শাসনের উদ্দেশ্যে তালাক বা তালাকের শর্ত দিলে কী হুকুম?
প্রশ্নঃ ১৬০৬১৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়খ আমি আমার স্ত্রীকে শাসন করার উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যে তুমি যদি অমুক জায়গায় যাও তাহলে তালাক হয়ে যাবে আমার উদ্দেশ্য ছিল তাকে শাসন করা তালাক নয় এমত অবস্থায় আমি কি করতে পারি
১০ জুলাই, ২০২৬
বগুড়া
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, তালাককে যখন কোনো শর্তের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয় (যেমন: অমুক জায়গায় গেলে তালাক হবে) অথবা সরাসরি তালাক দিয়ে দেয়, তখন বক্তার নিয়ত বা উদ্দেশ্য দেখা হয় না। আপনি স্ত্রীকে শাসন করার উদ্দেশ্যে বলুন কিংবা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলুন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এই তালাক বা শর্তটি চূড়ান্তভাবে ধার্য হয়ে গেছে।
অতএব, আপনার স্ত্রী যদি আপনার নিষেধ করা ওই নির্দিষ্ট জায়গায় একবারও যান, তবে আপনার আসল উদ্দেশ্য কেবল শাসন করা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে যাওয়ার সাথে সাথেই এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়ে যাবে। ফিকহের পরিভাষায় একে শর্তযুক্ত তালাক বলা হয়, যা মুখের সরাসরি তালাক শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমেই কার্যকর হয়ে যায়।
বর্তমান অবস্থায় আপনার করণীয়
যেহেতু আপনার স্ত্রী এখনো ওই জায়গায় যাননি (আপনার প্রশ্ন থেকে যা বোঝা যাচ্ছে), তাই পরিস্থিতি এখনো আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে। আপনার জন্য করণীয় হলো:
আপনার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলুন যে, ভুলবশত একটি শরয়ী জটিলতা তৈরি হয়ে গেছে। তাই তিনি যেন কোনো অবস্থাতেই এবং কোনো জরুরি প্রয়োজনও ওই নির্দিষ্ট জায়গায় না যান। তিনি যদি সেখানে না যান, তবে কোনো তালাক হবে না এবং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।
আপনি যে শর্ত দিয়েছেন, তা কিন্তু আজীবনের জন্য কার্যকর। অর্থাৎ, আজ থেকে ১ বছর বা ১০ বছর পরেও যদি তিনি ওই জায়গায় যান, তখনই এই শর্তের কারণে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।
যদি স্ত্রী অলরেডি প্রবেশ করে থাকেন (সমাধান)
শর্ত পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক তালাকে রজয়ী পতিত হবে। এরপর ইদ্দতের মধ্যে (তিন হায়েজ, গর্ভবতী হলে গর্ভপাত পর্যন্ত) স্ত্রীকে মৌখিকভাবে বা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে রুজু (ফিরিয়ে) নিলে বিবাহ বহাল থাকবে এবং আপনার হাতে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।
আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তাহলে রুজুর সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতে নতুন মোহর নির্ধারণ করে পুনরায় নিকাহ করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়ে যাবে।
(جامع الترمذي, رقم: (١١٨٤))
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَرْدَكَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ مَاهَكَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلاَقُ وَالرَّجْعَةُ
(بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع : کتاب الطلاق، فصل في النية في أحد نوعي الطلاق وهو الكناية، 3/101، ط: دارالکتب العلمیة)
"أما الصريح فهو اللفظ الذي لا يستعمل إلا في حل قيد النكاح، وهو لفظ الطلاق أو التطليق مثل قوله: " أنت طالق " أو " أنت الطلاق، أو طلقتك، أو أنت مطلقة " مشددا، سمي هذا النوع صريحا؛ لأن الصريح في اللغة اسم لما هو ظاهر المراد مكشوف المعنى عند السامع من قولهم: صرح فلان بالأمر أي: كشفه وأوضحه، وسمي البناء المشرف صرحا لظهوره على سائر الأبنية، وهذه الألفاظ ظاهرة المراد؛ لأنها لا تستعمل إلا في الطلاق عن قيد النكاح فلا يحتاج فيها إلى النية لوقوع الطلاق؛ إذ النية عملها في تعيين المبهم ولا إبهام فيها."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি তাউহিদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১