মহিলারা শশুর বাড়ি এবং বাবার বাড়ি কোথায় কসর করবে এবং কোথায় পূর্ণ নামায পড়বে
প্রশ্নঃ ১৪৫০৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি খুব দরকারে এই রমাদানে প্রশ্ন টি করছি। আমি ঢাকায় থাকি স্বামীর সাথে স্থানীয় ভাবে, কিন্ত বছরে একবার শ্বশ্বরবাড়ি আসি গ্রামে, শ্বশ্বরের বাড়ি আমার স্বামীর নিজস্ব কিছু না। এখন বাবার বাড়ি আর শ্বশ্বরের বাড়ি একই জেলাতে ভিন্ন উপজেলা ৪৮ মাইল এর কম।শুশুর গ্রামের বাড়ি থেকে বাবার আসতে ১ ঘন্টা লাগে। ঈদে ও বাড়ি আসলে শুশুরবাড়িতে পুরো নামাজ পড়ি আর বাবার বাড়িতে কছর পড়ি। ঢাকা থেকে ডাইরেক্ট বাবার বাড়ি আসলে আমি কছর পড়ি, সেক্ষেত্রে আমার কি কছর হবে কিনা। আর যদি কছর না হয় সেক্ষেত্রে এত দিন যে কছর পড়ে আসছি সেটার কি হিসাব হবে। আমি যেহেতু ঢাকা স্থানীয় ভাবে থাকি তাই ঢাকাকেই স্থানীয় নিবাস মনে করি বাবার বাড়িতে কছর পড়তাম। কিন্তু শুশুরবাড়ি গ্রামে যে আমাদের স্থানীয় নিবাস সেটা খেয়াল করি নাই। এখন আমার করনীয় কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরিয়তের দৃষ্টিতে নিজের স্থায়ী নিবাসে কোন ব্যক্তি সর্বদা মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) থাকে অর্থাৎ তাকে পূর্ণ নামায পড়তে হয়। চাই সেটা গ্রামের বাড়ি হোক বা শহরের বাড়ি।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্বামীর বাবার বাড়ি (আপনার শশুর বাড়ি) যদি তার স্থায়ী নিবাস হয়ে থাকে এবং আপনার স্বামী সেখানে বসবাসের নিয়ত সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ না করে থাকে তাহলে সেখানে আপনাদের পূর্ণ নামাজ পড়া ঠিক আছে। সেখানে কসর করা যাবে না।
আর আপনার বাবার বাড়ির বিষয়টি একটু বিশ্লেষণ করতে হবে। তা হলো-
১. আপনি যদি আপনার ঢাকার স্থায়ী নিবাস থেকে সরাসরি বাবার বাড়ি (যা ঢাকা থেকে ৪৮ মাইল- ৭৭.২৫ কি. মি.- বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বে) যান তাহলে ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য গেলে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং সেখানে নামায কসর করবেন। আর ১৫ দিন বা তার বেশি সময়ের জন্য গেলে পূর্ণ নামায পড়বেন। কসর করবেন না।
২. পক্ষান্তরে যদি ঢাকা থেকে প্রথমে শশুর বাড়িতে গিয়ে তারপর বাবার বাড়ি যান, তাহলে দেখতে হবে শশুর বাড়ি থেকে আপনার বাবার বাড়ির দূরত্ব কত। যদি ৪৮ মাইলের (৭৭.২৫ কি. মি.) কম হয় (যেমনটি আপনি বলেছেন) তাহলে নামায কসর করবেন না। বরং পূর্ণ নামায পড়বেন।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিবরণ মোতাবেক সর্বাবস্থায় পূর্ণ নামায পড়ার জায়গায় যদি কসর করে থাকেন, তাহলে সে নামাযগুলোর কাযা আদায় করে নিতে হবে। আর কসরের জায়গায় যদি ভুলে পূর্ণ নামায পড়ে থাকেন তাহলে সে নামাযগুলো হয়ে গিয়েছে। এগুলোর আর কাযা করতে হবে না।
المستندات الشرعية
** قوله تعالى : وَإِذَا ضَرَبۡتُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَلَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَقۡصُرُواْ مِنَ ٱلصَّلَوٰةِ إِنۡ خِفۡتُمۡ أَن يَفۡتِنَكُمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْۚ إِنَّ ٱلۡكَٰفِرِينَ كَانُواْ لَكُمۡ عَدُوّٗا مُّبِينٗا [النساء: 101]
** صحيح البخاري : رقم 1472، وصحيح مسلم : رقم 690
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه:أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بالمدينة أَرْبَعًا، وَصَلَّى الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ،
(1) البحر الرائق (٢/٢٣٩) زكريا
والوطن الأصلي هو وطن الإنسان في بلدته أو بلدة أخرى اتخذها دارا وتوطن بها مع أهله وولده، وليس من قصده الارتحال عنها بل التعيش بها وهذا الوطن يبطل بمثله لا غير، وهو أن يتوطن في بلدة أخرى وينقل الأهل إليها فيخرج الأول من أن يكون وطنا أصليا حتى لو دخله مسافرا لا يتم.
(2) الدر المختار مع رد المحتار (٢/١٣٢) سعيد
(الوطن الاصلي) هو موطن ولادته أو تأهله أو توطنه (يبطل بمثله).
(3) الفتاوى التاتارخانية (٢/٥١٠) زكريا
ومن حكم الوطن الاصلي ان ينتقض بالوطن الاصلي لانه مثله والشيء ينتقض بما هو مثله حتى اذا انتقل من البلد الذي تأهل به اهله وعياله وتوطن ببلدة اخرى بأهله وعياله لا تبقى البلد المنتقل عنها وطن له.
فاليراجع أيضا – حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح (٤٢٩) دار الكتب العلمية، فتح القدير (٢/٤١) دار الفرقان، تبيين الحقائق (١/٥١٧) زكريا، المحيط البرهاني (٢/٤٠١) ادارة التراث، المحيط الرضوي (١/٣٨٦) دار الكتب العلمية، مجمع الانهر (١/٢٤٢) دار الكتب العلمية، فتح باب العناية (١/٣٩٧) دار الارقام،
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন