হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সব কাপড়ের মধ্যে 'হিবারা' চাদর পরিধান করা বেশী পছন্দ করতেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ أَحَبُّ الثِّيَابِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَهَا الحِبَرَةَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যু কামনা করা এবং এর জন্য দু'আ করা নিষেধ
অনেক লোক দুনিয়ার কষ্ট ও দুশ্চিন্তার শিকার হয়ে মৃত্যু কামনা করে এবং মৃত্যুর জন্য দু'আও করে, তবে এ কাজ নিতান্ত নির্বুদ্ধিতা, ভীরুতা ও ধৈর্যহীনতার পরিচায়ক এবং ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণও বটে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ এ থেকে নিষেধ করেছেন।
অনেক লোক দুনিয়ার কষ্ট ও দুশ্চিন্তার শিকার হয়ে মৃত্যু কামনা করে এবং মৃত্যুর জন্য দু'আও করে, তবে এ কাজ নিতান্ত নির্বুদ্ধিতা, ভীরুতা ও ধৈর্যহীনতার পরিচায়ক এবং ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণও বটে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ এ থেকে নিষেধ করেছেন।
২৯১. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে সৎ হলে আরো নেকী অর্জন করবে আর অসৎ হলে (তাওবা করে) আল্লাহর সন্তোষ লাভে সমর্থ হবে। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : « لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ المَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ » (رواه البخارى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা-ইস্তিগফার দ্বারা আল্লাহ্ কতটুকু খুশি হন
তাওবা-ইস্তিগফার সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সিলসিলা নিম্নলিখিত হাদীস দ্বারাই সমাপ্ত করা হচ্ছে, যা সহীহ বুখারী এবং সহীহ্ মুসলিমেও এক বিরাট সংখ্যক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে এবং যাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ তওবাকারীদেরকে সেই সুসংবাদ শুনিয়েছেন, যা অন্যান্য বড় বড় আমলের ব্যাপারেও শুনাননি। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা'আলার রহমতের শান উপলব্ধির জন্যে এই একখানি মাত্র হাদীস হলেও তাই যথেষ্ট হতো। সত্য কথা হলো, এই কয়েক ছত্রের হাদীসখানা মা'রিফতের একটা গোটা দফতর স্বরূপ। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে বোধশক্তি ও একীন নসীব করুন।
তাওবা-ইস্তিগফার সংক্রান্ত হাদীসসমূহের সিলসিলা নিম্নলিখিত হাদীস দ্বারাই সমাপ্ত করা হচ্ছে, যা সহীহ বুখারী এবং সহীহ্ মুসলিমেও এক বিরাট সংখ্যক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে এবং যাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ তওবাকারীদেরকে সেই সুসংবাদ শুনিয়েছেন, যা অন্যান্য বড় বড় আমলের ব্যাপারেও শুনাননি। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা'আলার রহমতের শান উপলব্ধির জন্যে এই একখানি মাত্র হাদীস হলেও তাই যথেষ্ট হতো। সত্য কথা হলো, এই কয়েক ছত্রের হাদীসখানা মা'রিফতের একটা গোটা দফতর স্বরূপ। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে বোধশক্তি ও একীন নসীব করুন।
২৯১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মু'মিন বান্দার তাওবা দ্বারা তার চাইতে বেশি খুশি হননি যে ব্যক্তি (তার সফরে) কোন বিজন ভয়ঙ্কর বিপদসঙ্কুল প্রান্তরে গিয়ে উপনীত হয়েছে, সাথে আছে কেবল তার উটনীটি-তার উপর আহার্য ও পানীয় দ্রব্যাদি। তার পর সে সেখানে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। তার নিদ্রা এসে গেল। তারপর যখন চোখ খুললো তখন দেখতে পেলো যে, উটনীটি (সমস্ত সামানপত্র সহ) গায়েব। তারপর সে তা খুঁজতে খুঁজতে খরতাপ পিপাসা ইত্যাদিতে এতই কাতর হয়ে পড়লো যে, তার প্রাণান্তকর অবস্থা হলো। তখন সে ভাবলো (এখন আমার জন্যে এটাই উত্তম হবে যে,) আমি আমার পূর্বের স্থানে গিয়ে শুয়ে পড়ি এবং আমৃত্যু সেখানেই নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থাকি। তখন সে বাহুর উপর মাথা রেখে মৃত্যুর উদ্দেশ্যে শুয়ে পড়ে। তারপর যখন চোখ খুললো তখন দেখতে পেলো যে, তার উটনীটি তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে। তার উপর তার আহার্য পানীয় সবকিছুই ঠিকঠাক ভাবে রয়েছে। এ ব্যক্তিটি তার হারানো উটনীটি দ্রব্যসম্ভারসহ পেয়ে যে পরিমাণ খুশি হবে, আল্লাহর কসম, মু'মিন বান্দার তাওবা করায় আল্লাহ তার চাইতে বেশি খুশি হয়ে থাকেন।
- (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
- (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ، مِنْ رَجُلٍ فِي أَرْضٍ دَوِّيَّةٍ مَهْلِكَةٍ، مَعَهُ رَاحِلَتُهُ، عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَنَامَ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ، فَطَلَبَهَا حَتَّى أَدْرَكَهُ الْعَطَشُ، ثُمَّ قَالَ: أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِيَ الَّذِي كُنْتُ فِيهِ، فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ، فَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ، فَاسْتَيْقَظَ وَعِنْدَهُ رَاحِلَتُهُ وَعَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ وَشَرَابُهُ، فَاللهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯১. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) রূমী জুব্বা পরিধান করেছিলেন- যার হাতাগুলো সংকীর্ণ ছিল। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبِسَ جُبَّةً رُومِيَّةً ضَيِّقَةَ الكُمَّيْنِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর স্মরণ এবং তার আকাঙক্ষা
২৯২. হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ বিপদগ্রস্ত হয়েও যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি সে তা করতেই চায় তবে যেন বলে- اللَّهمَّ احيْيِني ما كانَتِ الحياةُ خيرًا لي وَتوفَنِي إِذا كانتِ الوَفاةُ خيرًا لِي" হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ যে পর্যন্ত আমার জীবন আমার পক্ষে কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও যখন মৃত্যু আমার পক্ষে কল্যাণকর হয়। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ المَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ ، فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَاعِلًا ، فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي ، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الوَفَاةُ خَيْرًا لِي " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম
সালাত ও সালাম তথা দরূদ শরীফ এক প্রকার সর্বোত্তম ও সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন দু'আ, যা আল্লাহ পাকের দরবারে গিয়ে থাকে এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তার সাথে ঈমানী সম্পর্ক এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার অভিব্যক্তিস্বরূপ তাঁর জন্যে করা হয়ে থাকে। এর আদেশ স্বয়ং আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে পাক কুরআনে ঘোষিত হয়েছে:
{ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا } [الأحزاب: 56]
এ আয়াতে ঈমানদারদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তারা যেন আল্লাহর রাসূলের প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করে। (আর এটাই হচ্ছে আয়াতের আসল প্রতিপাদ্য।) এ সম্বোধন ও আদেশের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা এবং এতে জোর দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমিকা স্বরূপ বলা হয়েছেঃ
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ
অর্থাৎ নবীর প্রতি সালাত (যার নির্দেশ তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে) আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর পবিত্র ফিরিশতাকুলের আচরিত অভ্যাস, তোমরাও একে তোমাদের অভ্যাসে পরিণত করে এই প্রিয় ও মুবারক আমলে শরীক হয়ে যাও!
আদেশে দান ও সম্বোধনের এ ভঙ্গিটি কুরআনে পাকে কেবল মাত্র সালাত ও সালামের ক্ষেত্রেই অবলম্বন করা হয়েছে। অন্য কোন আমলের ব্যাপারেই এরূপ বলা হয়নি যে, স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ এরূপ করে থাকেন, সুতরাং তোমরাও এমনটি করবে। নিঃসন্দেহে এটা সালাত ও সালামের অনন্য বৈশিষ্ট্য-এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মকামে-মহবুবিয়াতের অন্যতম বৈশিষ্ট্যও বটে।
নবীর প্রতি সালাতের মর্ম এবং একটি সন্দেহ নিরসন
সূরা আহযাবের উক্ত আয়াতের দ্বারা অনেকের মনে একটা খটকা লেগে যায় যে, উক্ত আয়াতে আল্লাহ ও ফিরিশতাদের বেলায়ও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার মু'মিন বান্দাদের বেলায়ও ঐ একই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ হাকীকতের দিক থেকে আল্লাহ ফিরিশতাকুল এবং মু'মিন বান্দাদের আমল নিশ্চয়ই ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি যে 'সালাত'-যাকে এ আয়াতে ফিরিশতাদের সাথেও সম্পৃক্ত করে يُصَلُّوْنَ (তাঁরা সকলে সালাত প্রেরণ করেন) বলা হয়েছে এবং সকলের আমলকেই এক শব্দে 'সালাত' বলা হয়েছে, তা তো কোনক্রমেই মু'মিনদেরও আমল হতে পারে না। অনুরূপ, ঈমানদার বান্দাদেরকে صَلُّو বলে যে 'সালাত'-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা' কখনো স্বয়ং আল্লাহর কাজ হতে পারে না।
এ সন্দেহ ভঞ্জনের উদ্দেশ্যে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, সালাত শব্দটিকে যখন যার দিকে সম্পৃক্ত বা সম্বোধিত করা হয়, তখন তার হিসাবে তার অর্থ হয়ে থাকে। যখন আল্লাহর দিকে এ শব্দটিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন তার অর্থ হয় রহমত বর্ষণ করা, আর যখন ফিরিশতাকুল এবং মু'মিনদের সাথে তা সম্পৃক্ত হয়। তখন তার অর্থ হয় আল্লাহর দরবারে রহমত বর্ষণের দু'আ করা। কিন্তু বিশুদ্ধতর কথা হলো, সালাত শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। সম্মানিত করা, প্রশংসা করা, মর্যাদা সমুন্নত করা। প্রীতি বাৎসল্য, বরকত-রহমত, স্নেহ- সোহাগ করা, সদিচ্ছা, নেক দু'আ বা আশীর্বাদ করা এ সব অর্থেই সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এজন্যে তা আল্লাহ, ফিরিশতাকুল এবং মু'মিন বান্দাদের সকলের পক্ষ থেকেই সমভাবে হতে পারে। অবশ্য, এটুকু পার্থক্য থাকবে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে 'সালাত' তাঁর উচ্চ শান অনুযায়ীই হবে। ফিরিশতাগণের 'সালাত' হবে তাঁদের মর্যাদা অনুপাতে এবং মু'মিন বান্দাদের সালাত হতে তাঁদের নিজেদের মর্যাদা অনুপাতে।
সে হিসাবে এ আয়াতের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর প্রতি অত্যন্ত সদয় ও প্রসন্ন, তাঁর আদর-সোহাগ অহরহ তাঁর প্রতি বর্ষিত হচ্ছে। তিনি তাঁর প্রশংসায় মুখর এবং উচ্চ থেকে উচ্চতর মর্যাদায় তিনি তাঁকে আসীন করতে যত্নবান। ফিরিশতাগণও তাঁকে অত্যন্ত সম্মান-সমীহ করে থাকেন। তাঁর প্রশংসা ও স্তব-স্তুতিতে তাঁরাও পঞ্চমুখ। সতত তাঁরা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আয়রত। সুতরাং হে মু'মিন বান্দারা! তোমরাও অনুরূপ কর! সর্বদা আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর জন্যে স্নেহ-বাৎসল্য, মর্যাদাবৃদ্ধি, মকামে মাহমূদে আসীন করা এবং গোটা বিশ্বের ইমামত, তাঁর সীমাহীন কবুলিয়াত এবং শাফা'আতের দু'আ করে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ কর!
সালাত ও সালামের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
এ আয়াতে যে শানদার ভূমিকা দিয়ে যে গুরুত্ব সহকারে ঈমানদারগণকে সালাত ও সালামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা থেকেই এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত প্রিয় আমল হওয়াটা সুস্পষ্ট। পরবর্তী হাদীসগুলো দ্বারা জানা যাবে যে, ঈমানদার বান্দাদের জন্যে তাতে কতটুকু খায়র-বরকত ও রহমত নিহিত রয়েছে।
সালাত ও সালাম সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণের বিভিন্ন মসলক
গোটা মুসলিম জাতির ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, সূরা আহযাবের উক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুসারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। ইমাম শাফেয়ী এবং এক রিওয়ায়াত অনুসারে ইমাম আহমদও বলেন, প্রত্যেক সালাতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরূদ পাঠ ওয়াজিব। তা না করলে সালাত আদায় হবে না। কিন্তু ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানীফা এবং অধিকাংশ ফকীহগণের অভিমত হলো, শেষ বৈঠক তো নিঃসন্দেহে ওয়াজিব, যাতে প্রাসঙ্গিকভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর দরূদ-সালামও এসে যায়। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে দরূদ শরীফ পাঠ ফরয বা ওয়াজিব নয়, বরং তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ সুন্নত-যা ছুটে গেলে সালাতে অনেক কমতি ও অপূর্ণতা রয়ে যায়। কিন্তু এ মতদ্বৈততা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে প্রায় সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, উক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুসারে প্রতিটি মুসলমানের উপর ব্যক্তিগতভাবে সালাত ও সালাম প্রেরণ ফরযে আইন, যেমনটি তাঁর রিসালাতের সত্যতার সাক্ষ্যদান ওয়াজিব-যার জন্যে কোন নির্দিষ্ট সময় বা সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। এর সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে অন্তত জীবনে একবার তা করতে হবে এবং তার উপর কায়েম থাকতে হবে।
পরবর্তীতে হাদীস আসছে-যদ্বারা জানা যাবে যে, যখনই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম বা প্রসঙ্গ আসবে তখনই অতি অবশ্য তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করতে হবে। এ ব্যাপারে অবহেলাকারীর প্রতি কঠোর সতর্কবাণীর কথাও বর্ণিত হবে। এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকীহর অভিমত হচ্ছে, যখনই কেউ হুযুর পাক ﷺ-এর উল্লেখ করবেন বা অন্য কারো মুখে তাঁর নাম শুনবেন তখন তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ ওয়াজিব। একটি অভিমত হলো একই মজলিসে যদি বারবার তাঁর নাম উচ্চারিত হয় বা তাঁর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়, তখন প্রতিবারই তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ ওয়াজিব হবে। অন্য এক অভিমত হচ্ছে, প্রথমবার দরূদ পাঠ ওয়াজিব এবং পরবর্তী প্রতিবার দরূদ পাঠ মুস্তাহাব। মুহাক্কিক আলিমগণ এ অভিমতই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
দরূদ শরীফের বৈশিষ্ট্য
আল্লাহ তা'আলা যেভাবে আমাদের জড়জগতে ফলফুলের ভিন্ন ভিন্ন রংরূপ দান করেছেন এবং এগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সুবাস দিয়েছেন: (ফার্সী কবির ভাষায়: پرگلے رارنگ وبوئے دیگر است) অনুরূপ বিভিন্ন ইবাদত, যিকর ও দু'আর ভিন্ন ভিন্ন খাসিয়াত (বৈশিষ্ট্য) ও বরকত রেখেছেন। দরূদ শরীফের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে খালিস অন্তরে বহুল পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠে আল্লাহর খাস রহমতের দৃষ্টি, রাসূলুল্লাহ (স)-এর রূহানী নৈকট্য এবং তাঁর বিশেষ অনুরাগ লাভের এটি হচ্ছে সবচাইতে খাস ওসীলা। পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা এটাও জানা যাবে যে প্রত্যেকটি উম্মতের দরূদ ও সালাম তার নামধামসহ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌঁছানো হয়ে থাকে। এ জন্যে ফিরিশতাদের রীতিমত একটি বিভাগ রয়েছে।
একটু চিন্তা করুন, আপনি যদি জানতে পারেন, আল্লাহর অমুক বান্দা আপনার জন্যে এবং আপনার পরিবার-পরিজনের জন্যে অহরহ নেক দু'আ করে থাকে। সে তার নিজের জন্যে ততটুকু দু'আ করে না, যতটুকু আপনার জন্যে করে থাকে এবং এটা তার অত্যন্ত প্রিয় কাজ, তাহলে আপনার অন্তরে তার জন্য কতটুকু ভালবাসা এবং তার মঙ্গল কামনার উদ্রেক হতে পারে। তারপর যখনই আল্লাহ্ ঐ বান্দা আপনার সম্মুখে আসবে বা আপনার সাথে দেখা করবে, তখন আপনি তার সাথে কী আচরণ করবেন?
এ উপমা দ্বারা বুঝা যেতে পারে যে, আল্লাহর যে বান্দা ঈমান ও ইখলাস সহকারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি বহুলভাবে দরূদ ও সালাম পাঠ করবে, তার প্রতি তিনি কতটুকু প্রসন্ন থাকবেন এবং কিয়ামতের দিন তার সাথে তাঁর কী কায়কারবার হবে? আল্লাহর নিকট রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যে মর্যাদার আসন রয়েছে, সে দিকে লক্ষ্য রেখে একটু অনুমান করুন তো, এ বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলা কতটুকু প্রসন্ন থাকবেন এবং তার প্রতি তিনি কতটুকু সদয় থাকবেন।
দরূদ ও সালামের উদ্দেশ্য
এখানে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দরূদ ও সালাম বাহ্যত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আ হলেও যেভাবে অন্যদের জন্যে দু'আ তাদের উপকারার্থে করা হয়ে থাকে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দু'আর উদ্দেশ্য সেরূপ তাঁকে উপকৃত করা থাকে না। আমাদের দু'আর তাঁর আদৌ কোন প্রয়োজন বা মুখাপেক্ষিতা নেই, গরীব-মিসকীনদের হাদিয়া-তুহফার বাদশাহদের কী প্রয়োজন! বরং আল্লাহ তা'আলার যেমন আমাদের বান্দাদের উপর হক হচ্ছে ইবাদত ও স্তব-স্তুতির দ্বারা নিজেদের আবদিয়াত এবং উবুদিয়াত বা দাসত্বের নযরানা তাঁর হুযুরে পেশ করা, এতে আল্লাহর নিজের কোন ফায়দা নেই, বরং তা আমাদের নিজেদেরই ঠেকা! আর এর ফায়দা আমরা নিজেরাই পেয়ে থাকি। অনুরূপ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কৃতিত্ব ও কামালাত, তাঁর পয়গম্বরসুলভ খিদমতসমূহ এবং উম্মতের প্রতি তাঁর ইহসানসমূহের প্রেক্ষিতে তাঁর হক হচ্ছে উম্মত তাদের আনুগত্য, নিয়াযমন্দী ও কৃতজ্ঞতার হাদিয়া-নযরানা স্বরূপ দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে। আর যেমনটি উপরে বলা হয়েছে, এর দ্বারা তাঁর উপকার সাধন উদ্দিষ্ট নয় বরং নিজেদেরই উপকার সাধন তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি, আখিরাতের ছাওয়াব, তাঁর মহান রাসূলের রূহানী নৈকট্য এবং তাঁর খাস সদয় দৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই দরূদ ও সালাম পাঠ করা হয়ে থাকে। দরূদ পাঠকারীর আসল উদ্দিষ্ট থাকে তাই।
আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দয়াই বলতে হবে যে, তিনি আমাদের দরূদ ও সালামের হাদিয়াটুকু ফিরিশতাদের মাধ্যমে তাঁর রাসূলের খিদমতে পৌঁছিয়ে দেন এবং অনেকের সালাম কবর মুবারকে সরাসরি তাঁকে শুনিয়েও দিয়ে থাকেন। (যেমনটি পরবর্তী হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।) উপরন্তু আমাদের সালাত ও সালামের অনুপাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি তাঁর দান এবং হুযুর ﷺ-এর দরজা বৃদ্ধিও করে থাকেন।
দরূদ ও সালামের খাস হিকমত
আম্বিয়ায়ে কিরাম বিশেষতঃ সাইয়েদুল আম্বিয়া ﷺ-এর খিদমতে ভক্তি-শ্রদ্ধা, মহব্বত, বিশ্বস্ততা ও কৃতজ্ঞতা মিশ্রিত হাদিয়াস্বরূপ দরূদ ও সালাম প্রেরণের তরীকা নির্ধারণ করার সবচাইতে বড় হিকমত হচ্ছে এই যে, এর দ্বারা শিরকের মূলোচ্ছেদ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলার পরেই সর্বাধিক সম্মানিত ও পবিত্র সত্তার অধিকারী হচ্ছেন এই আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাম। তাঁদের মধ্যেও সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হচ্ছেন খাতামুন নাবিয়্যীন সাইয়েদিনা হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ﷺ। যখন তাঁর ব্যাপারেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁর প্রতি সালাম ও দরূদ প্রেরণ করতে হবে, (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর জন্যে বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তার দু'আ করতে হবে) তাতে বুঝা গেল যে, তিনিও আল্লাহ তা'আলার রহমত ও সদয় দৃষ্টির মুখাপেক্ষী আর তাঁর হক ও উচ্চতম মর্যাদার দাবি হচ্ছে তাঁর জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে উঁচু থেকে উঁচুতর দু'আ করতে হবে। তারপর শিরকের আর কোন অবকাশই থাকে না। পরম দয়াময় ও বদান্যশীল আল্লাহ তা'আলার কত বড় দয়া ও বদান্যতা যে, তাঁর এ হুকুম আমাদের মতো বান্দা ও উম্মতীদেরকে নবী রাসূলদের, বিশেষত সাইয়েদুল আম্বিয়া বা নবীকূল শিরোমণির জন্যে দু'আকারী বানিয়ে দিয়েছে। যে বান্দা এমন পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারীদের জন্যে দু'আ করে, সে কী করে অন্য মাখলুকের পূজারী হতে পারে?
এ ভূমিকাটির পর এবার সে হাদীসগুলো পাঠ করুন, যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর দরূদ পাঠের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং দরূদের ফযীলত ও বরকতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
সালাত ও সালাম তথা দরূদ শরীফ এক প্রকার সর্বোত্তম ও সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন দু'আ, যা আল্লাহ পাকের দরবারে গিয়ে থাকে এবং যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তার সাথে ঈমানী সম্পর্ক এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার অভিব্যক্তিস্বরূপ তাঁর জন্যে করা হয়ে থাকে। এর আদেশ স্বয়ং আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে পাক কুরআনে ঘোষিত হয়েছে:
{ إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا } [الأحزاب: 56]
এ আয়াতে ঈমানদারদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তারা যেন আল্লাহর রাসূলের প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করে। (আর এটাই হচ্ছে আয়াতের আসল প্রতিপাদ্য।) এ সম্বোধন ও আদেশের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা এবং এতে জোর দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমিকা স্বরূপ বলা হয়েছেঃ
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ
অর্থাৎ নবীর প্রতি সালাত (যার নির্দেশ তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে) আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর পবিত্র ফিরিশতাকুলের আচরিত অভ্যাস, তোমরাও একে তোমাদের অভ্যাসে পরিণত করে এই প্রিয় ও মুবারক আমলে শরীক হয়ে যাও!
আদেশে দান ও সম্বোধনের এ ভঙ্গিটি কুরআনে পাকে কেবল মাত্র সালাত ও সালামের ক্ষেত্রেই অবলম্বন করা হয়েছে। অন্য কোন আমলের ব্যাপারেই এরূপ বলা হয়নি যে, স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ এরূপ করে থাকেন, সুতরাং তোমরাও এমনটি করবে। নিঃসন্দেহে এটা সালাত ও সালামের অনন্য বৈশিষ্ট্য-এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মকামে-মহবুবিয়াতের অন্যতম বৈশিষ্ট্যও বটে।
নবীর প্রতি সালাতের মর্ম এবং একটি সন্দেহ নিরসন
সূরা আহযাবের উক্ত আয়াতের দ্বারা অনেকের মনে একটা খটকা লেগে যায় যে, উক্ত আয়াতে আল্লাহ ও ফিরিশতাদের বেলায়ও সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
আবার মু'মিন বান্দাদের বেলায়ও ঐ একই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ হাকীকতের দিক থেকে আল্লাহ ফিরিশতাকুল এবং মু'মিন বান্দাদের আমল নিশ্চয়ই ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি যে 'সালাত'-যাকে এ আয়াতে ফিরিশতাদের সাথেও সম্পৃক্ত করে يُصَلُّوْنَ (তাঁরা সকলে সালাত প্রেরণ করেন) বলা হয়েছে এবং সকলের আমলকেই এক শব্দে 'সালাত' বলা হয়েছে, তা তো কোনক্রমেই মু'মিনদেরও আমল হতে পারে না। অনুরূপ, ঈমানদার বান্দাদেরকে صَلُّو বলে যে 'সালাত'-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা' কখনো স্বয়ং আল্লাহর কাজ হতে পারে না।
এ সন্দেহ ভঞ্জনের উদ্দেশ্যে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, সালাত শব্দটিকে যখন যার দিকে সম্পৃক্ত বা সম্বোধিত করা হয়, তখন তার হিসাবে তার অর্থ হয়ে থাকে। যখন আল্লাহর দিকে এ শব্দটিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন তার অর্থ হয় রহমত বর্ষণ করা, আর যখন ফিরিশতাকুল এবং মু'মিনদের সাথে তা সম্পৃক্ত হয়। তখন তার অর্থ হয় আল্লাহর দরবারে রহমত বর্ষণের দু'আ করা। কিন্তু বিশুদ্ধতর কথা হলো, সালাত শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক। সম্মানিত করা, প্রশংসা করা, মর্যাদা সমুন্নত করা। প্রীতি বাৎসল্য, বরকত-রহমত, স্নেহ- সোহাগ করা, সদিচ্ছা, নেক দু'আ বা আশীর্বাদ করা এ সব অর্থেই সালাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এজন্যে তা আল্লাহ, ফিরিশতাকুল এবং মু'মিন বান্দাদের সকলের পক্ষ থেকেই সমভাবে হতে পারে। অবশ্য, এটুকু পার্থক্য থাকবে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে 'সালাত' তাঁর উচ্চ শান অনুযায়ীই হবে। ফিরিশতাগণের 'সালাত' হবে তাঁদের মর্যাদা অনুপাতে এবং মু'মিন বান্দাদের সালাত হতে তাঁদের নিজেদের মর্যাদা অনুপাতে।
সে হিসাবে এ আয়াতের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীর প্রতি অত্যন্ত সদয় ও প্রসন্ন, তাঁর আদর-সোহাগ অহরহ তাঁর প্রতি বর্ষিত হচ্ছে। তিনি তাঁর প্রশংসায় মুখর এবং উচ্চ থেকে উচ্চতর মর্যাদায় তিনি তাঁকে আসীন করতে যত্নবান। ফিরিশতাগণও তাঁকে অত্যন্ত সম্মান-সমীহ করে থাকেন। তাঁর প্রশংসা ও স্তব-স্তুতিতে তাঁরাও পঞ্চমুখ। সতত তাঁরা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আয়রত। সুতরাং হে মু'মিন বান্দারা! তোমরাও অনুরূপ কর! সর্বদা আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর জন্যে স্নেহ-বাৎসল্য, মর্যাদাবৃদ্ধি, মকামে মাহমূদে আসীন করা এবং গোটা বিশ্বের ইমামত, তাঁর সীমাহীন কবুলিয়াত এবং শাফা'আতের দু'আ করে তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ কর!
সালাত ও সালামের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
এ আয়াতে যে শানদার ভূমিকা দিয়ে যে গুরুত্ব সহকারে ঈমানদারগণকে সালাত ও সালামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা থেকেই এর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত প্রিয় আমল হওয়াটা সুস্পষ্ট। পরবর্তী হাদীসগুলো দ্বারা জানা যাবে যে, ঈমানদার বান্দাদের জন্যে তাতে কতটুকু খায়র-বরকত ও রহমত নিহিত রয়েছে।
সালাত ও সালাম সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণের বিভিন্ন মসলক
গোটা মুসলিম জাতির ফিকাহ শাস্ত্রবিদগণ প্রায় ঐকমত্য পোষণ করেন যে, সূরা আহযাবের উক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুসারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। ইমাম শাফেয়ী এবং এক রিওয়ায়াত অনুসারে ইমাম আহমদও বলেন, প্রত্যেক সালাতের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরূদ পাঠ ওয়াজিব। তা না করলে সালাত আদায় হবে না। কিন্তু ইমাম মালিক, ইমাম আবু হানীফা এবং অধিকাংশ ফকীহগণের অভিমত হলো, শেষ বৈঠক তো নিঃসন্দেহে ওয়াজিব, যাতে প্রাসঙ্গিকভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর দরূদ-সালামও এসে যায়। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে দরূদ শরীফ পাঠ ফরয বা ওয়াজিব নয়, বরং তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ সুন্নত-যা ছুটে গেলে সালাতে অনেক কমতি ও অপূর্ণতা রয়ে যায়। কিন্তু এ মতদ্বৈততা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে প্রায় সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, উক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুসারে প্রতিটি মুসলমানের উপর ব্যক্তিগতভাবে সালাত ও সালাম প্রেরণ ফরযে আইন, যেমনটি তাঁর রিসালাতের সত্যতার সাক্ষ্যদান ওয়াজিব-যার জন্যে কোন নির্দিষ্ট সময় বা সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। এর সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে অন্তত জীবনে একবার তা করতে হবে এবং তার উপর কায়েম থাকতে হবে।
পরবর্তীতে হাদীস আসছে-যদ্বারা জানা যাবে যে, যখনই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম বা প্রসঙ্গ আসবে তখনই অতি অবশ্য তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করতে হবে। এ ব্যাপারে অবহেলাকারীর প্রতি কঠোর সতর্কবাণীর কথাও বর্ণিত হবে। এসব হাদীসের ভিত্তিতে অনেক ফকীহর অভিমত হচ্ছে, যখনই কেউ হুযুর পাক ﷺ-এর উল্লেখ করবেন বা অন্য কারো মুখে তাঁর নাম শুনবেন তখন তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ ওয়াজিব। একটি অভিমত হলো একই মজলিসে যদি বারবার তাঁর নাম উচ্চারিত হয় বা তাঁর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়, তখন প্রতিবারই তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ ওয়াজিব হবে। অন্য এক অভিমত হচ্ছে, প্রথমবার দরূদ পাঠ ওয়াজিব এবং পরবর্তী প্রতিবার দরূদ পাঠ মুস্তাহাব। মুহাক্কিক আলিমগণ এ অভিমতই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
দরূদ শরীফের বৈশিষ্ট্য
আল্লাহ তা'আলা যেভাবে আমাদের জড়জগতে ফলফুলের ভিন্ন ভিন্ন রংরূপ দান করেছেন এবং এগুলোর ভিন্ন ভিন্ন সুবাস দিয়েছেন: (ফার্সী কবির ভাষায়: پرگلے رارنگ وبوئے دیگر است) অনুরূপ বিভিন্ন ইবাদত, যিকর ও দু'আর ভিন্ন ভিন্ন খাসিয়াত (বৈশিষ্ট্য) ও বরকত রেখেছেন। দরূদ শরীফের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে খালিস অন্তরে বহুল পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠে আল্লাহর খাস রহমতের দৃষ্টি, রাসূলুল্লাহ (স)-এর রূহানী নৈকট্য এবং তাঁর বিশেষ অনুরাগ লাভের এটি হচ্ছে সবচাইতে খাস ওসীলা। পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা এটাও জানা যাবে যে প্রত্যেকটি উম্মতের দরূদ ও সালাম তার নামধামসহ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট পৌঁছানো হয়ে থাকে। এ জন্যে ফিরিশতাদের রীতিমত একটি বিভাগ রয়েছে।
একটু চিন্তা করুন, আপনি যদি জানতে পারেন, আল্লাহর অমুক বান্দা আপনার জন্যে এবং আপনার পরিবার-পরিজনের জন্যে অহরহ নেক দু'আ করে থাকে। সে তার নিজের জন্যে ততটুকু দু'আ করে না, যতটুকু আপনার জন্যে করে থাকে এবং এটা তার অত্যন্ত প্রিয় কাজ, তাহলে আপনার অন্তরে তার জন্য কতটুকু ভালবাসা এবং তার মঙ্গল কামনার উদ্রেক হতে পারে। তারপর যখনই আল্লাহ্ ঐ বান্দা আপনার সম্মুখে আসবে বা আপনার সাথে দেখা করবে, তখন আপনি তার সাথে কী আচরণ করবেন?
এ উপমা দ্বারা বুঝা যেতে পারে যে, আল্লাহর যে বান্দা ঈমান ও ইখলাস সহকারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি বহুলভাবে দরূদ ও সালাম পাঠ করবে, তার প্রতি তিনি কতটুকু প্রসন্ন থাকবেন এবং কিয়ামতের দিন তার সাথে তাঁর কী কায়কারবার হবে? আল্লাহর নিকট রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যে মর্যাদার আসন রয়েছে, সে দিকে লক্ষ্য রেখে একটু অনুমান করুন তো, এ বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলা কতটুকু প্রসন্ন থাকবেন এবং তার প্রতি তিনি কতটুকু সদয় থাকবেন।
দরূদ ও সালামের উদ্দেশ্য
এখানে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দরূদ ও সালাম বাহ্যত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আ হলেও যেভাবে অন্যদের জন্যে দু'আ তাদের উপকারার্থে করা হয়ে থাকে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দু'আর উদ্দেশ্য সেরূপ তাঁকে উপকৃত করা থাকে না। আমাদের দু'আর তাঁর আদৌ কোন প্রয়োজন বা মুখাপেক্ষিতা নেই, গরীব-মিসকীনদের হাদিয়া-তুহফার বাদশাহদের কী প্রয়োজন! বরং আল্লাহ তা'আলার যেমন আমাদের বান্দাদের উপর হক হচ্ছে ইবাদত ও স্তব-স্তুতির দ্বারা নিজেদের আবদিয়াত এবং উবুদিয়াত বা দাসত্বের নযরানা তাঁর হুযুরে পেশ করা, এতে আল্লাহর নিজের কোন ফায়দা নেই, বরং তা আমাদের নিজেদেরই ঠেকা! আর এর ফায়দা আমরা নিজেরাই পেয়ে থাকি। অনুরূপ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কৃতিত্ব ও কামালাত, তাঁর পয়গম্বরসুলভ খিদমতসমূহ এবং উম্মতের প্রতি তাঁর ইহসানসমূহের প্রেক্ষিতে তাঁর হক হচ্ছে উম্মত তাদের আনুগত্য, নিয়াযমন্দী ও কৃতজ্ঞতার হাদিয়া-নযরানা স্বরূপ দরূদ ও সালাম প্রেরণ করবে। আর যেমনটি উপরে বলা হয়েছে, এর দ্বারা তাঁর উপকার সাধন উদ্দিষ্ট নয় বরং নিজেদেরই উপকার সাধন তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি, আখিরাতের ছাওয়াব, তাঁর মহান রাসূলের রূহানী নৈকট্য এবং তাঁর খাস সদয় দৃষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই দরূদ ও সালাম পাঠ করা হয়ে থাকে। দরূদ পাঠকারীর আসল উদ্দিষ্ট থাকে তাই।
আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দয়াই বলতে হবে যে, তিনি আমাদের দরূদ ও সালামের হাদিয়াটুকু ফিরিশতাদের মাধ্যমে তাঁর রাসূলের খিদমতে পৌঁছিয়ে দেন এবং অনেকের সালাম কবর মুবারকে সরাসরি তাঁকে শুনিয়েও দিয়ে থাকেন। (যেমনটি পরবর্তী হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।) উপরন্তু আমাদের সালাত ও সালামের অনুপাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি তাঁর দান এবং হুযুর ﷺ-এর দরজা বৃদ্ধিও করে থাকেন।
দরূদ ও সালামের খাস হিকমত
আম্বিয়ায়ে কিরাম বিশেষতঃ সাইয়েদুল আম্বিয়া ﷺ-এর খিদমতে ভক্তি-শ্রদ্ধা, মহব্বত, বিশ্বস্ততা ও কৃতজ্ঞতা মিশ্রিত হাদিয়াস্বরূপ দরূদ ও সালাম প্রেরণের তরীকা নির্ধারণ করার সবচাইতে বড় হিকমত হচ্ছে এই যে, এর দ্বারা শিরকের মূলোচ্ছেদ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলার পরেই সর্বাধিক সম্মানিত ও পবিত্র সত্তার অধিকারী হচ্ছেন এই আম্বিয়ায়ে কিরাম আলাইহিমুস সালাম। তাঁদের মধ্যেও সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী হচ্ছেন খাতামুন নাবিয়্যীন সাইয়েদিনা হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ﷺ। যখন তাঁর ব্যাপারেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁর প্রতি সালাম ও দরূদ প্রেরণ করতে হবে, (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর জন্যে বিশেষ রহমত ও নিরাপত্তার দু'আ করতে হবে) তাতে বুঝা গেল যে, তিনিও আল্লাহ তা'আলার রহমত ও সদয় দৃষ্টির মুখাপেক্ষী আর তাঁর হক ও উচ্চতম মর্যাদার দাবি হচ্ছে তাঁর জন্যে আল্লাহ তা'আলার দরবারে উঁচু থেকে উঁচুতর দু'আ করতে হবে। তারপর শিরকের আর কোন অবকাশই থাকে না। পরম দয়াময় ও বদান্যশীল আল্লাহ তা'আলার কত বড় দয়া ও বদান্যতা যে, তাঁর এ হুকুম আমাদের মতো বান্দা ও উম্মতীদেরকে নবী রাসূলদের, বিশেষত সাইয়েদুল আম্বিয়া বা নবীকূল শিরোমণির জন্যে দু'আকারী বানিয়ে দিয়েছে। যে বান্দা এমন পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারীদের জন্যে দু'আ করে, সে কী করে অন্য মাখলুকের পূজারী হতে পারে?
এ ভূমিকাটির পর এবার সে হাদীসগুলো পাঠ করুন, যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর দরূদ পাঠের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং দরূদের ফযীলত ও বরকতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি একবার আমার প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশবার সালাম বর্ষণ করেন। (মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مَرَّةً وَاحِدَةً، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯২. হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি একটি কিসরাওয়ানী জুব্বা বের করে দেখালেন, যার প্লেট ছিল রেশমের এবং উভয় পাটের কিনারাতেও রেশম লাগানো ছিল। হযরত আসমা বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জুব্বা মুবারক। এটা (আমার বোন) আয়েশার কাছে ছিল। যখন তিনি ইন্তিকাল করেন, তখন আমি এটা নিয়ে নেই। (অর্থাৎ, উত্তরাধিকার সূত্রে আমি পেয়ে যাই।) নবী করীম (ﷺ) এটা পরিধান করতেন। এখন আমরা রোগীদের জন্য এটা ধুই এবং এর (পানি ব্যবহার করে) আরোগ্য লাভ করি। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا أَخْرَجَتْ جُبَّةَ طَيَالِسَةٍ كِسْرَوَانِيَّةٍ لَهَا لِبْنَةُ دِيبَاجٍ، وَفَرْجَيْهَا مَكْفُوفَيْنِ بِالدِّيبَاجِ، وَقَالَتْ: هَذَا جُبَّةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَلَمَّا قُبِضَتْ قَبَضْتُهَا، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُهَا، وَنَحْنُ نَغْسِلُهَا لِلْمَرْضَى يُسْتَشْفَى بِهَا (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন যে, মৃত্যুবরণ করা অর্থ অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া নয় বরং এক জীবন হোক অন্য জীবনে পাড়ি জমানো। মু'মিন ব্যক্তিদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয় এদিক থেকেই মৃত্যু মু'মিনের জন্য উপহার স্বরূপ। তাই তিনি বলেছেন, রোগব্যাধি কোন দুঃখের কিংবা বিপদের বিষয় নয়। বরং একদিক থেকে তা রহমতও বটে। কারণ এর দ্বারা পাপ বিমোচিত হয়। রোগব্যাধি ও অপরাপর বিপদাপদকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য সতর্কবাণী বলে মনে করতে হবে এবং নিজের সংশোধনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। নিম্নবর্ণিত হাদীসে এসব বিষয়ের শিক্ষা ও নির্দেশনা রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন যে, মৃত্যুবরণ করা অর্থ অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া নয় বরং এক জীবন হোক অন্য জীবনে পাড়ি জমানো। মু'মিন ব্যক্তিদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয় এদিক থেকেই মৃত্যু মু'মিনের জন্য উপহার স্বরূপ। তাই তিনি বলেছেন, রোগব্যাধি কোন দুঃখের কিংবা বিপদের বিষয় নয়। বরং একদিক থেকে তা রহমতও বটে। কারণ এর দ্বারা পাপ বিমোচিত হয়। রোগব্যাধি ও অপরাপর বিপদাপদকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী বান্দাদের জন্য সতর্কবাণী বলে মনে করতে হবে এবং নিজের সংশোধনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। নিম্নবর্ণিত হাদীসে এসব বিষয়ের শিক্ষা ও নির্দেশনা রয়েছে।
২৯৩. হযরত আবূ সাঈদ (রা.) সূত্রে নবী কারীম ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: যখন কোন মুসলমান বিপদগ্রস্ত হয়, রোগাক্রান্ত হয়, কোন দুশ্চিন্তার শিকার হয়, কোন প্রকার দুঃখ-কষ্টে পতিত হয় এমন কি তার দেহের কোথাও কাঁটাবিদ্ধ হয় এসব দ্বারা আল্লাহ্ তার পাপরাশি মুচে দেন। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « مَا يُصِيبُ المُسْلِمَ ، مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ ، وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حُزْنٍ وَلاَ أَذًى وَلاَ غَمٍّ ، حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا ، إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম: হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি একবার আমার প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশবার সালাত প্রেরণ করেন তার দশটি পাপ মোচন হয় এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি ঘটে।
- (সুনানে নাসায়ী)
- (সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ صَلَوَاتٍ، وَحُطَّتْ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيئَاتٍ، وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ» (رواه النسائى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৩. হযরত আমর ইবনে হুরাইস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে মিম্বরে (খুতবা দিতে) দেখেছি। এ সময় তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ী। আর তিনি এর কিনারা দু'কাধের মাঝে পিঠে ছেড়ে রেখেছিলেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ، قَدْ أَرْخَى طَرَفَيْهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
২৯৪. আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-বলেছেন: কোন মুসলামানের প্রতি যে কোন কষ্ট পৌঁছে থাকুক না কেন, চাই তা রোগ-ব্যাধি বা অন্য কিছু আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা তার পাপরাশি ঝেড়ে ফেলেন যে ভাবে গাছ তার পাতা ঝেড়ে ফেলে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مِنْ مَرَضٍ ، فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللهُ بِهِ سَيِّئَاتِهِ ، كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সাদা টুপি পরিধান করতেন। -তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ قَلَنْسُوَةً بَيْضَاءَ " (رواه الطبرانى فى الكبير)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম: হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯৪. আবু বুরদা ইবনে নিয়ার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের যে কেউ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একবার আমার প্রতি সালাত প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দশটি সালাত প্রেরণ করেন এবং এর বিনিময়ে তার দশটি স্তর উন্নীত করেন এবং তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেন এবং তার দশটি পাপ মোচন করেন।
- (সুনানে নাসায়ী)
- (সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مِنْ أُمَّتِي صَلَاةً مُخْلِصًا مِنْ قَلْبِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرَ صَلَوَاتٍ، وَرَفَعَهُ بِهَا عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَكَتَبَ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سيئاتٍ» (رواه النسائى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
২৯৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মু'মিন নারী ও পুরুষের বিপদ লেগেই থাকে। কখনো তার নিজের উপর, কখনো তার ধন-সম্পদে, কখনো তার সন্তান-সন্ততিতে যার দরুন তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এমনকি সে আল্লাহর দরবারে এমন অবস্থায় হাযির হয় যে তার কোন পাপই থাকে না। (তিরমিযী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ , وَالْمُؤْمِنَةِ فِي نَفْسِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ حَتَّى يَلْقَى اللهَ تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ ". (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম: হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯৫. হযরত আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ তশরীফ আনলেন, তাঁর মুখমন্ডল তখন অত্যন্ত প্রসন্ন। (তার কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গে) তিনি বললেন, আজ জিব্রাইল আমীন আসলেন এবং বললেন: আপনার প্রতিপালক বলছেন, হে মুহাম্মদ! একথা কি আপনাকে আনন্দিত করবে না যে, আপনার কোন উম্মতই এমন হবে না যে, সে আপনার প্রতি একবার সালাত প্রেরণ করবে অথচ আমি (আল্লাহ) তাঁর প্রতি দশবার সালাত বর্ষণ করব না। এবং আপনার কোন উম্মত এমন হবে না, যে আপনার প্রতি একবার সালাম প্রেরণ করবে অথচ আমি তার প্রতি দশবার সালাম প্রেরণ করবো না। (সুনানে নাসায়ী ও মুসনাদে দারেমী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي طَلْحَةَ رَضِي الله عَنهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ وَالْبِشْرُ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَ: " إِنَّهُ جَاءَنِي جِبْرِيلُ، فَقَالَ: إِنَّ رَبَّكَّ يَقُوْلُ أَمَا يُرْضِيكَ يَا مُحَمَّدُ أَنْ لَا يُصَلِّيَ عَلَيْكَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِكَ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا، وَلَا يُسَلِّمَ عَلَيْكَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِكَ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا " (رواه النسائى والدارمى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন খারেজীদের উৎপত্তি হল, তখন আমি হযরত আলী রাযি.-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তুমি এদের (খারেজীদের) কাছে যাও (এবং তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা কর।) ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তখন এক জোড়া অতি সুন্দর ইয়ামানী কাপড় পরলাম। ঘটনা বর্ণনাকারী আবূ যামীল বলেন, ইবনে আব্বাস খুবই সুন্দর মানুষ ছিলেন এবং তার আওয়াযও ছিল খুবই উঁচু। ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাদের কাছে আসলে তারা বলল, মারহাবা। হে ইবনে আব্বাস! (সাথে সাথে তিরস্কারের উদ্দেশ্যে তারা বলল,) এই দামী পোশাক কি? (তাদের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই দামী ও সুন্দর পোশাক নবী করীম (ﷺ)-এর আদর্শ ও তাওয়ার পরিপন্থী।) ইবনে আব্বাস বলেন, আমি বললাম, তোমরা আমার এ পোশাকের দোষ ধরছ? আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিধানে অতি উত্তম ও সুন্দর পোশাক দেখেছি। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا خَرَجَتِ الْحَرُورِيَّةُ أَتَيْتُ عَلِيًّا فَقَالَ: ائْتِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمَ فَلَبِسْتُ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنْ حُلَلِ الْيَمَنِ قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ: وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَجُلًا جَمِيلًا جَهِيرًا - قَالَ: فَأَتَيْتُهُمْ فَقَالُوا: مَرْحَبًا بِكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ مَا هَذِهِ الْحُلَّةُ قَالَ: مَا تَعِيبُونَ عَلَيَّ «لَقَدْ رَأَيْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنَ الحُلَلِ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
২৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ সুলামী (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও তাঁর পিতামহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোন বান্দার জন্য যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন মর্যাদা নির্ধারিত থাকে এবং সে যদি তা আমল করে অর্জন করতে না পারে তখন আল্লাহ্ তাঁর শরীর, সম্পদ ও সন্তানের দ্বারা পরীক্ষা করেন। তার পর তাকে ধৈর্যের তাওফীক দেন যাতে সে বিপদে ধৈর্যধারণ করে আল্লাহর নির্ধারিত মর্যাদা লাভ করতে পারে। (আহমাদ ও আবু দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَبَقَتْ لَهُ مِنَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ ، لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِهِ ابْتَلَاهُ اللَّهُ فِي جَسَدِهِ ، أَوْ فِي مَالِهِ ، أَوْ فِي وَلَدِهِ ثُمَّ صَبَّرَهُ عَلَى ذَلِكَ حَتَّى يُبْلِغَهُ الْمَنْزِلَةَ الَّتِي سَبَقَتْ لَهُ مِنَ اللَّهِ » (رواه احمد وابوداؤد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালাম: হাদীসে দরূদ ও সালামের প্রতি উৎসাহ দান এবং তার ফাযায়েল ও বরকতসমূহ
২৯৬. হযরত আবদুর রহমান ইব্ন আওফ (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকালয় থেকে বের হয়ে একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলেন এবং সিজদায় গিয়ে তা এত দীর্ঘ করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো, আল্লাহ তাঁর জান কবয করে নেননি তো! আমি তখন তাঁর নিকটবর্তী হয়ে গভীরভাবে দেখতে লাগলাম, এমন সময় তিনি তাঁর মাথা উঠালেন। তারপর আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমার কী হলো হে? (অমন করে কী দেখছো?) আমি বললাম, (দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত আপনার সিজদা থেকে মাথা না উঠানোর দরুণ) আমার সন্দেহ হয়, এ জন্যে আমি আপনাকে (গভীরভাবে) দেখছিলাম।
তখন তিনি বললেন, আসল ব্যাপার হচ্ছে এই যে, জিব্রাইল (আ) এসে আমাকে বললেন, আমি কি আপনাকে একটি সুসংবাদ শুনাবো না? আল্লাহ তা'আলা আপনাকে বলছেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাত প্রেরণ করবে আমিও তার প্রতি সালাত প্রেরণ করবো আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম প্রেরণ করবে আমিও তার পতি সালাম প্রেরণ করবো। - (মুসনাদ আহমদ)
তখন তিনি বললেন, আসল ব্যাপার হচ্ছে এই যে, জিব্রাইল (আ) এসে আমাকে বললেন, আমি কি আপনাকে একটি সুসংবাদ শুনাবো না? আল্লাহ তা'আলা আপনাকে বলছেন: যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাত প্রেরণ করবে আমিও তার প্রতি সালাত প্রেরণ করবো আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম প্রেরণ করবে আমিও তার পতি সালাম প্রেরণ করবো। - (মুসনাদ আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاتَّبَعْتُهُ حَتَّى دَخَلَ نَخْلًا فَسَجَدَ، فَأَطَالَ السُّجُودَ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ قَدْ تَوَفَّاهُ قَالَ: فَجِئْتُ أَنْظُرُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ: «مَا لَكَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ» قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ، قال: فَقَالَ: " إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلامُ قَالَ لِي: أَلا أُبَشِّرُكَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ لَكَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ، وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ " (رواه احمد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাক পরার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ছিল
বাম অঙ্গের তুলনায় ডান অঙ্গের যে ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে, এর 'আলোচনা 'পানাহারের আদব' শিরোনামে করে আসা হয়েছে। এ ফযীলত ও মর্যাদার কারণেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল যে, লেবাস-পোশাক পরিধানের সময় তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। অর্থাৎ, যে কাপড় পরতেন ডান দিক থেকে পরা শুরু করতেন।
বাম অঙ্গের তুলনায় ডান অঙ্গের যে ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে, এর 'আলোচনা 'পানাহারের আদব' শিরোনামে করে আসা হয়েছে। এ ফযীলত ও মর্যাদার কারণেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল যে, লেবাস-পোশাক পরিধানের সময় তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। অর্থাৎ, যে কাপড় পরতেন ডান দিক থেকে পরা শুরু করতেন।
২৯৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কুর্তা পরিধান করতেন, তখন এর ডান দিক থেকে শুরু করতেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا لَبِسَ قَمِيصًا بَدَأَ بِمَيَامِنِهِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ২৯৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোগ ব্যাধি মু'মিনের জন্য রহমত এবং পাপের কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ)
২৯৭. হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: দুনিয়ার সুখ-স্বাচ্ছান্দ্যে বসবাসকারীরা কিয়ামতের দিন যখন দেখবে যে, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাওয়াব দেয়া হচ্ছে, তখন তারা আফসোস করে বলবে, হায় দুনিয়াতে যদি আমাদের চামড়া কাঁচি দ্বারা কাটা হতো। (তিরমিযী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَوَدُّ أَهْلُ العَافِيَةِ يَوْمَ القِيَامَةِ حِينَ يُعْطَى أَهْلُ البَلاَءِ الثَّوَابَ لَوْ أَنَّ جُلُودَهُمْ كَانَتْ قُرِضَتْ فِي الدُّنْيَا بِالمَقَارِيضِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক: