নারীদের ইউটিউব চ্যানেল
প্রশ্নঃ ১৬৭৬৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আস্সলামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,নারীদের কণ্ঠস্বরও পর্দার অন্তরভুক্ত,তাহলে ইউটিউবে মেয়েদের তিলাওয়াত (ভিডিও/অডিও)শুনা কি জায়েজ হবে? যদি না হয় তাহলে যারা এসব ভিডিও আপলোড করে তাদের ব্যাপারে হুকুম কী? এতে কি গুনাহ হবে,আমি একটু স্পষ্ট করে বিষয়টি জানতে চাই,জানিয়ে উপকৃত করবেন, জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
নারীদের কণ্ঠের বিস্তারিত বিধান জানুন।
নারীর প্রতি শরীয়তের নির্দেশনা হল, সে যেন প্রয়োজন ছাড়া এত জোরে কথা না বলে যে, তার আওয়াজ গাইরে মাহরাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এ জন্য ইবাদত বন্দেগীর ক্ষেত্রেও তা লক্ষ রাখা হয়েছে। যেমন, আযান দেয়ার দায়িত্ব নারীদের দেয়া হয়নি। কারণ আযান উচুঁ শব্দে দিতে হয়। নারীগণকে সকল নামাযের কেরাত নিম্নস্বরে পড়তে হয়। হজ্বের তালবিয়া পুরুষগণ উচ্চ আওয়াজে পড়বে কিন্তু মহিলারা পড়বে নিম্ন আওয়াজে ইত্যাদি।
অতএব মহিলাগণ সাধারণ অবস্থায় তাদের কথাবার্তা এমনভাবে বলার চেষ্টা করবে যেন তা নিজেদের পরিসর পর্যন্ত সীমিত থাকে। নিজ ঘরেও এত জোর আওয়াজে কথা বলবে না, যাতে বাইরের লোকজন শুনতে পায়। আর নারীগণ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পর পুরুষের সাথে কথা বলবে না। কোন দরকারী কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকেই বলবে এবং কোমলতা পরিহার করে স্বাভাবিক স্বরে বলবে। এভাবে কথা বললে পর্দা নষ্ট হবে না।
ফিতনার আশঙ্কা হলে প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি এমন গাইরে মাহরাম মেয়ের কণ্ঠে কুরআন শোনাও বৈধ হবে না। তবে মাহরামগণ তা শ্রবণ করতে পারবে। ফকীহগণ পরপুরুষের কানে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ পৌঁছতে পারে এজন্য নামাযের মধ্যেও আস্তে আস্তে তিলাওয়াত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো ফকীহ উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করলে নামায ফাসেদ হওয়ার কথাও বলেছেন।
উল্লেখ্য যে, মহিলাদের জন্য আযান দেওয়া, উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়া এজন্যই নিষেধ করা হয়েছে, যাতে পরপুরুষের কানে তাদের আওয়াজ না পৌঁছে।
মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও ফিতনার আশঙ্কা হলে পরপুরুষের কানে এর আওয়াজ পৌঁছে- এভাবে পড়া থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا ﺘَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝِ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﻭَﻗُﻠْﻦَ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣَّﻌْﺮُﻭﻓًﺎ
(তরজমা) হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে (পরপুরুষের সাথে) কথাবার্তায় কোমলতা অবলম্বন করো না, যাতে অন্তরে ব্যাধি (কুপ্রবৃত্তি) থাকা কোনো ব্যক্তি লালায়িত না হয়। আর তোমরা সদালাপ ও ন্যায়সংগত কথা বলো। (সূরা আহযাব : ৩২)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٍ ۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ ۚ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﻥ ﺗُﺆْﺫُﻭﺍ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺃَﻥ ﺗَﻨﻜِﺤُﻮﺍ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟَﻪُ ﻣِﻦ ﺑَﻌْﺪِﻩِ ﺃَﺑَﺪًﺍ ۚ ﺇِﻥَّ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﻛَﺎﻥَ ﻋِﻨﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ
(তরজমা) হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষা না করে (খাওয়ার উদ্দেশ্যে) নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদের আমন্ত্রণ জানানো হলে প্রবেশ করো এবং আহার শেষে তোমরা আপন পথ ধরো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি নবীর জন্য কষ্টদায়ক, তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে সংকোচ করেন না। আর তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কোনো কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার মাধ্যম। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনোই বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। (সূরা আহযাব : ৫৩)
উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে বলা যায় যে, পুরুষের জন্য বিনা প্রয়োজনে কোনো বেগানা (গায়রে মাহরাম) নারীর সাথে কথা বলা নিষেধ। তবে একান্ত ও বিশেষ কোনো প্রয়োজনে পর্দার আড়ালে থেকে কোমলতা পরিহার করে কড়া কন্ঠে প্রয়োজনীয় কথা সেরে নিবে।
নারীদের কুরআনের তিলাওয়াত (সুর ও গুঞ্জনের কারণে) পর-পুরুষের জন্য শ্রবণ করা জায়েয নয়। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/২০০)
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-এর ১৯তম খণ্ডের ১৯৩ নং পৃষ্ঠায় বর্তমান সময়ের নাজুক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নারীদের কণ্ঠস্বর সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার (মারজুহ) রেওয়ায়েতটিকেই ফিতনা থেকে বাঁচতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পর-পুরুষের সামনে কোনো নারী বক্তৃতা বা বক্তব্য দিতে পারবে না, এটি জায়েয হবে না।
كما في حاشية ابن عابدين - (وللحرة) ولو خنثى (جميع بدنها) حتى شعرها النازل في الأصح (خلا الوجه والكفين) فظهر الكف عورة على المذهب (والقدمين) على المعتمد، وصوتها على الراجح (قوله وصوتها) معطوف على المستثنى يعني أنه ليس بعورة ح (قوله على الراجح) عبارة البحر عن الحلية أنه الأشبه. وفي النهر وهو الذي ينبغي اعتماده. ومقابله ما في النوازل: نغمة المرأة عورة، وتعلمها القرآن من المرأة أحب. قال - عليه الصلاة والسلام - «التسبيح للرجال، والتصفيق للنساء» فلا يحسن أن يسمعها الرجل. اهـ. وفي الكافي: ولا تلبي جهرا لأن صوتها عورة، ومشى عليه في المحيط في باب الأذان بحر. قال في الفتح: وعلى هذا لو قيل إذا جهرت بالقراءة في الصلاة فسدت كان متجها، ولهذا منعها - عليه الصلاة والسلام - من التسبيح بالصوت لإعلام الإمام بسهوه إلى التصفيق اهـ وأقره البرهان الحلبي في شرح المنية الكبير، وكذا في الإمداد؛ ثم نقل عن خط العلامة المقدسي: ذكر الإمام أبو العباس القرطبي في كتابه في السماع: ولا يظن من لا فطنة عنده أنا إذا قلنا صوت المرأة عورة أنا نريد بذلك كلامها، لأن ذلك ليس بصحيح، فإذا نجيز الكلام مع النساء للأجانب ومحاورتهن عند الحاجة إلى ذلك، ولا نجيز لهن رفع أصواتهن ولا تمطيطها ولا تليينها وتقطيعها لما في ذلك من استمالة الرجال إليهن وتحريك الشهوات منهم، ومن هذا لم يجز أن تؤذن المرأة. اهـ. قلت: ويشير إلى هذا تعبير النوازل بالنغمة- (رد المحتار علي الدرالمختار :١\٤٠٦)
ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺳﻮﻋﺔ ﺍﻟﻔﻘﻬﻴﺔ : " ﺇﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺻَﻮْﺕَ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ، ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺴَّﺎﻣِﻊُ ﻳَﺘَﻠَﺬَّﺫُ ﺑِﻪِ ، ﺃَﻭْ ﺧَﺎﻑَ ﻋَﻠَﻰ ﻧَﻔْﺴِﻪِ ﻓِﺘْﻨَﺔً ﺣَﺮُﻡَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺍﺳْﺘِﻤَﺎﻋُﻪُ ، ﻭَﺇِﻻَّ ﻓَﻼَ ﻳَﺤْﺮُﻡُ ، ﻭَﻳُﺤْﻤَﻞ ﺍﺳْﺘِﻤَﺎﻉُ ﺍﻟﺼَّﺤَﺎﺑَﺔِ ﺭِﺿْﻮَﺍﻥُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺃَﺻْﻮَﺍﺕَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺣِﻴﻦَ ﻣُﺤَﺎﺩَﺛَﺘِﻬِﻦَّ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻟِﻠْﻤَﺮْﺃَﺓِ ﺗَﺮْﺧِﻴﻢُ ﺍﻟﺼَّﻮْﺕِ ﻭَﺗَﻨْﻐِﻴﻤُﻪُ ﻭَﺗَﻠْﻴِﻴﻨُﻪُ ، ﻟِﻤَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﻣِﻦْ ﺇﺛَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﻔِﺘْﻨَﺔِ ، ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻟِﻘَﻮْﻟِﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ : ﴿ ﻓَﻼَ ﺗَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﴾ " ﺍﻧﺘﻬﻰ . " ﺍﻟﻤﻮﺳﻮﻋﺔ ﺍﻟﻔﻘﻴﻬﺔ ﺍﻟﻜﻮﻳﺘﻴﺔ " ( 4/90 )
وفي شرح المنية الأشبه أن صوتها ليس بعورة، وإنما يؤدي إلى الفتنة كما علل به صاحب الهداية وغيره في مسألة التلبية ولعلهن إنما منعن من رفع الصوت بالتسبيح في الصلاة لهذا المعنى ولا يلزم من حرمة رفع صوتها بحضرة الأجانب أن يكون عورة كما قدمناه -اه البحر الرائق و في منحة الخالق علي حامش البحر الرائق وقد يقال المراد بالنغمة ما فيه تمطيط وتليين لا مجرد الصوت وإلا لما جاز كلامها مع الرجال أصلا لا في بيع ولا غيره وليس كذلك ولما كانت القراءة مظنة حصول النغمة معها منعت من تعلمها من الرجل ويشهد لما قلنا ما في إمداد الفتاح عن خط شيخه العلامة المقدسي ذكر الإمام أبو العباس القرطبي في كتابه في السماع ولا يظن من لا فطنة عنده أنا إذا قلنا صوت المرأة عورة أنا نريد بذلك كلامها؛ لأن ذلك ليس بصحيح فإنا نجيز الكلام مع النساء الأجانب ومحاورتهن عند الحاجة إلى ذلك ولا نجيز لهن رفع أصواتهن ولا تمطيطها ولا تليينها وتقطيعها لما في ذلك من استمالة الرجال إليهن وتحريك الشهوات منهم ومن هذا لم يجز أن تؤذن المرأة. اهـ. وهذا يفيد أن العورة رفع الصوت الذي لا يخلو غالبا عن النغمة لا مطلق الكلام فلما كانت القراءة لا تخلو عن ذلك قال أحب إلي فليتأمل.(منحة الخالق علي حامش بحر الرائق-١\٢٨٥)
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই! /বোন!
ওপরে নারীদের আওয়াজের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান আপনাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি এর মাধ্যমে আপনি নারীদের কণ্ঠের বিধান সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়েছেন।
তাহলে ইউটিউবে মেয়েদের তিলাওয়াত (ভিডিও/অডিও)শুনা কি জায়েজ হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর না বলা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। কাজেই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বা মহিলাদের কণ্ঠে ধারণকৃত অডিও, ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার যে রেওয়াজ এখন চালু হয়েছে তা কোনোক্রমেই বৈধ নয়। কেননা এর মাধ্যমে শরীয়তে নারীদে আওয়াজকে সীমিত রাখায় যেই উদ্দেশ্য ছিল তা চরমভাবে ব্যহত হয়। তাই তা জায়েজ হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন