বেদনা শুরু হল। আবু তালহা (রাযিঃ) তাঁর কাছে রয়ে গেলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চলে গেলেন।
আবু তালহা (রাযিঃ) বললেন, হে পরোয়ারদিগার তুমি তো জানো যে, তোমার রাসূলের সাথে বের হতে আমার ভাল লাগে যখন তিনি বের হন, আর তাঁর সাথে যেতে আমার ভালো লাগে যখন তিনি যান। কিন্তু তুমি জানো কেন আমি থেকে গিয়েছি। রাবী বলেন, উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) বললেন, হে আবু তালহা! আগের মতো বেদনা আমার নেই। চলুন আমরা চলে যাই। স্বামী-স্ত্রী মদীনায় পৌছলে উম্মে সুলায়মের বেদনা পুনরায় শুরু হলো। আর তিনি একটি শিশু পুত্র প্রসব করলেন। আমার মা বললেন, হে আনাস! শিশুটিকে যেন কেউ দুধপান না করায় যতক্ষণ তুমি তাকে ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে যাও।
সকাল হলে আমি শিশুটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। আমি দেখলাম তাঁর হাতে উট দাগানোর যন্ত্র। আমাকে যখন তিনি দেখলেন, বললেন, সম্ভবত উম্মু সূলায়ম (এ ছেলেটি) প্রসব করেছে। আমি বললাম, হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সে যন্ত্রটি হাত থেকে রেখে দিলেন। আমি শিশুটিকে নিয়ে তার কোলে রাখলাম। তিনি মদীনার আজওয়া খেজুর আনালেন এবং নিজের মুখে দিয়ে চিবুলেন। যখন খেজুর গলে গেল, তখন শিশুটির মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগলো। তিনি বললেন, দেখো আনসারদের খেজুর প্রীতি। পরে তিনি শিশুর মুখে হাত বুলালেন এবং এর নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের শূন্য কোল নেককার, সুস্থ-সবল ও দ্বীনদার সন্তান দ্বারা ভরে দিন। আমীন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
ঈমানের মূল ভিত্তি ইসলামী আকায়েদ
...
মুসলমানদের অধঃপতনের মূল কারণ
...
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (১ম পর্ব)
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন