অমুসলিম থেকে মুসলিম হতে হলে কি করতে হবে?
প্রশ্নঃ ১৩৪৬১৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, অমুসলিম থেকে মুসলিম হলে কি কি করণীয়? আর কোন কালেমা পড়াবে?
২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো মানুষ ইসলাম গ্রহন করতে চাইলে প্রথমে তাকে শাহাদাহ পাঠ করতে হবে। ইসলাম গ্রহণের নিয়তে কালিমা শাহাদাত পাঠ করলে একজন অমুসিলম মুসলিম হয়ে যাবে।
অর্থাৎ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ পাঠ করবে।
কালেমা শাহাদাত পাঠের আগে তাকে কিছু করতে হবে না। হযরত সুমামাহ্ ইবনু আছাল রাহ. শাহাদাহ পাঠের আগে গোসল করেছিলেন
নিচের লিংকে বিস্তারিত হাদিস আছে।
https://muslimbangla.com/hadith/448
শাহাদাহ পাঠের পর জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই একজন মানুষকে মুসলিম হিসেবে থাকতে হবে। তার জন্য আরো কয়েকটি বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। এগুলোও ঈমানের স্তম্ভ। বিষয়গুলো হলো—
আল্লাহ উপর ইমান:
আল্লাহ তায়ালার ওপর ইমান রাখার অর্থ হলো, এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ একক, অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। তাঁর কোনো শরীক নাই, তাঁর কোনো কিছুর অভাব নেই। তিনি কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন।
তিনিই সকলের সব চাহিদ এবং অভাব পূরণকারী। তিনি কারো বাবা নন, ছেলেও নন। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। একমাত্র তিনিই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা ও পালনকর্তা, বিধানদাতা। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।
ফেরেশতাদের ওপর ইমান:
ফেরেশতাদের ওপর ইমান বা বিশ্বাস স্থাপনের অর্থ হলো, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। তাঁরাও আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি। আল্লাহ তাঁদের যা আদেশ করেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করেন।
আসমানি কিতাবের ওপর ইমান:
আল্লাহ তাআলা মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য নবী-রাসুলদের ওপর বিভিন্ন আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। এ ধরনের বড় বড় কিতাবগুলো হচ্ছে—কোরআন, তাওরাত, জাবুর ও ইঞ্জিল।
রাসুলদের ওপর ইমান:
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। সব রাসুল সত্যবাদী, সত্যায়নকারী, পুণ্যবান, সঠিক পথের দিশারি, তাকওয়াবান ও বিশ্বস্ত। নবী-রাসুলগণ নিষ্পাপ।
আল্লাহ তাঁদের যা কিছু দিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁরা তা পরিপূর্ণভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। আর সর্বশেষ রাসুল হচ্ছেন হযরত মুহাম্মাদ সা.।
পরকালে ওপর ইমান:
এ বিশ্বাস থাকতে হবে যে মৃত ব্যক্তিদের কবর থেকে আবার জীবিত করা হবে। সব মানুষ আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের যাবতীয় কর্মের হিসাব নেবেন। মিঝান বা পাল্লায় আমলগুলো ওজন করা হবে। যার খারাপ কাজের চেয়ে ভালো কাজের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাতি হবে। যার ভালো কাজের চেয়ে খারাপ কাজের পাল্লা ভারী হবে সে জাহান্নামি হবে।
তাকদিরে ওপর ইমান:
তাকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাকদির হচ্ছে আল্লাহর বিশ্বজনীন নিয়মনীতি। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন-এ চেতনা লালন করা এবং তাঁর বিধিব্যবস্থায় সন্তুষ্ট থাকার মধ্যেই শান্তি ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে।
উপরোক্ত বিশ্বাসের সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালার সকল বিধানকে নবী সা. এর সুন্নাহ সম্মত পন্থায় পালন করলেই একজন মানুষ প্রকৃত এবং একনিষ্ঠ মুসলিম এবং মুমিন হিসেবে গণ্য হবেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুমিন এবং মুসলিম হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১