ইমামতির বেশি হক্বদার কে?: ইসলামি ফিকহের আলোকে যোগ্যতার মানদণ্ড
প্রশ্নঃ ১৬৯৯২২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রশ্ন হলো, ইমামাতির বেশি হক্বদার কে? তাদের গুনবলি কি কি?
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম, আর সেই জামাতের নেতৃত্ব দেন ইমাম। শরিয়তের দৃষ্টিতে ইমামতি কোনো সাধারণ পদবি নয়, বরং এক বিরাট আত্মিক ও সামাজিক আমানত। একাধিক সমমানের যোগ্য ব্যক্তি যখন একসঙ্গে উপস্থিত হন, তখন কে নামাজে ইমামতি করবেন এবং অগ্রাধিকার কার প্রাপ্য—এ বিষয়ে ফকিহগণ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন।
তবে আলোচনার শুরুতে একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন: নিচে বর্ণিত বিষয়গুলো ইমামতের ‘অপরিহার্য শর্ত’ নয়; বরং ‘অগ্রাধিকারের মানদণ্ড’। শর্ত না থাকলে নামাজই বাতিল হয়ে যায়, কিন্তু এখানে বর্ণিত অগ্রাধিকারের ব্যতিক্রম হলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে যিনি নিচের গুণগুলোতে ক্রমানুসারে যত এগিয়ে থাকবেন, তিনি ইমামতির তত বেশি হকদার:
• শরিয়ত ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান: যিনি সুন্নাহ এবং নামাজের যাবতীয় নিয়মকানুন ও প্রয়োজনীয় ফিকহি মাসায়েল সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে সাধারণ মানুষের মাঝে কুরআন মুখস্থ থাকার অনুপাত বেশি ছিল বলে তিলাওয়াতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ফকিহগণ সর্বসম্মতভাবে মাসায়েলের জ্ঞানকে শীর্ষে রেখেছেন; কারণ নামাজে কোনো ভুলত্রুটি দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিক সংশোধন করার জন্য গভীর ইলমের প্রয়োজন হয়।
• বিশুদ্ধ ও মার্জিত তিলাওয়াত: যদি একাধিক ব্যক্তির ইলমি যোগ্যতা সমান হয়, তবে যিনি সবচেয়ে বিশুদ্ধ, সুন্দর ও সহিহভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন, তিনি ইমামতির সুযোগ পাবেন।
• তাকওয়া ও নিষ্কলুষ জীবন: ইলম ও তিলাওয়াতে সমতা থাকলে দেখতে হবে কার খোদাভীতি বা পরহেজগারি বেশি। যিনি দৃশ্যমান গুনাহ ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে নিজেকে সবচেয়ে বেশি বাঁচিয়ে চলেন, তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
• বয়োজ্যেষ্ঠতা: ওপরের তিনটি বিষয়ে সমান হলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে যিনি বয়সে সবার চেয়ে বড় বা প্রবীণ, তিনি সম্মান ও অভিজ্ঞতার খাতিরে ইমাম হবেন।
যদি উপরোক্ত চারটি মৌলিক বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি একদম সমপর্যায়ের হন, তবে ফকিহগণের একাংশের মতে পরবর্তী বিবেচ্য বিষয়গুলো হবে:
• উন্নত চরিত্র ও স্বভাব: যার আচরণ, স্বভাব ও চারিত্রিক মাধুর্য অধিক প্রশংসনীয়।
• শালীন ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অবয়ব: যার অবয়ব ও শারীরিক প্রকাশ অধিক ব্যক্তিত্বপূর্ণ ও শালীন।
• বংশীয় মর্যাদা: পারিবারিক ঐতিহ্য ও বংশীয় আভিজাত্যে যিনি অগ্রগামী।
বর্তমান সময়ে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রায় প্রতিটি মসজিদেই কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় মুসল্লিদের মাধ্যমে একজন ‘স্থায়ী ও নিয়মিত ইমাম’ নিযুক্ত থাকেন। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত ইমামই নিজ মসজিদে নামাজ পড়ানোর একমাত্র মূল হকদার। সেখানে উপস্থিত মুক্তাদিদের ভেতর অন্য কোনো প্রবীণ, অধিক শিক্ষিত বা বুজুর্গ ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও, নির্ধারিত ইমামের সন্তুষ্টচিত্তের অনুমতি ছাড়া অন্য কারো ইমামতিতে এগিয়ে যাওয়া শরিয়তসম্মত আদবের পরিপন্থী।
(والأحق بالإمامة) تقديما بل نصبا. مجمع الأنهر (الأعلم بأحكام الصلاة) فقط صحة وفسادا بشرط اجتنابه للفواحش الظاهرة، وحفظه قدر فرض، وقيل واجب، وقيل سنة (ثم الأحسن تلاوة) وتجويدا (للقراءة، ثم الأورع) أي الأكثر اتقاء للشبهات.
والتقوى: اتقاء المحرمات (ثم الأسن) أي الأقدم إسلاما، فيقدم شاب على شيخ أسلم، وقالوا: يقدم الأقدم ورعا، وفي النهر عن الزاد: وعليه يقاس سائر الخصال، فيقال يقدم أقدمهم علما ونحوه، وحينئذ فقلما يحتاج للقرعة (ثم الأحسن خلقا) بالضم ألفة بالناس (ثم الأحسن وجها) أي أكثرهم تهجدا، زاد في الزاد: ثم أصبحهم: أي أسمحهم وجها،
ثم أكثرهم حسبا (ثم الأشرف نسبا) زاد في البرهان: ثم الأحسن صوتا، وفي الأشباه قبيل ثمن المثل، ثم الأحسن زوجة، ثم الأكثر مالا، ثم الأكثر جاها، ثم الأنظف ثوبا، ثم الأكبر رأسا والأصغر عضوا، ثم المقيم على المسافر.
حاشية ابن عابدين (١/٥٥٨):
(قوله ثم الأكبر رأسا إلخ) لأنه يدل على كبر العقل يعني مع مناسبة الأعضاء له، وإلا فلو فحش الرأس كبرا والأعضاء صغرا كان دلالة على اختلال تركيب مزاجه المستلزم لعدم اعتدال عقله اهـ ح. وفي حاشية أبي السعود؛ وقد نقل عن بعضهم في هذا المقام ما لا يليق أن يذكر فضلا عن أن يكتب اهـ وكأنه يشير إلى ما قيل أن المراد بالعضو الذكر.
حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح شرح نور الإيضاح (ص: ٣٠١):
وأصغرهم عضوا" فسره بعض المشايخ بالأصغر ذكرا لأن كبره الفاحش يدل غالبا على دناءة الأصل ويحرر ومثل ذلك لا يعلم غالبا إلا بالاطلاع أو الأخبار وهو نادر.
البناية شرح الهداية (٢/٣٣٢):
فإن تساووا فأحسنهم وجها؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: من كثرت صلاته بالليل حسن وجهه بالنهار.
حاشية ابن عابدين (١/٥٥٩):
(و) اعلم أن (صاحب البيت) ومثله إمام المسجد الراتب (أولى بالإمامة من غيره) مطلقا.
(قوله مطلقا) أي وإن كان غيره من الحاضرين من هو أعلم وأقرأ منه.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১