নিজ শিক্ষক বা অন্য কারো গীবত করলে তা থেকে মাফ পাওয়ার উপায়
প্রশ্নঃ ১৬৭৭৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ক্লাস ১০ এ পড়ি আমি সব সময় আমার টিচারদের পিচনে পিছনে অপমান ও তাদের অজান্তে তাদের বিদ্রুপ ও দোষ নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করি... আমার মনে হয় আমি ভুল করছি বাট তাদের কাছে মাফ চাইলে অবস্থা বিগড়ে যেতে পারে এতে কি এখন আমার পড়ায় কি কোনো ক্ষতি হবে আর আমি কি করব তাইলে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শিক্ষকরা ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কখনও স্নেহের চাদরে আগলে রাখেন, আবার কখনও শাসনের শক্ত হাত বাড়ান। জীবনের অধিকাংশ মূল্যবান সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত করার পেছনেই ব্যয় করেন। দিনরাত শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ নিয়েই তাঁদের যত চিন্তা-ভাবনা। শিক্ষার্থীদের সাফল্যেই তাঁরা খুঁজে পান নিজেদের প্রকৃত সুখ। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাবা-মায়ের পর শিক্ষকরাই ছাত্রদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী।
একজন শিক্ষক যখন কঠোর হন, তার পেছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে শিক্ষার্থীর কল্যাণ। শিক্ষকের কোনো আচার-আচরণ সাময়িকভাবে কঠিন মনে হলেও, তা আদব ও বিনয়ের সাথে মেনে নেয়াই একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করা, বিরূপ মন্তব্য করা বা অবাধ্য হওয়া খারাপ কাজ।
শিক্ষকের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁদের নিয়ে আড়ালে গীবত, নিন্দা ও সমালোচনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অতীতের এ ধরনের ভুল বা অপরাধের জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত হয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
অতীতে যদি শিক্ষকের প্রতি কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ বা গীবত হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তা দূর করতে এবং পড়ালেখায় বরকত লাভের জন্য নিয়মিত দুইটি কাজ করা অত্যন্ত জরুরি:
১. শিক্ষকের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা: নিয়মিত আল্লাহর কাছে শিক্ষকের কল্যাণ, দীর্ঘায়ু ও মাগফিরাতের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
২.ক্ষমা চাওয়া ও মাফ চেয়ে নেয়া: গীবতের ক্ষেত্রে সরাসরি "আপনার গীবত করেছি" কথাটি স্পষ্টভাবে বলা জরুরি নয়। এতে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তাই সাধারণভাবে শিক্ষকের সামনে গিয়ে বিনীতভাবে এতটুকু বলা—"উস্তাদজি, চলাফেরায় বা অজান্তে আমার কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে দয়া করে আমাকে মাফ করে দেবেন।" এতেই ইনশাআল্লাহ হক আদায় সহজ হবে এবং আল্লাহ অতীতের ভুল মাফ করবেন।
এই দুটি কাজ আন্তরিকতার সাথে পালন করতে পারলে মনে আত্মপ্রশান্তি আসবে, অতীতের গুনাহ ও ভুলগুলো ক্ষমার পথ সুগম হবে এবং পড়ালেখা ও জ্ঞানে উত্তরোত্তর উন্নতি ও বরকত লাভ হবে।
শরঈ দলীলসমূহ
في مشكوة المصابيح -4877
وعن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ” إن من كفارة الغيبة أن تستغفر لمن اغتبته تقول: اللهم اغفر لنا وله
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6/ 411
وقال منلا علي القاري في شرح المشكاة: وهل يكفيه أن يقول اغتبتك فاجعلني في حل أم لا بد أن يبين ما اغتاب قال بعض علمائنا في الغيبة إلا بعلمه بها، بل يستغفر الله له إن علم أن إعلامه يثير فتنة، ويدل عليه أن الإبراء عن الحقوق المجهولة جائز عندنا، والمستحب لصاحب الغيبة أن يبرئه عنها وفي القنية تصافح الخصمين لأجل العذر استحلال قال في النووي.
ورأيت في فتاوى الطحاوي أنه يكفي الندم والاستغفار في الغيبة، وإن بلغت المغتاب ولا اعتبار بتحليل الورثة
حکیم اختر شاہ صاحب پاکستان والے کی غیبت پہ بیان سنا انہوں نے فرمایا کہ اگر کسی کی غیبت کی ہو اور اسے معلوم نہ ہوا ہو تو اس سے معافی مانگنا لازم نہیں ہے ، معافی تب مانگنا لازم آتاہے جب کسی کو معلوم ہو جائے کہ اس کی یہ برائی کی گی۔ یہ بات انہوں نے مولانا اشرف علی تھانوی رحمتہ اللہ علیہ کے ملفوظات سے نقل کی ہے، ذرا اس کی تصدیق فرمادیں۔ میرے پاس بیان موجود ہے ، لنک بھیج سکتاہوں۔
جواب نمبر: 55484
بسم الله الرحمن الرحيم
Fatwa ID: 54-54/Sn=11/1435-U غیبت کے حوالے سے حضرت حکیم اختر صاحب مرحوم کا بیان صحیح ہے، بعض بڑے بڑے مفسرین اور محدثین بھی اس کے قائل رہے ہیں، حضرت مولانا اشرف علی تھانوی رحمہ اللہ نے بھی بیان القرآن میں اسے نقل کیا ہے؛ البتہ اس پر یہ اضافہ کیا ہے کہ جس شخص کے سامنے غیبت کی گئی ہے غیبت کرنے والے پر ضروری ہے کہ اس کے سامنے اپنی تکذیب کرے ، چناں چہ ”بیان القرآن“ میں ہے ”اس (غیبت کرنے) میں حق اللہ اور حق العبد دونوں ہیں؛ اس لیے توبہ بھی واجب ہے اور معاف کرانا بھی؛ البتہ بعض علماء نے کہا ہے کہ جب تک اس شخص کو اس غیبت کی خبر نہ پہنچے تو حق العبد نہیں ہوتا نقلہ في الروح عن الحسن والخیاطی وابن الصباغ والنووی وابن الصلاح والزرکشی وابن عبد البر عن ابن المبارک لیکن اس صورت میں بھی جس شخص کے سامنے غیبت کی تھی اس کے سامنے اپنی تکذیب کرنا ضروری ہے اور اگر ممکن نہ ہو تو مجبوری الخ (بیان القرآن، تفسیر ”سورہٴ حجرات“ ۲/۴۷، ط: تاج دہلی)
واللہ تعالیٰ اعلم
دارالافتاء،
دارالعلوم دیوبند
https://darulifta-deoband.com/home/ur/halal-haram/55484
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন