মায়ের খেদমতের জন্য হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৫৯২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, এক মহিলা এই বছর ফরজ হজ আদায়ের নিয়ত করেছে,এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে,কিন্তু তার মা মৃত্যুশয্যায় শায়িত,সে ছাড়া দেখাশোনার মত কেউ নেই।এখন উক্ত মহিলার জন্য এবছর হজ করা কি ফরজ,নাকি মায়ের খেদমত করা? উল্লেখ্য,অসুস্থ মায়ের একজন ছেলে আছে কিন্তু সে মায়ের দেখাশোনা করে না।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য হজ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুকন। হজ ফরজ হওয়ার পর তা বিনা ওজরে বিলম্ব না করে দ্রুত আদায় করা উচিত, কারণ হাদিস শরিফে ফরজ হজ দ্রুত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি হজ ফরজ হওয়ার পর এমন কোনো গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন যা হজ পালনে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই বিশেষ ওজরের কারণে হজ সাময়িকভাবে বিলম্ব করা জায়েজ আছে।
এমনই একটি বড় সামাজিক ও শরিয়তি ওজর হলো জন্মদাত্রী মায়ের সেবা-শুশ্রূষা করা। যেহেতু ঐ মহিলার মা গুরুতর অসুস্থ ও মৃত্যুশয্যায় শায়িত এবং এই মুহূর্তে তাঁর সেবা ও দেখভালের জন্য নিকটস্থ বিকল্প কোনো মানুষ নেই, তাই ইসলামের দৃষ্টিতে মায়ের এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর খেদমতে পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সুতরাং, শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে মায়ের সেবার খাতিরে হজ আদায় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া ইসলামি শরিয়তের আলোকেই জায়েজ। এর অর্থ এই নয় যে হজ মাফ হয়ে গেল; বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে—প্রয়োজনে এক বা দুই বছর পর সুযোগ ও সময়মতো অতি দ্রুত এই হজ আদায় করে নিতে হবে।
শরঈ দলীল সমূহ
في حاشية الطحطاوي ص ٧٢٦
ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﻟﻤﺮﻳﺪ اﻟﺤﺞ ﺃﻭ اﻟﻐﺰﻭ ﺃﻥ ﻳﺴﺘﺄﺫﻥ ﺃﺑﻮﻳﻪ ﻓﺈﻥ ﺧﺮﺝ ﺑﺪﻭﻥ ﺃﺫﻥ ﻣﻊ اﻻﺣﺘﻴﺎﺝ ﺇﻟﻴﻪ ﻟﻠﺨﺪﻣﺔ ﺃﺛﻢ ﻭﻗﻴﻞ ﻳﻜﺮﻩ ﻭاﻷﺟﺪاﺩ ﻭاﻟﺠﺪاﺕ ﻛﺎﻷﺑﻮﻳﻦ ﻋﻨﺪ ﻓﻘﺪﻫﻤﺎ ﻭﻟﻷﺏ ﻣﻨﻌﻪ ﺇﺫا ﻛﺎﻥ ﺻﺒﻴﺢ اﻟﻮﺟﻪ ﺣﺘﻰ ﻳﻠﺘﺤﻲ ﻭﺇﻥ اﺳﺘﻐﻨﻰ ﻋﻦ ﺧﺪﻣﺘﻪ ﻛﺬا ﻳﺴﺘﻔﺎﺩ ﻣﻦ اﻟﻨﻮاﺯﻝ
في رد المحتار على الدر المختار (كتاب الحج)
(ﻗﻮﻟﻪ ﻣﻤﻦ ﻳﺠﺐ اﺳﺘﺌﺬاﻧﻪ) ﻛﺄﺣﺪ ﺃﺑﻮﻳﻪ اﻟﻤﺤﺘﺎﺝ ﺇﻟﻰ ﺧﺪﻣﺘﻪ ﻭاﻷﺟﺪاﺩ ﻭاﻟﺠﺪاﺕ ﻛﺎﻷﺑﻮﻳﻦ ﻋﻨﺪ ﻓﻘﺪﻫﻤﺎ، ﻭﻛﺬا اﻟﻐﺮﻳﻢ ﻟﻤﺪﻳﻮﻥ ﻻ ﻣﺎﻝ ﻟﻪ ﻳﻘﻀﻲ ﺑﻪ، ﻭاﻟﻚﻓﻲﻟ ﻟﻮ ﺑﺎﻹﺫﻥ، ﻓﻲﻛﺮﻩ ﺧﺮﻭﺟﻪ ﺑﻼ ﺇﺫﻧﻬﻢ ﻛﻤﺎ ﻓﻲ اﻟﻔﺘﺢ، ﻭﻇﺎﻫﺮﻩ ﺃﻥ اﻟﻜﺮاﻫﺔ ﺗﺤﺮﻳﻤﻴﺔ ﻭﻟﺬا ﻋﺒﺮ اﻟﺸﺎﺭﺡ ﺑﺎﻟﻮﺟﻮﺏ، ﻭﺯاﺩ ﻓﻲ اﻟﺒﺤﺮ ﻋﻦ اﻟﺴﻴﺮ ﻭﻛﺬا ﺇﻥ ﻛﺮﻫﺖ ﺧﺮﻭﺟﻪ ﺯﻭﺟﺘﻪ ﻭﻣﻦ ﻋﻠﻴﻪ ﻧﻔﻘﺘﻪ. اﻩـ. ﻭاﻟﻈﺎﻫﺮ ﺃﻥ ﻫﺬا ﺇﺫا ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﻣﺎ ﻳﺪﻓﻌﻪ ﻟﻠﻨﻔﻘﺔ ﻓﻲ ﻏﻴﺒﺘﻪ ﻗﺎﻝ ﻓﻲ اﻟﺒﺤﺮ: ﻭﻫﺬا ﻛﻠﻪ ﻓﻲ ﺣﺞ اﻟﻔﺮﺽ ﺃﻣﺎ ﺣﺞ اﻟﻨﻔﻞ ﻓﻄﺎﻋﺔ اﻟﻮاﻟﺪﻳﻦ ﺃﻭﻟﻰ ﻣﻄﻠﻘﺎ ﻛﻤﺎ ﺻﺮﺡ ﺑﻪ في اﻟﻤﻠﺘﻘط
في الفتاوى الهندية
ﻭﻳﻜﺮﻩ اﻟﺨﺮﻭﺝ ﺇﻟﻰ اﻟﺤﺞ ﺇﺫا ﻛﺮﻩ ﺃﺣﺪ ﺃﺑﻮﻳﻪ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ اﻟﻮاﻟﺪ ﻣﺤﺘﺎﺟﺎ ﺇﻟﻰ ﺧﺪﻣﺔ اﻟﻮﻟﺪ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻣﺴﺘﻐﻨﻴﺎ ﻋﻦ ﺧﺪﻣﺘﻪ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﻭاﻷﺟﺪاﺩ اﻟﺠﺪاﺕ ﻋﻨﺪ ﻋﺪﻡ اﻷﺑﻮﻳﻦ ﺑﻤﻨﺰﻟﺔ اﻷﺑﻮﻳﻦ ﻛﺬا ﻓﻲ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻗﺎﺿﻲ ﺧﺎﻥ ﻓﻲ اﻟﻤﻘﻄﻌﺎﺕ. ﺫﻛﺮ ﻓﻲ اﻟﺴﻴﺮ اﻟﻜﺒﻴﺮ ﺇﺫا ﻛﺎﻥ ﻻ ﻳﺨﺎﻑ ﻋﻠﻴﻪ اﻟﻀﻴﻌﺔ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﺎﻟﺨﺮﻭﺝ، ﻭﻛﺬا ﺇﻥ ﻛﺮﻫﺖ ﺧﺮﻭﺟﻪ ﺯﻭﺟﺘﻪ ﻭﺃﻭﻻﺩﻩ ﺃﻭ ﻣﻦ ﺳﻮاﻫﻢ ﻣﻤﻦ ﺗﻠﺰﻣﻪ ﻧﻔﻘﺘﻪ ﻭﻫﻮ ﻻ ﻳﺨﺎﻑ اﻟﻀﻴﻌﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﺄﻥ ﻳﺨﺮﺝ، ﻭﻣﻦ ﻻ ﺗﻠﺰﻣﻪ ﻧﻔﻘﺘﻪ ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺣﺎﺿﺮا ﻓﻼ ﺑﺄﺱ ﺑﺎﻟﺨﺮﻭﺝ ﻣﻊ ﻛﺮاﻫﺘﻪ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻳﺨﺎﻑ اﻟﻀﻴﻌﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻛﺬا ﻓﻲ اﻟﻤﺤﻴط
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন