সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আলাক (الـعلق) | রক্তপিন্ড

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ ۚ ١

ইকরা বিছমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক।

পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি (সব কিছু) সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরঃ

১. এ সূরার প্রথম পাঁচ আয়াত সর্বপ্রথম ওহীরূপে হেরা গুহায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল হয়। তিনি নবুওয়াত লাভের আগে কিছুকাল এ গুহায় ইবাদত-বন্দেগীতে রত ছিলেন। এ সময়ই একদিন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁকে বুকে চেপে ধরলেন। তারপর বললেন, পড়। তিনি বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। একথা তিনবার বললেন। তারপর হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এ পাঁচ আয়াত পাঠ করেন।

خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ ۚ ٢

খালাকাল ইনছা-না মিন ‘আলাক।

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত দ্বারা

তাফসীরঃ

২. علق (আলাক) অর্থ জমাট রক্ত, সংযুক্ত, ঝুলন্ত ইত্যাদি। সাধারণত মুফাসসিরগণ এর অর্থ করেছেন জমাট রক্ত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান মতে মাতৃগর্ভে ভ্রুণের যে ক্রমবিকাশ হয়, তাতে প্রথম দিকে পুরুষের শুক্র ও নারীর ডিম্বানু মিলিত হয়ে জরায়ুর গায়ে সংযুক্ত হয়ে থাকে। এ হিসেবে আলাক হল সম্মিলিতরূপে শুক্র ও ডিম্বানুর জরায়ু-সংলগ্ন সেই অবস্থার নাম, যা আলাক-এর আভিধানিক অর্থের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। যাই হোক এ শব্দটি থেকেই সূরার নাম হয়েছে সূরা আলাক -অনুবাদক।

اِقۡرَاۡ وَرَبُّکَ الۡاَکۡرَمُ ۙ ٣

ইকরা’ ওয়া রাব্বুকাল আকরাম

পড় এবং তোমার প্রতিপালক সর্বাপেক্ষা বেশি মহানুভব।

الَّذِیۡ عَلَّمَ بِالۡقَلَمِ ۙ ٤

অল্লাযী ‘আল্লামা বিলকালাম।

যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন,

عَلَّمَ الۡاِنۡسَانَ مَا لَمۡ یَعۡلَمۡ ؕ ٥

‘আল্লামাল ইনছা-না-মা-লাম ইয়া‘লাম।

মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।

তাফসীরঃ

৩. এ কথার ভেতর ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও শিক্ষা দানের সাধারণ নিয়ম কলম দ্বারা লিখিত কোন কিছু পড়ানো, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ ছাড়াও চাইলে কাউকে শিক্ষাদান করতে পারেন। সুতরাং উম্মী হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে, যা লেখাপড়া জানা লোকের কল্পনায়ও আসে না।

کَلَّاۤ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَیَطۡغٰۤی ۙ ٦

কাল্লাইন্নাল ইনছা-না লাইয়াতগা।

বস্তুত মানুষ প্রকাশ্য অবাধ্যতা করছে

তাফসীরঃ

৪. ৬নং থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলি হেরা গুহার উপরিউক্ত ঘটনার বহু কাল পর নাযিল হয়েছে। যে ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে তা হল, আবু জাহল ছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোর শত্রু। একদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবা শরীফের চত্বরে নামায পড়ছিলেন। আবু জাহল দেখে বাধা দিল এবং এ কথাও বলল যে, তুমি নামায পড়লে আমি পা দিয়ে মাড়িয়ে তোমার গর্দান পিষে দেব (নাউযুবিল্লাহ)। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াতসমূহ নাযিল করেন।

اَنۡ رَّاٰہُ اسۡتَغۡنٰی ؕ ٧

আররাআ-হুছ তাগনা-।

কেননা সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ ধন-সম্পদ ও নেতৃত্বের কারণে নিজেকে এতটা বেনিয়ায ও বেপরোয়া মনে করে যে, তার ধারণা কেউ তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সকলকেই আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন এসব জারিজুরি খতম হয়ে যাবে।

اِنَّ اِلٰی رَبِّکَ الرُّجۡعٰی ؕ ٨

ইন্না ইলা-রাব্বিকার রুজ‘আ-।

এটা নিশ্চিত যে, তোমার প্রতিপালকের কাছেই সকলকে ফিরে যেতে হবে।

اَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ یَنۡہٰی ۙ ٩

আরাআইতাল্লাযী ইয়ানহা-

তুমি কি দেখেছ সেই ব্যক্তিকে, যে বাধা দেয়
১০

عَبۡدًا اِذَا صَلّٰی ؕ ١۰

‘আবদান ইযা-সাল্লা-।

এক বান্দাকে যখন সে নামায পড়ে?
১১

اَرَءَیۡتَ اِنۡ کَانَ عَلَی الۡہُدٰۤی ۙ ١١

আরাআইতা ইন কা-না ‘আলাল হুদা।

আচ্ছা বল তো, সে (অর্থাৎ নামায আদায়কারী) যদি হেদায়েতের উপর থাকে
১২

اَوۡ اَمَرَ بِالتَّقۡوٰی ؕ ١٢

আও আমারা বিত্তাকাওয়া-।

অথবা তাকওয়ার আদেশ করে (তখন তাকে বাধা দেওয়া কি পথভ্রষ্টতা নয়?)।
১৩

اَرَءَیۡتَ اِنۡ کَذَّبَ وَتَوَلّٰی ؕ ١٣

আরাআইতা ইন কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা-।

আচ্ছা বল তো, সে (বাধাদানকারী) যদি সত্য প্রত্যাখ্যান করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়,
১৪

اَلَمۡ یَعۡلَمۡ بِاَنَّ اللّٰہَ یَرٰی ؕ ١٤

আলাম ইয়া‘লাম বিআন্নাল্লা-হা ইয়ারা-।

তবে সে কি জানে না আল্লাহ দেখছেন?
১৫

کَلَّا لَئِنۡ لَّمۡ یَنۡتَہِ ۬ۙ  لَنَسۡفَعًۢا بِالنَّاصِیَۃِ ۙ ١٥

কাল্লা-লাইল্লাম ইয়ানতাহি লানাছফা‘আম বিন্না-সিয়াহ।

খবরদার! সে নিবৃত্ত না হলে আমি তার মাথার অগ্রভাগের চুলগুচ্ছ ধরে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাব
১৬

نَاصِیَۃٍ کَاذِبَۃٍ خَاطِئَۃٍ ۚ ١٦

না-সিয়াতিন কা-যিবাতিন খা-তিআহ।

সেই চুলগুচ্ছ, যা মিথ্যাচারী, গুনাহগার
১৭

فَلۡیَدۡعُ نَادِیَہٗ ۙ ١٧

ফালইয়াদ‘উ নাদিয়াহ,

সুতরাং সে ডাকুক তার জলসা-সঙ্গীদের
১৮

سَنَدۡعُ الزَّبَانِیَۃَ ۙ ١٨

ছানাদ‘উঝঝাবা-নিয়াহ।

আমিও ডাকব জাহান্নামের ফেরেশতাদের।

তাফসীরঃ

৬. প্রথমে আবু জাহল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামায পড়তে বাধা দিলে তিনি তাকে ধমক দিয়েছিলেন। তখন আবু জাহল বলেছিল, মক্কায় আমি একা নই, আমার মজলিসেই বেশি লোক সমাগম হয় এবং সকলেই আমার সাথে আছে। তার জবাবে এ আয়াতে বলা হয়েছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সে যদি তার লোকজনকে ডাকে, তবে আমিও জাহান্নামের ফেরেশতাদেরকে ডাকব। কোন কোন বর্ণনায় আছে, আবু জাহল তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সামনে অগ্রসর হয়েছিল, কিন্তু পরক্ষণেই থেমে যায়। তা না হলে ফেরেশতাগণ তার শরীর থেকে গোশত খসিয়ে ফেলত (আদ-দুররুল মানছুর)।
১৯

کَلَّا ؕ  لَا تُطِعۡہُ وَاسۡجُدۡ وَاقۡتَرِبۡ ٪ٛ ١٩

কাল্লা- লা-তুতি‘হু ওয়াছজু দ ওয়াকতারিব (ছিজদাহ-১৪)।

সাবধান! তার আনুগত্য করো না এবং সিজদা কর ও নিকটবর্তী হও।

তাফসীরঃ

৭. অত্যন্ত প্রীতিপূর্ণ বাক্য এটি। এর দ্বারা বোঝা যায়, সিজদা অবস্থায় আল্লাহ তাআলার সাথে বান্দার বিশেষ নৈকট্য অর্জিত হয়। এটি সিজদার আয়াত। এটি পাঠ করলে বা শুনলে সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়।