তালাকের পর জন্ম নেওয়া সন্তানের নসব (বংশপরিচয়) কি সাব্যস্ত হবে?
প্রশ্নঃ ১৬০৪১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কেউ যদি বিবাহের অনেক বছর আগে যখন তার তালাক সম্পর্কে জানা ছিল না তখন বলে থাকে আমি যাকে বিবাহ করব অথবা যদি বিবাহ করি সে তালাক করি এধরনের কথা বলে। এবং সে এ কথা ভুলে যায় সে বিবাহ করে এবং সন্তান হয় তাহলে তার ও সন্তানের হুকুম কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, শরিয়তের দৃষ্টিতে উক্ত কথার কারণে বিবাহের সঙ্গে সঙ্গেই এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হয়ে যাবে, এ সময়ে জন্মগ্রহণকারী সন্তানদের নসব (বংশপরিচয়) উক্ত স্বামীর থেকেই সাব্যস্ত থাকবে; সে সম্পূর্ণ বৈধ সন্তান, তাদের অবৈধ (জারজ) বলা যাবে না।
তবে বিষয়টি জানার পর নতুন মহর নির্ধারণ করে, শরয়ী নিয়মে পুনরায় বিবাহ সম্পন্ন করে নেওয়া আবশ্যক। এরপর ইনশাআল্লাহ তাদের বৈবাহিক জীবন স্বাভাবিকভাবে চলবে।
(رد المحتار 4/594)
(قوله وكذا كل امرأة)اي إذا قال: كل امرأة أتزوجه طالق، والحيلة فيه ما في البحر من أنه يزوجه فضولي ويجيز بالفعل كسوق الواجب إليها أو يتزوجها بعد ما وقع الطلاق عليها لأن كلمة كل لا تقتضي التكرار.
(الفتاوی الھندیة، كتاب الطلاق، 1/415، ط: رشيديه)
ألفاظ الشرط إن وإذا وإذما وكل وكلما ومتى ومتى ما ففي هذه الألفاظ إذا وجد الشرط انحلت اليمين وانتهت لأنها تقتضي العموم والتكرار فبوجود الفعل مرة تم الشرط وانحلت اليمين فلا يتحقق الحنث بعده إلا في كلما لأنها توجب عموم الأفعال.
(ہندیہ، کتاب الطلاق، الباب الخامس عشر فی ثبوت النسب، زکریا قدیم ۱/۵۳۷، جدید ۱/۵۸۹)
وإن کان الطلاق بائنا لایثبت النسب مالم یدع الزوج فإذا ادعی الزوج یثبت منہ۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৬১৮০৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কও যদি শয়তানের ধোঁকায় পরে যদি বলে আমি যে মেয়ে কে বিয়ে করব তার সাথে তালাক। এবং এর সংশোধনের জন্য কি জরতে হবে।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি কোনো ব্যক্তি এভাবে বলে, “আমি যে মেয়েকে বিয়ে করব তার সাথে তালাক” তাহলে এটি শর্তযুক্ত তালাক (তালাকে মুআল্লাক) এর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং শর্ত পাওয়া যাওয়ার পর তালাক কার্যকর হবে।
অতএব, সে যখন প্রথমবার কোনো নারীকে বিয়ে করবে, তখন বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে ওই স্ত্রীর উপর এক তালাকে বায়িন পতিত হবে। এর মাধ্যমে তার শর্তও পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ওই কথার কার্যকারিতাও শেষ হয়ে যাবে।
এরপর যদি উভয় পক্ষ পুনরায় একসাথে সংসার করতে চায়, তাহলে নতুন মোহর নির্ধারণ করে, নতুন ইজাব-কবুলের মাধ্যমে এবং শরয়ী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন। দ্বিতীয়বার বিবাহ করার পর পূর্বে উচ্চারিত ওই কথার কারণে আর কোনো তালাক পতিত হবে না। কেননা প্রথমবার তালাক হওয়ার দ্বারাই পূর্বের কথার শর্তও পূর্ণ হয়ে গেছে এবং পূর্বের কথার কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে স্বামীর হাতে আর দুই তালাক দেওয়ার অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।
তালাকের পরে যেহেতু তাদের পরস্পরের মধ্যে নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই নতুনভাবে বিবাহের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ অবস্থায় এটাই সমাধানের উত্তম পদ্ধতি।
তবে আপনি যদি চান এক তালাকও পতিত না করে সমাধান করতে, তাহলে সেক্ষেত্রে একটা হিলা বা কৌশল অবলম্বন করা যায়। তাহলো, 'নিকাহে ফুযূলী' তথা অন্য কেউ আপনার পক্ষ থেকে বিবাহ পড়িয়ে দিবেন (যাকে আপনি বিবাহের উকিল বানাননি তথা বিবাহ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেননি) এবং তিনি নিজেই আপনার জন্য ইজাব-কবুল করবেন। সে বিবাহ করিয়ে দেওয়ার পর আপনি মুখে কবুল না বলে বা অনুমোদন না দিয়ে, কাজের মাধ্যমে বিবাহের অনুমোদন দিবেন। যেমন: স্ত্রীকে মোহরানা পাঠানো, উপহার দেওয়া বা দাম্পত্য জীবন শুরু করা ইত্যাদির মাধ্যমে সেই বিবাহ অনুমোদন করতে পারেন। এভাবে আপনাদের বিবাহ সহীহ হয়ে যাবে। এবং যেহেতু আপনি নিজে সরাসরি বিবাহ করেননি, তাই শর্ত (তথা “আমি যে মেয়েকে বিয়ে করব তার সাথে তালাক”) না পাওয়া যাওয়ার কারণে কোনো তালাকও পতিত হবে না। কেননা এখানে আপনি নিজে বিবাহ করেননি, বরং অন্য কেউ বিবাহ করিয়েছেন এবং আপনি তা কাজের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন।
(قوله وكذا كل امرأة)
اي إذا قال: كل امرأة أتزوجه طالق، والحيلة فيه ما في البحر من أنه يزوجه فضولي ويجيز بالفعل كسوق الواجب إليها أو يتزوجها بعد ما وقع الطلاق عليها لأن كلمة كل لا تقتضي التكرار.
رد المحتار 4/594
ألفاظ الشرط إن وإذا وإذما وكل وكلما ومتى ومتى ما ففي هذه الألفاظ إذا وجد الشرط انحلت اليمين وانتهت لأنها تقتضي العموم والتكرار فبوجود الفعل مرة تم الشرط وانحلت اليمين فلا يتحقق الحنث بعده إلا في كلما لأنها توجب عموم الأفعال.
الفتاوی الھندیة، كتاب الطلاق، 1/415، ط: رشيديه
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন