প্রশ্নঃ ১২৯৮৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
বিয়ে হওয়ার কোন পরীক্ষিত কোন আমল আছে?আর বদনজর এর যে রুকাইয়ার অডিওগুলো কখন কখন শুনতে হয়?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি নিচের রেফারেন্স উত্তরগুলো দেখে নিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৭৯৪৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রশ্ন: ১.দ্রুত বিয়ে সমন্ধে সমস্ত হাদিস জানতে চাই।২.দ্রুত বিবাহের কিছু বুদ্ধি এবং পরামর্শ চাই।৩.আমার আসল বয়স ১৫ বছর।আমার এখনো কোনো মানুষের ভরন-পোষণের ক্ষমতা হয়নি।কিন্তু আমার প্রচন্ড যৌন চাহিদা।নিজেকে খুব কষ্টে হস্তমৈথুন থেকে আটকে রাখি। বাবা-মা কেও বিয়ের কথা বলতে পারি না। (ক) এ আবস্থায় আমার করণীয় কি?? (খ)আমি কি করলে হস্তমৈথুন থেকে বাচবো??(গ)এ অবস্থায় নিজের সামর্থ না হয়া পর্যন্ত কিভাবে যৌন চাহিদা মিটাবো??
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যৌবনের প্রথম ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সলাত জামাতের সাথে সুন্নত তরীকায় আদায় করুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করুন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআনুল কারীমের অনুবাদ ও তাফসীর অধ্যায়ন করুন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনী পড়ুন।
সমস্ত গুনাহ পরিত্যাগ করুন। বিশেষ করে চোখের গুনাহ থেকে পরিপূর্ন মুক্ত থাকুন।
সর্বদা ভালো লোকদের সান্নিধ্যে থাকুন।
একাকী নিঃসঙ্গ সময় কাটাবেন না।
প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে রোজা রাখুন।
আরো বেশি রোযা রাখার সাহস থাকলে প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম পালন করুন।
কোন আল্লাহ ওয়ালা মুত্তাকী আলিমের সাহচর্য গ্রহণ করুন। তার উপদেশ শুনুন। উপদেশগুলো বাস্তবায়ন করতে চেষ্টা করুন। মাঝে মাঝে তার কাছে কিছু সময় অতিবাহিত করুন।
যেসব পরিবেশে গেলে হস্তমৈথুন বারবার হয়ে যায়, যাদের সঙ্গে থাকলে এই ধরনের ইচ্ছা জাগে, তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
যৌনচাহিদা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই বিবাহ করা নয়। শারীরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সঙ্গতি না থাকলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ عَلْقَمَةَ وَالأَسْوَدِ عَلٰى عَبْدِ اللهِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَبَابًا لاَ نَجِدُ شَيْئًا فَقَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّه“ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه“ لَه“ وِجَاءٌ.
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস’উদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। হে যুবক সম্প্রদায় ! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে।
টীকা :
হাদীসে ‘যুব সম্প্রদায়’ কাদের বলা হয়েছে, এ সম্পর্কে ইমাম নাবাবী লিখেছেন-
আমাদের লোকদের মতে যুবক-যুবতী বলতে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে যারা বালেগ [পূর্ণ বয়স্ক] হয়েছে এবং ত্রিশ বছর বয়স পার হয়ে যায়নি।
আর এ যুবক-যুবতীদের বিয়ের জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকীদ করলেন কেন, তার কারণ সম্পর্কে আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী তার বিশ্ববিখ্যাত বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থ “উমদাতুল ক্বারী” গ্রন্থে লিখেছেনঃ
“হাদীসে কেবলমাত্র যুবক-যুবতীদের বিয়ে করতে বলার কারণ এই যে, বুড়োদের অপেক্ষা এ বয়সের লোকদের মধ্যেই বিয়ে করার প্রবণতা ও দাবী অনেক বেশী বর্তমান দেখা যায়।
যুবক-যুবতীদের বিয়ে যৌন সম্ভোগের পক্ষে খুবই স্বাদপূর্ণ হয়। মুখের গন্ধ খুবই মিষ্টি হয়, দাম্পত্য জীবন যাপন খুবই সুখকর হয়, পারস্পরিক কথাবার্তা খুবই আনন্দদায়ক হয়, দেখতে খুবই সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়, স্পর্শ খুব আরামদায়ক হয় এবং স্বামী বা স্ত্রী তার জুড়ির চরিত্রে এমন কতগুলো গুণ সৃষ্টি করতে পারে যা খুবই পছন্দনীয় হয়, আর এ বয়সের দাম্পত্য ব্যাপার প্রায়ই গোপন রাখা ভাল লাগে। যুবক বয়স যেহেতু যৌন সম্ভোগের জন্য মানুষকে উন্মুখ করে দেয়। এ কারণে তার দৃষ্টি যে কোন মেয়ের দিকে আকৃষ্ট হতে পারে এবং সে যৌন উচ্ছৃঙ্খলতায় পড়ে যেতে পারে। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বয়সের ছেলেমেয়েকে বিয়ে করতে তাকীদ করেছেন এবং বলেছেনঃ বিয়ে করলে চোখ যৌন সুখের সন্ধানে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াবে না এবং বাহ্যত তার কোন ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদিও কথা শুরু করেছেন যুবক মাত্রকেই সম্বোধন করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ের এ তাকীদকে নির্দিষ্ট করেছেন কেবল এমন সব যুবক-যুবতীদের জন্য যাদের বিয়ের সামর্থ্য আছে। আর যারা বিয়ের ব্যয় বহনের সঙ্গতি রাখে না তারা সওম পালন করবে। সওম পালন তাদের যৌন উত্তেজনা দমন করবে। কারণ পানাহারের মাত্রা কম হলে যৌন চাহিদা প্রদমিত হয়।
—সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৬৬
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
প্রশ্নঃ ৭৯৫৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম শাইখ আমি শুনেছি যে,বিয়ে ((কারো জন্য ফরজ আবার কারো জন্য ওয়াজিব আবার কারো জন্য সুন্নত আবার কারো জন্য নফল আবার কারো জন্য হারাম।))আমার প্রশ্ন হলো,আমার ৭০০০০ টাকা জমা আছে,আমি একজন ছাত্র।পড়া লেখার পাশাপাশি একটি মসজিদে খেদমত করি।সাত হাজার টাকা হাদিয়া পাই।বিয়ের অভাবে মনের বিভিন্ন গোনাহ হয়।যতটুকু সম্ভব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করি। আপনার দৃষ্টিতে ব্যাকেটে লেখা বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটা আমার জন্য প্রজোয্য।মেহেরবানি করে উত্তর দিবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বিবাহের জন্য দু'টি বিষয় লক্ষণীয়। প্রথমত শারীরিক সক্ষমতা। দ্বিতীয়তঃ আর্থিক সঙ্গতি।
আপনার বর্ণনায় বুঝা যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ আপনার আর্থিক সঙ্গতি আছে। এবার রইল আপনার শারীরিক সক্ষমতা। যদি সেটি ঠিক থাকে তাহলে তো ইতোমধ্যে আপনার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। যেহেতু বিবাহ না করলে চোখের গুনাহ, মনের ওয়াসওয়াসায় লিপ্ত হয়ে নিজের ঈমান-আমল নষ্ট হওয়ার পথে।
অতএব শরীয়তের শর্ত মেনে পারিবারিকভাবে দ্রুত বিবাহ করে নিন।
আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য উত্তম সঙ্গিনীর সহজ ব্যবস্থা করে দিন। আপনার দাম্পত্য জীবন দুনিয়া ও আখিরাতে সুন্দর করে দিন। আমীন
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
প্রশ্নঃ ১০৬৬৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর কিছু দিন আগে ইউটিউবে দ্রুত বিয়ে হওয়ার ২ টি আমল দেখলাম। প্রথমটি হলো প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে সূরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াত ২১ বার পড়তে হবে, টানা ৪১ দিন। দ্বিতীয়টি হলো ফজর ও মাগরিবের ফরজ নামাজ শেষে বাম হাতের কব্জির উপর ডান হাতের কব্জি রেখে চাপ দিয়ে ধরে ৪১ বার ইয়া ফাত্তাহু পড়তে হবে। তবে যিনি আমলগুলো আলোচনা করেছিল, তিনি কোনো হাদীসের রেফারেন্স দেননি। এখন আমার প্রশ্ন এই আমলগুলো এবং আমলের নিয়ম গুলো কি সহীহ, এর কি কোনো হাদীস বা রেফারেন্স আছে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
বিবাহ আল্লাহ তায়ালার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً
“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জীবনসঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।” —সূরা আর-রূম, ৩০:২১
বিবাহের সময় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত:
বিবাহ একটি সুন্নাত আমল। কে কখন বিবাহ করবে, তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। আল্লাহ তায়ালা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করে দিতে পারেন। আবার আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের বিবাহের উপযুক্ত বয়স অতিক্রম হয়ে গেলেও নানা কারণে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারছেন না। কেউ বিবাহের প্রস্তাব পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিবাহ করতে পারছেন না, আবার কেউ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও উপযুক্ত প্রস্তাব পাচ্ছেন না। কেউ কেউ অল্প সময়ের মধ্যেই ভালো বিবাহের প্রস্তাব পেয়ে যান এবং দ্রুত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিষয়টি এমনই বৈচিত্রময়।
তবে এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ধরে আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে অপেক্ষা করতে হবে। কখনো কখনো বিলম্বের মধ্যেও আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য কল্যাণকর কিছু নির্ধারণ করে রাখেন। তাই দেরি হচ্ছে দেখে হতাশ না হয়ে বিশ্বাস রাখতে হবে—আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য যা কল্যাণকর, শেষ পর্যন্ত সেটিই ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।
বিবাহের জন্য করণীয়:
বিবাহের জন্য দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, জিকির-আজকার করা এবং আল্লাহর কাছে নেক জীবনসঙ্গী চাওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ ও উত্তম আমল। তবে বিবাহ বিলম্বের কারণে হতাশ না হয়ে আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রাখা উচিত। এ ধরনের মানুষের জন্য আমরা কিছু আমল তুলে ধরেছি।
তবে মনে রাখতে হবে যে, দ্রুত বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সূরা বা আয়াত নির্দিষ্ট সংখ্যা ও নির্দিষ্ট দিনের হিসেবে পড়ার ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ প্রমাণিত কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং এজাতীয় অজিফাগুলো অধিকাংশই অভিজ্ঞতা নির্ভর। সকলের ক্ষেত্রে এগুলো সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। তবে চাইলে যে কেউ আমল করে দেখতে পারে। অতএব, নিচের বিষয়গুলো এভাবেই বোঝা উচিত—
১. সূরা ইয়াসিন পড়া
সূরা ইয়াসিন কুরআনের একটি সূরা। কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে; আর একটি নেকি দশগুণ করা হয়।” —জামে‘ আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০
সুতরাং সূরা ইয়াসিন পড়া যাবে এবং এরপর বিবাহের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে।
২. সূরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াত
হযরত মূসা (আ.)-এর এই দোয়াটি কুরআনে উল্লেখিত—رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ “হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।” —সূরা আল-কাসাস, ২৮:২৪ । এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি কুরআনি দোয়া। নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য এ দোয়া করা যেতে পারে।
৩. ৩১৩ বার ‘আল্লাহ’ নামের জিকির:
১১ বার দরুদ শরিফ, এরপর ৩১৩ বার ‘আল্লাহ’ এবং শেষে ১১ বার দরুদ শরিফ—এভাবে ৪১ দিন আমল করার কথা বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো।” —সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৪১
৪. সূরা তাওবার ১২৯ নম্বর আয়াত:
আয়াতটি হলো—فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ “অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তিনি মহান আরশের রব।’” —সূরা আত-তাওবা, ৯:১২৯।
আয়াতটি ১৯ বার বিসমিল্লাহ, ১১০০ বার এই আয়াত এবং শেষে ১০০ বার বিসমিল্লাহ এবং দুরুদ শরীফ পড়বে।
৫. সূরা মরিয়মের তিলাওয়াত:
সূরা মরিয়ম কুরআনের একটি সূরা। তিলাওয়াতের নিয়তে এবং বিবাহ প্রত্যাশীরা নিজের বা সন্তানের বিবাহের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করাও যাবে।
৬. ফাতেমা (রা.)-এর তাসবিহ:
হযরত ফাতেমা (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ ﷺ যে তাসবিহ শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
تُسَبِّحِينَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتَحْمَدِينَ اللَّهَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ، وَتُكَبِّرِينَ أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ
অর্থাৎ, ৩৩ বার سُبْحَانَ اللهِ, ৩৩ বার الْحَمْدُ لِلَّهِ এবং ৩৪ বার اللهُ أَكْبَرُ পড়বে। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৭।
এটি প্রমাণিত সুন্নাত আমল। এর মাধ্যমে জীবনের অনেক কঠিন কাজ সহজ হয়ে থাকে। কাজেই বিবাহের উদ্দেশ্যে নিয়মিত এটি আমল করা যাবে।
৭. সূরা মুযযাম্মিল ২১ বার পড়া
সূরা মুযযাম্মিল কুরআনের সূরা। কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে বিবাহের জন্য দোয়া করা বৈধ।
বিবাহের জন্য সর্বোত্তম আমল:
বিবাহের জন্য সাধারণভাবে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার, দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত করা সাধ্যমতো সদকা করা উচিত। পাশাপাশি বৈধ পন্থায় বিবাহের চেষ্টা করাও জরুরি। কুরআনে নেক জীবনসঙ্গী ও পরিবার লাভের একটি সুন্দর দোয়া এসেছে—رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ করুন।”—সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৪।
আর হযরত মূসা (আ.)-এর দোয়াটিও পড়া যায়— رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ “হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।” —সূরা আল-কাসাস, ২৮:২৪
মাসআলা
বিবাহের জন্য দোয়া ও কুরআন-সুন্নাহসম্মত আমল করা জায়েজ ও উত্তম। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সূরা, আয়াত বা জিকিরকে নির্দিষ্ট সংখ্যা ও নির্দিষ্ট দিনের সঙ্গে বেঁধে দিয়ে ‘দ্রুত বিবাহের শরয়ি আমল’ হিসেবে প্রচার করার জন্য সহিহ দলিল প্রয়োজন। দলিল ছাড়া ১০০ বার, ৩১৩ বার, ১১০০ বার, ২১ বার বা ৪১ দিনকে শরিয়ত নির্ধারিত আমল মনে করা যাবে না।
তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কেউ কোনো বৈধ জিকির বা দোয়া নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়লে এবং সেটিকে শরিয়তের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মনে না করলে বিষয়টি আলাদা। কোনো আমলকে অভিজ্ঞতালব্ধ উপকারী আমল হিসেবে উল্লেখ করা হলে স্পষ্ট করে দিতে হবে যে, এর নির্দিষ্ট সংখ্যা ও ফলাফল শরিয়ত কর্তৃক প্রমাণিত নয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন