কোন কোন ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া যাবে না?
প্রশ্নঃ ১২৪৮৭৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোন কোন ব্যক্তির জানাযা পড়া জায়েজ নেই?
১ নভেম্বর, ২০২৫
খুলনা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
* জানাযার নামায সহীহ হওয়ার শর্ত
জানাযার নামায সহীহ হওয়ার জন্য দুই ধরনের শর্ত রয়েছে।
* প্রথম প্রকার: নামায আদায়কারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত শর্ত
জানাযার নামাযের জন্য সাধারণ নামাযের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য। অর্থাৎ,
পবিত্রতা অর্জন করা
সতর ঢাকা
কিবলামুখী হওয়া
নিয়ত করা
তবে এ ক্ষেত্রে দুটি পার্থক্য রয়েছে:
১. সময় নির্ধারিত নয়:
জানাযার নামাযের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তাই যেকোনো সময় জানাযা নামায পড়া যাবে। তবে নিষিদ্ধ সময়ে জানাযার নামায পড়া নিষিদ্ধ। অবশ্য ঠিক সেই নিষিদ্ধ সময়েই যদি জানাযা উপস্থিত হয়, তাহলে পড়া যাবে।
২. জানাযা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করা যাবে:
যেমন, জানাযার নামায শুরু হয়ে গেছে এবং অযূ করতে গেলে নামায শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এ অবস্থায় কাছে পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করে জানাযার নামায আদায় করা জায়েয।
তবে অন্য ফরজ নামাযের ক্ষেত্রে এমন নয়। সেসব নামায শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পানি কাছে থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েয নয়।
* দ্বিতীয় প্রকার: মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত শর্ত
এখানে মৃত ব্যক্তি বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে জীবিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে পরে মৃত্যুবরণ করেছে। আর যদি কোনো শিশু মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার ওপর জানাযার নামাযের বিধান নেই।
মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে শর্তগুলো হলো:
১. মৃত ব্যক্তি মুসলমান হওয়া।
কাফির ও মুরতাদের জানাযার নামায সহীহ নয়।
২. মৃত ব্যক্তির শরীর ও কাফন নাজাসাতে হাকীকী ও হুকমী থেকে পবিত্র থাকা।
তবে কাফন দেওয়ার পর মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে নাপাকি বের হয়ে তার শরীর বা কাফন নাপাক হয়ে গেলে এতে অসুবিধা নেই; এ অবস্থায় জানাযার নামায সহীহ হয়ে যাবে।
৩. মৃত ব্যক্তির সতর ঢাকা থাকা।
মৃত ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণ উলঙ্গ থাকে, তাহলে তার জানাযার নামায সহীহ হবে না।
৪. মৃত ব্যক্তি নামায আদায়কারীর সামনে থাকা।
মৃত ব্যক্তি যদি নামায আদায়কারীর পেছনে থাকে, তাহলে জানাযার নামায সহীহ হবে না।
৫. মৃত ব্যক্তি অথবা যে জিনিসের ওপর মৃত ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে, তা মাটির ওপর রাখা থাকা।
মৃত ব্যক্তিকে যদি মানুষ হাতে তুলে ধরে রাখে, অথবা কোনো গাড়ি কিংবা পশুর ওপর রাখা থাকে এবং সেই অবস্থায় জানাযার নামায পড়া হয়, তাহলে নামায সহীহ হবে না।
৬. মৃত ব্যক্তি উপস্থিত থাকা।
মৃত ব্যক্তি উপস্থিত না থাকলে জানাযার নামায সহীহ হবে না। সুতরাং গায়েবানা জানাযার নামায সহীহ নয়।
মৃত ব্যক্তি উপস্থিত থাকার অর্থ হলো, তার সম্পূর্ণ দেহ, অথবা শরীরের অধিকাংশ অংশ উপস্থিত থাকা; যদিও মাথা না থাকে। অথবা শরীরের অর্ধেক অংশ মাথাসহ উপস্থিত থাকলেও তা যথেষ্ট।
কিন্তু এর চেয়ে কম অংশ উপস্থিত থাকলে যেমন শুধু মাথা উপস্থিত রয়েছে, অথবা অর্ধেক শরীর রয়েছে কিন্তু মাথা নেই, তাহলে তার জানাযার নামায সহীহ হবে না।
উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া গেলে সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তির জানাযার নামায পড়া হবে।
তবে কিছু ব্যক্তি এমন রয়েছে, যাদের অপরাধের শাস্তি ও অন্যদের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে তাদের জানাযার নামায পড়া হবে না এবং তাদের গোসলও দেওয়া হবে না।
তারা হলেন,
১. ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী ব্যক্তি।
২. ডাকাত।
তবে এই উভয় ব্যক্তি যদি যুদ্ধরত সংঘর্ষরত অবস্থায় নিহত হয়, তাহলে তাদের গোসল দেওয়া হবে না এবং তাদের জানাযার নামাযও পড়া হবে না।
৩. যে ব্যক্তি নিজের সম্প্রদায়কে অন্যায়কারী জেনেও কেবল গোত্রীয়/জাতিগত পক্ষপাতিত্বের কারণে তাদের সাহায্য করে।
৪. মুকাবির ব্যক্তি।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি রাতে অস্ত্র নিয়ে নিরপরাধ মানুষকে ভয় দেখায় ও হুমকি দেয়, অথবা যে ব্যক্তি মানুষের গলা চেপে ধরে (অর্থাৎ ছিনতাই, ডাকাতি বা হত্যা করে); আর পিতা-মাতার একজন বা উভয়ের হত্যাকারী এদেরও বাগীর (বিদ্রোহী)-এর অনুরূপ হুকুম বলা হয়েছে।
তবে এসব ব্যক্তি যদি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তাদের গোসল দেওয়া হবে এবং জানাযার নামাযও পড়া হবে। তবে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি, আলেম ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের জানাযায় অংশগ্রহণ করবেন না, যাতে তাদের অপরাধের প্রতি মানুষ উৎসাহিত না হয় এবং অন্যরা শিক্ষা গ্রহণ করে।
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2 / 210):
"(وهي فرض على كل مسلم مات خلا) أربعة (بغاة، و قطاع طريق) فلايغسلوا، و لايصلى عليهم (إذا قتلوا في الحرب) ولو بعده صلى عليهم لأنه حد أو قصاص (وكذا) أهل عصبة و (مكابر في مصر ليلًا بسلاح وخناق) خنق غير مرة فحكمهم كالبغاة.(من قتل نفسه) ولو (عمدًا يغسل ويصلى عليه) به يفتى وإن كان أعظم وزرا من قاتل غيره. ورجح الكمال قول الثاني بما في مسلم «أنه عليه الصلاة والسلام أتي برجل قتل نفسه فلم يصل عليه»
(قوله: خلا أربعة) بالجر على أن خلا حرف استثناء (قوله: بغاة) هم قوم مسلمون خرجوا عن طاعة الإمام بغير حق (قوله: فلايغسلوا إلخ) في نسخة فلايغسلون وهي أصوب، إنما لم يغسلوا ولم يصل عليهم إهانة لهم وزجرًا لغيرهم عن فعلهم. وصرح بنفي غسلهم لأنه قيل يغسلون ولا يصلى عليهم للفرق بينهم وبين الشهيد كما ذكره الزيلعي وغيره، وهذا القيل رواية. وفيه إشارة إلى ضعفها، لكن مشى عليها في الدرر والوقاية. وفي التتارخانية: و عليه الفتوى (قوله: ولو بعده إلخ) قال الزيلعي: وأما إذا قتلوا بعد ثبوت يد الإمام عليهم فإنهم يغسلون ويصلى عليهم، وهذا تفصيل حسن أخذ به كبار المشايخ لأن قتل قاطع الطريق في هذه الحالة حد أو قصاص، ومن قتل بذلك يغسل ويصلى عليه، وقتل الباغي في هذه الحالة للسياسة أو لكسر شوكتهم فينزل منزلته لعود نفعه إلى العامة اهـ وقوله أو قصاص أي بأن كان ثم ما يسقط الحد كقطعه على محرم ونحوه مما ذكر في بابه، وقد علم من هذا التفصيل أنه لو مات أحدهم حتف أنفه قبل الأخذ أو بعده يصلى عليه كما بحثه في الحلية، وقال: ولم أره صريحًا.
قلت: وفي الأحكام عن أبي الليث: ولو قتلوا في غير الحرب أو ماتوا يصلى عليهم اهـ وهو صريح في المطلوب (قوله: وكذا أهل عصبة) بضم فسكون، وفي نسخة عصبية.
وفي نهاية ابن الأثير: العصبية والتعصب: المحاماة والمدافعة. والعصبي: من يعين قومه على الظلم، والذي يغضب لعصبته، ومنه الحديث «ليس منا من دعا إلى عصبية أو قاتل عصبية» قال في شرح درر البحار: وفي النوازل: وجعل مشايخنا المقتولين في العصبية في حكم أهل البغي على هذا التفصيل. وفي المغني: جعل الدروازكي والكلاباذي كالباغي وكذا الواقفون الناظرون إليهما إن أصابهم حجر أو غيره وماتوا في تلك الحالة، ولو ماتوا بعد تفرقهم يصلى عليهم. اهـ. قال ط: ومثلهم سعد وحرام بمصر وقيس ويمن ببعض البلاد اهـ.
أقول: والظاهر أن هذا حيث كان البغي من الفريقين، فلو بغى أحدهما على الآخر وقصد الآخر المدافعة عن نفسه بالقدر الممكن يكون المدافع شهيدا. وفي شرح منلا مسكين ما يؤيده فراجعه (قوله: ومكابر في مصر ليلا بسلاح) كذا في الدرر والبحر وغيرهما. والمكابر: بالباء الموحدة المتغلب إسماعيل، والمراد به من يقف في محل من المصر يتعرض لمعصوم. والظاهر أن هذا مبني على قول أبي يوسف من أنه يكون قاطع طريق إذا كان في المصر ليلا مطلقا أو نهارا بسلاح وعليه الفتوى كما سيأتي في بابه إن شاء الله - تعالى، فيعطى أحكام قاطع الطريق في غير المصر من أنه إذا ظهر عليه قبل أخذ شيء وقتل فإنه يحبس حتى يتوب، وإن أخذ مالا قطع من خلاف وإن قتل معصوما قتل حدا على ما سيأتي تفصيله في محله، فحيث كان حده القتل لا يصلى عليه، وبما قررناه ظهر أن قوله بسلاح غير قيد لأنه إذا وقف في المصر ليلا لا فرق بين كونه قاتلا بسلاح أو غيره كحجر أو عصا والله أعلم (قوله خنق غير مرة) هو مفاد صيغة المبالغة، وقيده المصنف في باب البغاة بما إذا كان ذلك في المصر. وعبارته في الشرح: ومن تكرر الخنق بكسر النون منه في المصر أي خنق مرارا، ذكره مسكين قتل به سياسة لسعيه بالفساد، وكل من كان كذلك يدفع شره بالقتل وإلا بأن خنق مرة لا لأنه كالقتل بالمثقل، وفيه القود عند غير أبي حنيفة اهـ أي وأما عنده ففيه الدية على عاقلته كالقتل بالمثقل وظاهر قوله بأن خنق مرة أن التكرار يحصل بمرتين (قوله: فحكمهم كالبغاة) كذا في البحر والزيلعي: أي حكم أهل عصبية ومكابر وخناق حكم البغاة في أنهم لا يغسلون ولا يصلى عليهم. وأما في الدرر من قوله: وإن غسلوا: أي البغاة والقطاع والمكابر، فإنه مبني على الرواية الأخرى، وقدمنا ترجيحها."
وفیه أیضًا (2/ 212):
"(لا) يصلى على (قاتل أحد أبويه) إهانة له، وألحقه في النهر بالبغاة.
(قوله: لايصلى على قاتل أحد أبويه) الظاهر أن المراد أنه لايصلى عليه إذا قتله الإمام قصاصًا، أما لو مات حتف أنفه يصلى عليه كما في البغاة و نحوهم، و لم أره صريحًا فليراجع (قوله: و ألحقه في النهر بالبغاة) أي فلايعدّ خامسًا هكذا فهمت، ثم رأيته في ط، لكن فيه أن عبارة النهر هكذا: و العصبية كالبغاة، و من هذا النوع الخناق و قاتل أحد أبويه اهـ و عليه فيكون المستثنى أقل من أربعة تأمل."
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن, فتویٰ نمبر : 144110200269
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১