১ লক্ষ রাকাতের সওয়াব কি শুধু মসজিদুল হারামে?
প্রশ্নঃ ১৬৯৬৫৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত মক্কা শরিফে যে এক রাকাত নামাজে এক লাখ রাকাত নামাজের সাওয়াব সেটা কি শুধু বাইতুল্লার সাথে খাস নাকি পুরো হুদুদে হারামের মধ্যে এই সাওয়াব পাওয়া যাবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হাদীস শরীফে মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদীনার মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়ের অসামান্য ফজিলত ও বিপুল সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বিশেষ সওয়াব কেবল মূল মসজিদদ্বয়ের সীমানায় সীমাবদ্ধ, নাকি পুরো হারাম এলাকার জন্য প্রযোজ্য—এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে, হাদীসে সরাসরি 'মসজিদুল হারাম' শব্দ এসেছে। তাই এই ১ লক্ষ রাকাতের বিশেষ ফজিলত কেবল কাবার চারপাশের মূল 'মসজিদুল হারাম'-এর ভেতরে নামাজ পড়লেই অর্জিত হবে; এর বাইরের কোনো মসজিদে পড়লে পাওয়া যাবে না।
অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামের মতে, এখানে 'মসজিদুল হারাম' দ্বারা পুরো 'হারাম সীমানা' উদ্দেশ্য। তাই মক্কার হারাম সীমানার ভেতরে যেকোনো মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায় করলেও আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা ১ লক্ষ রাকাতের সওয়াব দান করবেন।
যেহেতু মক্কায় পুরো হারাম এলাকায় সওয়াব পাওয়ার আশা রয়েছে, তাই বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রচণ্ড ভীড় বা কোনো শরয়ী ওজরের কারণে মূল মসজিদে যেতে না পারলে আল্লাহর রহমতের আশা রেখে কাছের কোনো মসজিদে নামাজ পড়া জায়েজ রয়েছে।
তবে মনে রাখা জরুরি, মসজিদুল হারামের মূল জামাতে শরিক হওয়ার যে অসীম মর্যাদা, কাবা শরীফ সরাসরি দেখার যে বরকত এবং লাখ লাখ মানুষের সাথে একসাথে নামাজ পড়ার যে সওয়াব, তা হারাম সীমানার অন্য কোনো ছোট মসজিদে পাওয়া সম্ভব নয়। "অন্যত্র পড়লেও তো ১ লক্ষ রাকাতের সওয়াব পাওয়া যাবে"—এই মতের ওপর ভিত্তি করে অলসতাবশত মসজিদুল হারামের মূল জামাত অবহেলা করা কোনোভাবেই উচিত নয়।
শরয়ী কোনো বড় ওজর না থাকলে সর্বাবস্থায় চেষ্টা করা উচিত মূল মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী-তে উপস্থিত হয়েই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা।
في رد المحتار
وفي البيري: واختلف في المراد من المسجد الحرام الذي فيه المضاعفة المذكورة، فقيل بقاع الحرام، وقيل الكعبة وما في الحجر من البيت، وقيل الكعبة وما حولها من المسجد؛ وجزم به النووي وقال إنه الظاهر. وقال الشيخ ولي الدين العراقي: ولا يختص التضعيف بالمسجد الذي كان في زمنه صلى الله عليه وسلم بل يشمل جميع ما زيد فيه، بل المشهور عند أصحابنا أنه يعم جميع مكة بل جميع حرمها الذي يحرم صيده كما صححه النووي انتهى ما أفاده شيخ مشايخنا محمد بن ظهيرة القرشي الحنفي المكي."
(كتاب الصلاة، مطلب في أفضل المساجد،ج: 1، ص: 658،
احسن الفتاوی
"سوال: مسجدِ حرام یں فرض نماز پڑھنے کا ثواب کیا مسجدِ حرام ہی میں ہےیا حدودِ حرم کے پورے علاقہ میں کسی اور مقام پر بھی نماز ادا کرنے سے اتنا ہی ثواب ملتا ہے؟ نیز کیا یہ ثواب صرف نماز کے لیے ہے یا تمام عبادات کے لیے بھی؟
جواب: ثواب کی زیادتی پورے حرم میں ہے،اور ہر عبادت کے لیے ہے،مگر اس کا یہ مطلب نہیں کہ حرم میں مسجد اور غیر مسجد دونوں جگہ نماز کا ثواب برابر ہے،بلکہ مسجدِ حرام کی نماز مسجدِغیر حرم کی نماز سے لاکھ گناہ افضل ہے، اور حرم میں غیرمسجد کی نماز غیر حرم میں غیرمسجد کی نماز سے لاکھ گناہ افضل ہے۔"
(کتاب الصلوۃ، ج:3، ص: 34 ،ط: ایچ ایم سعید
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন