প্রবন্ধ
হজে যাচ্ছেন? সঙ্গে নিচ্ছেন শুধু চাহিদা না আত্মসমর্পণ
৭৪৬
০
হজযাত্রীদের সাথে মোযাকারা-২
হজে যাচ্ছেন? সঙ্গে নিচ্ছেন শুধু চাহিদা না আত্মসমর্পণ
[১০ই নভেম্বর ২০০৭, রাজশাহী]
মানুষের একটা বিরাট ভুল ধারণা যে, 'দোয়া কবুল হয়ে যাওয়া, এটা খুব বড় সার্থকতা।' ভুল ধারণা। গতবার আমরা হজ্বের মধ্যে একটা কথা বারবার মোযাকারা করেছি, কারণ জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বুঝার দরকার। ইবলিস দোয়া করেছিল, তার দোয়া কবুল হয়েছে। ইবলিস দোয়া করেছিল যে, আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত আয়ু দাও; তার দোয়া কবুল হয়েছে। কওমে আদ দোয়া করেছিল যে, আমাদেরকে মেঘ দাও; তাদের দোয়া কবুল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআন শরীফে বড় বড় দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, দোয়া কবুল হয়ে যাওয়া কোনো সার্থকতার প্রমাণ নয়। ইবলিসের দোয়া কবুল হয়েছে; অভিশপ্ত সে ঠিকই। কওমে আদ-এর দোয়া কবুল হয়েছে; আর তারা অভিশপ্ত আর ধ্বংস হয়েছে ঠিকই।
এই ধারণা না নিয়ে যাওয়া যে, 'আমি আমার সব দোয়া কবুল করিয়ে নেব।' দোয়া কিন্তু কবুল হওয়ার জায়গা। যেই দোয়া করবে সেই দোয়া কবুল হবে, কিন্তু আমার দোয়া ভালো না মন্দ — ঐটার উপর নির্ভর করে তাতে আমার মঙ্গল হলো না অমঙ্গল হলো। যদি ওখান থেকে খারাপ দোয়া কবুল করিয়ে আনি; হতে পারে — কারণ ইবলিস খারাপ দোয়া করেছে, আর আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না এমন তো বলেননি। কওমে আদ খারাপ দোয়া করেছে — তাও কবুল হয়েছে। তো দোয়া কবুল হয়ে যাবে। দোয়া শুধু ওখানে কেন, এখানেও দোয়া কবুল হয়।
আল্লাহ তায়ালাই যদি বান্দাকে কিছু না দেন তো বান্দা নিজে থেকে পারবে না। যে মদ খেতে চায় আল্লাহ যদি তাকে মদ না দিতেন তাহলে কি সে খেতে পারত? যে ঘুষ খেতে চায় আল্লাহ যদি তাকে সুযোগ না দিতেন; সে ঘুষ খেতে পারত? সে চায়, চেষ্টা করে, সবসময় হাত তুলে দোয়া করে না; ইচ্ছার নামই দোয়া। যে খারাপ করতে চায় আল্লাহ তায়ালা তাকে খারাপের সুযোগ দিয়ে দেন। আর যদি একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে দোয়া করে; মোজদালিফায় গিয়ে .....আরও বেশি।
তো খোদা না খাস্তা আমি যদি ওইরকম খারাপ দোয়া করি তো (কবুল) হবে না — এমন কথা নয়। যে ঘুষ খেতে চায় সে ঘুষ পেয়ে যায়, যে মদ খেতে চায় সে মদ পেয়ে যায়, যে জুলুম করতে চায় তো জুলুম করার সুযোগ সে পেয়ে যায়। হজ্বে গিয়েও যদি আমি আমার খারাপ দোয়াগুলো চেয়ে নিতে চাই; আল্লাহ তায়ালা হয়তোবা দিয়ে দেবেন। আমি খুশি হয়ে যাব যে দোয়া করলাম আর দোয়া কবুল হয়ে গেল, কওমে আদ যেরকম খুশি হয়ে গেল; কিন্তু এতে নিজের কোনো মঙ্গল হলো না বা অন্যেরও কোনো মঙ্গল হলো না।
তো সম্পূর্ণ হজ্বই তো দোয়া কবুল হওয়ার জায়গা। কিন্তু যেটা আমার খুব সতর্ক হওয়া, খেয়াল করা যে — কী দোয়া করব। আর সবচেয়ে ভালো দোয়া সম্ভবত এটাই যে, "আয় আল্লাহ! তুমি আমাকে শিখিয়ে দাও যে আমি তোমার কাছে কী চাইব।"
এইটা আল্লাহর কাছে খুব বেশি করে চাওয়া, কারণ আমার মনে তো একটার পর একটা ইচ্ছা জাগে। আর হজ্বে যাওয়া মানে হলো যে আমার নিজের অসংখ্য ইচ্ছা আমি নিয়ে যাচ্ছি, আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব যারা আছে তাদের পক্ষ থেকেও অনেক চাহিদা নিয়ে যাচ্ছি। আর সব আমলের মূল কথা — আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা, নিজের ইচ্ছা থেকে, অন্যের সম্পর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করা।
আমাদের যত খারাপ ইচ্ছাগুলো জাগে বা খারাপ দোয়া জাগে সেগুলো হয় আমার নিজের ভেতর নিজের ইচ্ছা থেকে জাগছে, নাহয় কারো সাথে সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে আসছে। আমার মন থেকে জাগে অথবা আমার বাপ-মা, ভাই-বোন তাদের সাথে যে আমার সম্পর্ক আছে সেই সম্পর্কের কারণে তাদের ইচ্ছা আমার দোয়া হয়ে গেছে। তো আমার নিজস্ব ইচ্ছা, আর না হয় যাদের সাথে আমি সম্পৃক্ত — তাদের ইচ্ছা। আর আল্লাহ তায়ালা মঙ্গল রেখেছেন না আমার ইচ্ছার মধ্যে, না আমার সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের ইচ্ছার মধ্যে। বরং আল্লাহ তায়ালা নিজ ইচ্ছার মধ্যে মঙ্গল রেখেছেন।
আমার মঙ্গল আমার ইচ্ছার মধ্যে নয়, আমার মঙ্গল আল্লাহর ইচ্ছা পূরণ করার মধ্যে। আর আমার ছেলের মঙ্গল ওর ইচ্ছা পূরণ করার মধ্যে নয় বরং আল্লাহ তায়ালা ওর ব্যাপারে যেটা পছন্দ করেন সেটা পূরণ করার মধ্যে।
তো যত বেশি আমি আমার নিজে থেকে এবং আমি আমার আপনজন থেকে নিজেকে সরাতে পারব, আল্লাহর কাছে নিতে পারব; তততোবেশি আল্লাহর ইচ্ছা আমি গ্রহণও করতে পারব। তো সব আমল, পুরা দীনই চায় নিজেকে নিজে থেকে এবং আমার সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের থেকে নিজেকে সরানো আর আল্লাহর কাছে আনা। নামাযের উদ্দেশ্য তা-ই, রোযার উদ্দেশ্য তা-ই, হজ্বের উদ্দেশ্য তা-ই, সবগুলোর উদ্দেশ্য তা-ই। তো নিজে থেকে নিজেকে সরানো, আল্লাহর কাছে আনা। আর যখনই আমি নিজে থেকে নিজেকে সরাব বা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সরাব তখনই ইচ্ছার যে সমষ্টিগুলো এখান থেকে আমার কাছে এসেছে, এগুলোও মন থেকে সরবে।
১০ থেকে ১৫ লাইনের মধ্যে সারাংশ তুলে আনুন
একটি সুন্দর শিরোনাম দেন
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
‘এ দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বীনের তলব পয়দা করা’
...
এক আমেরিকান নওমুসলিম নারীর ঈমানদীপ্ত কাহিনী
...
দা'য়ীর সাথে আল্লাহ তা'আলা আছেন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... আহলে ইলমের ওয়াদা রূহের জগতে আল্লাহ তা'আলা সাধারণ ল...
মুমিনের কিছু গুণ
ঈমান কী? ১. উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদীস-হাদীসে জিবরীলে এসেছে- فَأَخْبِرْنِي عَن...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন