একাধিক রোজার একাধিক কাফফারার আদায়ের বিধান
প্রশ্নঃ ১৪৫১১৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন হাফেজ প্রথমেই ক্ষমা চাচ্ছি মহান রবের নিকট আমার উপর রোজা ফরজ হবার পর থেকে আমি ইচ্ছা কৃত ভাবেই কোনো বছর ঠিক মতো রোজা করিনাই এখন এমন অবস্থা যে প্রতিটার বিনিময়ে ৬০ জন করে ফকির মিসকিন খাওয়াব এমন অবস্থাও নাই আবার কাফফারা হিসেবে একটার বিনিময়ে ৬০ টা থাকতে চাইলে যেই কয়দিন আল্লাহ হায়াত দিবে সারাজীবন থাকলেও হবেনা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তো এই অবস্থায় আমি কিভাবে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পেতে পারি? বা যত রোজা করিনাই কিভাবে ওগুলার কাফফারা আদায় করব বা ঘাটতি পুরন করব দয়া করে কোরআন সুন্নাহভিত্তিক জানাবেন প্লিজ😭😭
১৬ মার্চ, ২০২৬
নওগাঁ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, একজন হাফেজে কুরআন হিসেবে আপনার এই অনুশোচনা এবং আল্লাহর ভয়ই আপনার ক্ষমার প্রথম ধাপ। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে অতীতে যা হয়েছে, তা নিয়ে আপনি এখন লজ্জিত—এটিই প্রকৃত তওবার প্রাণ। আপনি এই পরিস্থিতিতে হতাশ হবেন না। আপনার জন্য নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা উল্লেখ করা হলো,
কোনো ওজর বা শরঈ সঙ্গত কারণ ছাড়াই রমজানের রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে না রাখা অথবা রোজা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্য ও বঞ্চনার বিষয়।
* ওজর ছাড়া যেসব রোজা রাখাই হয়নি, সেগুলোর জন্য শুধু কাজা আদায় করা ফরজ এবং সেই সাথে আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা ও ইস্তিগফার করাও আবশ্যক। কাফফারা আদায়ের প্রয়োজন নেই।
* আর রমজানের রোজা রেখে কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে তা ভেঙে ফেলার সুরতে কাজার পাশাপাশি কাফফারা আদায় করাও আবশ্যক হবে।
রমজানুল মোবারকের সেই রোজা—যার নিয়ত সুবহে সাদেকের আগেই করা হয়েছিল—তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার বা স্ত্রী-সহবাস করে ভাঙ্গার মাধ্যমে কাফফারা ওয়াজিব হয়। যদি এই কাজ (রোজা ভাঙা) কোনো ব্যক্তির দ্বারা একাধিকবার সংঘটিত হয়, তবে তার বিস্তারিত বিবরণ এই যে:
১. যদি একের অধিক রোজায় পানাহারের মাধ্যমে একাধিক কাফফারা ওয়াজিব হয়ে থাকে—চাই তা একই রমজানের একাধিক রোজা হোক অথবা একাধিক রমজানের (ভিন্ন ভিন্ন বছরের) একাধিক রোজা হোক—তবে সেই সবগুলোর বিনিময়ে একটি কাফফারা আদায় করাই যথেষ্ট হবে; শর্ত হলো, পূর্বের কোনো রোজার কাফফারা যেন ইতিমধ্যে আদায় করা না হয়ে থাকে।
* উদাহরণস্বরূপ: যদি ২০২০ সালের রমজানে পানাহারের মাধ্যমে একটি বা একাধিক রোজা ভেঙে থাকে এবং ২০২১ সালের রমজানেও পানাহারের মাধ্যমে একটি বা একাধিক রোজা ভেঙে থাকে এবং আগেরটির কাফফারা আদায় করা না হয়ে থাকে, তবে এখন একটি কাফফারা আদায় করলেই উভয়টির কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ২০২০ সালের কাফফারা আগেই আদায় করা হয়ে থাকত, তবে ২০২১ সালের জন্য পুনরায় নতুন করে কাফফারা আদায় করতে হতো।
২. যদি একের অধিক রোজায় স্ত্রী-সহবাস করার কারণে কাফফারা ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে তার হুকুম হলো:
* যদি একই বছরের রমজানে স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে এক বা একাধিক রোজা ভেঙ্গে থাকে, তবে সবগুলোর জন্য একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে; শর্ত হলো, পূর্বের রোজার কাফফারা যেন ইতিমধ্যে আদায় করা না হয়ে থাকে।
* আর যদি আলাদা আলাদা রমজানে (ভিন্ন ভিন্ন বছরের রমজানে) স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে এক বা একাধিক রোজা ভেঙ্গে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কাফফারা আদায় করতে হবে; তখন একটি কাফফারা উভয় বছরের (বা সবগুলোর) জন্য যথেষ্ট হবে না।
* উদাহরণস্বরূপ: যদি ২০২০ সালের রমজানে স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে একটি বা একাধিক রোজা ভেঙ্গে থাকে এবং ২০২১ সালের রমজানেও স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে একটি বা একাধিক রোজা ভেঙ্গে থাকে, তবে এক্ষেত্রে ২০২০ সালের জন্য একটি পৃথক কাফফারা এবং ২০২১ সালের জন্য আর একটি পৃথক কাফফারা আদায় করতে হবে। আগেরটির (২০২০ সালের) কাফফারা আদায় করা না হয়ে থাকলেও একটি কাফফারা উভয় বছরের জন্য যথেষ্ট হবে না।
তবে যদি ২০২০ সালের রমজানে স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে একটি বা একাধিক রোজা ভেঙ্গে থাকে, তাহলে সবগুলোর জন্য একটি কাফফারা আদায় করাই যথেষ্ট হবে। কারণ একই বছরে স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে একাধিক রোজা ভাঙ্গা হয়েছে একাধিক বছরের নয়।
* সেমতে প্রশ্নকারী ব্যক্তি পানাহারের মাধ্যমে এক বা একাধিক রোজা ভাঙার ক্ষেত্রে—চাই তা একই রমজানের একাধিক রোজা হোক অথবা একাধিক রমজানের (ভিন্ন ভিন্ন বছরের) একাধিক রোজা হোক— সবগুলোর জন্য একটিই কাফফারা ওয়াজিব।
* তবে, যদি স্ত্রী-সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙা হয়ে থাকে এবং তা একাধিক (ভিন্ন ভিন্ন) রমজানে ঘটে থাকে, তবে প্রশ্নকারীকে ভিন্ন ভিন্ন বছরের জন্য পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব।
مراجع الجواب:
(بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع، کتاب الصوم فصل حکم فساد الصوم ج نمبر ۲ ص نمبر ۱۰۱،دار الکتب العلمیہ)
«ولو جامع في رمضان متعمدًا مرارًا بأن جامع في يوم ثم جامع في اليوم الثاني ثم في الثالث ولم يكفر فعليه لجميع ذلك كله كفارة واحدة عندنا، وعند الشافعي عليه لكل يوم كفارة، ولو جامع في يوم ثم كفر ثم جامع في يوم آخر فعليه كفارة أخرى في ظاهر الرواية، وروى زفر عن أبي حنيفة أنه ليس عليه كفارة أخرى، ولو جامع في رمضانين ولم يكفر للأول فعليه لكل جماع كفارة في ظاهر الرواية.»
(فتاوی شامی، کتاب الصوم باب ما یفسد الصوم و ما لا یفسدہ ج نمبر ۲ ص نمبر ۴۱۲،ایچ ایم سعید)
«ولو تكرر فطره ولم يكفر للأول يكفيه واحدة ولو في رمضانين عند محمد وعليه الاعتماد بزازية ومجتبى وغيرهما واختار بعضهم للفتوى أن الفطر بغير الجماع تداخل وإلا لا»
(قوله: ولم يكفر للأول) أما لو كفر فعليه أخرى في ظاهر الرواية للعلم بأن الزجر لم يحصل بالأولى بحر (قوله: وعليه الاعتماد) نقله في البحر عن الأسرار ونقل قبله عن الجوهرة لو جامع في رمضانين فعليه كفارتان وإن لم يكفر للأولى في ظاهر الرواية وهو الصحيح. اهـ.
قلت: فقد اختلف الترجيح كما ترى ويتقوى الثاني بأنه ظاهر الرواية (قوله: إن الفطر) إن شرطية ح (قوله: وإلا لا) أي وإن كان الفطر المتكرر في يومين بجماع لا تتداخل الكفارة، وإن لم يكفر للأول لعظم الجناية ولذا أوجب الشافعي الكفارة به دون الأكل والشرب.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১