ইসলামে অনার কিলিং বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭৩০৬৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামের দৃষ্টিতে অনার কিলিং বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যা- এ বিষয়ে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি কী রকম? বাংলাদেশে এরকম একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল আজ থেকে কয়েকবছর আগে। দয়া করে বলবেন কী? জাযাকাল্লাহু খাইরান।
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ঢাকা ১২১৯
০ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামের দৃষ্টিতে অনার কিলিং বা পরিবারের সম্মান রক্ষার অজুহাতে কাউকে হত্যা করার কোনো বৈধতা নেই। কথিত সামাজিক মর্যাদা, বংশের সম্মান কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে হত্যা করা হারাম ও জঘন্য কবিরা গুনাহ। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি কোনো সম্মান রক্ষার কাজ নয়, বরং অন্যায়ভাবে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অপরাধ।
১. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা মহাপাপ
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا
যে ব্যক্তি কাউকে হত্যার বিনিময় ছাড়া অথবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া কোনো মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩২)
আয়াতটি মূলত বনি ইসরাইলের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হলেও অন্যায়ভাবে মানুষের জীবন নেওয়ার ভয়াবহতা বোঝাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল।২. ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্য কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম; সে সেখানে থাকবে। আল্লাহ তার ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৯৩)
৩. শরিয়ত কাউকে নিজের হাতে শাস্তি কার্যকর করার অধিকার দেয় না
কোনো নারী বা পুরুষ ব্যভিচার করেছে, এমন অভিযোগ উঠলেও পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা সমাজের কোনো ব্যক্তি নিজের সিদ্ধান্তে তাকে হত্যা করতে পারে না। অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করা, শরয়ি শাস্তি নির্ধারণ করা এবং তা কার্যকর করা বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। কিসাসের ক্ষেত্রেও শরয়ি শর্ত, প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।
অতএব, কেউ পারিবারিক সম্মান রক্ষার নামে কাউকে হত্যা করলে সেই অজুহাত হত্যাকাণ্ডকে বৈধ করে না। হত্যার দায় ও শরয়ি পরিণতি নির্ধারিত হবে অপরাধের প্রকৃত অবস্থা ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী।
৪. কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জাহেলি প্রথার সঙ্গে সাদৃশ্য
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ
আর যখন জীবন্ত কবর দেওয়া কন্যাশিশুকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? (সূরা আত-তাকভীর, আয়াত: ৮–৯)ইসলামপূর্ব আরবের জাহেলি সমাজে কোনো কোনো ব্যক্তি কন্যাসন্তানকে লজ্জা ও সামাজিক অপমানের আশঙ্কায় জীবন্ত কবর দিত। কুরআন এ বর্বরতার ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। আধুনিক অনার কিলিংয়ের সঙ্গে এর নৈতিক সাদৃশ্য রয়েছে, উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের জীবনকে সামাজিক সম্মান বা লজ্জার ধারণার অধীন করে ফেলা হয়। অথচ মানুষের জীবন আল্লাহর দেওয়া আমানত, সামাজিক চাপের অজুহাতে তা কেড়ে নেওয়া বৈধ নয়।
فيض القدير للمناوي:
غيرتان إحداهما يحبها الله والأخرى يبغضها الله تعالى ومخيلتان إحداهما يحبها الله والأخرى يبغضها الله تعالى الغيرة في الريبة يحبها الله والغيرة في غير ريبة يبغضها الله والمخيلة إذا تصدق الرجل يحبها الله والمخيلة في الكبر يبغضها الله عز وجل.
قال ابن حجر: وهذا الحديث ضابط الغيرة التي يلام صاحبها والتي لا يلام فيها قال: وهذا التفصيل يتمحض في حق الرجل لضرورة امتناع اجتماع زوجين لامرأة لطريق الحل وأما المرأة فحيث غارت من زوجها في ارتكاب محرم كزنا أو نقص حق وجور عليها لضرة وتحققت ذلك أو ظهرت القرائن فهي غيرة مشروعة فلو وقع ذلك بمجرد توهم عن غير ريبة فهي الغيرة في غير ريبة وأما لو كان الزوج عادلا ووفى لكل من زوجتيه حقها فالغيرة منها إن كانت لما في الطباع البشرية التي لم يسلم منها أحد من النساء فتعذر فيها ما لم يتجاوز إلى ما يحرم عليها من قول أو فعل وعليه حمل ما جاء عن السلف الصالح من النساء في ذلك كعائشة وزينب وغيرهما.
(باب الغين، رقم الحديث: 8356، ج:4، ص:408)
غيرتان إحداهما يحبها الله والأخرى يبغضها الله تعالى ومخيلتان إحداهما يحبها الله والأخرى يبغضها الله تعالى الغيرة في الريبة يحبها الله والغيرة في غير ريبة يبغضها الله والمخيلة إذا تصدق الرجل يحبها الله والمخيلة في الكبر يبغضها الله عز وجل.
قال ابن حجر: وهذا الحديث ضابط الغيرة التي يلام صاحبها والتي لا يلام فيها قال: وهذا التفصيل يتمحض في حق الرجل لضرورة امتناع اجتماع زوجين لامرأة لطريق الحل وأما المرأة فحيث غارت من زوجها في ارتكاب محرم كزنا أو نقص حق وجور عليها لضرة وتحققت ذلك أو ظهرت القرائن فهي غيرة مشروعة فلو وقع ذلك بمجرد توهم عن غير ريبة فهي الغيرة في غير ريبة وأما لو كان الزوج عادلا ووفى لكل من زوجتيه حقها فالغيرة منها إن كانت لما في الطباع البشرية التي لم يسلم منها أحد من النساء فتعذر فيها ما لم يتجاوز إلى ما يحرم عليها من قول أو فعل وعليه حمل ما جاء عن السلف الصالح من النساء في ذلك كعائشة وزينب وغيرهما.
(باب الغين، رقم الحديث: 8356، ج:4، ص:408)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন