দুই কাতারের মাঝে ফঁাকা রেখে দাঁড়ানো
প্রশ্নঃ ১৪৬২০৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একটি কাতার থেকে আরেকটি কাতারের মধ্যে কতটুকু দূরত্ব হলে জামাতে নামাজ সহীহ হবে না? পাশাপাশি দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বা সামনে–পেছনে কতটুকু ফাঁকা রাখা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ বা অনুচিত? এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীসের আলোকে সুস্পষ্ট দলিলসহ ব্যাখ্যা জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মসজিদের ভেতর দুই কাতারের মাঝে এক কাতারের সমান জায়গা ফাঁকা রেখে দাঁড়ালে নামায মাকরূহ হবে। কিন্তু নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
ইক্তেদা সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো,কাতার মিলিত হতে হবে। কাতারের মাঝে কোন রাস্তা, নদী, খাল অথবা খালি ময়দান থাকলে পিছনে কাতার বেঁধে নামায সহীহ হবে না। কিন্তু কাতারের মধ্যে দেয়াল বা বেড়া থাকলে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না। কারণ এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ ”
১.অর্থ: আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা (নামাযের) কাতারসমূহে মিলে মিশে দাঁড়াবে। এক কাতারকে অপর কাতারের নিকট রাখবে এবং তোমরা একে অন্যের ঘাড় বরাবর করে দাঁড়াবে। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! আমি দেখতে পাচ্ছি, কাতারের খালি জায়গাতে শয়তান যেন একটি বকরীর বাচ্চার ন্যায় প্রবেশ করছে। (ইফা. সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৬৬৭ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لَهُ حَصِيرٌ يَبْسُطُهُ بِالنَّهَارِ، وَيَحْتَجِرُهُ بِاللَّيْلِ، فَثَابَ إِلَيْهِ نَاسٌ، فَصَلَّوْا وَرَاءَهُ
২.অর্থ: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) এর একটি চাটাই ছিল। তিনি দিনের বেলায় তা বিছিয়ে রাখতেন এবং রাতের বেলায় তা দিয়ে কামরা বানিয়ে নিতেন। আর সাহাবীগণ তার পেছনে কাতার বন্দী হয়ে নামায আদায় করতেন। (সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭৩০ সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৭০০ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “مَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ”.
৩.অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি (বিচ্ছিন্ন) কাতারকে যুক্ত করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে (তার রহমতের সঙ্গে) যুক্ত করবেন। আর যে ব্যক্তি কাতারকে বিচ্ছিন্ন করবে আল্লাহ তাকে (তার রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন করবেন। (সুনানে নাসাঈ হাদীস নং ৮১৯ সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৬৬৬ হাদীসের মান: সহীহ)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
রুকয়া কি? ও রুকয়ার প্রয়োজনীয়তা, রুকয়া জন্য ব্যক্তি নির্বাচন
চার রাকাত বিশিষ্ট নফল বা সুন্নতে যায়েদা নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহুদ পড়ার পর দরুদ শরীফ, দোয়ায়ে মাসুরা ও তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর ছানা পড়ার হুকুম
গৃহপালিত পশুতে কুরবানীর নিয়ত করার পর নিয়ত পরিবর্তন করা যাবে
নামাজে কেরাতের স্থানে ভুলে দোয়ায়ে মাসুরা পরে ফেললে করণীয় কি
কাজা রোজা ভেঙ্গে গেলে