ওয়ালিমা করার জন্য কি স্ত্রী সহবাস শর্ত?
প্রশ্নঃ ১৫৬২৮৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ! ওয়ালিমা করার জন্য কি স্ত্রী সহবাস শর্ত? আর বিয়ের কততম দিনে ওয়ালিমা করা সুন্নত?
৭ জুন, ২০২৬
Bekamura
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, ওয়ালিমা করার জন্য সহবাস হওয়া শর্ত নয়, তবে উত্তম হলো ওয়ালিমা সহবাসের পরে হওয়া।
* বিস্তারিত
* ওয়ালিমার সুন্নাত সম্মত সময় নিয়ে বিভিন্ন মতামত বা উক্তি রয়েছে,
(১) আকদ বা নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার সময়।
(২) বিয়ের পর, তবে কনের বিদায়-এর আগে।
(৩) কনে বিদায়ের পর, তবে বাসর রাত -এর আগে।
(৪) বাসর রাতের পর।
(৫) আকদ বা নিকাহ হওয়ার পর থেকে শুরু করে সহবাস বা স্ত্রীর সাথে একত্রিত হওয়া পর্যন্ত।
* এসব মতামতের মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং জমহুর (অধিকাংশ) ওলামায়ে কেরামের মত হলো—ওয়ালিমার সুন্নাত সম্মত সময় হলো স্বামী-স্ত্রী একত্রিত হওয়ার পর অর্থাৎ বাসর রাত এবং সহবাসের পর।
* আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীমি (রহ.) বলেন, বাসর রাতের আগের খাবারকে আরবিতে 'ওয়ালিমা' বলা হয় না। একইভাবে, বুখারী শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ হযরত জয়নব (রা.)-এর সাথে বাসর রাতের পরেই ওয়ালিমার আয়োজন করেছিলেন। এই হাদিস থেকেই ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং হাদিসের ব্যাখ্যাদাতাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, ওয়ালিমার সুন্নাত সময় হলো বাসর রাতের পর। আর সাধারণত ব্যাখ্যাদাতাগণ সহবাসের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাসর রাতে সহবাস হওয়ার পরেই ওয়ালিমার সুন্নাত সময় শুরু হয়।
* অবশ্য, আল্লামা আইনী (রহ.) কিছু মালেকী ফকীহদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, "ওয়ালিমা যদি বাসর রাতের পর কিন্তু সহবাসের আগে করা হয়, তবে সেটিও মুস্তাহাব; এবং বর্তমান যুগে মানুষের আমল বা চর্চাও এরই ওপর রয়েছে।" তাছাড়া, যেহেতু 'খালওয়াতে সাহীহা' (নিভৃতবাস) অনেক বিধানের ক্ষেত্রে সহবাসের স্থলাভিষিক্ত বা সমতুল্য গণ্য হয়, তাই বাসর রাতে যদি খালওয়াতে সাহীহা (উভয়ের নির্জনে সময় কাটানো) হয়ে যায় কিন্তু সহবাস না-ও হয়, তাহলেও এরপরে করা ওয়ালিমাকে 'ওয়ালিমায়ে মাসনূনা' (সুন্নাতী ওয়ালিমা) বলা যাবে। তবে উত্তম হলো সহবাসের পরেই করা।
(مشکاۃ المصابیح، (2/278)، الفصل الاول، باب الولیمہ، ط: قدیمی)
"وعن أنس قال: أولم رسول الله صلى الله عليه وسلم حين بنى بزينب بنت جحش فأشبع الناس خبزاً ولحماً. رواه البخاري".
(5/534، فیض الباری : باب الولیمۃ حق، ط: دار الکتب العلمیہ، 4/300، ط: مکتبۃ الاسلامیہ، شارع کانسی ، کوئٹہ)
"السنة في الولیمة أن تکون بعد البناء، وطعام ماقبل البناء لایقال له: "ولیمة عربیة".
(اعلاء السنن : باب استحباب الولیمۃ، ط: ادارۃ القرآنج 11/ص12) (بذل المجھود، (4/32) کتاب النکاح ، ط: مکتبہ قاسمیہ ملتان)
"والمنقول من فعل النبي صلی الله علیه وسلم أنها بعد الدخول، کأنه یشیر إلی قصة زینب بنت جحش، وقد ترجم علیه البیهقي بعد الدخول، وحدیث أنس في هذا الباب صریح في أنها الولیمة بعد الدخول".
(14/112، عمدة القاري : باب الصفرۃ المتزوج، ط: امدادیہ ملتان)
"وقد اختلف السلف في وقتها: هل هو عند العقد أو عقيبة؟ أو عند الدخول أو عقيبه؟ أو موسع من ابتداء العقد إلى انتهاء الدخول؟ على أقوال. قال النووي: اختلفوا، فقال عياض: إن الأصح عند المالكية استحبابه بعد الدخول، وعن جماعة منهم: أنها عند العقد، وعند ابن حبيب: عند العقد وبعد الدخول، وقال في موضع آخر: يجوز قبل الدخول وبعده، وقال الماوردي: عند الدخول، وحديث أنس: فأصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم عروساً بزينب فدعي القوم، صريح أنها بعد الدخولوَاسْتحبَّ بعض الْمَالِكِيَّة أَن تكون عِنْد الْبناء وَيَقَع الدُّخُول عقيبها، وَعَلِيهِ عمل النَّاس".
(بذل المجهود، کتاب الأطعمة، باب في استحباب الولیمة للنکاح، مطبع سهارن پور قدیم ۴/ ۳۴۵، دارالبشائر الإسلامیة بیروت ۱۱/ ۴۷۱، تحت رقم الحدیث : ۳۷۴۳)
"یجوز أن یؤلم بعد النکاح، أو بعد الرخصة، أو بعد أن یبني بها، والثالث هو الأولی".
(فقه السنة، دارالکتاب العربي ۲/ ۲۱۰)
"وقت الولیمة عند العقد، أو عقبه، أو عند الدخول، أو عقبه، وهذا أمر یتوسع فیه حسب العرف والعادة، وعند البخاري أنه صلی اﷲ علیه وسلم دعا القوم بعد الدخول بزینب".
(عمدۃ القاری : 20/ 151)
"وفيه فوائد: ... الثالثة: اتخاذ الوليمة في العرس، قال ابن العربي: بعد الدخول، وقال البيهقي: كان دخوله صلى الله عليه وسلم بعد هذه الوليمة".
البناية شرح الهداية (12/ 84):
"(قال: ومن دعي إلى وليمة) ش: أي قال في " الجامع الصغير ": والوليمة طعام الزفاف م: (أو طعام) ش: هذا أمر في عطف العام على الخاص؛ لأن الطعام أعم من أن يكون وليمة أو غيرها. والوليمة خاص وهو طعام العرس كما ذكرنا".
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6/ 347):
"(قوله: دعي إلى وليمة) وهي طعام العرس، وقيل: "الوليمة" اسم لكل طعام.
الفتاوى الهندية (5/ 343):
"ووليمة العرس سنة، وفيها مثوبة عظيمة، وهي إذا بنى الرجل بامرأته ينبغي أن يدعو الجيران والأقرباء والأصدقاء، ويذبح لهم، ويصنع لهم طعامًا، وإذا اتخذ ينبغي لهم أن يجيبوا، فإن لم يفعلوا أثموا، قال عليه السلام: «من لم يجب الدعوة، فقد عصى الله ورسوله، فإن كان صائمًا أجاب ودعا، وإن لم يكن صائمًا أكل ودعا، وإن لم يأكل أثم وجفا»، كذا في خزانة المفتين".
البناية شرح الهداية (12/ 89):
"ولو بنى الرجل بامرأته ينبغي أن يولم، والوليمة حسنة، ويدعو الجيران والأصدقاء، ويصنع لهم طعامًا ويذبح لهم، ولا بأس أن يكون ليلة العرس دف يضرب به يشتهر ذلك ويعلن به النكاح، وينبغي للرجل أن يجيب، وإن لم يفعل فهو آثم، وإن كان صائمًا أجاب ودعا، وإن كان غير صائم أكل، ولا بأس يدعو يومئذ ومن الغد وبعد الغد ثم انقطع العرس".
(امداد الاحکام :4/291)
’’ ولیمہ مشہور قول میں تو اسی دعوت کا نام ہے جو شبِ زفاف ودخول کے بعد ہو. اور بعض اقوال سے یہ بھی معلوم ہوتا ہے کہ نکاح کے وقت سے دخول کے بعد تک جو بھی دعوت ہو ولیمہ ہی ہے، مگر راجح قول اوّل ہے؛ کیوں کہ رسول اللہ ﷺ سے ولیمہ بعد الدخول ہی ثابت ہے‘‘۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১