সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আর রুম (الروم) | রোমান জাতি

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৬০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓـمّٓ ۚ ١

আলিফ লাম মীম।

আলিফ-লাম-মীম।

غُلِبَتِ الرُّوۡمُ ۙ ٢

গুলিবাতির রূম।

রোমকগণ পরাজিত হয়েছে,

فِیۡۤ اَدۡنَی الۡاَرۡضِ وَہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ غَلَبِہِمۡ سَیَغۡلِبُوۡنَ ۙ ٣

ফীআদনাল আরদিওয়াহুম মিম বা‘দি গালাবিহিম ছাইয়াগলিবূন।

কিন্তু নিকটবর্তী অঞ্চলে তারা তাদের পরাজয়ের পর বিজয় অর্জন করবে

فِیۡ بِضۡعِ سِنِیۡنَ ۬ؕ  لِلّٰہِ الۡاَمۡرُ مِنۡ قَبۡلُ وَمِنۡۢ بَعۡدُ ؕ  وَیَوۡمَئِذٍ یَّفۡرَحُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ٤

ফী বিদ‘ই ছিনীনা লিল্লা-হিল আমরু মিন কাবলুওয়া মিম বা‘দু ওয়া ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াফরাহুল মু’মিনূন।

বছর কয়েকের মধ্যেই। সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহরই, পূর্বেও এবং পরেও। সে দিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে

তাফসীরঃ

১. এ ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে সূরাটির পরিচিতিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, ‘কয়েক বছর’ বোঝানোর জন্য কুরআন মাজীদ بِضْعِ سِنِيْنَ শব্দ ব্যবহার করেছে।بِضْعٌ -এর অর্থ ‘কয়েক’ করা হলেও আরবীতে এ শব্দটি ‘তিন’ থেকে ‘নয়’ পর্যন্ত বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যে কারণে উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রাযি.)-এর সাথে যে বাজি ধরেছিল, তাতে সে প্রথমে বলেছিল, রোমকগণ যদি তিন বছরের মধ্যে জয়লাভ করতে পারে, তবে সে হযরত আবু বকর (রাযি.)কে দশটি উট দেবে, আর যদি তা না পারে তবে হযরত আবু বকর (রাযি.) তাকে দশটি উট দেবে। হযরত আবু বকর (রাযি.) যখন এ বাজির কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন, তিনি বললেন, কুরআন মাজীদে তো بِضْعٌ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যা তিন থেকে নয় বছর পর্যন্তের অবকাশ রাখে। কাজেই তুমি উবাই ইবনে খালফের সাথে দশের স্থলে একশতটি উটের বাজি ধর এবং মেয়াদ তিন বছরের পরিবর্তে নয় বছর করে দাও। হযরত আবু বকর (রাযি.) তাই করলেন। যেহেতু বাহ্য দৃষ্টিতে রোমকদের জয়লাভের দূর-দূরান্তের কোন সম্ভাবনাও ছিল না তাই উবাই ইবনে খালফও তাতে সহজেই রাজি হয়ে গেল। সেমতে বাজির শর্ত দাঁড়াল, যদি রোমকগণ নয় বছরের ভেতর ইরানীদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে, তবে উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রাযি.)কে একশতটি উট দেবে আর তা না হলে হযরত আবু বকর (রাযি.) তাকে একশ উট দেবেন। পূর্বে বলা হয়েছে, তখনও পর্যন্ত এরূপ বাজি ধরাকে হারাম করা হয়নি, কিন্তু যখন এ ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ হয়ে যায় তত দিনে এটা হারাম হয়ে গিয়েছিল। কাজেই উবাই ইবনে খালফের পুত্রগণ একশ উট হযরত আবু বকর (রাযি.)কে আদায় করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হুকুম দিলেন, উটগুলো সদকা করে দাও।

بِنَصۡرِ اللّٰہِ ؕ  یَنۡصُرُ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ۙ ٥

বিনাসরিল্লা-হি ইয়ানসুরু মাইঁ ইয়াশা-উ ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুর রাহীম।

আল্লাহ প্রদত্ত বিজয়ের কারণে। তিনি যাকে ইচ্ছা বিজয় দান করেন। তিনিই ক্ষমতার মালিক, পরম দয়ালুও বটে।

তাফসীরঃ

২. পূর্বে সূরার পরিচিতিতে বলা হয়েছে, এটা একটা স্বতন্ত্র ভবিষ্যদ্বাণী, যা বদরের যুদ্ধে মুমিনদের জয়লাভ দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছিল।

وَعۡدَ اللّٰہِ ؕ لَا یُخۡلِفُ اللّٰہُ وَعۡدَہٗ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٦

ওয়া‘দাল্লা-হি লা-ইউখলিফুল্লা-হু ওয়া‘দাহূওয়া লা-কিন্না আকছারান্না-ছি লাইয়া‘লামূন।

এটা আল্লাহর কৃত ওয়াদা। আল্লাহ নিজ ওয়াদার বিপরীত করেন না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।

یَعۡلَمُوۡنَ ظَاہِرًا مِّنَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚۖ وَہُمۡ عَنِ الۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ غٰفِلُوۡنَ ٧

ইয়া‘লামূনা জা-হিরাম মিনাল হায়া-তিদ দুনইয়া- ওয়া হুম ‘আনিল আ-খিরাতি হুম গাফিলূন।

তারা পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে আর আখেরাত সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ গাফেল।

তাফসীরঃ

৩. ‘তারা পার্থিব জীবনের প্রকাশ্য দিকটাই জানে’ অর্থাৎ পার্থিব জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার জন্য যা কিছু দরকার, যথা কৃষি কার্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, গৃহ-নির্মাণ, রান্না-বান্না, পোশাক তৈরি, ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এসব কিছুর আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তিকরণ এবং সেই লক্ষ্যে কল-কারখানা তৈরি ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ইত্যাদি বিষয়গুলো তারা জানে এবং নিজেদের জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকে এসবই আঞ্জাম দিতে পারে। কিন্তু বলা বাহুল্য এসবই ইহজীবনের প্রকাশ্য দিক তথা খোলস মাত্র; সারবস্তু নয়। সারবস্তু হল এর ভেতর দিয়ে সৃষ্টিকর্তার পরিচয় লাভ করা এবং তিনি কী উদ্দেশ্যে মানুষসহ গোটা মহাজগত সৃষ্টি করেছেন তা উপলব্ধি করা। সৃষ্টি নিচয়ের মধ্যে লক্ষ্য করলে উপলব্ধি করা যায় জগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং এ জগত চিরস্থায়ী নয়। এর একটা পরিণতি আছে। ইহজগতে মানুষ প্রেরণ দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে পরীক্ষা করা, সে জগতের বস্তুনিচয়ের মাঝে নিজ জীবনকে কিভাবে পরিচালনা করে। সে কি এই ইহজীবনকেই প্রকৃত জীবন মনে করে তার ভোগ-উপভোগেই নিমজ্জিত থাকে, না এর পরিণতি তথা আখিরাতের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সেই অনুযায়ী ইহজীবন নির্বাহ করে। আয়াতের শেষবাক্যে জানানো হয়েছে যে, অবিশ্বাসীগণ পরিণামদর্শী নয়। তারা ইহজীবনে মত্ত থেকে আখিরাত সম্পর্কে গাফিল হয়ে আছে। অর্থাৎ শাঁসের বদলে খোসাতেই তারা সন্তুষ্ট। -অনুবাদক

اَوَلَمۡ یَتَفَکَّرُوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ ۟ مَا خَلَقَ اللّٰہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَاۤ اِلَّا بِالۡحَقِّ وَاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَآیِٔ رَبِّہِمۡ لَکٰفِرُوۡنَ ٨

আওয়া লাম ইয়াতাফাক্কারূফীআনফুছিহিম মা-খালাকাল্লা-হুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমাইল্লা-বিলহাক্কিওয়া আজালিম মুছাম্মাওঁ ওয়া ইন্না কাছীরাম মিনান্না-ছি বিলিকাই রাব্বিহিম লাকা-ফিরূন।

তবে কি তারা নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখেনি? আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে এবং এতদুভয়ের মাঝে বিদ্যমান জিনিসকে যথাযথ উদ্দেশ্য ও নির্দিষ্ট মেয়াদ ব্যতিরেকে সৃষ্টি করেননি। কিন্তু মানুষের মধ্যে অনেকেই নিজ প্রতিপালকের সাথে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ আখেরাতকে স্বীকার না করলে তার অর্থ দাঁড়াবে, আল্লাহ তাআলা এ বিশ্ব-জগতকে এমনি-এমনিই সৃষ্টি করেছেন। এর সৃষ্টির পেছনে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য নেই। এখানে যার যা-ইচ্ছা হয় করতে পারে। জালেম কেন জুলুম করল, পাপিষ্ঠ কেন পাপাচার করল কোনও দিন তার হিসাব নেওয়া হবে না এবং ভালো লোকে ভালো কাজ করলে সেজন্য কখনও পুরস্কার লাভ করবে না। অর্থাৎ ভাল-মন্দের কোনও রকম নিষ্পত্তি ছাড়াই এ বিশ্ব-জগত অনন্ত-অসীম কাল এ রকম উদ্দেশ্যবিহীন চলতে থাকবে।

اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ  کَانُوۡۤا اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً وَّاَثَارُوا الۡاَرۡضَ وَعَمَرُوۡہَاۤ اَکۡثَرَ مِمَّا عَمَرُوۡہَا وَجَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ ؕ  فَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیَظۡلِمَہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ؕ ٩

আওয়া লাম ইয়াছীরূ ফিলআরদিফাইয়ানজুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কা-নূআশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাওঁ ওয়া আছা-রুল আরদা ওয়া ‘আমারূহা আকছারা মিম্মা-‘আমারূহা-ওয়া জাআতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফামা-কা-নাল্লা-হু লিইয়াজলিমাহুম ওয়া লা-কিন কা-নূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।

তারা কি ভূমিতে চলাফেরা করেনি, তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে? তারা শক্তিতে ছিল তাদের চেয়ে প্রচণ্ডতর এবং তারা জমি চাষ করত এবং তা আবাদ করত তাদের আবাদ অপেক্ষা বেশি। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। বস্তুত আল্লাহ এমন নন যে, তাদের প্রতি জুলুম করবেন; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ ‘আদ, ছামূদ প্রভৃতি জাতি মক্কাবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল, কৃষিকার্য ও নির্মাণ শিল্পে অনেক বেশি দক্ষ ছিল। কিন্তু দক্ষতা ও শক্তিমত্তা তাদেরকে রক্ষা করতে পারেনি। নবীগণকে অস্বীকার করার পরিণামে তাদেরকে ধ্বংস হতে হয়েছে। তাদেরই যখন এই পরিণতি হয়েছে তখন মক্কার কাফিরগণ কিসের ভরসায় আছে? ঈমান না আনলে একই পরিণাম তাদেরকেও ভোগ করতে হবে। -অনুবাদক
১০

ثُمَّ کَانَ عَاقِبَۃَ الَّذِیۡنَ اَسَآءُوا السُّوۡٓاٰۤی اَنۡ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَکَانُوۡا بِہَا یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ١۰

ছু ম্মা কা-না ‘আ-কিবাতাল্লাযীনা আছাউছছূআআন কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া কা-নূবিহা-ইয়াছতাহঝিঊন।

অতঃপর যারা মন্দ কাজ করেছিল, তাদের পরিণামও মন্দই হয়েছে। কেননা তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল এবং তারা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
১১

اَللّٰہُ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ ثُمَّ اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ١١

আল্লা-হু ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূছুম্মা ইলাইহি তুরজা‘ঊন।

আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন। তারপর তোমাদেরকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

তাফসীরঃ

৬. যারা মৃত্যুর পর মানুষের পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করত এবং বলত, পচে-গলে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর তাকে পুনরায় জীবিত করা কী করে সম্ভব, এ আয়াতে তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, প্রতিটি বস্তুর ব্যাপারে এটা একটা সাধারণ নিয়ম যে, তা প্রথমবার তৈরি করাই বেশি কঠিন হয়ে থাকে, কিন্তু কোনওক্রমে তা একবার তৈরি করে ফেলতে পারলে তারপর সে রকম আরও তৈরি করা সহজ হয়ে যায়। এ আয়াত বলছে, বিশ্ব জগতের প্রতিটি বস্তু প্রথমবার তো আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন, কাজেই পুনর্বার সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে কেন?
১২

وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ یُبۡلِسُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ١٢

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতুইউবলিছুল মুজরিমূন।

যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন অপরাধীরা নিরাশ হয়ে যাবে।
১৩

وَلَمۡ یَکُنۡ لَّہُمۡ مِّنۡ شُرَکَآئِہِمۡ شُفَعٰٓؤُا وَکَانُوۡا بِشُرَکَآئِہِمۡ کٰفِرِیۡنَ ١٣

ওয়ালাম ইয়াকুল লাহুম মিন শুরাকাইহিম শুফা‘আউওয়াকা-নূবিশুরাকাইহিম কাফিরীন।

তারা যাদেরকে আল্লাহর শরীক মেনেছিল, তাদের মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশকারী হবে না এবং তারা নিজেরাও তাদের শরীকদের অস্বীকারকারী হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ, এক পর্যায়ে মুশরিকরা সুস্পষ্ট মিথ্যা বলে দেবে। বলবে, দুনিয়ায় আমরা কখনও কোন শিরক করিনি। সূরা আনআমে আল্লাহ তাআলা তাদের সে উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, وَاللهِ رَبِّنا مَا كُنَّا مُشْرِكِيْنَ ‘আমরা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, আমরা মুশরিক ছিলাম না (আনআম ৬ : ২৩)।
১৪

وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ یَوۡمَئِذٍ یَّتَفَرَّقُوۡنَ ١٤

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতুইয়াওমাইযিইঁ ইয়াতাফাররাকূন।

এবং যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন মানুষ বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে।
১৫

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَہُمۡ فِیۡ رَوۡضَۃٍ یُّحۡبَرُوۡنَ ١٥

ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাহুম ফী রাওদাতিইঁ ইউহবারূন।

সুতরাং যারা ঈমান এনেছিল ও সৎকর্ম করেছিল তাদেরকে জান্নাতে আনন্দ দান করা হবে, (যা তাদের চেহারা থেকে বিচ্ছুরিত হবে)।
১৬

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَلِقَآیِٔ الۡاٰخِرَۃِ فَاُولٰٓئِکَ فِی الۡعَذَابِ مُحۡضَرُوۡنَ ١٦

ওয়া আম্মাল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ওয়া লিকাইল আ-খিরাতি ফাউলাইকা ফিল ‘আযা-বি মুহদারূন।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছিল এবং আমার আয়াতসমূহ ও আখেরাতের সাক্ষাতকারকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে আযাবে ধৃত করা হবে।
১৭

فَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ حِیۡنَ تُمۡسُوۡنَ وَحِیۡنَ تُصۡبِحُوۡنَ ١٧

ফাছুবহা-নাল্লা-হি হীনা তুমছূনা ওয়া হীনা তুসবিহূন।

সুতরাং আল্লাহর তাসবীহতে লিপ্ত থাক যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা ভোরের সম্মুখীন হও।
১৮

وَلَہُ الۡحَمۡدُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَعَشِیًّا وَّحِیۡنَ تُظۡہِرُوۡنَ ١٨

ওয়া লাহুল হামদুফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া‘আশিইইয়াওঁ ওয়া হীনা তুজহিরূন।

এবং তারই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এবং বিকাল বেলায় (তার তাসবীহতে লিপ্ত হও) এবং জুহরের সময়ও।

তাফসীরঃ

৮. এটি একটি অন্তর্বর্তী বাক্য। এর অর্থ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সকলেই মাখলুক, তাদের কেউ উপাস্য হওয়ার উপযুক্ত নয়; বরং তারা তাদের স্রষ্টা এক আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে। সুতরাং হে বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ! তোমরাও শিরক ও কুফর পরিহার করে সকালে, সন্ধ্যায়, বিকেলে ও জুহরে আল্লাহ তাআলার তাসবীহ ও মহিমা ঘোষণা কর। মুফাসসিরগণ বলেন, সকাল দ্বারা ফজরের নামায, সন্ধ্যা দ্বারা মাগরিব ও ইশার নামায, বিকাল দ্বারা আসরের নামায ও জুহর দ্বারা জুহরের নামাযের প্রতি ইশারা পাওয়া যায়। -অনুবাদক
১৯

یُخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَیُخۡرِجُ الۡمَیِّتَ مِنَ الۡحَیِّ وَیُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ  وَکَذٰلِکَ تُخۡرَجُوۡنَ ٪ ١٩

ইউখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়া ইউখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়া ইউহইল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ওয়া কাযা-লিকা তুখরাজূন।

তিনি প্রাণহীন থেকে প্রাণবানকে বের করে আনেন এবং প্রাণবান থেকে প্রাণহীনকে বের করে আনেন। আর তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করেন। এভাবেই তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করা হবে।

তাফসীরঃ

৯. প্রাণহীন থেকে প্রাণবানকে বের করার দৃষ্টান্ত হল ডিম থেকে মুরগি-ছানা বের করা আর প্রাণবান থেকে প্রাণহীনকে বের করার দৃষ্টান্ত হল মুরগি থেকে ডিম বের করা। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ভূমির দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন যে, খড়ার কারণে ভূমি শুকিয়ে অনুর্বর হয়ে যায়, তখন তা কোন কিছুই উৎপন্ন করার ক্ষমতা রাখে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে সেই মৃত ভূমিতে আবার জীবন দান করেন, ফলে তা থেকে নানা রকম উদ্ভিদ উদগত হয়। এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকেও তার মৃত্যুর পর এভাবে পুনরায় জীবিত করে তুলবেন।
২০

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنۡتُمۡ بَشَرٌ تَنۡتَشِرُوۡنَ ٢۰

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআন খালাকাকুমমিনতুরা-বিন ছু ম্মা ইযা- আনতুম বাশারুন তানতাশিরূন।

তাঁর (কুদরতের) একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা দেখতে না দেখতে মানবরূপে (ভূমিতে) ছড়িয়ে পড়লে। ১০

তাফসীরঃ

১০. এখান থেকে ৩৭ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলার তাওহীদ সম্পর্কে আলোচনা। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বিশ্ব-জগতে বিরাজমান সেই সকল নিদর্শনের প্রতি, যা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদকে প্রমাণ করে। কোন ব্যক্তি যদি সত্য জানার আগ্রহে ন্যায়নিষ্ঠ মন নিয়ে এসব নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তবে সে নিশ্চিত দেখতে পাবে, এর প্রতিটিই আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এর প্রত্যেকটি জানান দেয়, যেই সত্তা এই মহাবিশ্বকে মহা-বিস্ময়কর নিয়ম-শৃঙ্খলার সাথে পরিচালনা করছেন, নিজ প্রভুত্বে তার না কোন অংশীদার আছে আর না তা থাকার দরকার আছে। তাছাড়া এটা কোন যুক্তির কথা নয় যে, যেই মহান সত্তা একা এত বড় জগত সৃষ্টি করেছেন, ছোট-ছোট কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য তার আবার আলাদা-আলাদা শরীকের প্রয়োজন হবে।
২১

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَ لَکُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ اَزۡوَاجًا لِّتَسۡکُنُوۡۤا اِلَیۡہَا وَجَعَلَ بَیۡنَکُمۡ مَّوَدَّۃً وَّرَحۡمَۃً ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ٢١

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী আন খালাকা লাকুম মিন আনফুছিকুম আঝওয়া-জাল লিতাছকুনূ ইলাইহা ওয়াজা‘আলা বাইনাকুম মাওয়াদ্দাতাওঁ ওয়া রাহমাতান ইন্না ফী যা-লিকা লাআয়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ কর এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। ১১ নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

তাফসীরঃ

১১. বিবাহের আগে স্বামী-স্ত্রী সাধারণত আলাদা-আলাদা পরিবেশে লালিত-পালিত হয়। পরস্পরের মধ্যে কোন সম্বন্ধ থাকে না। কিন্তু বিবাহের পর তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধন ও ভালোবাসা গড়ে ওঠে যে, তারা অতীত জীবনকে ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের হয়ে যায়। হঠাৎ করেই তাদের মধ্যে এমন এক প্রেম-প্রীতি সৃষ্টি হয়ে যায় যে, এখন আর একজন অন্যজন ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না। যৌবনকালে না হয় এ ভালোবাসার পেছনে জৈব তাগিদের কোন ভূমিকাকে দাঁড় করানো যাবে, কিন্তু বৃদ্ধকালে কোন সে তাড়না এ ভালোবাসাকে স্থিত রাখে? তখন তো দেখা যায়, একের প্রতি অন্যের টান ও মমতা আরও বৃদ্ধি পায়। এটাই কুদরতের সেই নিদর্শন, যার প্রতি আল্লাহ তাআলা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
২২

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖ خَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاخۡتِلَافُ اَلۡسِنَتِکُمۡ وَاَلۡوَانِکُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّلۡعٰلِمِیۡنَ ٢٢

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী খালকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াখতিলা-ফুআলছিনাতিকুম ওয়া আলওয়া-নিকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিল‘আ-লিমীন।

এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে জ্ঞানবানদের জন্য।
২৩

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖ مَنَامُکُمۡ بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَابۡتِغَآؤُکُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ٢٣

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী মানা-মুকুম বিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়াবতিগাউকুম মিন ফাদলিহী ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াছমা‘উন।

এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আছে রাত ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং তোমাদের কর্তৃক তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান। ১২ নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা কথা শোনে।

তাফসীরঃ

১২. রাতে ঘুমানো আর দিনে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান অর্থাৎ জীবিকা অন্বেষণের এই যে সাধারণ নিয়ম, এটা আল্লাহ তাআলাই মানব স্বভাবের মধ্যে নিহিত রেখেছেন। দুনিয়ার মানুষ একাট্টা হয়ে এর জন্য কোন চুক্তি সম্পাদন করেনি। যদি এটা মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনার উপর ছেড়ে দেওয়া হত তবে ফাসাদ লেগে যেত। কিছু লোক একটা সময় স্থির করে তখন ঘুমাতে চাইত আর কিছু লোক ঠিক সেই সময় কাজ-কর্মে লিপ্ত থেকে তাদের ঘুম নষ্ট করে দিত। মহান আল্লাহ সেই ফাসাদ থেকে রক্ষা করে মানুষের জন্য কত নির্বিঘ্নে আরামের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
২৪

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖ یُرِیۡکُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّطَمَعًا وَّیُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَیُحۡیٖ بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ٢٤

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী ইউরীকুমুল বারকা খাওফাওঁ ওয়া তামা‘আওঁ ওয়া ইউনাঝঝিলু মিনাছছামাই মাআন ফাইউহয়ী বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

এবং তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদেরকে দেখান বিজলী, ভয় ও আশা সঞ্চারকরূপে ১৩ এবং আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন, অনন্তর তা দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে, সেই সব লোকের জন্য, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।

তাফসীরঃ

১৩. ভয় তো দেখা দেয় যে, না-জানি সেই বিদ্যুতের স্পর্শে কার কি ক্ষতি হয়ে যায়। আর আশা জাগে এই যে, হয়ত এর ফলে রহমতের বারিধারা নেমে আসবে।
২৫

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ تَقُوۡمَ السَّمَآءُ وَالۡاَرۡضُ بِاَمۡرِہٖ ؕ ثُمَّ اِذَا دَعَاکُمۡ دَعۡوَۃً ٭ۖ مِّنَ الۡاَرۡضِ ٭ۖ اِذَاۤ اَنۡتُمۡ تَخۡرُجُوۡنَ ٢٥

ওয়া মিন আ-য়া-তিহী আন তাকুমাছছামাউ ওয়াল আরদুবিআমরিহী ছু ম্মা ইযা-দা‘আ-কুম দা‘ওয়াতাম মিনাল আরদি ইযা আনতুম তাখরুজূন।

তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আকাশ ও পৃথিবী তাঁরই হুকুমে প্রতিষ্ঠিত আছে। তারপর তিনি যখন মাটি থেকে (উঠে আসার জন্য) তোমাদেরকে একবার ডাক দিবেন সঙ্গে-সঙ্গে তোমরা বের হয়ে আসবে।
২৬

وَلَہٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ کُلٌّ لَّہٗ قٰنِتُوۡنَ ٢٦

ওয়া লাহূমান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল্লুল লাহূকা-নিতূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সব তাঁরই মালিকানাধীন। সকলে তাঁরই আজ্ঞাবহ।
২৭

وَہُوَ الَّذِیۡ یَبۡدَؤُا الۡخَلۡقَ ثُمَّ یُعِیۡدُہٗ وَہُوَ اَہۡوَنُ عَلَیۡہِ ؕ  وَلَہُ الۡمَثَلُ الۡاَعۡلٰی فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ٢٧

ওয়া হুওয়াল্লাযী ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূওয়া হুওয়া আহওয়ানু‘আলাইহি ওয়া লাহুল মাছালুল আ‘লা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন। তারপর তিনিই তাকে পুনর্জীবিত করবেন আর এটা তার জন্য সহজতর। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁরই মহিমা সর্বোচ্চ। তিনিই ক্ষমতার মালিক, প্রজ্ঞাময়।
২৮

ضَرَبَ لَکُمۡ مَّثَلًا مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ ؕ ہَلۡ لَّکُمۡ مِّنۡ مَّا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ مِّنۡ شُرَکَآءَ فِیۡ مَا رَزَقۡنٰکُمۡ فَاَنۡتُمۡ فِیۡہِ سَوَآءٌ تَخَافُوۡنَہُمۡ کَخِیۡفَتِکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ٢٨

দারাবা লাকুম মাছালাম মিন আনফুছিকুম; হাল লাকুম মিম্মা-মালাকাত আইমা-নুকুম মিন শুরাকাআ ফী মা-রাঝাকনা-কুম ফাআনতুম ফীহি ছাওয়াউন তাখা-ফূনাহুম কাখীফাতিকুম আনফুছাকুম কাযা-লিকা নুফাসসিলুল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য হতেই একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তোমাদের দাস- দাসীদের মধ্যে কেউ কি তাতে তোমাদের এমন অংশীদার আছে যে, তোমরা ও তারা তাতে সম-মর্যাদার এবং তোমরা তাদেরকে ঠিক সে রকমই ভয় কর, যেমন ভয় করে থাক তোমরা পরস্পরে একে অন্যকে? ১৪ যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য আমি এভাবেই নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টরূপে বিবৃত করি।

তাফসীরঃ

১৪. কোন ব্যক্তি এটা মেনে নিতে পারে না যে, তার কোন গোলাম তার অর্থ-সম্পদে একদম তার সমান হয়ে যাবে এবং কাজ-কারবারে দু’জন স্বাধীন লোক যেমন একে অন্যের অংশীদার হয় ও একে অন্যকে ভয় করে চলে, সেই গোলামও তেমনি তার অংশীদার হয়ে যাবে এবং তাকেও তার সেই রকম ভয় করতে হবে। কোন মুশরিক যদি নিজের জন্য এ বিষয়টা মানতে না পারে, তবে আল্লাহ তাআলার জন্য কিভাবে এটা মেনে নিচ্ছে? কিভাবে তাঁর প্রভুত্বে অন্যকে অংশীদার বানাচ্ছে?
২৯

بَلِ اتَّبَعَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَہۡوَآءَہُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ فَمَنۡ یَّہۡدِیۡ مَنۡ اَضَلَّ اللّٰہُ ؕ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٢٩

বালিততাবা‘আল্লাযীনা জালামূআহওয়াআহুম বিগাইরি ‘ইলমিন ফামাইঁ ইয়াহদী মান আদাল্লাল্লা-হু ওয়ামা-লাহুম মিন না-সিরীন।

কিন্তু জালেমগণ অজ্ঞানতাবশত তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেছে। কাজেই আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেছেন, কে তাকে হেদায়াত দিতে পারে? ১৫ এরূপ লোকের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কাউকে যদি তার জিদ ও হঠকারিতাপূর্ণ কার্যকলাপের কারণে হেদায়াতের তাওফীক থেকে বঞ্চিত রাখেন, তবে তাকে হেদায়াত দান করা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
৩০

فَاَقِمۡ وَجۡہَکَ لِلدِّیۡنِ حَنِیۡفًا ؕ  فِطۡرَتَ اللّٰہِ الَّتِیۡ فَطَرَ النَّاسَ عَلَیۡہَا ؕ  لَا تَبۡدِیۡلَ لِخَلۡقِ اللّٰہِ ؕ  ذٰلِکَ الدِّیۡنُ الۡقَیِّمُ ٭ۙ  وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٭ۙ ٣۰

ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনি হানীফান ফিতরাতাল্লা-হিল্লাতী ফাতারান্না-ছা ‘আলাইহা- লা-তাবদীলা লিখালকিল্লা-হি যা-লিকাদদীনুল কাইয়িমুওয়া লা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

সুতরাং তুমি নিজ চেহারাকে একনিষ্ঠভাবে এই দীনের অভিমুখী রাখ। আল্লাহর সেই ফিতরত অনুযায়ী চল, যে ফিতরতের উপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। ১৬ আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়। ১৭ এটাই সম্পূর্ণ সরল দীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।

তাফসীরঃ

১৬. আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষের ভেতর এই যোগ্যতা নিহিত রেখেছেন যে, সে চাইলে নিজ সৃষ্টিকর্তা ও মালিককে চিনতে পারবে, তাঁর তাওহীদকে বুঝতে ও মানতে পারবে এবং তাঁর নবী-রাসূলগণ যে দীন ও হেদায়াত নিয়ে আসেন তার অনুসরণ করতে সক্ষম হবে। মানুষের মজ্জাগত এই যে যোগ্যতা ও ক্ষমতাএকেই কুরআন মাজীদে ‘ফিতরাত’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
৩১

مُنِیۡبِیۡنَ اِلَیۡہِ وَاتَّقُوۡہُ وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَلَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۙ ٣١

মুনীবীনা ইলাইহি ওয়াত্তাকূহু ওয়াআকীমুসসালা-তা ওয়ালা-তাকূনূমিনাল মুশরিকীন।

(ফিতরতের অনুসরণ করবে) তাঁরই (অর্থাৎ আল্লাহরই) অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় করবে, নামায কায়েম করবে এবং অন্তর্ভুক্ত হবে না মুশরিকদের
৩২

مِنَ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَہُمۡ وَکَانُوۡا شِیَعًا ؕ کُلُّ حِزۡبٍۭ بِمَا لَدَیۡہِمۡ فَرِحُوۡنَ ٣٢

মিনাল্লাযীনা ফাররাকূদীনাহুম ওয়া কা-নূশিয়া‘আন কুল্লুহিঝবিম বিমা-লাদাইহিম ফারিহুন।

যারা নিজেদের দীনকে খণ্ড-খণ্ড করে ফেলেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিটি দল আপন-আপন পন্থা নিয়ে উৎফুল্ল। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. সর্বপ্রথম পৃথিবীতে যখন মানুষের আগমন ঘটে, তখন সে তার এই মজ্জাগত যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সত্য দীনই অবলম্বন করেছিল। কিন্তু মানুষ কালক্রমে আলাদা-আলাদা পথ সৃষ্টি করে নেয় এবং নিজেদেরকে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মে বিভক্ত করে ফেলে। তাদের এ আচরণকেই কুরআন মাজীদ ‘দীনকে খণ্ড-খণ্ড করা’ ও ‘বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া’ শব্দমালায় ব্যক্ত করেছে।
৩৩

وَاِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوۡا رَبَّہُمۡ مُّنِیۡبِیۡنَ اِلَیۡہِ ثُمَّ اِذَاۤ اَذَاقَہُمۡ مِّنۡہُ رَحۡمَۃً اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ بِرَبِّہِمۡ یُشۡرِکُوۡنَ ۙ ٣٣

ওয়া ইযা-মাছছান্না-ছা দু ররুন দা‘আও রাব্বাহুম মুনীবীনা ইলাইহি ছু ম্মা ইযাআযা-কাহুম মিনহু রাহামাতান ইযা-ফারীকুম মিনহুম বিরাব্বিহিম ইউশরিকূন।

মানুষকে যখন কোন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হয়ে তাঁকেই ডাকে, তারপর তিনি যখন নিজের পক্ষ হতে তাদেরকে কোন রহমতের স্বাদ গ্রহণ করান, অমনি তাদের একদল নিজ প্রতিপালকের সাথে শিরক শুরু করে দেয়
৩৪

لِیَکۡفُرُوۡا بِمَاۤ اٰتَیۡنٰہُمۡ ؕ فَتَمَتَّعُوۡا ٝ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ٣٤

লিয়াকফুরূ বিমাআ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাছাওফা তা‘লামূন।

আমি তাদেরকে যা-কিছু দিয়েছি তার না-শোকরি করার জন্য। ঠিক আছে! কিছুটা মজা লুটে নাও, শীঘ্রই তোমরা সবকিছু জানতে পারবে।
৩৫

اَمۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ سُلۡطٰنًا فَہُوَ یَتَکَلَّمُ بِمَا کَانُوۡا بِہٖ یُشۡرِکُوۡنَ ٣٥

আম আনঝালনা-‘আলাইহিম ছুলতা-নান ফাহুওয়া ইয়াতাকাল্লামুবিমা-কা-নূবিহী ইউশরিকূন।

আমি কি তাদের উপর এমন কোন দলীল নাযিল করেছি, যা তারা আল্লাহর সঙ্গে যে শিরক করছে তাদেরকে তা করতে বলে?
৩৬

وَاِذَاۤ اَذَقۡنَا النَّاسَ رَحۡمَۃً فَرِحُوۡا بِہَا ؕ وَاِنۡ تُصِبۡہُمۡ سَیِّئَۃٌۢ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ اِذَا ہُمۡ یَقۡنَطُوۡنَ ٣٦

ওয়া ইযা-আযাকনান্না-ছা রাহমাতান ফারিহূবিহা- ওয়া ইন তুসিবহুম ছাইয়িআতুম বিমা-কাদ্দামাত আইদীহিম ইযা-হুম ইয়াকনাতূন।

আমি মানুষকে যখন রহমতের স্বাদ গ্রহণ করাই তখন তারা তাতে উৎফুল্ল হয়। পক্ষান্তরে তাদেরই কৃতকর্মের কারণে যখন তাদের কোন অনিষ্ট সাধিত হয়, অমনি তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
৩৭

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٣٧

আওয়া লাম ইয়ারাও আন্নাল্লা-হা ইয়াবছুতুর রিঝকা লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াকদিরু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

তারা কি দেখেনি আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং (যার জন্য ইচ্ছা) সংকীর্ণ করে দেন? ১৯ নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা ঈমান আনে।

তাফসীরঃ

১৯. যারা দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হলে হতাশাগ্রস্ত হয়, তাদেরকে বলা হচ্ছে, দুঃখ-কষ্টের সময় না-শোকরীতে লিপ্ত না হয়ে চিন্তা করা উচিত সম্পদের প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন। তিনি মানুষের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রেখে নিজ হেকমত অনুসারে স্থির করে থাকেন কাকে কখন প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা দান করবেন। এমন কোন কথা নেই যে, এটা স্থির হবে প্রত্যেকের আপন-আপন চাহিদা অনুসারে। আবার এটাও জরুরি নয় যে, এ ব্যাপারে তিনি যা করেন তা সকলের বুঝেও এসে যাবে। কাজেই এসবের পিছনে না পড়ে বরং প্রাচুর্য ও সংকীর্ণতা যখন আল্লাহ তাআলারই হাতে তখন প্রত্যেকের উচিত জীবন-যাত্রায় কোন সংকট দেখা দিলে তাঁরই শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁরই কাছে সাহায্য চাওয়া।
৩৮

فَاٰتِ ذَا الۡقُرۡبٰی حَقَّہٗ وَالۡمِسۡکِیۡنَ وَابۡنَ‌ السَّبِیۡلِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَ اللّٰہِ ۫ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ٣٨

ফাআ-তি যাল কুরবা-হাক্কাহূওয়াল মিছকীনা ওয়াবনাছছাবীল যা-লিকা খাইরুল লিল্লাযীনা ইউরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

সুতরাং আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্তকে ও মুসাফিরকেও। ২০ যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।

তাফসীরঃ

২০. পূর্বে বলা হয়েছে রিযক ও অর্থ-সম্পদ আল্লাহ তাআলারই দান। কাজেই তিনি যা-কিছু দান করেন তা তাঁরই হুকুম মোতাবেক ও তাঁরই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। তাতে গরীব-মিসকীন ও আত্মীয়-স্বজনের যে হক আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন তা যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। আদায়কালে যেন অন্তরে এই আশঙ্কা না জাগে যে, এর ফলে সম্পদ কমে যাবে। কেননা পূর্বের আয়াতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি আল্লাহ তাআলার হাতে। তোমরা যদি তাঁর হুকুম মোতাবেক তা ব্যয় কর এবং তাঁর আরোপিত হক আদায় কর, তবে এর ফলে তিনি তোমাদের সম্পদ কমিয়ে দেবেন তা কখনওই হতে পারে না। সুতরাং আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি কেউ তার অর্থ-সম্পদ থেকে অন্যের হক আদায় করার কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছে।
৩৯

وَمَاۤ اٰتَیۡتُمۡ مِّنۡ رِّبًا لِّیَرۡبُوَا۠ فِیۡۤ اَمۡوَالِ النَّاسِ فَلَا یَرۡبُوۡا عِنۡدَ اللّٰہِ ۚ وَمَاۤ اٰتَیۡتُمۡ مِّنۡ زَکٰوۃٍ تُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَ اللّٰہِ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُضۡعِفُوۡنَ ٣٩

ওয়ামাআ-তাইতুম মির রিবাল লিয়ারবুওয়া ফীআমওয়া-লিন্না-ছি ফালা-ইয়ারবূ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ামাআ-তাইতুম মিন ঝাকা-তিন তুরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ফাউলাইকা হুমুল মু দ‘ইফূন।

তোমরা যে সুদ দাও, যাতে তা মানুষের সম্পদে (যুক্ত হয়ে) বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। ২১ পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক, তো যারা তা দেয় তারাই (নিজেদের সম্পদ) কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে নেয়। ২২

তাফসীরঃ

২১. প্রকাশ থাকে যে, সূরা রূমের এ আয়াত নাযিল হয়েছিল মক্কা মুকাররমায় এবং এটাই প্রথম আয়াত, যাতে সুদের নিন্দা করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় সুদ হারাম করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে কখনও যে এটা হারাম হয়ে যেতে পারে এ আয়াত তার একটা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত বহন করে। বলা হয়েছে, সুদের আয় আল্লাহর কাছে বাড়ে না। অর্থাৎ সুদগ্রহীতা তো আশা করে তা দ্বারা তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে তা আদৌ বৃদ্ধি পায় না। কেননা প্রথমত দুনিয়ায়ও হারাম উপার্জনে বরকত হয় না, তা অঙ্কে যতই বেশি হোক না কেন। অর্থ-সম্পদের সার্থকতা তো এখানেই যে, মানুষ তা দ্বারা শান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, হারাম পন্থায় উপার্জনকারী যত বড় অঙ্কের সম্পদই অর্জন করুক, সুখণ্ডশান্তি তার নসীব হয় না। অধিকাংশ সময়ই সে নানা রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় জর্জরিত থাকে। দ্বিতীয়ত তার যে বাহ্যিক প্রবৃদ্ধি লাভ হয় তা আখেরাতে কোন কাজে আসবে না। পক্ষান্তরে দান-সদকা আখেরাতে অভাবনীয় উপকার দেবে। এ বিষয়টিই সূরা বাকারায় আল্লাহ তাআলা এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, (আল্লাহ সুদ মিটিয়ে দেন ও সদকা বৃদ্ধি করেন) (২ : ২৭৬)। উল্লেখ্য, এ আয়াতে যে الربا শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এর প্রসিদ্ধ অর্থ তো সুদ, কিন্তু এর আরেক অর্থ হল এমন উপহার যা অধিকতর মূল্যবান উপহার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন বিবাহ-শাদিতে নিমন্ত্রিতদের পক্ষ হতে যে উপহার দেওয়া হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য এটাই হয়ে থাকে। বহু মুফাসসির এখানে الربا-এর অর্থ এটাই গ্রহণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতে তারা ‘নেওতা’ (অর্থাৎ অধিক প্রাপ্তির আশায় বিবাহ-শাদিতে উপহাররূপে নগদ অর্থ প্রদানের) রেওয়াজকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। অধিক মূল্যবান উপহার লাভের প্রত্যাশায় যে উপহার দেওয়া হয়, সূরা মুদ্দাচ্ছিরেও তাকে নাজায়েয বলা হয়েছে (আয়াত নং ৭৪ : ৬)।
৪০

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ رَزَقَکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ؕ  ہَلۡ مِنۡ شُرَکَآئِکُمۡ مَّنۡ یَّفۡعَلُ مِنۡ ذٰلِکُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ  سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٪ ٤۰

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাকুম ছুম্মা রাঝাকাকুম ছুম্মা ইউমীতুকুম ছুম্মা ইউহঈকুম হাল মিন শুরাকাইকুম মাইঁ ইয়াফ‘আলুমিন যা-লিকুম মিন শাইয়িন ছুবহা-নাহূওয়া তা‘আলা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তোমাদেরকে রিযক দিয়েছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটান, তারপর তিনি তোমাদেরকে জীবিত করবেন। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছ, তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে এর কোনওটি করতে পারে? তিনি পবিত্র ও সেই শিরক থেকে সমুচ্চ, যাতে তারা লিপ্ত রয়েছে।
৪১

ظَہَرَ الۡفَسَادُ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ بِمَا کَسَبَتۡ اَیۡدِی النَّاسِ لِیُذِیۡقَہُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٤١

জাহারাল ফাছা-দুফিল বাররি ওয়ালবাহরি বিমা-কাছাবাত আইদিন্না-ছি লিইউযীকাহুম বা‘দাল্লাযী ‘আমিলূলা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

মানুষ নিজ হাতে যা কামায়, তার ফলে স্থলে ও জলে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, ২৩ আল্লাহ তাদেরকে তাদের কতক কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করাবেন বলে, হয়ত (এর ফলে) তারা ফিরে আসবে।

তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ দুনিয়ায় যে ব্যাপক বালা-মুসিবত দেখা দেয়, যেমন দুর্ভিক্ষ, মহামারি, ভূমিকম্প, শত্রুর আগ্রাসন, জালিমের আধিপত্য ইত্যাদি, এসবের প্রকৃত কারণ ব্যাপকভাবে আল্লাহ তাআলার হুকুম অমান্য করা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া। এভাবে এসব বিপদাপদ মানুষের আপন হাতের কামাই হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা মানুষের উপর এসব বিপদাপদ চাপান এজন্য, যাতে মানুষের মন কিছুটা নরম হয় এবং দুষ্কর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়। প্রকাশ থাকে যে, দুনিয়ায় যেসব বিপদাপদ দেখা দেয়, অনেক সময় তার বাহ্যিক কারণও থাকে যা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী আপন কার্য প্রকাশ করে। কিন্তু এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই কারণও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি এবং বিশেষ সময় ও বিশেষ স্থানে তার সক্রিয় হওয়াটাও আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি নিজের সে ইচ্ছা সাধারণত মানুষের পাপাচারের ফলেই কার্যকর করেন। এভাবে এ আয়াত শিক্ষা দিচ্ছে, সাধারণ বালা-মুসিবতের সময় নিজেদের গুনাহের কথা স্মরণ করে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হওয়া চাই, যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তা বাহ্যিক কোন কারণ ঘটিত বিষয়।
৪২

قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلُ ؕ کَانَ اَکۡثَرُہُمۡ مُّشۡرِکِیۡنَ ٤٢

কুল ছীরূফিল আরদিফানজুরূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলু কানা আকছারুহুম মুশরিকীন।

(হে রাসূল!) তাদেরকে বল, ভূমিতে বিচরণ করে দেখ পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
৪৩

فَاَقِمۡ وَجۡہَکَ لِلدِّیۡنِ الۡقَیِّمِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ یَوۡمٌ لَّا مَرَدَّ لَہٗ مِنَ اللّٰہِ یَوۡمَئِذٍ یَّصَّدَّعُوۡنَ ٤٣

ফাআকিম ওয়াজহাকা লিদ্দীনিল কাইয়িমি মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া ইয়াওমুল লা-মারাদ্দা লাহূমিনাল্লা-হি ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াসসাদ্দা‘ঊন।

সুতরাং তুমি নিজ চেহারা বিশুদ্ধ দীনের দিকে কায়েম রাখ, সেই দিন আসার আগে, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা টলবার কোন সম্ভাবনাই নেই। সে দিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
৪৪

مَنۡ کَفَرَ فَعَلَیۡہِ کُفۡرُہٗ ۚ  وَمَنۡ عَمِلَ صَالِحًا فَلِاَنۡفُسِہِمۡ یَمۡہَدُوۡنَ ۙ ٤٤

মান কাফারা ফা‘আলাইহি কুফরুহু ওয়া মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিআনফুছিহিম ইয়ামহাদূ ন।

যে ব্যক্তি কুফর করেছে, তার কুফরের শাস্তি তাকেই ভোগ করতে হবে। আর যারা সৎকর্ম করেছে, তারা নিজেদের জন্য পথ তৈরি করছে।
৪৫

لِیَجۡزِیَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡکٰفِرِیۡنَ ٤٥

লিয়াজঝিইয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিন ফাদলিহী ইন্নাহূলাইউহিব্বুল কা-ফিরীন।

ফলে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদেরকে ভালবাসেন না।
৪৬

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ یُّرۡسِلَ الرِّیَاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّلِیُذِیۡقَکُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَلِتَجۡرِیَ الۡفُلۡکُ بِاَمۡرِہٖ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ٤٦

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআইঁ ইউরছিলার রিয়া-হামুবাশশিরা-তিওঁ ওয়া লিইউযীকাকুম মিররাহমাতিহী ওয়া লিতাজরিয়াল ফুলকুবিআমরিহী ওয়া লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

এবং তাঁর (কুদরতের) একটি নিদর্শন এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে, তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করানোর জন্য এবং যাতে নৌযান তাঁর নির্দেশে (পানিতে) চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান কর ২৪ এবং তার শোকর আদায় কর।

তাফসীরঃ

২৪. আল্লাহ তাআলা মানুষের বহুবিধ উপকারার্থে বাতাস প্রবাহিত করে থাকেন, যেমন এক উপকার হল, বাতাস বৃষ্টির সুসংবাদ নিয়ে আসে এবং যেখানে বৃষ্টির দরকার সেখানে মেঘমালা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে বাতাস বৃষ্টি বর্ষণের বাহ্যিক কারণ হয়ে থাকে। আরেকটি ফায়দা হল, তা সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচলে সাহায্য করে। পালের জাহাজ তো বায়ু প্রবাহের উপরই সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। যান্ত্রিক নৌযানও কোনও না কোনওভাবে বাতাসের কাছে ঠেকা। আর সাগর-নদীতে নৌযান চালানোর উপকার বলা হয়েছে এই যে, মানুষ তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারে। পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান’ হল কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়- উপার্জনের অন্যান্য উপায় অবলম্বন বোঝানো হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদ ইশারা করছে যে, যদি এই বায়ু প্রবাহ না থাকত, যার সাহায্যে সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচল করে, তবে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ হয়ে যেত। কেননা আন্তর্জাতিক সকল ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধানত নৌপথেই পরিচালিত হয়ে থাকে। আমদানি-রফতানীর সিংহভাগই জাহাজযোগে সম্পন্ন হয়। সুতরাং এ বায়ু প্রবাহ তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার এক মহা করুণা।
৪৭

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ رُسُلًا اِلٰی قَوۡمِہِمۡ فَجَآءُوۡہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَانۡتَقَمۡنَا مِنَ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا ؕ وَکَانَ حَقًّا عَلَیۡنَا نَصۡرُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٤٧

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মিন কাবলিকা রুছুলান ইলা-কাওমিহিম ফাজাঊহুম বিল বাইয়িনাতি ফানতাকামনা-মিনাল্লাযীনা আজরামূ ওয়া কা-না হাক্কান ‘আলাইনা-নাসরুল মু’মিনীন।

(হে রাসূল!) আমি তোমার আগেও বহু রাসূল পাঠিয়েছি তাদের আপন-আপন সম্প্রদায়ের কাছে। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল আমি তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি। আর মুমিনদেরকে সাহায্য করার দায়িত্ব আমি নিজের উপর রেখেছি।
৪৮

اَللّٰہُ الَّذِیۡ یُرۡسِلُ الرِّیٰحَ فَتُثِیۡرُ سَحَابًا فَیَبۡسُطُہٗ فِی السَّمَآءِ کَیۡفَ یَشَآءُ وَیَجۡعَلُہٗ کِسَفًا فَتَرَی الۡوَدۡقَ یَخۡرُجُ مِنۡ خِلٰلِہٖ ۚ  فَاِذَاۤ اَصَابَ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖۤ اِذَا ہُمۡ یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ ۚ ٤٨

আল্লা-হুল্লাযী ইউরছিলুর রিয়া-হা ফাতুছীরু ছাহা-বান ফাইয়াবছুতু হূফিছ ছামাই কাইফা ইয়াশা-উ ওয়া ইয়াজ‘আলুহূকিছাফান ফাতারাল ওয়াদকা ইয়াখরুজুমিন খিলা-লিহী ফাইযা আসা-বা বিহী মাইঁ ইয়াশা-উ মিন ‘ইবা-দিহী ইযা-হুম ইয়াছতাবশিরূন।

আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। সে বায়ু মেঘমালা সঞ্চালন করে। তারপর তিনি যেভাবে চান তা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে কয়েক স্তর বিশিষ্ট (ঘনঘটা) বানিয়ে দেন। ফলে তোমরা দেখতে পাও তার ভেতর থেকে বৃষ্টি নির্গত হয়। যখন তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের নিকট ইচ্ছা হয় সে বৃষ্টি পৌঁছিয়ে দেন, তখন সহসাই তারা হয়ে ওঠে আনন্দোৎফুল্ল।
৪৯

وَاِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یُّنَزَّلَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ قَبۡلِہٖ لَمُبۡلِسِیۡنَ ٤٩

ওয়া ইন কা-নূমিন কাবলি আইঁ ইউনাঝঝালা ‘আলাইহিম মিন কাবলিহী লামুবলিছীন।

অথচ তার আগে যতক্ষণ তাদের উপর বৃষ্টিপাত করা হয়নি, ততক্ষণ তারা ছিল হতাশাগ্রস্ত।
৫০

فَانۡظُرۡ اِلٰۤی اٰثٰرِ رَحۡمَتِ اللّٰہِ کَیۡفَ یُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ اِنَّ ذٰلِکَ لَمُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٥۰

ফানজু র ইলা আ-ছা-রি রাহমাতিল্লা-হি কাইফা ইউহয়িল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ইন্না যা-লিকা লামুহয়িল মাওতা- ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহর রহমতের ফল লক্ষ্য কর, তিনি কিভাবে ভূমিকে তার মৃত্যুর পর জীবন দান করেন। বস্তুত তিনি মৃতদের জীবনদাতা এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
৫১

وَلَئِنۡ اَرۡسَلۡنَا رِیۡحًا فَرَاَوۡہُ مُصۡفَرًّا لَّظَلُّوۡا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ یَکۡفُرُوۡنَ ٥١

ওয়া লাইন আরছালনা-রীহান ফারাআওহু মুসফাররাল লাজাললূমিম বা‘দিহী ইয়াকফুরূন।

আমি যদি (ক্ষতিকর) বায়ু প্রবাহিত করি, ২৫ ফলে তারা তাদের শস্যক্ষেত্রকে পীতবর্ণ দেখতে পায়, এরপর তারা অকৃতজ্ঞতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে।

তাফসীরঃ

২৫. رِيَاحٌ শব্দটিرِيْحٌ এর বহুবচন। অর্থ বায়ু। কুরআন মাজীদে যেখানে শব্দটি বহুবচনে رِيَاحٌ ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে এর দ্বারা উপকারী বাতাস বোঝানো হয়েছে আর যেখানে একবচনে رِيَحٌ ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে বোঝানো হয়েছে ক্ষতিকর বাতাস।
৫২

فَاِنَّکَ لَا تُسۡمِعُ الۡمَوۡتٰی وَلَا تُسۡمِعُ الصُّمَّ الدُّعَآءَ اِذَا وَلَّوۡا مُدۡبِرِیۡنَ ٥٢

ফাইন্নাকা লা-তুছমি‘উল মাওতা-ওয়ালা-তুছমি‘উস সুম্মাদ দু‘আআ ইযা-ওয়াল্লাও মুদবিরীন।

(হে রাসূল!) তুমি তো মৃতদেরকে কোন কথা শোনাতে পারবে না এবং বধিরকেও পারবে না ডাক শোনাতে, যখন তারা পিছন ফিরে চলে যায়।
৫৩

وَمَاۤ اَنۡتَ بِہٰدِ الۡعُمۡیِ عَنۡ ضَلٰلَتِہِمۡ ؕ  اِنۡ تُسۡمِعُ اِلَّا مَنۡ یُّؤۡمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَہُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ٪ ٥٣

ওয়া মাআনতা বিহা-দিল ‘উময়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুছমি‘উ ইল্লা-মাইঁ ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনা-ফাহুম মুছলিমূন।

এবং তুমি অন্ধদেরকে পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত করে সঠিক পথে আনতে পারবে না। ২৬ তুমি তো কেবল তাদেরকেই নিজের কথা শোনাতে পারবে, যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে অতঃপর হয়ে যায় আজ্ঞানুবর্তী।

তাফসীরঃ

২৬. এখানে অন্ধ বলে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে কারও পথপ্রদর্শনকে গ্রহণ করে না।
৫৪

اَللّٰہُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ ضُؔعۡفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ ضُؔعۡفٍ قُوَّۃً ثُمَّ جَعَلَ مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ ضُؔعۡفًا وَّشَیۡبَۃً ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۚ وَہُوَ الۡعَلِیۡمُ الۡقَدِیۡرُ ٥٤

আল্লা-হুল্লাযী খালাকাকুম মিন দু‘ফিন ছু ম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি দু‘ফিন কু ওওয়াতান ছু ম্মা জা‘আলা মিম বা‘দি কুওওয়াতিন দু‘ফাওঁ ওয়া শাইবাতাইঁ ইয়াখলুকুমা-ইয়াশাউ ওয়া হুওয়াল ‘আলীমুল কাদীর।

আল্লাহ সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি (শুরু) করেছেন দুর্বল অবস্থা থেকে, দুর্বলতার পর তিনি দান করেন শক্তি, ফের শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
৫৫

وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ یُقۡسِمُ الۡمُجۡرِمُوۡنَ ۬ۙ مَا لَبِثُوۡا غَیۡرَ سَاعَۃٍ ؕ کَذٰلِکَ کَانُوۡا یُؤۡفَکُوۡنَ ٥٥

ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছ ছা-‘আতুইউকছিমুল মুজরিমূনা মা-লাবিছূগাইরা ছা‘আতিন কাযা-লিকা কা-নূইউ’ফাকূন।

যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সে দিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা (বরযখে) মুহূর্ত কালের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা (দুনিয়ায়ও) উল্টো মুখে চলত।
৫৬

وَقَالَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ وَالۡاِیۡمَانَ لَقَدۡ لَبِثۡتُمۡ فِیۡ کِتٰبِ اللّٰہِ اِلٰی یَوۡمِ الۡبَعۡثِ ۫ فَہٰذَا یَوۡمُ الۡبَعۡثِ وَلٰکِنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٥٦

ওয়া কা-লাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ওয়াল ঈমা-না লাকাদ লাবিছতুম ফী কিতা-বিল্লা-হি ইলা-ইয়াওমিল বা‘ছি ফাহা-যা-ইয়াওমুল বা‘ছিওয়ালা-কিন্নাকুম কনতুম লা-তা‘লামূন।

আর যাদেরকে ইলম ও ঈমান দেওয়া হয়েছিল তারা বলবে, তোমরা তো আল্লাহর লেখা (তাকদীর) অনুসারে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত (বরযখে) অবস্থান করেছ। এটাই সেই পুনরুত্থান-দিবস। কিন্তু তোমরা তো বিশ্বাস করতে না।
৫৭

فَیَوۡمَئِذٍ لَّا یَنۡفَعُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَعۡذِرَتُہُمۡ وَلَا ہُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ ٥٧

ফাইয়াওমাইযিল লা-ইয়ানফা‘উল্লাযীনা জালামূমা‘যিরাতুহুম ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।

যারা জুলুমের পথ অবলম্বন করেছিল, সে দিন তাদের ওজর-আপত্তি তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি দূর করতেও বলা হবে না।
৫৮

وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ مِنۡ کُلِّ مَثَلٍ ؕ وَلَئِنۡ جِئۡتَہُمۡ بِاٰیَۃٍ لَّیَقُوۡلَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا مُبۡطِلُوۡنَ ٥٨

ওয়া লাকাদ দারাবনা-লিন্না-ছি ফী হা-যাল কুরআ-নি মিন কুল্লি মাছালিওঁ ওয়া লাইন জি’তাহুম বিআ-ইয়াতিল লাইয়াকূলান্নাল্লাযীনা কাফারূইন আনতুম ইল্লা-মুবতিলূন।

বস্তুত এ কুরআনে আমি মানুষ (-কে বোঝানো)-এর জন্য সব রকম বিষয় বিবৃত করেছি এবং (হে রাসূল!) তুমি যদি তাদের কাছে কোনও নিদর্শন নিয়েও আস, কাফেরগণ তথাপি বলবে, তোমরা ভ্রান্ত পথেই আছ।
৫৯

کَذٰلِکَ یَطۡبَعُ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٥٩

কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুলূবিল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।

যারা জ্ঞান-বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না, আল্লাহ এভাবেই তাদের অন্তরে মোহর করে দেন।
৬০

فَاصۡبِرۡ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّلَا یَسۡتَخِفَّنَّکَ الَّذِیۡنَ لَا یُوۡقِنُوۡنَ ٪ ٦۰

ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাখিফফান্নাকাল্লাযীনা লা-ইঊকিনূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা ইয়াকীন করে না, তারা যেন কিছুতেই তোমাকে দিয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করাতে না পারে। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ কাফেরদের হঠকারিতাপূর্ণ কথাবার্তা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে হতোদ্যম না হয়ে আপনি নবীসুলভ ধৈর্য-স্থৈর্যের সাথে আপন দায়িত্ব-পালনে রত থাকুন। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যে বিজয় ও কৃতকার্যতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সত্য। তা অবশ্যই পূরণ হবে। সুতরাং তাদের প্রতি মনঃকষ্টে দাওয়াতী কার্যক্রমে যেন বিন্দুমাত্র শিথিলতা প্রদর্শন না করেন। -অনুবাদক
সূরা আর রুম | মুসলিম বাংলা