وَّعَلَی الثَّلٰثَۃِ الَّذِیۡنَ خُلِّفُوۡا ؕ حَتّٰۤی اِذَا ضَاقَتۡ عَلَیۡہِمُ الۡاَرۡضُ بِمَا رَحُبَتۡ وَضَاقَتۡ عَلَیۡہِمۡ اَنۡفُسُہُمۡ وَظَنُّوۡۤا اَنۡ لَّا مَلۡجَاَ مِنَ اللّٰہِ اِلَّاۤ اِلَیۡہِ ؕ ثُمَّ تَابَ عَلَیۡہِمۡ لِیَتُوۡبُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ ٪
মুফতী তাকী উসমানী
এবং সেই তিন জনের প্রতিও (আল্লাহ সদয় হলেন), যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত মূলতবি রাখা হয়েছিল। ১০১ যে পর্যন্ত না এ পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল, তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠল এবং তারা উপলব্ধি করল, আল্লাহর (ধরা) থেকে খোদ তাঁর আশ্রয় ছাড়া কোথাও আশ্রয় পাওয়া যাবে না, ১০২ পরে আল্লাহ তাদের প্রতি দয়াপরবশ হলেন, যাতে তারা তারই দিকে রুজু করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
১০১. ১০৬ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল যে, এ তিনজন সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুকুম দিয়েছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনও নির্দেশ না আসে, ততক্ষণ মুসলিমগণ তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করে চলবে। ফলে দীর্ঘ পঞ্চাশ দিন তাদেরকে এভাবে কাটাতে হয় যে, কোনও মুসলিম তাদের সঙ্গে কথা বলত না এবং অন্য কোনও রকমের যোগাযোগ ও লেনদেন করত না। তাদের অন্যতম হযরত কাব ইবনে মালিক (রাযি.) সেই সময়কার যে অবস্থা বর্ণনা করেছেন, সহীহ বুখারীর একটি দীর্ঘ রিওয়ায়াতে তা বিশদভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। তাঁর সে বর্ণনা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। কী কিয়ামত যে তখন তাদের উপর দিয়ে বয়ে গেছে তিনি তার চিত্র তুলে ধরেছেন, বস্তুত সে হাদীসটি তাদের ঈমানী চেতনা ও মানসিক অবস্থার অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও সালংকার বিবৃতি। সম্পূর্ণ হাদীসটি এখানে উদ্ধৃত করা কঠিন। অবশ্য মাআরিফুল কুরআনে তার বিশদ তরজমা উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রহী পাঠক সেখানে দেখে নিতে পারেন। এ আয়াতে তাদের মানসিক অবস্থার প্রতি ইশারা করা হয়েছে।