জাহাজে থাকলে মুসাফির
প্রশ্নঃ ১৬৬৩৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মেরিন এ জব করি এবং সব সময় জাহাজে অবস্থান করি চিটাগাং যাই মাল লোড করি আবার ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় মালামাল পৌঁছে দেই আমি নির্দিষ্ট কোন স্থানে থাকিনা কিন্তু জাহাজেই থাকি সবসময়, এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে কি এশা, জোহরের, এবং আসরের নামাজ কসর পড়ে পড়তে হবে? জুমা ও কি ফরয? জানালে আমি উপকৃত হতাম।
২৬ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা ১২১২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
জাহাজে অবস্থানকারী ব্যাক্তি মুসাফির হিসেবেই গণ্য হবে। যেহেতু জাহাজ স্থায়ী বসবাসের যোগ্য নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সামুদ্রিক জাহাজে যতদিন থাকার নিয়ত করুক। চাই তা একবৎসর হোক না কেন নিজস্ব বাসস্থানে ফিরে আসা পর্যন্ত মুসাফির হিসেবে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কসর করবে।
তবে জাহাজ বন্দরে নোঙ্গর করলে ঐ জাহাজে অবস্থান করা আর বন্দরে অবস্থান করা একই কথা। অর্থাৎ এটি যদি তার নিজের এলাকা না হয় তাহলে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করলে মুকিম হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় মুসাফির থাকবে।
এবং জাহাজ নিরাপদ স্থানে থাকলে , যথেষ্ট পরিমাণ সময় থাকলে সুন্নতে মুয়াক্কাদার গুরুত্ব দিবে। সুন্নতে মুয়াক্কাদা আদায়ের পর সময় থাকলে ওমরী কাযা আদায় করবে। অবশ্যই নফল আদায়ের চেয়ে ওমরী কাযা আদায় করা উত্তম। তবে ওমরী কাযার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ নেই।
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتِ الصَّلاَةُ أَوَّلُ مَا فُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ، وَأُتِمَّتْ صَلاَةُ الْحَضَرِ. (رواه البخاري ١٠٩٠) ”(أو) نوی (فیہ)(لکن فی غیر صالح)أو کنحو جزیرۃ قال ابن عابدین۔ قولہ: فیہ) أی فی نصف شھر۔۔۔قال فی المجتبی: والملاح مسافر إلا عند الحسن وسفینتہ ایضاً لیست بوطن، ظاہرہ ولو کان مالہ وأھلہ معہ فیھا ثم رأیتہ صریحا فی المعراج.(الدر المختار،کتاب الصلوٰۃ ٢/١٢٥،١٢٦،سعید) ”(أَوْ لَمْ یَکُنْ مُسْتَقِلًّا بِرَأْیِہِ) کَعَبْدٍ وَامْرَأَۃٍ (أَوْ دَخَلَ بَلْدَۃً وَلَمْ یَنْوِہَا) أَیْ مُدَّۃَ الْإِقَامَۃِ (بَلْ تَرَقَّبَ السَّفَرَ) غَدًا أَوْ بَعْدَہُ (وَلَوْ بَقِیَ) عَلَی ذَلِکَ (سِنِینَ) (قَوْلُہُ وَلَمْ یَنْوِہَا) وَکَذَا إذَا نَوَاہَا وَہُوَ مُتَرَقِّبٌ لِلسَّفَرِ کَمَا فِی الْبَحْرِ لِأَنَّ حَالَتَہُ تُنَافِی عَزِیمَتَہُ.”(الدر المختار مع رد، کتاب الصلوٰۃ، باب صلاۃ المسافر، ٢/١٢٦،سعید) ”(وَأَمَّا)الْمَکَانُ الصَّالِحُ لِلْإِقَامَۃِ: فَہُوَ مَوْضِعُ اللُّبْثِ وَالْقَرَارِ فِی الْعَادَۃِ نَحْوُ الْأَمْصَارِ وَالْقُرَی، وَأَمَّا الْمَفَازَۃُ وَالْجَزِیرَۃُ وَالسَّفِینَۃُ فَلَیْسَتْ مَوْضِعَ الْإِقَامَۃِ، حَتَّی لَوْ نَوَی الْإِقَامَۃَ فِی ہَذِہِ الْمَوَاضِعِ خَمْسَۃَ عَشَرَ یَوْمًا لَا یَصِیرُ مُقِیمًا کَذَا رُوِیَ عَنْ أَبِی حَنِیفَۃَ.” (بدائع الصنائع:١/٩٨، سعید) ”(وَیَأْتِی) الْمُسَافِرُ (بِالسُّنَنِ) إنْ کَانَ (فِی حَالَ أَمْنٍ وَقَرَارٍ وَإِلَّا) بِأَنْ کَانَ فِی خَوْفٍ وَفِرَارٍ (لَا) یَأْتِی بِہَا .”(الدر المختار، کتاب الصلاۃ، باب صلاۃ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১