পর্ন আশক্তি থেকে বাঁচার উপায়
প্রশ্নঃ ১৩৪৭৪৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, 1.হুজরত আমি ফুনে পর্নোগ্রাফি তে আসক্ত অনেক চেস্টা করি দূরে থাকতে,,প্রায় 1মাস বা 10দিন এর থেকে দূরে থাকি পরে আবার শয়তানের দোকায় পরে দেখা হয়,,এর থেকে বাহির হওয়ার উপায় কি? 3.বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছি মনে হয় যৌন শক্তি কম কি করতে পারি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
বাজে জিনিস পড়া ও কল্পনা করার মাধ্যমে যৌনসুখ লাভ করা একটি জঘন্য বদঅভ্যাস। এমনকি এর অভ্যাসী ব্যক্তি অনেক সময় অবিবাহিত হলে বিবাহের এবং বিবাহিত হলে নিজের স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সীমালংঘন বিধায় কবিরা গুনাহ। তাই ঈমানের দাবী হল, এই পথ পরিহার করে চলা।
সর্বাবস্থায় খারাপ চিন্তা-ভাবনা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখা আবশ্যক। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
কান, চোখ আর অন্তর- এগুলোর সকল বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (সূরা ইসরা ৩৬)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظْرُ وَالْاُذُنَانِ زِنَاهُمَا الْاِسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُمَا الْككَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهُمَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهُمَا الخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوِىْ وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَالِكَ الْفَرْجُ اَوْ يُكَذِّبُه
দুই চোখের ব্যভিচার হল হারাম দৃষ্টি দেয়া, দুই কানের ব্যভিচার হল কণ্ঠস্বর শোনা, জিহবার ব্যভিচার হল, সুড়সুড়িমূলক কথোপকথন। হাতের ব্যভিচার হল স্পর্শ করা, পায়ের ব্যভিচার হল গুনাহর কাজের দিকে পা বাড়ানো, অন্তরের ব্যভিচার হল কামনা-বাসনা আর গুপ্তাঙ্গঁ তা সত্য অথবা মিথ্যায় পরিণত করে। (সহীহ মুসলিম ২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ ৮৯৩২)
আপনি যা করছেন ইসলামের দৃষ্টিতে তা সীমালংঘন বিধায় কবিরা গুনাহ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌبِمَايَصْنَعُونَ
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সূরা আন-নূর ৩০)
সুতরাং এ জঘন্য অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে হলে–
প্রথমত: প্রথমে এ কবিরা গুনাহ থেকে তাওবা করুন। কারণ, যদি সীমালংঘনকারী সত্যিকার অর্থে দৃঢ়চিত্তে তাওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًارَّحِيمًا
তবে যে তাওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আল ফুরকান ৭০)
দ্বিতীয়ত: যদি আপনি আসলেই নিষ্কলুষভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করতে চান তাহলে এই পাপে পুনরায় পতিত হওয়ার সকল উপায় উপকরণ কর্তন করুন। পর্নফিল্ম এবং নোংরা ছবি দেখাসহ ইত্যকার বিষয় থেকে বিরত থাকুন। দেখুন, আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় সীমালংঘনকারীর তাওবার আলামত হিসাবে বলেছেন,
وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا
আর যে (ব্যভিচার থেকে) তাওবা করে এবং সৎকাজ করে তবে নিশ্চয় সে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। (সূরা আল ফুরকান ৭১)
তৃতীয়ত: আল্লাহওয়ালাদের সোহবত গ্রহন করুন। তাদের মজলিসে আসা যাওয়া করুন। এতে নফস নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাওবার উপর অটল থাকা আপনার জন্য সহজ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)
চতুর্থত: দৃষ্টি সংযত রাখুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
غُضُّوْا اَبْصَارَكمُ وَاحْفَظُوْا فُرُوْجَكُمْ
তোমরা দৃষ্টি অবনত রাখো এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত কর। (আলজাওয়াবুলকাফী, পৃষ্ঠা : ২০৪)
হাফেজ ইবনুলকাইয়িম রহ. লিখেছেন, দৃষ্টি জৈবিকচাহিদার পিয়ন ও রাহবার হয়ে থাকে। দৃষ্টির সংরক্ষণ মূলতঃ লজ্জাস্থান ও যৌনচাহিদা পূরণের অবাধ সুযোগের সংরক্ষণ হয়ে থাকে। যে দৃষ্টিকে অবাধে বিচরণ করতে দিয়েছে সে নিজেকে ধ্বংসের মাঝে ফেলে দিয়েছে। মানুষ যেসব আপদে নিমজ্জিত হয় এর মূলভিত্তি হল দৃষ্টি। (আলজাওয়াবুলকাফী, পৃষ্ঠা-২০৪)
পঞ্চমত: বিয়ে করার সুযোগ থাকলে বিয়ে করে নিন। অন্যথায় মাঝে মাঝে নফল রোজা রাখুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ ، مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ
হে যুবক সম্প্রদায় ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিবাহ করে। কেননা, বিবাহ তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে এবং যাদের বিবাহ করার সামর্থ্য নাই, সে যেন রোযা পালন করে। কেননা, রোযা তার যৌনতাকে দমন করে। (বুখারী,হাদীস নং-৪৯৯৬)
ষষ্ঠত: প্রিয় দ্বীনী ভাই, যদি আপনি উপরোক্ত পাঁচটি মৌলিক পন্থা অবলম্বন করতে পারেন তাহলে দেখবেন, ধীরে ধীরে আপনি এ নেশা থেকে মুক্তি পাবেন-ইনশাআল্লাহ।
পাশাপাশি মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। নির্জনে মোবালই চালানো পরিহার করুন।
কম্পিউটার-পিসি লিভিং রুমে নিয়ে নিন যাতে অন্যরাও দেখতে পায় আপনি কী করছেন। এতে পর্ণ সাইটে ঢোকার ইচ্ছে কমে যাবে। প্রয়োজনে আপনার ফোন-পিসিতে এন্টি-পর্ণ জাতীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করুন। এগুলো ইন্সটল করা থাকলে সাধারণত পর্ণ সাইটে প্রবেশ করা যায় না।
পরিশেষে আপনাকে একটি হাদীস শোনাচ্ছি। আশা করি, উপকৃত হবেন। রাসূল ﷺ বলেন,
اضمَنُوا لِي سِتّاً مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضمَنُ لَكُمُ الجَنَّةَ: اصْدُقُوا إذَِا حَدَّثْتُمْ، وَأَوْفُوا إذَِا وَعَدتُمْ، وَأَدُّوا إذَِا اؤتمُنِتْمُْ، وَاحْفَظوُا فُرُوجَكُمْ، وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ، وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ
তোমরা আমার জন্য ছয়টি জিনিসের দায়িত্ব নাও আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নেব। যখন কথা বল, সত্য বল। আর যখন ওয়াদা কর, তখন তা পুরা কর, আর যখন তোমার নিকট আমানত রাখা হয় তা তুমি হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও। তোমরা তোমাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত কর। তোমাদের চক্ষুকে অবনত রাখ আর তোমাদের হাতদ্বয় হারাম থেকে গুটিয়ে রাখ। (মুসনাদে আহমদ ২২২৫১)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
তালাকপ্রাপ্ত মহিলার কোন বাবা মা নেই এবং কোন ঘরবাড়ি ও নেই তাকে কোন বসবাসের স্থান দিচ্ছে না স্বামী এখন কোন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ইদ্দতে সময়গুলো অতিবাহিত করতে পারবে কিনা দশদিন দশ দিন করে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে
জামে মসজিদে জুমার নামাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিধান
কাজে খুশি হয়ে টাকা দিলে গ্রহণ করা যাবে কি না
ইসলাম এ নারীরা সমপুরণ পর্দা রখখা করে নারী ও পরপুরুষের সামনে খেলতে পারবে?
রোদে গরম করা পানি ব্যবহারের বিধান