তারাবির নামাযে তিলাওয়াতের ভুলে লুকমা না দেওয়া
প্রশ্নঃ ১৪৩৫৩৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি যেই মসজিদে নামাজ পড়ি। ওখানে খতম তারাবি হয় কিন্তু হাফেজেরা অনেক ভুল পড়ে। তারা একজন আরেকজনকে লোকমা দেয় না এখন আমার এখানে নামাজ পড়া ঠিক হবে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি বলেছেন ‘ভুল পড়ে’, কিন্তু ভুলের ধরন উল্লেখ করেননি। সুতরাং এ ব্যাপারে এক কথায় সমাধান সম্ভব নয়। ভুলের ধরনের ওপর নির্ভর করবে যে, আসলে ওই ভুলের কারণে নামাজে সমস্যা হচ্ছে কি না।
নামাজে কেরাতে ভুল করলে নামাজ ভাঙার জন্য শর্ত হলো, তার অর্থ এতটাই পরিবর্তন হবে, যার ওপর কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। অর্থাৎ কোরআন শরিফের অর্থ, ইসলামি আকিদার বিরোধী কোনো অর্থ দাঁড়িয়ে যায়।
শুধুমাত্র একটি হরফ ছেড়ে দেওয়ার দ্বারা কিংবা কোনো শব্দ ছেড়ে দেওয়ার দ্বারা নামাজ ভাঙে না। হ্যাঁ, যদি ওই শব্দ ছাড়ার দ্বারা তার অর্থ পরিবর্তন হয়, তখন নামাজ ভাঙে। যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে কোনো না কোনোভাবে তার অর্থ সঠিক ধরা যায় কি না। যদি কোনোভাবে তার অর্থ সঠিক হয়, তাহলে নামাজ ভাঙবে না।
এবার আপনার উল্লিখিত মসজিদের হাফেজ সাহেবদের তিলাওয়াতে কী ধরনের ভুল হচ্ছে তা যাচাই করুন। যদি নামাজ ভঙ্গকারী ভুল হয় এবং তা সত্ত্বেও পেছন থেকে সংশোধন না করে দেওয়া হয়, বা ইমাম সাহেব নিজে থেকে সংশোধন না করে ভুলের ওপরই নামাজ শেষ করা হয়, তাহলে অবশ্যই উত্তম পন্থায় তাদেরকে সতর্ক করুন। যদি সম্ভাব্য সকল পন্থায় তাদেরকে সতর্ক করার পরও একই রকম ভুল করতে থাকে এবং পেছন থেকে সংশোধন না করে দেয়, তাহলে অন্ততপক্ষে নিজের নামাজ শুদ্ধ করার জন্য হলেও ভিন্ন কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করুন।
«الفتاوى العالمكيرية = الفتاوى الهندية» (1/ 79):
«(وَمِنْهَا) حَذْفُ حَرْفٍ إنْ كَانَ الْحَذْفُ عَلَى سَبِيلِ الْإِيجَازِ وَالتَّرْخِيمِ فَإِنْ وَجَدَ شَرَائِطَهُ نَحْوَ أَنْ قَرَأَ وَنَادَوْا يَا مَالُ لَا تَفْسُدُ صَلَاتُهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَى وَجْهِ الْإِيجَازِ وَالتَّرْخِيمِ فَإِنْ كَانَ لَا يُغَيِّرُ الْمَعْنَى لَا تَفْسُدُ صَلَاتُهُ نَحْوُ أَنْ يَقْرَأَ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ بِتَرْكِ التَّاءِ مِنْ جَاءَتْ وَإِنْ غَيَّرَ الْمَعْنَى تَفْسُدُ صَلَاتُهُ عِنْدَ عَامَّةِ الْمَشَايِخِ نَحْوُ أَنْ يَقْرَأَ فَمَا لَهُمْ يُؤْمِنُونَ فِي لَا يُؤْمِنُونَ بِتَرْكِ لَا هَكَذَا فِي الْمُحِيطِ وَفِي الْعَتَّابِيَّةِ هُوَ الْأَصَحُّ. كَذَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة وَنَحْوُ أَنْ يَقْرَأَ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ فَرَأَيْت فَحَذَفَ الْأَلِفَ مِنْ أَفَرَأَيْت وَوَصَلَ نُونَ يُظْلَمُونَ بِفَاءِ أَفَرَأَيْت، وَأَنْ يَقْرَأَ {وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} [الكهف: 104] فَحَذَفَ الْأَلِفَ مِنْ أَنَّهُمْ وَوَصَلَ النُّونَ بِالنُّونِ لَا تَفْسُدُ الصَّلَاةُ. هَكَذَا فِي الذَّخِيرَةِ فِي فَصْلٍ فِي حَذْفِ مَا هُوَ مُظْهَرٌ وَفِي إظْهَارِ مَا هُوَ مَحْذُوفٌ.»
«فقه العبادات على المذهب الحنفي» (ص94 بترقيم الشاملة آليا):
«اللحن في قراءة القرآن، إذا غيَّر المعنى تغييراً فاحشاً، أما إذا لم يتغير المعنى فلا تفسد عند الإمام. وتفسد عند الإمام أبي يوسف إذا لم يكن للفظ المغيّر نظير في القرآن.
وكل ذلك حكم زلة القارئ أي الذي أخطأ، أما المتعمد فأقل أمره فساد صلاته إذ يخشى عليه الكفر.
ويلحق بذلك الخطأ في الإعراب فلا تفسد به الصلاة مطلقاً، إلا إذا تغير المعنى فتفسد عند الإمام وصاحبه. ولا تفسد عند أبي يوسف وقوله هو المفتى به،»
তারাবিতে লুকমা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সংযুক্ত মাসআলাটি দেখুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১৩৯৬৬৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তারাবিহ নামাজে লোকমা না দিয়ে পরবর্তী রাকাতে সেটা পড়বে নাকি লোকমা দিবে। বর্তমানে হাফেজরা লোকমা দেয় না।এটা কি ঠিক
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
তারাবীতে লোকমা দেওয়ার নিয়ম:
খতমে তারাবীহতে যে কোনো পরিমাণ পড়ার পরও প্রয়োজনে লোকমা আদান-প্রদান করতে পারবে।
প্রকাশ থাকে যে, মুক্তাদী লোকমা দেওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করবে না। কেননা, প্রয়োজন ছাড়া লোকমা দেওয়া মাকরূহ।
-শরহুল মুনিয়্যাহ ৪৪০; ফাতহুল কাদীর ১/৩৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬২২
হাফেয ছাহেব তিলাওয়াতে আটকে গেলে বা ভুল পড়লে পেছন থেকে শ্রোতা হাফেযগণ সংশোধনের জন্য লুকমা দেন। এই লুকমা সম্পর্কিত কিছু উসূলী বা মৌলিক বিষয় মেনে চলা কর্তব্য, যাতে তিলাওয়াতে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং নামাযে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।
প্রথম থেকেই শ্রোতা হাফেযদের তিলাওয়াতকারী হাফেযের পড়ার প্রতি চৌকান্না ও পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। যে আয়াতে ভুল হবে, হাফেয ছাহেব নিজেই তা সংশোধনের চেষ্টা করবেন। ভুল পড়ার বা কোথাও আটকে যাওয়ার সাথে সাথে পেছন থেকে শ্রোতা হাফেয ছাহেব লুকমা দেবেন না। হাফেয ছাহেব চেষ্টা করেও ভুল সংশোধন করতে না পারলে অথবা আয়াতের যেখানে আটকে গেছেন তা ছুটাতে না পারলে পেছন থেকে শ্রোতা হাফেযগণ লুকমা দেবেন।
এভাবে তিলাওয়াতকারী হাফেয শ্রোতা হাফেযদের সহায়তা নিয়ে হলেও চলতি রাকাতের ভুলটা সে রাকাতেই সংশোধন করে নেবেন।
প্রথম রাকাতের ভুল যদি ঐ রাকাতেই প্রথম রাকাতের ভুল যদি ঐ রাকাতেই সংশোধন করা না যায়, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতেই ভুলটা সংশোধন করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। চলতি দুই রাকাতেও যদি ভুল সংশোধন করা না যায় বা ভুলটা দ্বিতীয় রাকাতে হয় এবং সে রাকাতে সংশোধন করা না যায়, তাহলে পরবতীর্ দুই রাকাতের প্রথম রাকাতেই ভুলটা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
ভুলটা যদি এমন হয় যে, তাতে অর্থ এমনভাবে বিগড়ে যায় যে, তা নামায ফাসেদ হওয়ার মত; তাহলে যে রাকাতে ভুল হয়েছে ঐ রাকাতেই সংশোধন করে নিতে হবে; নতুবা নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। এরকম অবস্থায় হাফেয ছাহেব মুসল্লীদের জানিয়ে ভুলের দুই রাকাতে পঠিত কিরাত দিয়ে পুনরায় দুই রাকাত পড়ে নেবেন।
আর অর্থ বিগড়ে যাওয়ার কথাটা যদি মুসল্লীদের নামায পড়ে চলে যাওয়ার পর বুঝে আসে, তবে উপস্থিত যাদের পাওয়া যায় তাদের নিয়ে ইমাম ছাহেব সেই দুই রাকাত নামায পুনরায় পড়ে নেবেন এবং পরদিন আগের দিনের সেই দুই রাকাতে পঠিত কেরাতটুকু তারাবীর শুরুতে পড়ে নিয়ে তারপর এদিনের নির্ধারিত অংশ পড়বেন। তাতে এই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লীদের খতমে কুরআন ঠিক থাকবে ইনশাআল্লাহ।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন