خُذۡ مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ صَدَقَۃً تُطَہِّرُہُمۡ وَتُزَکِّیۡہِمۡ بِہَا وَصَلِّ عَلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ صَلٰوتَکَ سَکَنٌ لَّہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৮৬. চরম অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে যারা নিজেদেরকে খুটির সাথে বেঁধে ফেলেছিলেন, যখন আল্লাহ তাআলা তাদের তাওবা কবুল করলেন এবং তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হল, তখন তাঁরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজেদের সম্পদ সদকা করতে মনস্থ করলেন এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এনে পেশ করলেন। তিনি প্রথমে বললেন, আমাকে তোমাদের থেকে কোনও সম্পদ গ্রহণের হুকুম দেওয়া হয়নি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তাকে সদকা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়াতে সদকার দু’টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। (এক) সদকা মন্দ চরিত্র ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের পক্ষে সহায়ক হয় এবং (খ) সদকা দ্বারা মানুষের সৎকার্যে বরকত ও উন্নতি লাভ হয়।
প্রকাশ থাকে যে, এ আয়াত যদিও একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছিল, কিন্তু এর ভাষা যেহেতু সাধারণ, তাই এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরামের ইজমা (ঐকমত্য) রয়েছে যে, এ আয়াতেরই আলোকে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিনায়ক তার জনগণ থেকে যাকাত উসূল করার এবং যথাযথ খাতে তা ব্যয় করার অধিকার সংরক্ষণ করে। আর এ কারণেই হযরত সিদ্দীকে আকবার (রাযি.) নিজ খেলাফত আমলে যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন।