দ্বীনের পথে অবিচল থাকতে করণীয়
প্রশ্নঃ ১৩১৭৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বয়স ১৯। আমি আগে নিয়মিত নামাজ পড়ার চেষ্টা করতাম,প্রতিদিন ৪ রাকাত পড়তে পারতাম (আর ঘুমের কারণে ফজরের নামাজ পড়তে পারি না । কিন্তু এখন ২-৩ বছর ধরে নামাজ পড়ি না (জুমা ব্যতিত) মানে নামাজ পড়ার ইচ্ছে থাকাও কোনো জানি যাইতে পারি না। আবার এমন মনে হয় যে, এখন যদি নামাজ পড়তে যাই তখন মানুষ কি বলবে, কোনোদিন মসজিদে আসে না! এমন মনোভাব চলে আসে। এখন আমি কিভাবে নামাজ পড়া শুরু করব? কোনো আমার অন্তরে আল্লাহর ভয় আসে না? আমি কিভাবে হেদায়েত পাবো।আমার অন্তর কোনো কান্না আসে না কি করব, কিভাবে চললে আল্লাহ আমাকে কবুল করে নিবেন।দয়া করে জানাবেন। দয়া করে আমার জন্য দোয়া করবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমত আপনি এ কথা জানেন যে, নামায আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করে দেওয়া একটি বিধান। এ ছাড়াও আরও অনেক ফরজ বিধান আছে। সুতরাং আপনার প্রাথমিক কাজ হলো, অন্য কোনো বিষয় বা শয়তানের ওয়াসওয়াসার দিকে কোনো ধরণের ভ্রুক্ষেপ না করে বিধানগুলো বাস্তবায়ন করে যাওয়া।
আপনি যখন নফস এবং শয়তানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মুজাহাদা শুরু করবেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থণা করবেন, দেখবেন আপনার মানসিকতার মধ্যে পরিবর্তন আসবে। নামায এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি আন্তরিক টান অনুভব করবেন। তবে প্রথম কদম উঠাতে হবে আপনাকে। এরপরই দেখবেন আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য নেমে আসছে।
এটি আল্লাহ তাআলার ওয়াদা। তিনি বলেন,
আয়াতঃ وَالَّذِیۡنَ جَاہَدُوۡا فِیۡنَا لَنَہۡدِیَنَّہُمۡ سُبُلَنَا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَمَعَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٪
অর্থঃ যারা আমার উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা চালায়, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে উপনীত করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।
সূরাঃ আল আনকাবুত - আয়াত নংঃ 69
রাসূল সা. হাদিসে বলেন,
96 - الثاني: عن أنس - رضي الله عنه - عن النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - فيما يرويه عن ربّه - عز وجل - قَالَ: «إِذَا تَقَربَ العَبْدُ إلَيَّ شِبْرًا تَقَربْتُ إِلَيْه ذِرَاعًا، وَإِذَا تَقَرَّبَ إلَيَّ ذِرَاعًا تَقَربْتُ مِنهُ بَاعًا، وِإذَا أتَانِي يَمشي أتَيْتُهُ هَرْوَلَةً» (1) رواه البخاري. (2)
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ মহান প্রতিপালক থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তখন আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। সে যখন আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাতের বিস্তার পরিমাণ এগিয়ে যাই। আর বান্দা যখন আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। -বুখারী'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৭৫৩৬; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৬০৩; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৩৮২৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১২২৮৬)
রিয়াযুস সালিহীন, হাদীস নংঃ ৯৬
দ্বিতীয়ত এ পথে ধৈর্যের সাথে অবিচল থাকতে হবে। যেভাবে আল্লাহর বিধান পালনে ধৈর্য্যের প্রয়োজনে। একইভাবে গুনাহ থেকে বিরত থাকার জন্যও ধৈর্য্যের প্রয়োজন। পাশাপাশি আনপাকে সৎকর্মশীলদের সাথে থাকতে হবে। এটি আপনাকে দ্বীনের পথে অটল-অবিচল থাকার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে নিকটস্ত কোনো বিজ্ঞ পরহেজগার আলেমের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন, নিয়মিত তার সাথে পরামর্শ করে নিজের জীবন পরিচালনা করুন। নিজের মানসিক অবস্থাগুলো নিয়ে তার সাথে পরামর্শ করুন। আশা করি আল্লাহ তাআলা দ্বীনের পথে চলা এবং অবিচল থাকা সহজ করে দিবেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
আয়াতঃ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَکُوۡنُوۡا مَعَ الصّٰدِقِیۡنَ
অর্থঃ হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক। সূরাঃ আত তাওবাহ্ - আয়াত নংঃ 119
পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সর্বদা হিদায়াতের পথে অটল থাকার জন্য দুআ করতে থাকুন। এক হাদিসে এসেছে,
حدثنا الحسن بن الربيع ، قال : حدثنا أبو الأحوص ، عن الأعمش ، عن أبي سفيان ، ويزيد ، عن أنس ، قال : " كان النبي صلى الله عليه وسلم ، يكثر أن يقول : اللهم يا مقلب القلوب ، ثبت قلبي على دينك
৬৮৮। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বেশী পরিমাণে বলতেনঃ اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ হে আল্লাহ্! হে অন্তরের পরিবর্তন সাধনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় রাখ। আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নংঃ ৬৮৮
আল্লাহ তআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের ওপর অটল-অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন, আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন