قَاتِلُوا الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَلَا بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَلَا یُحَرِّمُوۡنَ مَا حَرَّمَ اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ وَلَا یَدِیۡنُوۡنَ دِیۡنَ الۡحَقِّ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حَتّٰی یُعۡطُوا الۡجِزۡیَۃَ عَنۡ یَّدٍ وَّہُمۡ صٰغِرُوۡنَ ٪
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২৬. এর পূর্বের আটাশটি আয়াত ছিল আরবের মূর্তিপূজকদের সম্পর্কে। এখান থেকে তাবুক যুদ্ধ সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ শুরু হচ্ছে (আদ-দুররুল মানছুর, ৪ খণ্ড, ১৫৩ পৃষ্ঠা, মুজাহিদের বরাতে)। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এসব আয়াত নাযিল হয়েছিল উপরের আটাশ আয়াতের আগে। কেননা তাবুকের যুদ্ধ হয়েছিল বারাআঃ বা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার আগে। এ যুদ্ধের ঘটনা ইনশাআল্লাহ সামনে কিছুটা বিস্তারিতভাবে আসবে। এ যুদ্ধ হয়েছিল রোমানদের বিরুদ্ধে, যাদের অধিকাংশই ছিল খ্রিস্টান। ইয়াহুদীদেরও একটা বড় অংশ রোম সাম্রাজ্যের অধীনে জীবন যাপন করছিল। কুরআন মাজীদে এ উভয় সম্প্রদায়কে ‘আহলে কিতাব’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। তাই তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দান প্রসঙ্গে তাদের কিছু নিন্দনীয় আকীদা-বিশ্বাস ও কাজ-কর্ম তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, যদিও এ সকল আয়াত নাযিল হয়েছিল পূর্বের আয়াতসমূহের আগে, কিন্তু কুরআন মাজীদের বিন্যাসে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে পরে। সম্ভবত এর দ্বারা ইশারা করা হয়েছে যে, জাযিরাতুল আরবকে পৌত্তলিকতা হতে পবিত্র করার পর মুসলিমদেরকে বাইরের কিতাবীদের মুকাবিলা করতে হবে। তাছাড়া মূর্তিপূজকদের জন্য জাযিরাতুল আরবে নাগরিক হিসেবে বসবাস নিষিদ্ধ করা হলেও কিতাবীদের জন্য এই সুযোগ রাখা হয়েছিল যে, তারা জিযিয়া আদায় করে ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে পারবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তাদের জন্য এ সুযোগ বলবৎ রাখা হয়েছিল, কিন্তু ওফাতের পূর্বে তিনি অসিয়ত করে যান যে, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে জাযিরাতুল আরব থেকে বের করে দিয়ো (সহীহ বুখারী, অধ্যায় : জিহাদ, হাদীস নং ৩০৫৩)। পরবর্তীকালে হযরত উমর (রাযি.) এ অসিয়ত বাস্তবায়ন করেন। তবে এ হুকুম জাযিরাতুল আরবের জন্যই নির্দিষ্ট। জাযিরাতুল আরবের বাইরে যেখানেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক, সেখানে এখনও কিতাবীগণসহ যে-কোনও অমুসলিম সম্প্রদায় ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাস করতে পারবে এবং সেখানে তারা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। শর্ত একটাই রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত থাকতে হবে।
এখানে যদিও কেবল ‘আহলে কিতাব’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু যে কারণ বলা হয়েছে, অর্থাৎ ‘সত্য দ্বীনের অনুসরণ না করা’, এটা যেহেতু যে-কোনও প্রকার অমুসলিমের মধ্যেই পাওয়া যায়, তাই জাযিরাতুল আরবের বাইরে যে কোন অমুসলিমের জন্যই এ হুকুম প্রযোজ্য। এ সম্পর্কে উম্মতের ইজমা রয়েছে।