হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাওবা ও ইস্তিগফারের খাস খাস কালিমা

তাওবা ও ইস্তিগফারের যে হাকীকত বা তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে, তা থেকে পাঠক নিশ্চয়ই উপলব্ধি করে থাকবেন যে, এতে আসল গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক বিচার্য বিষয় হচ্ছে তার স্পীরিট এবং অন্তরের অবস্থা। বান্দা যে ভাষায় বা যে শব্দমালা যোগেই তাওবা করুক না কেন, তা যদি সাচ্চা দেলে আন্তরিকভাবে হয়ে থাকে, তাহলেই তা তাওবা ও ইস্তিগফার এবং গ্রহণীয় হবে। এতদসত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাওবা ও ইস্তিগফারের কিছু কলিমা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এগুলির বিশেষ বিশেষ ফযীলত ও বরকতের কথা বর্ণনা করেছেন। এ সিলসিলার কয়েকখানা হাদীস নিম্নে পাঠ করুন!
২৮৪. বেলাল ইবনে য়াসার ইবনে যায়দ (ইনি নবী করীম ﷺ-এর আযাদকৃত দাস ছিলেন)১ তাঁর পিতামহ যায়দ (রা)-এর যবানীতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি এই বলে আল্লাহ তা'আলার দরবারে ইস্তিগফার ও তাওবা করবে:
اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
(আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি চিরঞ্জীব এবং চিরদিন কায়েম থাকবেন এবং তাঁর সমীপে তাওবা করছি।)
তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন- যদি যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পলায়নের মত গুনাহও সে ব্যক্তি করে থাকে।
(তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

টিকা ১. হযরত যায়দ ইব্‌ন হারিছা নন, ইনি এক ভিন্ন যায়দ, যার পিতার নাম ছিল বূলী। ইনিও সাহাবী ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকেও আযাদ করেছিলেন।
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ بِلاَلَ بْنَ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الحَيَّ القَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنْ الزَّحْفِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশ্রী, অপরিপাটি ও নোংরা হয়ে থাকা নিষেধ
২৮৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদের সাথে সাক্ষাত করতে আসলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার মাথার চুলগুলো এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। তিনি বললেন, এই লোকটি কি এমন কিছু পায় না, যা দিয়ে সে মাথার চুলগুলো পরিপটি করে রাখতে পারে? তিনি আরেক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার গায়ের কাপড়গুলো খুব ময়লা। তিনি বললেন: এই লোকটা কি এমন কিছু পায় না, যার দ্বারা সে নিজের কাপড়গুলো ধুয়ে (পরিষ্কার করে) নিতে পারে? -আহমাদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا، فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا، فَقَالَ: «أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ» ، وَرَأَى رَجُلًا عَلَيْهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ: «أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يَغْسِلُ بِهِ ثِيَابَهُ» (رواه احمد والنسائى)
tahqiqতাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত (সালাতুল ইস্তিসকা)

সকল প্রাণীর জীবন জীবিকা পানির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কাজেই কোন এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও খরা দেখা দিলে তা সাধারণ বিপদের রূপ নেয়। বরং বলাচলে, এক ধরনের সাধারণ শাস্তির রূপ ধারণ করে। ব্যক্তিগত সমস্যা উত্তরনের লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ যেমন সালাতুল হাজতের (প্রয়োজন পূরনের সালাত) শিক্ষা দিয়েছেন যা ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে, ঠিক একইভাবে সামষ্টিক বিপদ উত্তরনের লক্ষ্যেও একটি সালাত শিক্ষা দিয়েছেন যা সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত) নামে পরিচিত। ইস্তিসকার আভিধানিক অর্থ পানি প্রার্থনা করা এবং পানি দ্বারা যমীন প্লাবিত করার দু'আ করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্ধশায় একবার ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি সালাতুল ইস্তিসকা আদায় করেন এবং আল্লাহর নির্দেশে তখন বৃষ্টিও বর্ষিত। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীস থেকে উক্ত ঘটনার সবিস্তার বিবরণ পাঠ করা যেতে পারে।
২৮৪. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করে। তিনি দিন ক্ষণ ঠিক করে সকলকে ঈদগাহের ময়দানে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি মাঠে মিম্বর স্থাপানের নির্দেশ দিলে তা স্থাপিত হয়। আয়েশা (রা.) বলেন, সে দিন সূর্য উঠার সাথে সাথে নবী কারীম ﷺ ময়দানে গিয়ে উক্ত মিম্বরে আরোহন করে সর্বপ্রথম তাকবীর বলেন। তারপর আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি বলেন, তোমরা সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করছ অথচ আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা করেছেন: যদি তোমরা তাঁর নিকট দু'আ কর, তবে তিনি তা কবুল করবেন। এরপর তিনি বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের প্রতিপালক। তিনি পরমদাতা, মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। হে আল্লাহ্! তুমি আল্লাহ্! তুমি ছাড়া অপর কেউ স্বয়ং সম্পূর্ণ নেই। এবং আমরা তো তোমার মুখাপেক্ষী। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে খাদ্য শস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। তার পর তিনি উভয় হাত এত উপরে উঠান যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তিনি লোকদের প্রতি পিঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়েও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরণের পর দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন। এই সময় আল্লাহ্ তা'আলা আকাশে মেঘ সঞ্চার করেন এবং মেঘের গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। তার পর আল্লাহর হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী কারীম ﷺ মসজিদে নববীতে আসার পূর্বেই সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এর পর তিনি যখন তাদেকে আর্দ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখেন, তখন এমনভাবে হেসে দেন যে, তাঁর দাঁত মুবারক দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। (আবূ দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : شَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُحُوطَ الْمَطَرِ ، فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ ، فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى ، وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ ، قَالَتْ عَائِشَةُ : فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ ، فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ ، فَكَبَّرَ وَحَمِدَ اللَّهَ ، ثُمَّ قَالَ : « إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ دِيَارِكُمْ ، وَاسْتَخَارَ الْمَطْرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ ، وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللَّهُ أَنْ تَدْعُوهُ ، وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ » ، ثُمَّ قَالَ : « الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ، اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ ، وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حِينٍ » ، ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ ، فَلَمْ يَتْرُكِ الرَّفْعِ حَتَّى بَدَا بَيَاضُ إِبِطَيْهِ ، ثُمَّ حَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ ، وَقَلَّبَ ، أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ ، وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، فَأَنْشَأَ اللَّهُ سَحَابَةً فَرَعَدَتْ وَبَرِقَتْ ، ثُمَّ أَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللَّهِ ، فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَهُ حَتَّى سَالَتِ السُّيُولُ ، فَلَمَّا رَأَى سُرْعَتَهُمْ إِلَى الْكِنِّ ضَحِكَ ، حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ، فَقَالَ : « أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، وَأَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ » (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত (সালাতুল ইস্তিসকা)
২৮৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে যায়িদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে লোকদের নিয়ে ঈদগাহের দিকে বের হন এবং তাদের নিয়ে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন। এতে তিনি উচ্চকণ্ঠে কিরা'আত পাঠ করেন। এসময় তিনি নিজ হাত দু'টি উপরে তুলে কিবলামুখী হয়ে দু'আ করেন। কিবলামুখী হওয়ার সময় তিনি নিজ চাদর উল্টিয়ে নিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّاسِ يَسْتَسْقِي ، فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ بِالقِرَاءَةِ وَاسْتَقْبَلَ القِبْلَةَ يَدْعُوْ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ حِيْنَ اسْتَقْبَلَ القِبْلَةَ. (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাইয়েদুল ইস্তিগফার

নিম্নে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ সাইয়েদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম দু'আর শব্দমালা নির্দেশ করে এর অনন্য সাধারণ ফযীলত বর্ণনা করেছেন। বিষয়বস্তুর বিচারে আসলেও এটি এরূপ কালিমাই।
২৮৫. হযরত শাদ্দাদ ইব্‌ন আওস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সেরা ইস্তিগফারের দু'আ 'সাইয়েদুল ইস্তিগফার' হচ্ছে বান্দা আল্লাহ তা'আলার দরবারে আরয করবে:

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْءُ لَكَ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِي ْ فَإِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ

“হে আল্লাহ! তুমিই আমার মালিক-প্রতিপালক, তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো এবং আমি তোমার বান্দা এবং আমি আমার সাধ্যমত তোমার সাথে কৃত ঈমানী ওয়াদার উপর কায়েম থাকবো। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে। আমি আমাকে প্রদত্ত তোমার নিয়ামত রাশির কথা স্বীকার করি এবং নিজের গুনাহরাশিও স্বীকার করি। সুতরাং তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও। কেননা, তুমি ব্যতীত গুনাহ মার্জনা করার মত আর কেউই নেই।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরমান: যে বান্দা ইখলাস ও আন্তরিকতার সাথে দিনের কোন অংশে আল্লাহর দরবারে এ আরয (অর্থাৎ এ শব্দমালাযোগে ইস্তিগফার করবে) এবং ঐদিন রাত আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়ে যাবে, সে নিশ্চিতভাবে জান্নাতবাসী হবে, আর যে ব্যক্তি রাতের কোন অংশে আল্লাহর দরবারে এরূপ আরয করবে আর সকাল হওয়ার পূর্বেই মারা গেল, সে ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই জান্নাতবাসী হবে। (সহীহ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَيِّدُ الِاسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ " قَالَ: «وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الجَنَّةِ» (رواه البخارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চুল-দাড়ি সুন্দর ও পরিপাটি করে রাখার নির্দেশ
২৮৫. হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় এক লোক আসল, যার মাথার চুল ও দাড়ি অবিন্যস্ত ও এলামেলো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হাতে ইশারা করলেন, যেন তিনি তাকে নিজের চুল ও দাড়ি সুন্দর ও পরিপটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেমতে সে তাই করল এবং পুনরায় ফিরে আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: এটা কি ঐ অবস্থার চেয়ে ভালো নয় যে, তোমাদের কেউ একেবারে উষ্ক-খুষ্ক অবস্থায় কোথাও এসে হাযির হবে, যেন সে একটা শয়তান? -মুয়াত্তা ইমাম মালেক
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ. فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ. كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلاَحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ. فَفَعَلَ الرَّجُلُ، ثُمَّ رَجَعَ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَيْسَ هذَا خَيْراً مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ؟». (رواه مالك)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত (সালাতুল ইস্তিসকা)
২৮৬. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার সালাতুল ইস্তিসকার উদ্দেশ্যে সাধারণ পোশাক পরে (মাঠের উদ্দেশ্যে) বের হন। তিনি বিনয় নম্রতা সহকারে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতে করতে পথ চলেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ ابْن عَبَّاسٍ قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَاضِعًا مُتَبَذِّلًا ، مُتَخَشِّعًا ، مُتَضَرِّعًا. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাইয়েদুল ইস্তিগফার
২৮৬. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার দরবারে এভাবে দু'আ করতেন:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجِدِّى وَخَطَايَايَ وَعَمَدِي

“হে আল্লাহ! আমার ভুলচুক (ইলম ও মা'রিফতের চাহিদার খেলাফ) আমার মূর্খতা-নাদানী, আমার কার্যকলাপে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন এবং আমার যে সব অনাচার সম্পর্কে তুমি আমার চাইতে বেশি অবহিত, সে সব গুনাহ মাফ করে দাও!

হে আল্লাহ! মাফ করে দাও আমার-হাসি তামাশা বশে কৃত ও বুঝে-শুনে কৃত, অনিচ্ছাকৃতভাবে কৃত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত গুনাহসমূহ। আর এসব ধরনের গুনাহই আমার যিম্মায় রয়েছে।
(বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجِدِّي وَخَطَايَايَ وَعَمْدِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي» (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাদা-সিধা জীবন ও অনাড়ম্বরতা একটি ঈমানী রূপ
২৮৬. হযরত আবু উমামা আয়াস ইবনে সা'লাবা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা কি শুনছ না, তোমরা কি শুনছ না? (অর্থাৎ, মনোযোগ দিয়ে শুন এবং মনে রাখ,) অনাড়ম্বরতা ঈমানের একটি শাখা, অনাড়ম্বরতা ঈমানের একটি শাখা। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ اَيَاسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تَسْمَعُونَ، أَلَا تَسْمَعُونَ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ» (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হযরত খিযির (আ)-এর ইস্তিগফার
২৮৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রায়ই বলতেন; হে আমার সাহাবীবৃন্দ! সামান্য কটি কালিমার সাহায্যে তোমাদের গুনাহগুলোর প্রতিবিধান করতে তোমাদেরকে কিসে মানা করলো? তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কী সে কালিমাগুলো? জবাবে তিনি বললেন: তোমরা তাই বলবে যা আমার ভাই খিযির বলতেন। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: তিনি কী বলতেন? জবাবে তিনি বললেন, তিনি বলতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تُبْتُ إِلَيْكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِمَا أَعْطَيْتُكَ مِنْ نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِلنِّعَمِ الَّتِي أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَى مَعَاصِيكَ وَاَسْتَغْفِرُكَ لَكَ فِي خَيْرٍ أَرَدْتُ بِهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَنِي فِيْهِ مَا لَيْسَ لَكَ اَللّٰهُمَّ لَا تُخْزِنِي فَإِنَّكَ بِي عَالِمٌ وَلَا تُعِذِّبْنِي فَإِنَّكَ عَلَيَّ قَادِرٌ

"হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি সে সব গুনাহ থেকে, যা থেকে আমি তাওবা করেছি, তারপর আবার তা করেছি এবং আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি তোমার দরবারে সে সব ওয়াদা-অঙ্গীকারের ব্যাপারে, যা আমি আমার নিজ সত্তার ব্যাপারে তোমার সাথে করেছি অথচ তারপর তা পূরণ করিনি। এবং আমি ইস্তিগফার করছি ঐ সব নিয়ামতের ব্যাপারে, যা তুমি আমাকে দান করেছো এবঙ আমি তোমার অবাধ্যতার জন্যে তা দিয়ে শক্তি লাভ করেছি (অর্থাৎ তোমার প্রদত্ত নিয়ামতের বলে বলীয়ান হয়ে তোমার অবাধ্যতায়ই লিপ্ত হয়েছি।) এবং আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি তোমার দরবারে ঐ সব পুণ্য কাজের ব্যাপারে, যেগুলো আমি তোমার সন্তুষ্টিরই উদ্দেশ্যে করেছি অথচ তারপর তোমার সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য গরজের তাতে মিশ্রণ ঘটেছে। হে আল্লাহ! (অন্যদের সম্মুখে) তুমি আমাকে অপদস্থ করো না, কেননা, তুমি নিঃসন্দেহে আমার ব্যাপারে সম্যক অবগত রয়েছো, (আমার কোন কিছু তোমার কাছে গোপন নেই।) আর তুমি আমাকে (আমার গুনাহর জন্যে) শাস্তি দিও না, কেননা, তুমি আমার উপর সর্বব্যাপারে শক্তিমান (আর আমি বিলকুল অক্ষম এবং তোমার সম্পূর্ণ ইখতিয়ার ও কজার মধ্যে।) - (মুসনদে ফিরদাউস: দায়লামী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عن ابن عمر قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثيرا ما يقول لنا: معاشر أصحابي ما يمنعكم أن تكفروا ذنوبكم بكلمات يسيرة؟ قالوا يا رسول الله: وما هي؟ قال تقولون مقالة أخي الخضر، قلنا يا رسول الله: ما كان يقول؟ قال كان يقول: اللهم إني أستغفرك لما تبت إليك منه، ثم عدت فيه، وأستغفرك لما أعطيتك من نفسي ثم لم أوف لك به، وأستغفرك للنعم التي أنعمت بها علي فتقويت بها على معاصيك وأستغفرك لكل خير أردت به وجهك فخالطني فيه ما ليس لك، اللهم لا تخزني فإنك بي عالم، ولا تعذبني فإنك علي قادر ". (رواه الديلمي)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাকে বিনয়-নম্রতার উপর পুরস্কার
২৮৭. হযরত মু'আয ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বিনয় প্রকাশের জন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মূল্যবান পোশাক ছেড়ে দেয় (এবং সাধারণ পোশাক পরে,) কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে এই এখতিয়ার দিবেন যে, সে ঈমানের জোড়াসমূহ থেকে যে জোড়া (পোশাক) পছন্দ করে, তাই যেন পরে নেয়। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং তার আগে ও পরে করণীয়
হাদীস বিশারদগণ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সালাত অধ্যায়ের শেষে জানাযা অধ্যায় সন্নিবেশিত করে তার অধীনে মৃত্যু, মৃত্যুশয্যার রোগ বরং সাধারণ রোগ ব্যাধি ও তখনকার করণীয় বিষয় আলোচনা করেন। এর পর মৃতর গোসল, দাফন-কাফন, জানাযার সালাত, শোকপ্রকাশ, কবর যিয়ারত ইত্যাদি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হাদীসসমূহ বর্ণনা করেন। এই নিয়মের অনুসরণে এখানে এ সকল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী ও আমলসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। এসব হাদীসের সারকথা হল, মৃত্যু অবশ্যাম্ভাবী এবং তার কোন নির্ধারিত সময় নেই। কাজেই মৃত্যুর ব্যাপারে কোন মুসলমানের অচেতন থাকা উচিত নয়, সর্বদা তা স্মরণ রাখা এবং আখিরাতের এই সফরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। বিশেষতঃ যখন কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে তার নিজ দীনী ও ঈমানী অবস্থা সংশোধন করে নেয়া উচিত। এবং আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত। একজন রোগাক্রান্ত হলে অপরজনের সেবা শুশ্রূষা ও সমবেদনা প্রকাশ করে তার চিন্তা হালকা করা উচিত এবং তার মনোরজ্ঞনেরও সাধ্যমত চেষ্ট করা উচিত। রোগ মুক্তির লক্ষ্যে আল্লাহর নাম নিয়ে তার জন্য দু'আ করে তার দেহে ফুঁক দেওয়া উচিত, সাওয়াব লাভ করা যায় এমন কথা বলা এবং আল্লাহর শান ও রহমতের আলোচনা তার সামনে করা উচিত। তবে বিশ্বাস জন্মে যে, রোগী সুস্থ হবে না এবং মুত্যু অত্যাসন্ন এমতাবস্থায় তার অন্তর আল্লাহ্ অভিমুখী করা এবং ঈমানের কালেমা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার যথোচিত পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। তার পর মারা গেলে মৃতের নিকটাত্মীয়দের ধৈর্যধারণ করা উচিত, এবং মৃত্যু সহজাত ব্যাপার, একে আল্লাহর ফয়সালা মনে করে তাদের মাথা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঝুঁকিয়ে দেয়া উচিত, এরূপ দুঃখ-কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাওয়াব প্রাপ্তির আশা করা এবং মৃতের জন্য দু'আ করা উচিত। এরপর মৃতের গোসলের ব্যবস্থা করা কর্তব্য। তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাফন পরানো এবং সুগন্ধি ব্যবহার করানো চাই। এরপর তার জানাযার সালাত আদায় করে নিতে হবে এবং তাতে আল্লাহর তাসবীহ্ ও প্রশংসা, তাঁর মাহাত্ম্যের স্বীকৃতি এবং উম্মাতের (মৃত ব্যক্তিসহ সকল মু'মিনের) পথ প্রদর্শনকারী আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর জন্য রহমতের দু'আ করতে হবে। এসবের পর মৃতের জন্য আল্লাহর দয়া অনুগ্রহ কামনা করে দু'আ করা উচিত। এরপর অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকে মাটির মধ্যে রেখে দিতে হবে, যে মাটির অংশ দ্বারা তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর মৃতের শোক সন্তপ্ত নিকটাত্মীয়-স্বজনের সমবেদনা প্রকাশ করা উচিত এবং তাদের সান্ত্বনা দিয়ে দুশ্চিন্তা লাঘবের চেষ্টা করা উচিত।

উল্লিখিত বিষয়গুলোর রহস্য পরিষ্কার, অভিজ্ঞতার নিরিখে দেখা গেছে যে, সাধারণ রোগ-ব্যাধি এবং অপরাপর বিপদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রদর্শিত কার্যক্রম অনুযায়ী কাজ করা হলে অন্তরে স্বস্তি ও শান্তি ফিরে আসে। তাঁর দেওয়া প্রতিটি শিক্ষা ও নির্দেশনা অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণের ক্ষেত্রে ঔষধরূপে কাজ করে। মৃত্যু আল্লাহর সাক্ষাতের মাধ্যম হওয়ায় তা একজন বান্দার অভিপ্রেত ব্যাপার হয়ে যায়। এগুলো দুনিয়ারী বরকতের সাথে সংশ্লিষ্ট। আখিরাতের বিষয়সমূহ ইনশাআল্লাহ্ সামনে আসবে যা প্রাপ্তি অঙ্গীকার পরবর্তী হাদীসসমূহে করা হয়েছে। এই ভূমিকার পর এ পর্যায়ে কতিপয় হাদীস পাঠ করা যেতে পারে।

মৃত্যুর স্মরণ এবং তার আকাঙক্ষা
২৮৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধ্বংসী মৃত্যুর কথা তোমরা বেশি বেশি স্মরণ করবে। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَكْثِرُوا مِنْ ذِكْرِ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ المَوْتِ. (رواه الترمذى والنسائى وابن ماجه)
tahqiqতাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর স্মরণ এবং তার আকাঙক্ষা
২৮৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার উভয় কাঁধ ধরে বললেন: তুমি এ দুনিয়াতে একজন মুসাফিরের ন্যায় অথবা পথযাত্রীর মত থাকবে। আর ইবনে উমর (রা) (এই হাদীসের ভিত্তিতে) বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে আর ভোরের অপেক্ষা করবে না এবং ভোরে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করবে না। (যেহেতু ততক্ষণ বাঁচবে কিনা জানা নেই) তোমার সুস্থতার অবকাশে তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য কিছু সঞ্চয় করে রাখবে। আর জীবিতাবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকবে। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَنْكِبِي ، فَقَالَ : « كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ » وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ ، يَقُولُ : « إِذَا أَمْسَيْتَ فَلاَ تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ ، وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلاَ تَنْتَظِرِ المَسَاءَ ، وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ ، وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ » (رواه البخارى)
tahqiqতাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিগফারের বরকতসমূহ

ইস্তিগফারের মূল উদ্দেশ্য এবং প্রতিপাদ্য তো হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার দ্বারা নিজেদের কৃত গুনাহসমূহ মার্জনা, যাতে করে বান্দা তার আযাব বা শাস্তি থেকে রেহাই পায়। কিন্তু কুরআন মজীদ পাঠে জানা যায় এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও অত্যন্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইস্তিগফারের দ্বারা ইহলৌকিক অনেক বরকতও লাভ হয়ে থাকে এবং বান্দা এর কল্যাণে এ দুনিয়াতেও অনেক কিছু লাভকরে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা একীন ও আমল নসীব করুন।
২৮৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে বান্দা ইস্তিগফারকে আকড়ে থাকে (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার দরবারে অহরহ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে) আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতিটি সংকীর্ণতা ও মুশকিল থেকে নির্গমনের পথ করে দেবেন এবং তার সকল দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং এমন পন্থায় তাকে জীবিকা দান করবেন, যার কল্পনাও সে করতে পারবে না।
(মুসনদে আহমদ, সুনানে আবুদাউদ ও সুনানে ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ» (رواه احمد وابوداؤد وابن ماجه)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পোশাকের ব্যাপারে-ঐসব সীমারেখা ও বিধানের অনুসরণের সাথে, যা উপরের হাদীসসমূহ থেকে জানা গিয়েছে- ঐ ধরনের পোশাক পরতেন, যে ধরনের ও যে নমুনার পোশাকের ঐ যুগে তাঁর এলাকায় ও তাঁর সমাজে প্রচলিত ছিল। তিনি লুঙ্গি পরতেন, চাদর গায়ে দিতেন, কুর্তা পরিধান করতেন, পাগড়ী এবং টুপিও তাঁর মাথায় শোভা পেত। আর এসব কাপড় বেশীর ভাগ সাধারণ সূতী জাতীয় হত। কখনো কখনো অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের তৈরী এমন মূল্যবান জুব্বাও পরিধান করে নিতেন, যার উপর রেশমী ডোরা অথবা কারুকার্য থাকত। তেমনিভাবে কখনো কখনো অত্যন্ত সুন্দর ইয়ামানী চাদরও গায়ে জড়িয়ে নিতেন, যা ঐ যুগে সৌখিন লোকদের পোশাক ছিল।

এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, মৌখিক নির্দেশ ও উপদেশাবলী ছাড়া তিনি নিজের কর্মধারার মাধ্যমেও উম্মতকে এ শিক্ষাই দিয়েছেন যে, পানাহারের মত লেবাস পোশাকের ব্যাপারেও প্রশস্ততা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণের সাথে যে কোন ধরনের সাধারণ অথবা মূল্যবান পোশাক পরা যায়। আর প্রত্যেক অঞ্চল ও যুগের লোকদের জন্য অনুমতি রয়েছে যে, তারা শরী‘আত সীমারেখা ও বিধানকে সামনে রেখে নিজেদের আঞ্চলিক ও জাতীয় সুন্দর পোশাক পরতে পারবে।

এ কারণেই উম্মতের ঐসব মুক্তাকী ও পুণ্যবান লোকেরাও যাদের জীবনে সুন্নত অনুসরণের সীমাহীন গুরুত্ব ছিল- এটা জরুরী মনে করেননি যে, কেবল ঐ পোশাকই ব্যবহার করতে হবে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যবহার করতেন।
প্রকৃত প্রস্তাবে পোশাক এমন জিনিস যে, সভ্যতার উন্নতির সাথে এতে পরিবর্তন হয়ে আসছে এবং হতেই থাকবে। তেমনিভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যাবলী ও অন্যান্য কিছু বিষয়ও পোশাকের কাটিং ও ধরনের উপর প্রভাব ফেলে। এ জন্য এটা সম্ভব নয় যে, সারা দুনিয়ার মানুষের পোশাক একই ধরনের হবে অথবা কোন জাতির বা অঞ্চলের পোশাক সর্বদা একই থাকবে। এ জন্য শরী‘আত কোন বিশেষ প্রকার ও বিশেষ নমুনার পোশাককে অপরিহার্য করে দেয়নি। হ্যাঁ, এমন মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক অঞ্চলে সহজেই এগুলোর অনুসরণ করা যায়।

এই ভূমিকামূলক কয়েকটি লাইনের পর এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
২৮৮. আবূ বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. আমাদেরকে একটি দুই ভাজের মোটা চাদর ও একটি মোটা কাপড়ের লুঙ্গি বের করে দেখালেন এবং বললেন, এ দু'টি কাপড়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়েছিল। (অর্থাৎ, শেষ সময়ে তাঁর গায়ে এ দু'টি কাপড়ই ছিল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةُ كِسَاءً مُلَبَّدًا، وَإِزَارًا غَلِيظًا، فَقَالَتْ: «قُبِضَ رُوْحُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَيْنِ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiqতাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর স্মরণ এবং তার আকাঙক্ষা
২৮৯. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে, আল্লাহ্ও তাঁর সাক্ষাৎ কামনা করেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপ্রিয় মনে করে, আল্লাহ্ও তাঁর সাক্ষাৎ অপ্রিয় মনে করেন। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ ، وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ » (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিগফারের বরকতসমূহ
২৮৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন: আনন্দ ও মুবারকবাদ সে ব্যক্তির জন্যে, যে ব্যক্তি তার আমলনামায় বহুল পরিমাণে ইস্তিগফার পাবে। (অর্থাৎ আখিরাতে সে ব্যক্তি তার আমলনামায় প্রচুর পরিমাণে ইস্তিগফার লিখিত রয়েছে দেখতে পাবে।)
- (সুনানে ইবনে মাজা ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بُسْرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طُوبَى لِمَنْ وَجَدَ فِي صَحِيفَتِهِ اسْتِغْفَارًا كَثِيرًا» (رواه ابن ماجه والنسائى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৮৯. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় কাপড় ছিল কুর্তা। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: «كَانَ أَحَبُّ الثِّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقَمِيصَ» (رواه الترمذى وابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৯০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর স্মরণ এবং তার আকাঙক্ষা
২৯০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মৃত্যু হল মু'মিনের জন্য উপহার। (বায়হাকীর শু'আবুল ঈমান)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " تُحْفَةُ الْمُؤْمِنِ الْمَوْتُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ২৯০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিগফার গোটা উম্মতের জন্যে নিরাপত্তা স্বরূপ

উপরে বর্ণিত হাদীসদ্বয়ে ইস্তিগফারের যে বরকত সমূহের কথা উল্লেখিত হয়েছে, তা ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ের অর্থাৎ তার সুফল ইস্তিগফারী ব্যক্তিরাই কেবল লাভ করবেন। পক্ষান্তরে নিম্নে বর্ণিত হাদীসের দ্বারা জানা যাবে যে, এই ব্যক্তিগত বরকত ছাড়াও ইস্তিগফারকারীদের ইস্তিগফারের এক বহু বড় এবং ব্যাপক বরকত এই যে. তা গোটা উম্মতের জন্যে ব্যাপক আযাব ও গযব থেকে নিরাপত্তা স্বরূপ এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর গোটা উম্মত এরই ছায়াতলে অবস্থান করেছে।
২৯০. হযরত আবূ মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমার উম্মতের জন্যে দু'টি নিরাপত্তা আমার প্রতি নাযিল করেছেন।
(সূরা আনফালে বলা হয়েছেঃ)
وَمَا كَانَ اللّٰهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَاَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللّٰهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ.
"আল্লাহ তা'আলা এমনটি করবেন না যে, হে রাসূল, আপনি তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকবেন আর আল্লাহ্ আযাব নাযিল করবেন; আর এমনটিও হতে পারে না যে, তারা ইস্তিগফার করতে থাকবে আর আল্লাহ্ তাদেরকে আযাবে লিপ্ত করবেন।"
(তিনি বলেন): তারপর যখন আমি চলে যাব, তখন কিয়ামত পর্যন্ত কালের জন্যে তোমাদের মধ্যে (নিরাপত্তা ও রক্ষাকবচ স্বরূপ) ইস্তিগফার রেখে যাব।
-(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيَّ أَمَانَيْنِ لأُمَّتِي {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} فَإِذَا مَضَيْتُ تَرَكْتُ فِيهِمُ الاِسْتِغْفَارَ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ. (رواه الترمذى)