প্রবন্ধ
বিপদ-আপদে মৃত্যুকামনা করা একজন মুমিনের জন্য উচিত নয়।
২৫ জুন, ২০২৬
২৩৫
০
মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট, রোগ-ব্যাধি, দারিদ্র্য, নানা পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক। পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যে সুখের রাজ্যে বাস করে কখনো তাকে দু:খ স্পর্শ করে না। যতই ধনাঢ্য হোক, সে চির সুখী এমনটা কেউ দাবি করতে পারবে না। কখনো কখনো এসব কষ্টে অতিষ্ঠ ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে কেউ কেউ মৃত্যুকামনা করে বসে। কিন্তু ইসলাম এ ধরনের মানসিকতাকে নিরুৎসাহিত করেছে। একজন মুমিনের জন্য এই পরিস্থিতি সঠিক পথ হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
হতাশা মুমিন বান্দার চরিত্র নয়
দুনিয়ার জীবন পরীক্ষার স্থান। তাই বিভিন্ন সময়ে ধন-সম্পদ, সন্তান, সম্মান কিংবা অন্যান্য বিষয়ে নানাভাবে বিপদ-আপদ আসবেই। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা পূর্বেই আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ، الَّذِیْنَ اِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَةٌ، قَالُوْۤا اِنَّا لِلهِ وَ اِنَّاۤ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَ.
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব (কখনও) কিছুটা ভয়-ভীতি দ্বারা, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জান-মাল ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। সুসংবাদ শোনাও তাদেরকে, যারা (এরূপ অবস্থায়) সবরের পরিচয় দেয়। যারা তাদের কোনও মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, ‘আমরা সকলে আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
কিন্তু কখনো কখনো এমন কিছু বিপদ আসে, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর কেটে যায়, অথচ কষ্টের অবসানের কোনো দৃশ্যমান সম্ভাবনা চোখে পড়ে না। ঠিক তখনই মানুষের অন্তরে হতাশা বাসা বাঁধতে চায়। শয়তান তাকে বোঝাতে চায় 'আর কোনো আশা নেই', 'তোমার জন্য আর কোনো কল্যাণ নেই'। ফলে আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাঁর অসীম কুদরত, সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল হতে থাকে।
কিন্তু একজন মুমিন কখনোই এমন হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ করে না। কারণ সে জানে, আল্লাহর রহমত অসীম, তাঁর ক্ষমতা সীমাহীন এবং তিনি যখন ইচ্ছা তখনই যেকোনো কঠিন অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। তাই পবিত্র কুরআনের শিক্ষা হলো: মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না; বরং প্রতিটি কঠিন মুহূর্তেও ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা নিয়ে উত্তম পরিণতির অপেক্ষা করে।
কুরআনে বর্ণিত এর একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর জীবনে দেখা যায়। তিনি যখন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন এবং সন্তান লাভের সকল পার্থিব আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে একদল ফেরেশতা প্রেরণ করলেন। তারা তাঁকে একজন জ্ঞানী ও সৎ পুত্রের সুসংবাদ দিল।
এ সংবাদ শুনে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বিস্মিত হয়ে বললেন, “আমাকে তো বার্ধক্য পেয়ে বসেছে! এরপরও কি তোমরা আমাকে সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছ? কোন ভিত্তিতে এ সুসংবাদ দিচ্ছ?”
ফেরেশতারা জবাব দিলেন, “আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদই দিচ্ছি। অতএব আপনি নিরাশ হবেন না।”
তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এমন এক ঈমানদীপ্ত উত্তর দিলেন, যা যুগে যুগে মুমিনদের জন্য আশার প্রদীপ হয়ে আছে। তিনি বললেন, “আমার প্রতিপালকের রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে-ই বা নিরাশ হতে পারে?”
এ ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বাহ্যিকভাবে সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর রহমত ও কুদরতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তাই একজন মুমিন কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না; বরং সর্বাবস্থায় তাঁর ওপর ভরসা রাখে এবং উত্তম পরিণতির প্রত্যাশা করে।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর জীবনে পাওয়া যায়।
হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। কিন্তু ভাইদের ঈর্ষা ও হিংসা তাদেরকে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে প্ররোচিত করল। তারা কৌশলে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে বাবার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর কূপে নিক্ষেপ করল। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কুদরতে সেই কূপই তাঁর জন্য সম্মান ও মর্যাদার পথে প্রথম ধাপ হয়ে দাঁড়াল। একসময় তিনি মিশরের রাষ্ট্রীয় খাদ্যভাণ্ডারের দায়িত্ব লাভ করলেন।
বছর কয়েক পর দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে, সেই ভাইয়েরাই খাদ্যের সন্ধানে তাঁর কাছেই এসে উপস্থিত হলো। পরে আল্লাহর পরিকল্পনায় তাঁর সহোদর ভাই বিনইয়ামীনও তাঁর কাছেই থেকে গেলেন। একের পর এক দুই প্রিয় সন্তানকে হারিয়েও হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি। বরং তিনি তাঁর সন্তানদের উদ্দেশে বলেছিলেন—
يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
“হে আমার সন্তানরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কেবল কাফির সম্প্রদায়ই নিরাশ হয়।”
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম-এর জীবনের এ দুটি ঘটনা আমাদের একটি মহান শিক্ষা দেয় আল্লাহর প্রতি ঈমান যার অন্তরে দৃঢ়, সে কখনোই তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।
উভয় নবীই কঠিন পার্থিব পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দীর্ঘ জীবন সন্তানহীন অবস্থায় কাটিয়ে বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন। আর হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম একের পর এক দুই প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোক ও বিচ্ছেদের বেদনা সহ্য করেছিলেন। তবুও তাঁদের অন্তরে আল্লাহর রহমত ও কুদরতের প্রতি বিশ্বাস এতটুকুও টলে যায়নি। হতাশা তাঁদের হৃদয়ে স্থান পায়নি; বরং তাঁরা ধৈর্য, আশা ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে আল্লাহর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করেছেন।
অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁদের ধৈর্য ও অবিচল বিশ্বাসের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেছেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বার্ধক্যেই সন্তানের সুসংবাদ লাভ করেছেন, আর হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম বহু বছর পর তাঁর হারিয়ে যাওয়া প্রিয় পুত্র হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন।
এটাই একজন মুমিনের শিক্ষা--পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তাই হতাশা নয়; বরং ধৈর্য, দোয়া এবং আল্লাহর প্রতি অটল আস্থাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়।
মৃত্যুকামনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশনা
[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ المَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ
হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ মৃত্যু কামনা করবে না। কেননা, (কামনাকারী) সে যদি সৎকর্মশীল হয় তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে আরো সৎকর্ম করবে। কিংবা সে পাপাচারী হলে হয়ত সে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করবে।
[২]
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ وَلاَ يَدْعُ بِهِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُ إِنَّهُ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ وَإِنَّهُ لاَ يَزِيدُ الْمُؤْمِنَ عُمْرُهُ إِلاَّ خَيْرًا
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে যেন তার জন্য দুআ না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন ব্যক্তির বয়স দীর্ঘায়িত হলে এতে তার কল্যাণই বৃদ্ধি পেতে থাকে।
[৩]
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ " مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ " . قَالَ فَأَىُّ النَّاسِ شَرٌّ قَالَ " مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ
আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা তার পিতা আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি একবার বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোকদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল কে? তিনি বললেনঃ যার জীবন হল দীর্ঘ এবং আমল হয় নেক। লোকটি বললঃ সবচেয়ে মন্দ লোক কে? তিনি বললেনঃ যার জীবন হল দীর্ঘ এবং আমল হয় খারাপ।
[৪]
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ المَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ، فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَاعِلًا، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الوَفَاةُ خَيْرًا لِي "
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দুঃখ-দৈন্যে নিপতিত হওয়ার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি এমন একটা কিছু করতেই হয়, তা হলে সে যেন বলে “হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন পর্যন্ত আমার জন্য জীবিত থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়।
মুমিনের জীবন কল্যাণময়
[১]
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুমিনের অবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর সমস্ত কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। মু’মিন ব্যতিত অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যাবস্থা নেই। তাঁরা আনন্দ (সুখ শান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়।
[২]
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا، إِلاَّ كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ
হযরত আবু সা‘ঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির উপর যে সকল যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানী আপতিত হয়, এমন কি যে কাটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৪১ - ৫৬৪২
যদি কষ্ট অসহনীয় মনে হয়
মৃত্যু কামনা না করে রাসূলুল্লাহ ﷺ শেখানো এই দোয়াটি পড়া উচিত-----
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহইয়িনী মা কানাতিল হায়াতু খাইরাল্লী, ওয়া তাওয়াফফানী ইযা কানাতিল ওয়াফাতু খাইরাল্লী।
অর্থ: "হে আল্লাহ! যতদিন জীবন আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন; আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হবে, তখন আমাকে মৃত্যু দান করুন।"
মৃত্যুকামনা কোনো মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। একজন মুমিন জানেন, আল্লাহর প্রতিটি ফয়সালার মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তাই তিনি বিপদে ধৈর্য ধারণ করেন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান, বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করেন এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আখিরাতের পাথেয় হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ধৈর্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং শেষ পরিণতি কল্যাণময় করুন। আমীন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ (১ম পর্ব)
...
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
স্রষ্টা ও তাঁর অস্তিত্ব
...
শান্তি সম্প্রীতি ও উদারতার ধর্ম ইসলাম
নামে যার শান্তির আশ্বাস তার ব্যাপারে আর যাই হোক, সন্ত্রাসের অপবাদ দেয়ার আগে তার স্বরূপ উদঘাটনে দু'দণ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন