রমজান মাসে কোন ধরণের শয়তান বন্ধী করা হয়
প্রশ্নঃ ১৩৯৭৬৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রমজান মাসে শয়তান কে বন্দি করা হয়_এই কথাটায় শয়তান বলতে শুধু কি ইবলিসকে বোঝানো হয়েছে না অন্যান্য সকল খারাপ জিন যারা আমাদের ক্ষতি করে তাদের কেউ বোঝানো হয়েছে ?
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Akodia
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সাধারণত দু’টি বিষয় মানুষকে গুনাহ ও আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার দিকে ঠেলে দেয়,
একটি হলো নফসের ক্রমবর্ধমান কামনা-বাসনা ও তার বিদ্রোহ,
অপরটি হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রতারণা।
শয়তান মানুষের চিরশত্রু। সে নিজে তো আছেই, তার বাহিনী ও অনুসারীদের নিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে দ্বীনে হক থেকে গাফেল করার চেষ্টায় সদা ব্যস্ত। কিন্তু রমযানুল মুবারকের এমনই বরকত ও ফযিলত যে, এই মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
“যখন রমযানের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শিকল পরিয়ে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়—একটিও খোলা থাকে না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়—একটিও বন্ধ থাকে না। একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে: ‘হে কল্যাণের অনুসন্ধানী! এগিয়ে এসো। হে অকল্যাণের অন্বেষণকারী! থেমে যাও।’ আল্লাহ তাআলা বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন, এবং রমযানের প্রতি রাতেই এভাবে হতে থাকে।”
(তিরমিযি, আস-সুনান, আবওয়াবুস সাওম, হাদিস নং ৬৮২)
রমযানে শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা—এ কথাটি ইঙ্গিত করে যে, এ মাসে শয়তানের প্রভাব দুর্বল হয়ে যায়; সে মানুষকে সহজে বিপথে নিতে পারে না এবং মুমিনগণও তার কুমন্ত্রণা গ্রহণ করে না। এর কারণ হলো, রোজার মাধ্যমে মানুষের পশুত্বপূর্ণ শক্তি—যা রাগ ও কামনার মূল—দমিত হয়ে পড়ে। রাগ ও কামনাই বড় বড় গুনাহের প্রধান উৎস। পক্ষান্তরে, বিবেকবোধ ও নেক আমলের শক্তি রোজার কারণে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বাস্তবেও দেখা যায়, রমযানে সাধারণ দিনের তুলনায় গুনাহ কম হয় এবং ইবাদত বৃদ্ধি পায়।
শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার আরেকটি নিদর্শন হলো—যারা গুনাহে ডুবে থাকত, তাদের অনেকেই রমযানে তা থেকে ফিরে আসে; তাওবা করে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। যারা আগে নামাজ পড়ত না, তারা নামাজ কায়েম করতে শুরু করে। কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরের মাহফিলে অংশগ্রহণ করে—যা আগে করত না। যারা প্রকাশ্যে নানা গুনাহে লিপ্ত ছিল, তারা তা থেকে বিরত হয়।
তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থা দেখা যায়। এর কারণ হলো, শয়তানি কুমন্ত্রণা তাদের দুষ্ট নফসের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে। কেননা মানুষের নফসই তার সবচেয়ে বড় শত্রু।
কেউ যদি প্রশ্ন করে—“তাহলে তো পৃথিবীতে এখনও অশুভ কাজ ও গুনাহ চলছেই, শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়ার লাভ কী?”
এর জবাব হলো—রমযানে শয়তানের উদ্ধততা ও দাপট ভেঙে যায়, তার অস্ত্র ভোঁতা হয়ে পড়ে, এবং সে যে আগুন জ্বালিয়ে রাখে তা কিছু সময়ের জন্য নিভে আসে। যদি এমন না হতো, তবে আল্লাহই ভালো জানেন, সে কী ভয়ংকর বিপর্যয় ঘটাত!”
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই!
হাদীসসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মাহে রমযানের শুরুতেই শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। কোনো কোনো হাদীসে বিশেষভাবে অবাধ্য ও উদ্ধত শয়তানদের বন্দী করার কথা বলা হয়েছে। এ কারণেই মুহাদ্দিসগণ এ সম্ভাবনাও উল্লেখ করেছেন যে, হয়তো কেবলমাত্র প্রবল ও অবাধ্য শয়তানদেরই বন্দী করা হয়।
শরঈ দলীলঃ
قَالَ رَسُولُ اللَّہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَخَلَ شَہْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَہَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّیَاطِینُ۔ ( البخاری، رقم :۱۸۹۹) قال العینی : وَقیل: المُرَاد بالشیاطین بَعضہم، وہم المردة مِنْہُم، وَترْجم لذَلِک ابْن خُزَیْمَة فِی (صَحِیحہ) وَأورد مَا أخرجہ ہُوَ وَالتِّرْمِذِیّ وَالنَّسَائِیّ وَابْن مَاجَہ وَالْحَاکِم من طَرِیق الْأَعْمَش عَن أبی صَالح عَن أبی ہُرَیْرَة بِلَفْظ: (إِذا کَانَ أول لَیْلَة من شہر رَمَضَان صفدت الشَّیَاطِین مَرَدَة الْجِنّ) . وَأخرجہ النَّسَائِیّ من طَرِیق أبی قلَابَة عَن أبی ہُرَیْرَة بِلَفْظ: (وتغل فِیہِ مَرَدَة الشَّیَاطِین)۔ ۔ ۔ وَقیل: المسلسل بعض الشَّیَاطِین وہم المردة لَا کلہم، کَمَا تقدم فِی بعض الرِّوَایَات، وَالْمَقْصُود تقلیل الشرور فِیہِ، وَہَذَا أَمر محسوس، فَإِن وُقُوع ذَلِک فِیہِ أقل من غَیرہ۔ ( عمدة القاری )۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১