নবীদের ভুল হওয়ার আকিদা পোষণ করা কি বিদআত?
প্রশ্নঃ ১৪৮১৬৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি এক মসজিদের খতিব জুম্মার নামাজের আলোচনার মধ্যে এক পর্যায়ে আমি বলি মানুষ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ও ভুল হয়েছে তিনি মাসুম কোন গুনাহ নেই তবে কিছু ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে ।কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে সেই ভুলের উপরে স্থির রাখেননি এ কথা বলার পর একজন মুসল্লী সে বলতেছে, এ কথা বলা সঠিক না এবং হুজুর এ কথা বলার কারণে হুজুরের পেছনে নামাজ পড়া যাবে না। কেউ হুজুরের প্রতিবাদ না করলে সে মুসলমান থাকবে না। অতএব, আমার জানার বিষয় হল ওই ব্যক্তির কথা ঠিক কিনা? দলিলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।
১৩ এপ্রিল, ২০২৬
যশোর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
প্রশ্নোক্ত প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক প্রধান মুফতি, হযরত মাও. আল্লামা মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর নিচের লেখাটি দেখুন। যা তিনি তাফসিরে মারেফুল কুরআনে সূরা নাজমের তিন নং আয়াত- وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى ব্যাখ্যায় লিখেছেন:
''یعنی رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم اپنی طرف سے باتیں بناکراللہ کی طرف منسوب کریں اس کاقطعاً کوئی امکان نہیں،بلکہ آپ جوکچھ فرماتے ہیں وہ سب اللہ تعالیٰ کی طرف سے وحی کیاہواہوتاہے،وحی کی بہت سی اقسام احادیث بخاری سے ثابت ہیں،ان میں ایک قسم وہ ہے جس کے معنی اورالفاظ سب حق تعالیٰ کی طرف سے نازل ہوتے ہیں،جس کانام قرآن ہے،دوسری وہ کہ صرف معنی اللہ تعالیٰ کی طرف سے نازل ہوتے ہیں ،آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم اس معنی کواپنے الفاظ میں ادافرماتے ہیں ،اس کانام حدیث اورسنت ہے،پھرحدیث میں جومضمون حق تعالیٰ کی طرف سے آتاہے کبھی وہ کسی معاملہ کاصاف اورواضح فیصلہ اورحکم ہوتاہے ،کبھی کوئی قاعدہ کلیہ بتلایاجاتاہے،جس سے احکام رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم اپنے اجتہادسے نکالتے اوربیان کرتے ہیں،اس اجتہادمیں اس کاامکان رہتاہے کہ کوئی غلطی ہوجائے ۔مگررسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم اورتمام انبیاء کی یہ خصوصیت ہے کہ جواحکام وہ اپنے اجتہادسے بیان فرماتے ہیں ان میں اگرکوئی غلطی ہوجاتی ہے تو اللہ تعالیٰ کی طرف سے بذریعہ وحی اس کی اصلاح کردی جاتی ہے ،وہ اپنے غلط اجتہادپرقائم نہیں رہ سکتے۔بخلاف دوسرے علماء ومجتہدین کے کہ ان سے اجتہادمیں خطاہوجائے تو وہ اس پرقائم رہ سکتے ہیں اوران کی یہ خطابھی عنداللہ صرف معاف ہی نہیں بلکہ دین کے سمجھنے میں جواپنی پوری توانائی وہ خرچ کرتے ہیں اس پربھی ان کوایک ثواب ملتاہے۔(معارف القرآن ،8/195،ط:مکتبہ معارف القرآن کراچی)
অর্থাৎ রসূলুল্লাহ্ (সা) নিজের পক্ষ থেকে কথা তৈরী করে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন না। এর কোন সম্ভাবনাই নেই। বরং তিনি যা কিছু বলেন, তা সবই আল্লাহর কাছ থেকে প্রত্যাদেশ হয়। বুখারীর বিভিন্ন হাদীসে ওহীর অনেক প্রকার বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে এক, যার অর্থ ও ভাষা উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়, এর নাম কোরআন। দুই. যার কেবল অর্থ আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ হয়। রসূলুল্লাহ্ (সা) এই অর্থ নিজের ভাষায় ব্যক্ত করেন, এর নাম হাদীস ও সুন্নাহ্। এরপর হাদীসে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিষয়বস্তু বিধৃত হয়, কখনও তা কোন ব্যাপারের সুস্পষ্ট ও স্বার্থহীন ফয়সালা তথা বিধান হয়ে থাকে এবং কখনও কেবল সামগ্রিক নীতি বর্ণনা করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে রসূলুল্লাহ্ (সা) ইজতিহাদ করে বিধানাবলী বের করেন। এই ইজতিহাদে ভ্রান্তি হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সা) তথা পয়গম্বরকুলের বৈশিষ্ট্য এই যে, তাঁরা ইজতিহাদের মাধ্যমে যেসব বিধান বর্ণনা করেন, সেগুলোতে ভুল হয়ে গেলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর সাহায্যে ও ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা ভ্রান্তির উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারেন না। কিন্তু অন্যান্য মুজতাহিদ আলিম ইজতিহাদে ভুল করলে তারা তার উপর কায়েম থাকতে পারেন। তাদের এই ভুলও আল্লাহর কাছে কেবল ক্ষমাইই নয়। বরং ধর্মীয় বিধান হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষেত্রে তাঁরা যে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন, তজ্জন্য তাঁরা কিঞ্চিৎ সওয়াবেরও অধিকারী হন।
এই বক্তব্য দ্বারা আলোচ্য আয়াত সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের জওয়াবও হয়ে গেছে। প্রশ্ন এই যে, রসূলুল্লাহ্ (সা)-র সব কথাই যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হয়ে থাকে, তখন জরুরী হয়ে পড়ে যে, তিনি নিজ মতামত ও ইজতিহাদ দ্বারা কোন কিছু বলেন না। অথচ সহীহ হাদীসসমূহে একাধিক ঘটনা এমন বর্ণিত আছে যে, প্রথমে তিনি এক নির্দেশ দেন, অতঃপর ওহীর আলোকে সেই নির্দেশ পরিবর্তন করেন। এতে বোঝা যায় যে, প্রথম নির্দেশটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল না। বরং তিনি স্বীয় মতামত ও ইজতিহাদের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছিলেন। এর জওয়াব পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে যে, ওহী কখনও সামগ্রিক নীতির আকারে হয়, যদ্দ্বারা রসূলুল্লাহ্ (সা) ইজতিহাদ করে বিধানাবলী বের করেন। এই ইজতিহাদে ভুল হওয়ারও আশংকা থাকে।
দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক শাইখুল হাদিস এবং সদরুল মুদাররিস আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রাহ. তার সুনানে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ “তুহফাতুল আলমাঈ’ এর মধ্যে ওহীর প্রকার আলোচনা করে বলেন,
نبی پاک ﷺ کا اجتہاد : نبی پاک ﷺ بھی دیگر مجتہدین کی طرح اجتہاد فرماتے ہیں۔ اور دیگر مجتہدین کے اجتہاد میں جس طرح خطا د صواب کا احتمال ہوتا ہے نبی پاک ﷺ کے اجتہاد میں بھی یہ دونوں احتمال ہوتے ہیں ۔ مگر فرق یہ ہے کہ مجتہد کی غلطی باقی رہتی ہے اس کو تنبیہ نہیں کی جاتی بر خلاف نبی کے : وہ خطاء پر باقی نہیں رکھا جاتا بلکہ وحی صریح کے ذریعہ اس کو اطلاع کر دی جاتی ہے! پس اگر نبی پاک ﷺ کو اجتہاد پر باقی رکھا جائے تو وہ اللہ کی طرف سے ہے یعنی اللہ کی مرضی کے مطابق ہے، اس لئے وہ اجتہاد بھی حکماً وحی ہے۔
অর্থাৎ: নবী (ﷺ)-এর ইজতিহাদ:
নবী (ﷺ)-ও অন্যান্য মুজতাহিদদের মতোই ইজতিহাদ করেন। এবং যেমন অন্যান্য মুজতাহিদদের ইজতিহাদে ভুল ও সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি মহানবী (ﷺ)-এর ইজতিহাদেও এই উভয় সম্ভাবনাই বিদ্যমান। কিন্তু পার্থক্য হলো, মুজতাহিদের ভুল বাকী থেকে যায়, তাকে সতর্ক করা হয় না: পক্ষান্তরে নবীকে ভুলের উপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, বরং সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে তাকে অবহিত করা হয়! তাকে সংশোধন করা হয়। সুতরাং যদি মহানবী (ﷺ)-কে তার ইজতিহাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই, অর্থাৎ তা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ীই হয়, তাই সেই ইজতিহাদও হুকমী (পরোক্ষ) ওহীর এর অন্তর্ভুক্ত।
-তুহফাতুল আলমাঈ 1/45 (মুকাদ্দিমা) মাকতাবাতুল হিযাজ, দেওবন্দ।
সম্মানিত খতিব সাহেব!
আপনি যেই বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দূষণীয় কিছু নেই। বরং যিনি আপনার ওপর আপত্তি তুলেছেন তার আপত্তি সঠিক নয়।
তবে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হলো,
ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, ‘নবীদের ভুল’ প্রসঙ্গগুলো আহলে ইলিম ছাড়া আওয়ামুন নাসের (জনসাধারণ) সামনে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা তা না হলে তারা ফিতনায় পতিত হবে। নবীদের সম্পর্কে নিচু মানসিকতা লালন করবে এবং তাদের ব্যাপারে বদ ধারণা পোষণ করবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে স্থান, কাল পাত্রের উপযুক্ততা অনুধাবন করে আলোচনা করার এবং মানুষের ময়দানে দাওয়াতী কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
প্রসঙ্গসমূহ:
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১