সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আদ দাহ্‌র (আল-ইনসান) (الإنسان) | যুগ (মানুষ)

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৩১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ہَلۡ اَتٰی عَلَی الۡاِنۡسَانِ حِیۡنٌ مِّنَ الدَّہۡرِ لَمۡ یَکُنۡ شَیۡئًا مَّذۡکُوۡرًا ١

হাল আতা- ‘আলাল ইনছা-নি হীনুম মিনাদ্দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাযকূরা- ।

মানুষের উপর কখনও এমন সময় এসেছে কি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কোন বস্তু ছিল না?

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ অবশ্যই মানুষের এমন একটা সময় ছিল, যখন সে সম্পূর্ণ নাস্তির ভেতর ছিল, ফলে তার সম্পর্কে কোনও রকম আলোচনাও ছিল না। আল্লাহ তাআলাই নিজ দয়ায় তাকে পর্যায়ক্রমে অস্তিত্ব দান করেছেন হীন শুক্রবিন্দু হতে আর এভাবে তাকে নাস্তি ও হীনাবস্থা হতে সৃষ্টির সেরা মাখলুকে উপনীত করেছেন। এর দ্বারা মানুষকে তার সূচনাপর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শোকরগোজারির আহ্বান জানানো হয়েছে। -অনুবাদক

اِنَّا خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ اَمۡشَاجٍ ٭ۖ نَّبۡتَلِیۡہِ فَجَعَلۡنٰہُ سَمِیۡعًۢا بَصِیۡرًا ٢

ইন্না-খালাকানাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু ছামী‘আম বাসীরা- ।

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। তারপর তাকে বানিয়েছি শ্রবণকারী ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ নর ও নারীর মিলিত উপাদান দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।

اِنَّا ہَدَیۡنٰہُ السَّبِیۡلَ اِمَّا شَاکِرًا وَّاِمَّا کَفُوۡرًا ٣

ইন্না-হাদাইনা- হুছছাবীলা ইম্মা- শা- কিরাওঁ ওয়া ইম্মা- কাফূরা- ।

আমি তাকে পথ দেখিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে অথবা হবে অকৃতজ্ঞ।

اِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ سَلٰسِلَا۠ وَاَغۡلٰلًا وَّسَعِیۡرًا ٤

ইন্নাআ‘তাদনা- লিলকা-ফিরীনা ছালা-ছিলা ওয়া আগলা-লাওঁ ওয়া ছা‘ঈরা- ।

আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করেছি শিকল, গলার বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।

اِنَّ الۡاَبۡرَارَ یَشۡرَبُوۡنَ مِنۡ کَاۡسٍ کَانَ مِزَاجُہَا کَافُوۡرًا ۚ ٥

ইন্নাল আবরা-রা ইয়াশরাবূনা মিন কা’ছিন কা-না মিঝা-জুহা- কা-ফূরা-

নিশ্চয়ই পুণ্যবানেরা এমন পানপাত্র হতে (পানীয়) পান করবে, যাতে কাফূর মিশ্রিত থাকবে।

عَیۡنًا یَّشۡرَبُ بِہَا عِبَادُ اللّٰہِ یُفَجِّرُوۡنَہَا تَفۡجِیۡرًا ٦

আইনাইঁ ইয়াশরাবুবিহা- ‘ইবা-দুল্লা-হি ইউফাজ্জিরূনাহা- তাফজীরা- ।

সে পানীয় হবে এমন প্রস্রবণের, যা থেকে আল্লাহর (নেক) বান্দাগণ পান করবে। তারা তা (যেথা ইচ্ছা) সহজে প্রবাহিত করে নিয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদেরকে এই এখতিয়ার দান করবেন যে, তারা সে প্রস্রবণকে যেখানে ইচ্ছা হয় নিয়ে যেতে পারবে। এর এক পদ্ধতি হতে পারে তারা অতি সহজেই বিভিন্ন দিকে তার শাখা-প্রশাখা বের করে নিতে পারবে। এমনও হতে পারে, তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই ভূমি থেকে প্রস্রবণ উৎসারিত করতে পারবে।

یُوۡفُوۡنَ بِالنَّذۡرِ وَیَخَافُوۡنَ یَوۡمًا کَانَ شَرُّہٗ مُسۡتَطِیۡرًا ٧

ইঊফূনা বিন্নাযরি ওয়া ইয়াখা-ফূনা ইয়াওমান কা-না শাররুহূমুছতাতীরা- ।

তারা ওইসব লোক, যারা নিজ মানত পূর্ণ করে এবং অন্তরে সেই দিনের ভয় রাখে, যার অনিষ্ট চারদিকে বিস্তৃত থাকবে।

وَیُطۡعِمُوۡنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّہٖ مِسۡکِیۡنًا وَّیَتِیۡمًا وَّاَسِیۡرًا ٨

ওয়া ইউত‘ইমূনাত্তা‘আ-মা ‘আলা- হুব্বিহী মিছকীনাওঁ ওয়া ইয়াতীমাওঁ ওয়া আছীরা-।

তারা আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীদেরকে খাবার দান করে।

اِنَّمَا نُطۡعِمُکُمۡ لِوَجۡہِ اللّٰہِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡکُمۡ جَزَآءً وَّلَا شُکُوۡرًا ٩

ইন্নামা- নুত‘ইমুকুম লিওয়াজহিল্লা-হি লা-নুরীদুমিনকুম জাঝাআওঁ ওয়ালা- শুকূরা- ।

(এবং তাদেরকে বলে,) আমরা তো তোমাদেরকে খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে। আমরা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও না।
১০

اِنَّا نَخَافُ مِنۡ رَّبِّنَا یَوۡمًا عَبُوۡسًا قَمۡطَرِیۡرًا ١۰

ইন্না- নাখা-ফুমির রাব্বিনা- ইয়াওমান ‘আবূছান কামতারীরা- ।

আমরা তো আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে ভয় করি, এমন এক দিনের যে দিন চেহারা ভীষণভাবে বিকৃত হয়ে যাবে।
১১

فَوَقٰہُمُ اللّٰہُ شَرَّ ذٰلِکَ الۡیَوۡمِ وَلَقّٰہُمۡ نَضۡرَۃً وَّسُرُوۡرًا ۚ ١١

ফাওয়াকা- হুমুল্লা-হু শাররা যা-লিকাল ইয়াওমি ওয়া লাক্কা-হুম নাদরাতাওঁ ওয়া ছুরূরা- ।

পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে সেই দিনের অনিষ্ট হতে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে উৎফুল্লতা ও আনন্দ দান করবেন।
১২

وَجَزٰىہُمۡ بِمَا صَبَرُوۡا جَنَّۃً وَّحَرِیۡرًا ۙ ١٢

ওয়া জাঝা-হুম বিমা-সাবারূ জান্নাতাওঁ ওয়া হারীরা- ।

এবং তারা যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিল তার প্রতিদানে তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোশাক দান করবেন।
১৩

مُّتَّکِـِٕیۡنَ فِیۡہَا عَلَی الۡاَرَآئِکِ ۚ  لَا یَرَوۡنَ فِیۡہَا شَمۡسًا وَّلَا زَمۡہَرِیۡرًا ۚ ١٣

মুত্তাকিঈনা ফীহা- ‘আলাল আরাইকি লা- ইয়ারাওনা ফীহা- শামছাওঁ ওয়ালাঝামহারীরা- ।

তারা তাতে (জান্নাতে) আরামদায়ক উচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, যেখানে তারা কোন রোদ-তাপ বোধ করবে না এবং অতিশয় শীতও না।
১৪

وَدَانِیَۃً عَلَیۡہِمۡ ظِلٰلُہَا وَذُلِّلَتۡ قُطُوۡفُہَا تَذۡلِیۡلًا ١٤

ওয়া দা- নিয়াতান ‘আলাইহিম জিলা- লুহা- ওয়া যুলিল্লাত কুতূফুহা- তাযলীলা- ।

অবস্থা এমন হবে যে, সে উদ্যানের ছায়া তাদের উপর নামানো থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করে দেওয়া হবে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ সমস্ত ফলমূল তাদের হাতের নাগালে থাকবে। অতি সহজেই তারা তা নিয়ে নিতে পারবে।
১৫

وَیُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِاٰنِیَۃٍ مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّاَکۡوَابٍ کَانَتۡ قَؔوَارِیۡرَا۠ ۙ ١٥

ওয়া ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিআ-নিয়াতিম মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া আকওয়া-বিন কা-নাত কাওয়া-রীরা-।

এবং তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে ও স্ফটিকের পেয়ালায়।
১৬

قَؔ‍وَارِیۡرَا۠ مِنۡ فِضَّۃٍ قَدَّرُوۡہَا تَقۡدِیۡرًا ١٦

কাওয়া-রীরা মিন ফিদ্দাতিন কাদ্দারূহা-তাকদীরা- ।

স্ফটিকও রুপার, পরিবেশনকারীরা তা যথাযথ পরিমাণে ভরে দেবে।

তাফসীরঃ

৫. এটা জান্নাতের এক আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার রুপা সাধারণত স্বচ্ছ হয় না। তাই রুপার পাত্র কাচের পাত্রের মত স্বচ্ছ হতে পারে না। কিন্তু জান্নাতের গ্লাস রুপার হওয়া সত্ত্বেও কাচের মত স্বচ্ছ হবে।
১৭

وَیُسۡقَوۡنَ فِیۡہَا کَاۡسًا کَانَ مِزَاجُہَا زَنۡجَبِیۡلًا ۚ ١٧

ওয়া ইউছকাওনা ফীহা- কা’ছান কা-না মিঝা-জুহা- ঝানজাবীলা- ।

সেখানে এমন পেয়ালায় তাদেরকে পান করতে দেওয়া হবে, যার (পানীয়ের) মিশ্রণ হবে আদা
১৮

عَیۡنًا فِیۡہَا تُسَمّٰی سَلۡسَبِیۡلًا ١٨

‘আইনান ফীহা- তুছাম্মা- ছালছাবীলা- ।

সেখানকার এমন প্রস্রবণ হতে, যার নাম সালসাবিল।
১৯

وَیَطُوۡفُ عَلَیۡہِمۡ وِلۡدَانٌ مُّخَلَّدُوۡنَ ۚ اِذَا رَاَیۡتَہُمۡ حَسِبۡتَہُمۡ لُؤۡلُؤًا مَّنۡثُوۡرًا ١٩

ওয়া ইয়াতূফু‘আলাইহিম বিলদা-নুম মুখাল্লাদূ না ইযা-রাআইতাহুম হাছিবতাহুম ল’লুআম মানছূরা- ।

তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরগণ। তুমি যখন তাদেরকে দেখবে, তোমার মনে হবে তারা ছড়িয়ে দেওয়া মণি-মুক্তা।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ সে কিশোরগণ সকলে একই বয়সের থাকবে। তাদের কখনও বার্ধক্য দেখা দেবে না।
২০

وَاِذَا رَاَیۡتَ ثَمَّ رَاَیۡتَ نَعِیۡمًا وَّمُلۡکًا کَبِیۡرًا ٢۰

ওয়া ইয়া- রাআইতা ছাম্মা রআইতা না‘ঈমাওঁ ওয়া মুলকান কাবীরা- ।

এবং তুমি যখন সে স্থান দেখবে, তখন তুমি দেখতে পাবে নি‘আমতপূর্ণ এক জগত ও বিশাল রাজ্য।
২১

عٰلِیَہُمۡ ثِیَابُ سُنۡدُسٍ خُضۡرٌ وَّاِسۡتَبۡرَقٌ ۫ وَّحُلُّوۡۤا اَسَاوِرَ مِنۡ فِضَّۃٍ ۚ وَسَقٰہُمۡ رَبُّہُمۡ شَرَابًا طَہُوۡرًا ٢١

‘আ-লিয়াহুম ছিয়া-বুছুনদুছিন খুদরুওঁ ওয়া ইছতাবরাকু ওঁ ওয়া হুললূআছা-বিরা মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া ছাকা-হুম রাব্বুহুম শারা-বান তাহূরা- ।

তাদের উপর থাকবে সবুজ রংয়ের মিহি রেশমী পোশাক ও মোটা রেশমী কাপড়। তাদেরকে রূপার কাঁকন দ্বারা সজ্জিত করা হবে এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে অতি পবিত্র পানীয় পান করাবেন।
২২

اِنَّ ہٰذَا کَانَ لَکُمۡ جَزَآءً وَّکَانَ سَعۡیُکُمۡ مَّشۡکُوۡرًا ٪ ٢٢

ইন্না হা-যা- কা-না লাকুম জাঝাআওঁ ওয়া কা-না ছা‘ইউকুম মাশকূরা- ।

এবং (বলবেন), এটা তোমাদের পুরস্কার এবং তোমরা (দুনিয়ায়) যে মেহনত করেছিলে তার পরিপূর্ণ মূল্যায়ন করা হল।
২৩

اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ تَنۡزِیۡلًا ۚ ٢٣

ইন্না-নাহনুনাঝঝালনা- ‘আলাইকাল কুরআ-না তানঝীলা- ।

(হে রাসূল!) আমিই তোমার উপর কুরআন নাযিল করেছি অল্প-অল্প করে।
২৪

فَاصۡبِرۡ لِحُکۡمِ رَبِّکَ وَلَا تُطِعۡ مِنۡہُمۡ اٰثِمًا اَوۡ کَفُوۡرًا ۚ ٢٤

ফাসবির লিহুকমি রাব্বিকা ওয়ালা- তুতি‘ মিনহুম আ-ছিমান আও কাফূরা- ।

সুতরাং তুমি নিজ প্রতিপালকের নির্দেশের উপর অবিচলিত থাক এবং তাদের মধ্যকার কোন গুনাহগার বা কাফেরের আনুগত্য করো না।
২৫

وَاذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا ۖۚ ٢٥

ওয়াযকুরিছ মা রাব্বিকা বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা- ।

এবং নিজ প্রতিপালকের নামের যিকির কর সকাল ও সন্ধ্যায়।
২৬

وَمِنَ الَّیۡلِ فَاسۡجُدۡ لَہٗ وَسَبِّحۡہُ لَیۡلًا طَوِیۡلًا ٢٦

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছজুদ লাহূওয়া ছাব্বিহহু লাইলান তাবিলা- ।

এবং রাতের কিছু অংশেও তাঁর সম্মুখে সিজদা কর এবং রাতের দীর্ঘক্ষণ তার তাসবীহতে রত থাক।
২৭

اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ یُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ وَیَذَرُوۡنَ وَرَآءَہُمۡ یَوۡمًا ثَقِیۡلًا ٢٧

ইন্না হাউলাই ইউহিববূনাল ‘আ-জিলাতা ওয়া ইয়াযারূনা ওয়ারাআহুম ইয়াওমান ছাকীলা- ।

তারা তো (দুনিয়ার) নগদ জিনিসকে ভালোবাসে এবং তাদের সামনে যে কঠিন দিন আসছে তাকে উপেক্ষা করছে।
২৮

نَحۡنُ خَلَقۡنٰہُمۡ وَشَدَدۡنَاۤ اَسۡرَہُمۡ ۚ وَاِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَاۤ اَمۡثَالَہُمۡ تَبۡدِیۡلًا ٢٨

নাহনুখালাকনা-হুম ওয়াশাদাদনাআছরাহুম ওয়া ইযা- শি’না- বাদ্দালনাআমছালাহুম তাবদীলা-।

আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গ্রন্থিবন্ধন দৃঢ় করেছি এবং আমি যখন ইচ্ছা করব তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করব।

তাফসীরঃ

৭. এর এক অর্থ হতে পারে এই যে, তিনি ইচ্ছা করলে সকলকে ধ্বংস করে তাদের স্থলে নতুন মানুষ সৃষ্টি করতে পারেন। যারা ইবাদত-আনুগত্যে তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে। দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, তিনি প্রথমবার যেমন সকলকে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি সকলের মৃত্যুর পরও যখন ইচ্ছা তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন।
২৯

اِنَّ ہٰذِہٖ تَذۡکِرَۃٌ ۚ فَمَنۡ شَآءَ اتَّخَذَ اِلٰی رَبِّہٖ سَبِیۡلًا ٢٩

ইন্না হা-যিহী তাযকিরাতুন ফামান শাআত্তাখাযা ইলা- রাব্বিহী ছাবীলা- ।

বস্তুত এটা এক উপদেশবাণী। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার প্রতিপালকের দিকের পথ অবলম্বন করুক।
৩০

وَمَا تَشَآءُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ٭ۖ ٣۰

ওয়ামা-তাশাঊনা ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হ; ইন্নাল্লা-হা কা-না ‘আলীমান হাকীমা- ।

আর তোমরা ইচ্ছা করবে না, যাবৎ না আল্লাহ ইচ্ছা করেন এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
৩১

یُّدۡخِلُ مَنۡ یَّشَآءُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ  وَالظّٰلِمِیۡنَ اَعَدَّ لَہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٪ ٣١

ইউদখিলুমাইঁ ইয়াশাউ ফী রাহমাতিহী ওয়াজ্জা-লিমীনা আ‘আদ্দা লাহুম ‘আযাবান আলীমা- ।

তিনি যাকে ইচ্ছা করেন নিজ রহমতের ভেতর দাখিল করে নেন আর যারা জালেম, তাদের জন্য তিনি যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
সূরা আদ দাহ্‌র (আল-ইনসান) | মুসলিম বাংলা