وَاِذۡ زَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَہُمۡ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَکُمُ الۡیَوۡمَ مِنَ النَّاسِ وَاِنِّیۡ جَارٌ لَّکُمۡ ۚ فَلَمَّا تَرَآءَتِ الۡفِئَتٰنِ نَکَصَ عَلٰی عَقِبَیۡہِ وَقَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡکُمۡ اِنِّیۡۤ اَرٰی مَا لَا تَرَوۡنَ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰہَ ؕ وَاللّٰہُ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٪
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩৫. শয়তানের পক্ষ থেকে এ আশ্বাস দানের কাজটি এভাবেও হতে পারে যে, মুশরিকদের অন্তরে এরূপ ভাবনা জাগ্রত করেছিল। কিন্তু পরের বাক্যে যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, সে মানুষের বেশে মুশরিকদের সামনে এসেছিল এবং এসব কথা বলে তাদেরকে উস্কানি দিয়েছিল। সুতরাং ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) প্রমূখ এই ঘটনা উল্লেখ করেছেন যে, মক্কার মুশরিকগণ যখন যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছিল, তখন তাদের পুরানো শত্রু বনু বকরের দিক থেকে তাদের আশঙ্কা বোধ হল, পাছে তারা তাদের ঘর-বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় শয়তান বনু বকরের নেতা সুরাকার বেশে তাদের সামনে উপস্থিত হল এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করল যে, তোমাদের সৈন্য সংখ্যা বিপুল। তোমাদের উপর কেউ জয়ী হতে পারবে না। আর আমাদের গোত্র সম্পর্কে তোমরা নিশ্চিন্ত থাক। আমি নিজেই তোমাদের রক্ষা করব এবং তোমাদের সাথেই যাব। মক্কার মুশরিকগণ এ কথায় আশ্বস্ত হয়ে গেল। কিন্তু বদরের ময়দানে যখন ফিরিশতাদের বাহিনী সামনে এসে গেল, তখন সুরাকারূপী শয়তান এই বলে তাদের থেকে পালালো যে, আমি তোমাদের কোন দায়িত্ব নিতে পারব না। আমি এমন এক বাহিনী দেখছি, যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ না। পরে মুশরিক বাহিনী যখন পরাস্ত হয়ে মক্কায় ফিরল তখন তারা সুরাকাকে ধরে অভিযোগ করল যে, তুমি আমাদেরকে এত বড় ধোঁকা দিলে? সুরাকা বলল, আমি তো এ ঘটনার কিছুই জানি না এবং আমি এমন কোনও কথা বলিওনি।