হারাম উপার্জন কারীর ঘরে দাওয়াত খাওয়া
প্রশ্নঃ ৪০৯৯৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, আচ্ছা হুজুর জনৈক ব্যক্তির আত্নীয় যদি ফুটবল ফেডারেশনে চাকরি করে তবে তার বাসায় খাওয়া দাওয়া করা কি হালাল হবে?
কারণ আমরা জানি, ফুটবল খেলা বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সবই হারাম ও নষ্টামি কাজ হয়।এখন ফুটবল ফেডারেশনের চাকরি করে ওই ফুটবলার ও ফেডারেশনকে একটা হারাম কাজে সাহায্য করা হচ্ছে।হারাম কাজে যে সাহায্য করবে সেওতো গুনাহগার।উনার কাজটাকি হালাল হচ্ছে?সেহেতু মুফতি হুজুর আমাকে বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে বললে উপকৃত হতাম।আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাযা দান করুক,আমিন।জাজাকাল্লাহু খাইর।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
নারায়নগঞ্জ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হারাম উপার্জনকারী ব্যক্তির বাসায় দাওয়াত গ্রহণ করা স্থান-কাল, পরিবেশ ও ব্যক্তির মালের অবস্থা ভেদে জায়েজ হওয়া, না হওয়া উভয়দিকে মতামত পাওয়া যায়। যেমন, হানাফি ফিকহের গ্রহণযোগ্য মূলনীতি হলো—কোনো ব্যক্তির মোট উপার্জনের অধিকাংশ যদি হারাম হয় (যেমন ৮০% হারাম ও ২০% হালাল), তবে তার দাওয়াত ও হাদিয়া গ্রহণ করা মূল বিধান অনুযায়ী নাজায়েয ও মাকরূহে তাহরীমী।
কারণ হারাম ও হালাল মিশ্রিত থাকলে এবং হারামের পরিমাণ বেশি হলে পুরো মালকে হারামের বিধানের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় (للأكثر حكم الكل)।
যেমন ফতোয়া হিন্দিয়াতে আছে -
"أهدى إلى رجل شيئاً أو أضافه، إن كان غالب ماله من الحلال فلا بأس، إلا أن يعلم بأنه حرام، فإن كان الغالب هو الحرام ينبغي أن لايقبل الهدية ولايأكل الطعام،
অর্থ: যদি কোনো ব্যক্তি কিছু উপহার দেয় বা তাকে দাওয়াত করে খাওয়ায়, তবে তার উপার্জনের বা সম্পদের বেশিরভাগ অংশ যদি হালাল হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা বা খাওয়ার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই—যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত জানা যায় যে ওই নির্দিষ্ট বস্তুটি হারাম। কিন্তু তার সম্পদের বেশিরভাগ অংশই যদি হারাম হয়, তবে তার উপহার গ্রহণ করা বা খাবার খাওয়া অনুচিত;
আর যদি উক্ত ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রিত অতিথিকে তার হালাল ২০% অংশ থেকে খানা খাওয়ায় বা হাদিয়া দেয় (এবং তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়), তবে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে। যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে,
أنه سئل عمن له جار يأكل الربا ، ويدعوه إلى طعامه؟ فقال : أجيبوه ؛ فإنما المهنأ لكم ، والوزر عليه
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সুদ খায় এমন প্রতিবেশী দাওয়াত দিলে তাতে অংশ গ্রহণ করা যাবে কি না? তিনি বলেন, দাওয়াতে অংশ গ্রহণ কর। এটা তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দে গ্রহণীয় জিনিস। গুনাহ তার উপর বর্তাবে। (জামেউল উলুম ওয়াল হেকাম ৭১)
এমনিভাবে ফতোয়া হিন্দিয়াতে আছে-
إلا أن يخبره بأنه حلال ورثته أو استقرضته من رجل، كذا في الينابيع.
কেবল তখনই খাওয়া বা গ্রহণ করা যাবে, যদি সে (উপহারদাতা) নিশ্চিত করে বলে যে এটি হালাল—যেমন সে বলল, "আমি এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি" কিংবা "কারো কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি।" 'আল-ইয়ানাবী' গ্রন্থে এমনই উল্লেখ রয়েছে।
সুতরাং হারাম উপার্জনকারী মেজবানের অবস্থা ভেদে উভয় মতামতের উপর সামঞ্জস্য করে আমল করা যেতে পারে। অর্থাৎ যে ব্যক্তির পুরো সম্পদই হারামে ডুবে গেছে অথবা স্পষ্টভাবেই হারামের প্রাধান্যতা এত বেশি যে, তার খাবার ও সম্পদ মূলত হারামেই পরিণত হয়েছে এবং জানা না যায় যে, ওই ব্যক্তির হালাল কোন সম্পদ আছে কিনা, তাহলে ওই ব্যক্তির বাসায় দাওয়াত খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিধানের উপর আমল করা জরুরি।
আর যদি উক্ত ব্যক্তির হালাল সম্পদ থাকে এবং তিনি সুনির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রিত অতিথিকে তার হালাল অংশ থেকে খানা খাওয়ায় বা হাদিয়া দেয়, তবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর হাদীসের উপর আমল করে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে।
এবং এখানে প্রথম হুকুমটি ( আজিমত عزيمة) অর্থাৎ মূল বিধান হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং দ্বিতীয় বিধানটি ( রুখসত رخيصة) সহজতা বা ছাড় হিসেবে ধর্তব্য হবে।
সর্বোপরি উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী হারাম উপার্জনকারী ব্যক্তিদের বাসায় দাওয়াত খাওয়া বা তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা স্থান-কাল, ব্যক্তি ও তাদের উপার্জিত মালের অবস্থা ভেদে জায়েজ হলেও তাদেরকে হারাম থেকে ফেরানোর উদ্দেশ্যে তাদেরকে সতর্ক করণার্থে তাদের বাসায় দাওয়াত না খাওয়া বা তাদের হাদিয়া গ্রহণ না করাই উত্তম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি মোহাম্মদ আমীর হোসাইন
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১