ঔষধ খেয়ে হায়েজ আনা ও ইদ্দত গণনা করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯০৮৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কেউ যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার জন্য ৩মাস হায়েজ তাড়াতাড়ি হওয়ার জন্য ওষুধ খেয়ে ফেলে তবে সেটা কি জায়েজ হবে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো মহিলাকে স্বামী তালাক দিলে ইদ্দত শেষ হয়ে নতুন বিবাহে বসার জন্য তিন হায়েজ অতিক্রম করা আবশ্যকীয় শর্ত। তাই তিন হায়েজ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নতুন স্থানে বিবাহ বসতে পারবে না। হায়েজ স্বাভাবিকভাবে আসুক কিংবা ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে আসুক—ইদ্দত সমাপ্তির জন্য তিন হায়েজ পূর্ণ হতেই হবে। এবং প্রতি হায়েজের পর ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন পবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে।
কোনো মহিলার স্বাভাবিকভাবে হায়েজ আসতে দেরি হওয়ার কারণে ইদ্দতের মেয়াদ দীর্ঘ হতে থাকে এবং এই দীর্ঘ সময় স্বামীহীন থাকার দরুন তিনি কোনো প্রকার গোনাহ বা ফিতনায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে হায়েজ আনা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ। ওষুধ খাওয়ার পর যদি স্বাভাবিক হায়েজের রক্তের মতো রক্ত আসে, তবে তা হায়েজ হিসেবেই গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে ইদ্দতের হিসাব গণনা করা যাবে।
বিঃদ্রঃ যেকোনো অবস্থায়—তা ইদ্দত দ্রুত শেষ করার জন্য ওষুধ খেয়ে হায়েজ দ্রুত চালু করাই হোক, কিংবা রোজা, হজ বা অন্য কোনো কারণে ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ রাখাই হোক—যদি এতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা মাকরুহ বলে গণ্য হবে।
ইসলাম মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। তাই শারীরিক ক্ষতি হতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
في رد المحتار
ﻭﻗﺪﻣﻨﺎ ﻋﻦ اﻟﺴﺮاﺝ ﻣﺎ ﻳﻔﻴﺪ ﺑﺤﺚ اﻟﺸﺎﺭﺡ؛ ﻭﻫﻮ ﺃﻥ اﻟﻤﺮﺿﻊ ﺇﺫا ﻋﺎﻟﺠﺖ اﻟﺤﻴﺾ ﺣﺘﻰ ﺭﺃﺕ ﺻﻔﺮﺓ ﻓﻲ ﺃﻳﺎﻣﻪ ﺗﻨﻘﻀﻲ ﺑﻪ اﻟﻌﺪﺓ، ﻓﺄﻓﺎﺩ ﺃﻧﻪ ﻻ ﺑﺪ ﻣﻦ ﺣﻴﺾ اﻟﻤﺮﺿﻊ ﻭﻟﻮ ﺑﺤﻴﻠﺔ اﻟﺪﻭاء، ﻭﺃﺻﺮﺡ ﻣﻨﻪ ﻣﺎ ﻓﻲ اﻟﻤﺠﺘﺒﻰ. ﻗﺎﻝ ﺃﺻﺤﺎﺑﻨﺎ: ﺇﺫا ﺗﺄﺧﺮ ﺣﻴﺾ اﻟﻤﻄﻠﻘﺔ ﻟﻌﺎﺭﺽ، ﺃﻭ ﻏﻴﺮﻩ ﺑﻘﻴﺖ ﻓﻲ اﻟﻌﺪﺓ ﺣﺘﻰ ﺗﺤﻴﺾ، ﺃﻭ ﺗﺒﻠﻎ ﺣﺪ الأياس
امداد الفتاوی جلد ٢ صفحه ٤٨٥
حکم عدت ممتدة الطہر
سوال (۵۸۷) ایک عورت کو برابر بدستور اور عورتوں کے حیض آتا تھا مگر فی الحال ایک سال سے اس کو حیض موقوف ہے اور اس کے شوہر نے اس کو طلاق دیا ہے اب وہ عورت عدت کتنے روز بیٹھے گی اس کے لیے عدت بالاشہر ہے یا عدت بالحیض۔ اگر عدت بالاشہر ہے تو تین ماہ عدت ہوگی یا زیادہ۔ اگر عدت بالحیض ہے تو سن ایاس تک انتظار حیض کا کیا جائے گا یا نہیں اگر سن ایاس تک انتظاری کی جائے تو وہ عورت نہایت غریب ہے اس کے خورد و نوش کا کوئی ظاہری سامان نظر نہیں آتا۔ بینوا توجروا؟
الجواب۔ درمختار و رد المحتار کے باب العدۃ سے معلوم ہوتا ہے کہ اس صورت میں حنفیہ کے نزدیک تو مدت ایاس تک انتظار حیض کا ضروری ہے اور مالکیہ کے نزدیک نو مہینے اور بقول معتمد ایک سال وقت طلاق سے عدت ہے اور ضرورت کے وقت اس قول پر عمل جائز ہے اھ۔ احقر کہتا ہے کہ اس میں یہ امور قابل لحاظ ہوں گے۔
اول۔ اس کا علاج کیا جائے گا اگر علاج سے بھی ادرار نہ ہو تب اس قول پر عمل کیا جائے کیونکہ ضرورت کا تحقق اسی وقت ہوگا۔
دوم۔ اس قول پر عمل کرنے کے لیے قضاء قاضی کی حاجت ہوگی اور حاکم مسلم گو منجانب کافر بادشاہ کے ہو قاضی شرعی ہے پس سرکار میں ایک درخواست اس کی پیش کی جائے کہ کسی مسلمان حاکم کو اس مسئلہ میں حکم کرنے کا اختیار دیدیا جائے پھر وہ حاکم مسلم اس فتوے کے موافق اس عورت کو عدت گزار کر نکاح ثانی کر لینے کی اجازت دیدے۔ اسی طرح عمل کیا جائے۔
سوم۔ اگر اس قول کے موافق عدت شروع کی اور قبل ختم ہونے ایک سال کے اتفاقاً حیض جاری ہوگیا تو پھر عدت حیض سے کی جائے گی۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন