মৃত সন্তানের জন্য কান্না করা করলে আল্লাহ তাআলা নারাজ হন!
প্রশ্নঃ ১৩৮৩১৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ছোট বাচ্চা মারা গেছে জন্মের একদিন পরে এটা কোন একটা উসিলায় সে মারা গেছে এবং এই উছিলা টাকে মনে করে আমি খুব কষ্ট পাই এবং কান্না করি এবং তার জন্য খুব বেশি কান্না করি তাহলে কি আল্লাহর আমার প্রতি নারাজ হইবে বা অখুশি হইবে
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বিজয়নগর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী, কেবল কান্না করলে আল্লাহ তাআলা নারাজ হন না। চোখের পানি ফেলা বা মনে কষ্ট অনুভব করা একটি মানবিক স্বভাব। এটি আল্লাহর রহমতেরই একটি অংশ।
যখন নবীজি (সা.)-এর শিশুপুত্র ইব্রাহিম ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। তা দেখে সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কাঁদছেন?’ তখন নবীজি (সা.) বলেছিলেন, হে ইবনে আউফ! এটি হলো দয়া বা রহমত। নিশ্চয়ই চোখ অশ্রু ঝরাচ্ছে এবং অন্তর ব্যথিত হচ্ছে, কিন্তু আমরা মুখে এমন কিছু বলব না যাতে আমাদের পালনকর্তা অসন্তুষ্ট হন।
সহীহ বুখারী
হাদীস নংঃ ১২২৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৩
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/1225
সুতরাং, নিঃশব্দে কান্না করা বা মনে কষ্ট পাওয়া জায়েজ। তবে চিৎকার করে কান্না করা, কাপড় ছেঁড়া বা ভাগ্যের ওপর দোষারোপ করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
শয়তান মানুষের মনে যদি বা কেন এমন হলো, এই ধরণের চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে মানুষকে হতাশ করতে চায়। একে হাদিসে শয়তানের কাজ বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তোমার কোনো বিপদ হয়, তবে এমনটি বোলো না যে, যদি আমি এমন করতাম তবে এমন হতো। বরং বলো, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই করেছেন (কাদারুল্লাহি ওয়া মা শা’আ ফা’আলা)। কারণ যদি শব্দটি শয়তানের কাজের দরজা খুলে দেয়। (সহিহ মুসলিম: ৬৬৬৪)
আপনার বাচ্চার মৃত্যু যে উসিলাতেই হোক না কেন, সেটি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত তাকদির বা ফয়সালা ছিল। সেই উসিলাটি না ঘটলেও তার হায়াত ওই পর্যন্তই ছিল। তাই নিজেকে বা অন্য কোনো কারণকে দোষারোপ করে নিজের কষ্ট বাড়াবেন না।
তাই মৃত্যুর কারণ বা উসিলা নিয়ে বারবার ভাববেন না। মনে রাখবেন, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো উসিলাই কার্যকর হয় না। এটি তাকদিরের অংশ ছিল।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১