পিতা মাতা জুলুম বা গুনাহে লিপ্ত থাকলেও তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা জরুরী
প্রশ্নঃ ১২০৫৪৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, Amr babar kormokandor karone ami majhe majhe tar biruddhe rag er mathay onk kichu bole feli ebong ek porjay ucchoshor e kotha boli.. tini gunah korte thake tai badha dei ete ki amr gunah hobe??
৫ অক্টোবর, ২০২৫
Jhalakat 8400
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
পিতা-মাতা যতই জুলুম করুক বা গুনাহে লিপ্ত থাকুক — এমনকি শিরকে লিপ্ত হলেও — তাদের সাথে রাগারাগি বা উচ্চস্বরে কথা বলা হারাম; বরং নরমভাবে বুঝাতে হবে।
* আল্লাহর আদেশ – পিতা-মাতার সাথে সর্বদা সুন্দর আচরণ করো।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّآ إِيَّاهُ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنًاۚ إِمَّا يَبۡلُغَنَّ عِندَكَ ٱلۡكِبَرَ أَحَدُهُمَآ أَوۡ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَآ أُفّ وَلَا تَنۡهَرۡهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوۡلٗا كَرِيمٗا
سورة الإسراء – 23-24
অর্থ: “তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।”
এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, বাবা-মা ভালো বা খারাপ — উভয় অবস্থাতেই অসম্মান করা বা উচ্চস্বরে কথা বলা হারাম।
* পিতা-মাতা যদি শিরকে আদেশ করে তবুও রাগ নয়, বরং নম্রতা বজায় রাখা।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
سورة لقمان – 15
অর্থ: “তারা যদি এমন কাউকে (প্রভুত্বে) আমার সমকক্ষ সাব্যস্ত করার জন্য তোমাকে চাপ দেয়, যে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের কথা মানবে না। তবে দুনিয়ায় তাদের সাথে সদ্ভাবে থাকবে।”
* যদি বাবা-মা কবিরা গোনাহে লিপ্ত হয়, এমনকি শিরক—এর দাওয়াতও দেয়, তবুও তাদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। তাদের প্রতি উচ্চস্বরে কথা বলা, রাগ করা বা অসম্মান করা জায়েজ নয়।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
سورة النحل – 125
অর্থ: “তোমার প্রভুর পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে এমনভাবে বিতর্ক করো যা উত্তম।”
* বাবা-মা গোনাহে লিপ্ত হলেও তাদের বোঝাতে হবে হিকমাহ ও নরম ভাষায়; রাগ বা চিৎকার করলে হিকমাহর পরিপন্থী হয়ে যায়।
হাদীস শরীফে এসেছে,
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
(صحيح مسلم-49)
অর্থ: “তুমি নিজ প্রতিপালকের পথে মানুষকে ডাকবে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আর (যদি কখনও বিতর্কের দরকার পড়ে, তবে) তাদের সাথে বিতর্ক করবে উৎকৃষ্ট পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যারা তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এবং তিনি তাদের সম্পর্কেও পরিপূর্ণ জ্ঞাত, যারা সৎপথে প্রতিষ্ঠিত।”
এই হাদীস অনুযায়ী, মা-বাবাকে গোনাহ থেকে বিরত রাখা ফরজ, কিন্তু অন্যান্য হাদীস ও আয়াতের আদব অনুসারে তা নরমভাবে হতে হবে।
* হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, পিতা-মাতাকে রাগানো আল্লাহকে রাগানো।
" رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ " .
(سنن التمذي-1899)
অর্থ: “আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত আছে পিতার সন্তুষ্টিতে, আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত আছে পিতার অসন্তুষ্টিতে।” (সুনানে তিরমিজী-১৮৯৯)
অর্থাৎ, বাবা যদি অন্যায়ও করেন, তবুও অসম্মান করলে আল্লাহর গজব আসতে পারে।
* পিতা-মাতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের সেবা-যত্ন করা সন্তানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ধর্মীয় কর্তব্য।
* তাঁদের অবাধ্য হওয়া বা তাঁদের সঙ্গে রূঢ়ভাবে, কঠোর ভাষায় কথা বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়।
* অতএব, যদি পিতা-মাতা শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো ভুল কাজ করেন বা কোনো বড় গোনাহে লিপ্ত থাকেন, তবুও তাঁদেরকে অত্যন্ত সম্মান, নম্রতা ও কোমল ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার করা বা অসৌজন্যতা প্রদর্শন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি।
* উপরোক্ত অবস্থায় সন্তানের কর্তব্য হলো — পিতার প্রতি আদব ও সম্মান বজায় রেখে, প্রজ্ঞা (হিকমত), কোমলতা ও সুন্দর উপায়ে সময় সময় তাকে গুনাহের শাস্তির ভয় দেখানো ও বুঝানোর চেষ্টা করা।
* সম্ভব হলে, তাঁদেরকে নিজে সরাসরি কিছু বলার পরিবর্তে কোনো আল্লাহভীরু বুযুর্গ বা কোনো আলেম ব্যক্তির সঙ্গে ইসলাহি সম্পর্ক করিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তাদের সঙ্গ ও উপদেশের মাধ্যমে পিতার খারাপ অভ্যাস ত্যাগ হয়। অথবা চেষ্টা করা উচিত যেন তিনি আলেমদের মজলিসা অংশগ্রহণ করেন, কিংবা তাবলিগ জামাতে যান। এবং তাঁদের ইসলাহী (সংশোধনী) অবস্থা ও গোনাহ থেকে মুক্তির জন্য আন্তরিকভাবে দো‘আ করা উচিত।
* সংক্ষেপে বললে— তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না, অশ্রদ্ধা বা অভদ্রতা করা যাবে না, কিংবা তাদেরকে খারাপ অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। বরং তাদের জন্য দু'আ ও কল্যাণকামনায় সর্বদা নিয়োজিত থাকতে হবে।
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
سورة الإسراء – 23-24
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَنْ تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا
سورة لقمان – 15
ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
سورة النحل – 125
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
(صحيح مسلم-49)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ " .
(سنن التمذي-1899)
وَيَجِبُ عَلَى الْوَلَدِ أَنْ يَصْبِرَ عَلَى أَبَوَيْهِ وَإِنْ ظَلَمَاهُ، وَلَا يَرْفَعَ صَوْتَهُ عَلَيْهِمَا، وَلَا يَنْظُرَ إِلَيْهِمَا بِغَضَبٍ
فتاوى الهندية (الفتاوى الهندية، ج 5، ص 348)
وَيَنْبَغِي أَنْ يَنْصَحَ الْوَلَدُ وَالِدَيْهِ بِالرِّفْقِ وَاللُّطْفِ، وَلَا يَتَعَدَّى فِي كَلَامِهِ وَإِنْ كَانَا عَلَى مَعْصِيَةٍ
الفتاوى الهندية (ج 5، ص 348)
قال ابن عباس رضي الله عنهما: “ثلاث آيات نزلت في برّ الوالدين، ما من آية إلاّ أمر الله فيها بحسن الصحبة، وإن أمراه بمعصية الله فلا يطيعهما، ولا يغلظ لهما في القول.”
تفسير القرطبي (ج 14، ص 66)
( محمودیہ: ۲۹/۱۱۲، ط: میرٹھ)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১