আত তাওবাহ্

সূরা নং: ৯, আয়াত নং: ১০২

তাফসীর
وَاٰخَرُوۡنَ اعۡتَرَفُوۡا بِذُنُوۡبِہِمۡ خَلَطُوۡا عَمَلًا صَالِحًا وَّاٰخَرَ سَیِّئًا ؕ عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّتُوۡبَ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ

উচ্চারণ

ওয়া আ-খারূনা‘তারাফুবিযুনূবিহিম খালাতূ‘আমালান সা-লিহাওঁ ওয়া আ-খারা ছাইয়িআন ‘আছাল্লা-হু আইঁ ইয়াতূবা ‘আলাইহিম ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

অপর কিছু লোক এমন, যারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। তারা এক সৎকাজের সাথে অন্য অসৎকাজ মিলিয়ে ফেলেছে। ৮৪ আশা করা যায় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। ৮৫ নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৮৪. মুনাফিকগণ তো নিজেদের মুনাফিকীর কারণে তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি; আর এ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কেই আলোচনা চলছিল। কিন্তু অকৃত্রিম মুমিনদের মধ্যেও এমন কিছু লোক ছিল, যারা অলসতার কারণে জিহাদে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী তারা ছিলেন মোট দশজন। তাদের মধ্যে সাতজন নিজেদের অলসতার কারণে এতটাই লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক থেকে ফেরার আগেই তারা নিজেরা নিজেদেরকে শাস্তি দেওয়ার সংকল্প নিয়ে ফেলেন। এতদুদ্দেশ্যে তারা মসজিদে নববীতে গিয়ে নিজেদেরকে খুঁটির সাথে বেঁধে ফেললেন এবং বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ক্ষমা না করবেন এবং নিজ হাতে আমাদেরকে খুলে না দেবেন, ততক্ষণ আমরা এভাবেই বাঁধা থাকব। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন। তাদেরকে বাঁধা অবস্থায় দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী? তাঁকে বৃত্তান্ত জানানো হল। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা যতক্ষণ পর্যন্ত খোলার হুকুম না দেন ততক্ষণ আমিও তাদেরকে খুলব না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয় এবং তাদের তাওবা কবুল করা হয়। ফলে তাদের বাঁধনও খুলে দেওয়া হয়। সেই সাতজনের মধ্যে একজন ছিলেন হযরত আবু লুবাবা আনসারী (রাযি.)। তাঁর নামে মসজিদে নববীতে এখনও একটি স্তম্ভ আছে, যাকে ‘উসতুওয়ানা আবু লুবাবা’ বলা হয়। এক রিওয়ায়াতে আছে, তিনি নিজেকে খুঁটির সাথে বেঁধেছিলেন সেই সময়, যখন বনু কুরাইজার ব্যাপারে তাঁর দ্বারা একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) এ বর্ণনাকেই বেশি সঠিক সাব্যস্ত করেছেন যে, ঘটনাটি তাবুক যুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত এবং সে সম্পর্কেই এ আয়াত নাযিল হয়েছে (দেখুন, ইবনে জারীর, তাফসীর ১১ খণ্ড, ১২-১৬ পৃ.)। অবশিষ্ট যে তিনজন তাবুকের যুদ্ধে শরীক হননি, তাদের আলোচনা সামনে ১০৬ নং আয়াতে আসছে। এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কারও দ্বারা কোনও গুনাহ হয়ে গেলে তার হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বরং সে তাওবার প্রতি মনোযোগী হবে। এমনিভাবে সে যুক্তি-তর্ক দিয়ে নিজেকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করবে না; বরং সর্বতোভাবে লজ্জা ও অনুশোচনা প্রকাশ করবে। এরূপ লোকদেরকে আল্লাহ তাআলা আশান্বিত করেছেন যে, তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন।