কুরবানী কার উপর ওয়াজিব হয়?
প্রশ্নঃ ১৯৩৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরবানী কার উপর ওয়াজিব হয়? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
২১ অক্টোবর, ২০২০
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, কুরবানি প্রত্যেক এমন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন এবং মুকিম (যিনি মুসাফির নন) মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যিনি জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যেকোনো দিন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।
* বিস্তারিত *
১. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির মধ্যে নিম্নোক্ত গুণাবলি থাকা আবশ্যক:
২. মুসলমান হওয়া: কুরবানি একটি ইবাদত, আর ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো ঈমান। তাই কাফের বা অমুসলিম ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
৩. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। নাবালেগ শিশুর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া: সুস্থমস্তিষ্ক কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার একটি প্রধান শর্ত। কোনো পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
৪. মুকিম হওয়া: কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তি হতে হবে মুকিম। শরয়ি মুসাফির (যিনি সফর অবস্থায় আছেন) ব্যক্তির ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়।
মুসাফিরের কুরবানি সম্পরকিত মাসআলা উক্ত লিংকে দেওয়া হলো,
https://www.muslimbangla.com/masail/153312
৫. নেসাবের মালিক হওয়া: ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মালিকানায় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।
* নেসাবের বিবরণ: সাড়ে সাত তোলা সোনা (৮৭.৪৮৭৫ গ্রাম) বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা (৬১২.৪১২৫ গ্রাম) অথবা এর সমমূল্যের টাকা তাঁর মালিকানায় উপস্থিত থাকে। অথবা তাঁর মালিকানায় জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজন ও ব্যবহারের অতিরিক্ত এমন আসবাবপত্র বা সামগ্রী থাকে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার দামের সমান হয়। কিংবা বসবাসের বাড়ি ছাড়া অতিরিক্ত বাড়ি বা জায়গা-জমি থাকে, অথবা ব্যবহারের অতিরিক্ত ঘরের আসবাবপত্র, অথবা ব্যবসায়ী পণ্য বা শেয়ার ইত্যাদি থাকে—যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমান হয়, তবে তাঁর ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব।
* গৃহসামগ্রী বা আসবাবপত্র যেকোনো জিনিসই হোক না কেন—তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে হোক বা ব্যবসা ছাড়া, যদি তা ব্যবহারে না আসে, তবে সেটাকেও নেসাবের হিসাবে শামিল করা হবে। অতএব, যদি উল্লেখিত সব জিনিস মিলিয়ে বা কিছু জিনিস মিলিয়ে সব জিনিসের মোট মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার দামের সমান হয়, তবে তার ওপরও কুরবানি ওয়াজিব হবে।
* এছাড়া, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের মাল, টাকা বা প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্রের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়, এবং তা ব্যবসার মাল হওয়াও শর্ত নয়। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখের সূর্য ডোবার আগে আগে কেউ যদি এই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায়, তবে তাঁর ওপর কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।
* সুতরাং, কুরবানির তিন দিনের মধ্যে যদি শেষ দিনেও (১২ই জিলহজ) কোনো উপায়ে কেউ নেসাব পরিমাণ মাল বা প্রয়োজন ও ব্যবহারের অতিরিক্ত আসবাবপত্রের মালিক হয়, তাহলেও তাঁর ওপর কুরবানি ওয়াজিব।
* হ্যাঁ, ঈদুল আজহার দিনগুলো পর্যন্ত যে সমস্ত ঋণ বা খরচ বাধ্যতামূলকভাবে পরিশোধযোগ্য, নেসাব হিসাব করার সময় ততটুকু পরিমাণ বাদ দিয়ে হিসাব করা হবে।
* এই নিয়মের ভিত্তিতে—যাঁর কাছে বসবাসের বাড়ি ছাড়াও অতিরিক্ত বাড়ি বা ফ্ল্যাট রয়েছে, প্রয়োজনীয় বাড়ির প্লট ছাড়াও অন্যান্য খালি প্লট রয়েছে, প্রয়োজনীয় সওয়ারি বা গাড়ি ছাড়াও অতিরিক্ত গাড়ি রয়েছে তাতে সে সমস্ত জিনিস ব্যবসার উদ্দেশ্যে হোক বা না হোক; এমন ব্যক্তি কুরবানির ক্ষেত্রে 'সাহেবে নেসাব' (নেসাবের মালিক) বলে গণ্য এবং তাঁর ওপর কুরবানি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজিব।
* উল্লেখ্য, এমন ব্যক্তি একটি ঘরে একজন হোক বা একাধিক—উপরিউক্ত শর্তাবলি পাওয়ার কারণে যদি একটি পরিবারে একাধিক সাহেবে নেসাব ব্যক্তি থাকেন, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদা আলাদাভাবে কুরবানি করা ওয়াজিব। আর এই অবস্থায় শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে কেবল একজনের কুরবানি সবার জন্য যথেষ্ট হবে না।
(رد المحتار ، ج:۶، ص:۳۱۲)
’’و شرائطها الإسلام والإقامة و الیسار الذي یتعلق به وجوب ( صدقة الفطر ) ... (لا الذکورۃ فتجب علی الأنثى)."
قال في الرد:
(قوله: و شرائطها) أي شرائط وجوبھا، ولم یذکر الحریة ... و لا العقل والبلوغ لما فیھما من الخلاف ... (قوله: والیسار) بأن ملك مائتي درهم أو عرضًا یساویها غیر مسکنه و ثیاب اللبس أو متاع یحتاجه إلى أن یذبح الأضحیة و لو له عقار یستغله فقیل: تلزم لو قیمته نصابًا ... فمتى فضل نصاب تلزمه و لو العقار وقفًا، فإن واجب له فی أیامھا نصاب تلزم و صاحب الثیاب الأربعة لو ساوی الرابع نصابًا غنی و ثلاثة فلا، والمرأۃ موسرۃ بالمعجل لو الزوج ملیًّا وبالمؤجل لا.‘‘
(رد المحتار ، ج:۶، ص:۳۱۲) (الفتاویٰ الهندیة، ج:۵،ص:۲۹۲ ۔البحر ،ج:۸، ص:۱۷۴)
وفیه أیضًا ( رد المحتار،ج:۶،ص:۳۱۵):
"أن الأضحیة لها وقت مقدر کالصلوۃ والصوم والعبرۃ للوجوب في آخره من کان غنیًّا آخره تلزمه.‘‘
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১