প্রবন্ধ
আরাফার দিন : গুরুত্ব, ফযীলত ও আমল
২৫ মে, ২০২৬
২৯২৮
০

এ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি দিন। এ দিনেই আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দ্বীনকে পূর্ণতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা এই দিনের কসমও করেছেন। এ দিনের দু‘আ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে রোযা রাখার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা বান্দার দুই বছরের (এক বছর আগের ও এক বছর পরের) গুনাহ মাফ করে দেন। এ দিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
আরাফা হজ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি একটি পাহাড়ি এলাকা, যা মক্কা শহরের বাইরে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হজ্বের অন্যতম প্রধান রুকন হলো আরাফায় অবস্থান করা (উকূফে আরাফা)। এক মুহূর্তের জন্য হলেও আরাফায় অবস্থান করা আবশ্যক।
আরাফার দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি
হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন— আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার নিকটবতীর্ হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? —সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৮
হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত আরেক বর্ণনায় রয়েছে— আল্লাহ তা‘আলা নিকটতম আসমানে আসেন এবং পৃথিবীবাসীকে নিয়ে আসামেনর অধিবাসী অর্থাৎ ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। বলেন, দেখ তোমরা— আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোয় মলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী। অথচ তারা আমার আযাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। —সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৮৫৩
আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দু‘আ
আরাফার দিন যে দু‘আ, যিকির-আযকার করেছেন নবীগণ
যিলহজ্বের দশকের মধ্যে আরাফার দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দু‘আ-যিকিরের গুরুত্ব আরও বেশি। নবীজী (ﷺ) ও নবীগণ এ দিনে যে দু‘আ-যিকির করেছেন তা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন—
শ্রেষ্ঠ দু‘আ (-যিকির) আরাফার দু‘আ। এ দিনের দু‘আ (-যিকির) হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দু‘আ, যা আমি এবং আমার পূর্ববতীর্ নবীগণ করেছেন। তা হল—
দু‘আর অডিও এবং উচ্চারণ পেতে দু‘আর উপর ক্লিক করুন।
—জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৮৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৭৭৮
“তাকবীরে তাশরীক : যে যিকিরে মুখরিত হয় পৃথিবীর প্রতিটি জনপদ” এ সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
মসজিদুল হারামের জুমার খুতবা থেকে......হে আল্লাহর বান্দারা! মা-বাবার প্রতি সদাচারী হোন
মা-বাবার প্রতি সদাচার একটি মহান মানবিক হক; যার মতো গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ হক আর নেই। এ হক আদায় করে খো...
মক্কা-মদীনার গ্রন্থাগার : ইতিহাস ও পরিচিতি-৩
আলমাকতাবাতুল ‘আম্মাহ মদীনা মুনাওয়ারা জাতিকে অধ্যয়ন-অনুরাগী করে তুলতে সাধারণ গ্রন্থাগারের ভূমিকা অন...
ایک سے زائد حج فقہ ترجیحی کی روشنی میں
وہ شخص جو اسلام کی ترجیحات سے واقف ہو اور ہر چیز کے درست مقام کا علم رکھتاہو، کبھی ان ترجیحات کے سلس...
মাহে রমযান : পারস্পরিক সহযোগিতা বিবেচনা দায়িত্ব ও ছাড়ের কিছু কথা
অনন্য ইবাদতের মাস রমযান। এ মাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য মাসব্যাপি রোযা পালন করা। মাসের প্রতিটি দিন উপোস কর...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন