যিয়াফতের খাবারের বিধান
প্রশ্নঃ ১৪৮৩৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন ইমামও ছাত্র, আমি শুনেছি মানুষের মৃত্যুর পর ৩/৪ দিনের যে জেয়াফত করে তা খেলে নাকি মেধা কমে যায় এখন আমার করণীয় কি বা ইসলামে তার বিধান কি.?
১০ এপ্রিল, ২০২৬
সদর দক্ষিণ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে অপরজনকে আহার করানোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন হাদিসে এটাকে শ্রেষ্ঠ ইসলাম বলেও অবহিত করা হয়েছে। আবার কেউ দাওয়াত দিলে তা গ্রহন করাও রাসুলুল্লাহ সা. এর সুন্নাহ। এর মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং ইসলামের ভ্রাতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
কাজেই কোনো মুসলিম যদি অপর মুসলিমকে দাওয়াত দিয়ে আহার করায় তাতে কোনো দোষ নেই। দাওয়াত প্রাপ্ত সকলেই সেই খাবার খেতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন দীনের বহির্ভূত কোনো বিষয়কে দীনের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়,শরিয়তের পরিভাষায় যাকে বিদায়াত বলে।
মৃত ব্যক্তির জন্য তার মৃত্যুর 03 দিন/ 07 দিন/ 40 দিন পর নির্দিষ্ট করে বিশেষ কোনো ফজিলত বা সাওয়াবের প্রত্যাশায়, অথবা রুসম-প্রথা হিসেবে যেই খাবারের আয়োজন করা হয় ইসলামি শরিয়তের এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। কাজেই সেটা বিদায়াত এবং পরিত্যাজ্য।
এর বহুবিধ কারণ রয়েছে। বিশেষত, অনেকাংশে যেখানে মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পদ থেকে এজাতীয় আয়োজন করা হয় সেখানে সকল ওয়ারিসের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি থাকে না। অনেকটা বাধ্য হয়ে কিংবা পরিস্থিতির শিকার হয়ে এগুলোতে সম্মতি দিয়ে থাকেন। যা কোনোক্রমেই অনুমোদিত নয়।
এ ছাড়াও ওয়ারিসদের মধ্যে যদি কোনো নাবালেগ থাকে তাহলে তার বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত এজাতীয় জিয়াফত করা নাজায়েজ। কেননা নাবলকের সম্পদ তার আত্মীয় স্বজন (ভাই বোন,মা অন্যান)-দের হাতে আমানত। ওই নাবালকের বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত এবং তার অনুমতি ছাড়া তার সম্পদ কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েজ হবে না।
আবার এজাতীয় খাবারের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পর্দাপুশিদার প্রতি মোটেও লক্ষ্য করা হয় না। যা সরাসরি শরীয়তবিরোধী কাজ। কাজেই এগুলো কিছুতেই জায়েজ হবে না।
সাধারণ মুসলমানের জন্যও এজাতীয় খাবারে অংশগ্রহণ করা অনুচিত। বিশেষত সমাজে যারা অনুসৃত ব্যক্তি ইমাম, খতিব, মুয়িাজ্জিন, তালিবুল ইলিম-এজাতীয় আয়োজন থেকে দূরে থাকা তাদের জন্য আবশ্যক। তা নাহলে তাদের উপস্থিতিকে অনুকরণীয় মনে করে মানুষ এই গর্হিত কাজে লিপ্ত হতে থাকবে। সাথে সাথে শরীয়ত পরিপন্থি কার্যকলাপের ফলে সেই খাবারও ক্ষেত্র বিশেষ হারাম এবং ক্ষেত্র বিশেষ বরকতহীন হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো থেকে পরহেয করা উচিত।
তবে যদি এটাকে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতির আওতামুক্ত রেখে মাইয়্যেতের জন্য ইসালে সাওয়াবের অন্যান্য মাধ্যমের ন্যায় নিছক এটাও একটা মাধ্যম মনে করে মানুষকে আহার্য দান করা হয় তাহলে সেখানে অংশগ্রহণ করা এবং খাবার গ্রহন করা জায়েজ আছে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে যাবতীয় বিদয়াত এবং গোমরাহি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
قال تعالی: لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمْوٰلَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالْبٰطِلِ
وقال أيضا:
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ اَمْوٰلَ الْیَتٰمٰی ظُلْمًا اِنَّمَا یَاۡکُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِہِمْ نَارًا ؕوَسَیَصْلَوْنَ سَعِیۡرًا
في فتح القدیر (شرح الهداية) :”یکرہ إتخاذ الضیافۃ من الطعام من أھل المیت لأنہ شرع فی السرور لا فی الشرور و ھی بدعۃ مستقبحۃ“۔‘‘ (فتاوی رضویہ، جلد 9،ص662،)
فتاوی قاضی خان
”إن اتخذ ولی المیت طعاما للفقراء کان حسنا إلا أن یکون فی الورثۃ صغیر فلا یتخذ ذٰلک من الترکۃ“ (فتاوی رضویہ، جلد 9 ،ص 664،665 ،رضا فاؤنڈیشن، لاھور)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১