আমানতের টাকা চুরি হয়ে গেলে কি ক্ষতিপুরণ দিতে হয়?
প্রশ্নঃ ১৭১০৩৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একটা ওষুধ আনার জন্য একজন ব্যক্তিকে আমি ১ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন সে হাসপাতালে সিরিয়ালে ছিল তখন তার পকেট থেকে আমার ১০০০ এবং তার ১৫০০ টাকাসহ মোট ২৫০০ টাকা চুরি হয়ে যায়। এখন সেই ব্যক্তি কি আমাকে ১০০০ টাকা দিতে বাধ্য?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শরীয়তের বিধান মতে আমানত গ্রহীতা যদি আমানতের যথাযথ হেফাজত করে, তাতে কোনো ত্রুটি, অবহেলা বা সীমালঙ্ঘন না করে তারপরও আমানতের সম্পদ চুরি হয়ে যায়, ছিনতাই হয়ে যায়, হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমানত গ্রহীতার ওপর তার ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) দেওয়া আবশ্যক নয়।
পক্ষান্তরে আমানত গ্রহীতা যদি আমানতের যথাযথ হেফাজত না করে, বরং তার কোনো ত্রুটি, অবহেলা বা সীমালঙ্ঘনের কারণে আমানতের সম্পদ চুরি হয়ে যায়, ছিনতাই হয়ে যায়, হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমানত গ্রহীতার ওপর তার ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) দেওয়া আবশ্যক।
কেননা, সুনানে বায়হাকীতে হযরত আলী রা. এবং হযরত ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত— তাঁরা বলেছেন— لَيسَ على مُؤتَمَنٍ ضَمانٌ "যার নিকট আমানত রাখা হয়েছে (আমানতদার), তার ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।"
কাজী শুরাইহ্ (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন— لَيسَ على المُستَودَعِ غَيرِ المُغِلِّ ضَمانٌ. "আমানত রক্ষাকারীর ওপর কোনো জরিমানা নেই, যতক্ষণ না সে খিয়ানত করে।" (সুনানে কুবরা লিল-বায়হাকী, ১২৮২৫)
অপর হাদীসে আমর ইবন শুআইবের দাদা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন— " مَنْ أُودِعَ وَدِيعَةً فَلاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ " যার কাছে কোন আমানাত রাখা হয়, (এবং তা যদি তার কাছ থেকে বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে) তার ওপর কোন ক্ষতিপূরণ আসবে না।—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২৪০১।
হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/27692)
ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব ফতহুল কদীরে আছে,
"قال (الوديعة أمانة في يد المودع إذا هلكت لم يضمنها) لقوله عليه الصلاة والسلام ليس على المستعير غير المغل ضمان ولا على المستودع غير المغل ضمان"
অর্থ: (হেদায়া গ্রন্থকার) বলেন: "(গচ্ছিত রাখা) আমানতের বস্তু আমানতগ্রহীতার কাছে একটি আমানতস্বরূপ; তা যদি ধ্বংস বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে না।" কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "খিয়ানতকারী ব্যতীত সাধারণ ব্যবহারকারীর (ধার গ্রহণকারী) ওপর কোনো জরিমানা নেই, এবং খিয়ানতকারী ব্যতীত আমানতগ্রহীতার ওপরও কোনো জরিমানা নেই। — ফাতহুল কদীর: ৮/৪৮৫
মাজমাউ আনহুরে আছে,
(فلا يضمن) أي لا يضمن المودع الوديعة بغير تعد (بالهلاك) سواء أمكن التحرز عنه أو لا هلك معها للمودع شيء أو لا لقوله عليه السلام: ليس على المستودع غير المغل ضمان» ولأن شرعيتها لحاجة الناس إليها
অর্থ: (অতএব সে জরিমানা দেবে না) অর্থাৎ কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন ছাড়া আমানতের বস্তু নষ্ট বা ধ্বংস হয়ে গেলে আমানতগ্রহীতা তার ক্ষতিপূরণ দেবে না; চাই সেই ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল কিংবা ছিল না, অথবা সেই আমানতের সাথে আমানতগ্রহীতার নিজস্ব কোনো সম্পদ নষ্ট হয়ে থাকুক বা না থাকুক। কারণ নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "খিয়ানতকারী ছাড়া আমানতগ্রহীতার ওপর কোনো জরিমানা নেই।" তাছাড়া মানুষের পারস্পরিক জীবনের প্রয়োজন মেটাতেই আমানতের এই শরঈ বিধান তৈরি করা হয়েছে। —মাজমাউল আনহুর: ২/৩৩৮]
প্রিয় দ্বীনী ভাই-বোন!
আপনার বর্ণনা যদি যথার্থ এবং সত্য হয়ে থাকে তাহলে যিনি ওষুধ ক্রয়ের জিম্মাদারী নিয়েছিলেন টাকা ছিনতাই হয়ে যাওয়ার পেছনে তার কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল না। বরং তার অজ্ঞাতসারেই তার নিজের টাকাসহ ছিনতাই হয়ে গেছে। কাজেই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিনি কোনো জরিমানা বা ক্ষতিপুরণ দিতে বাধ্য নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন