মা'আরিফুল হাদীস

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পোশাকে বিনয়-নম্রতার উপর পুরস্কার
২৮৭. হযরত মু'আয ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বিনয় প্রকাশের জন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মূল্যবান পোশাক ছেড়ে দেয় (এবং সাধারণ পোশাক পরে,) কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে এই এখতিয়ার দিবেন যে, সে ঈমানের জোড়াসমূহ থেকে যে জোড়া (পোশাক) পছন্দ করে, তাই যেন পরে নেয়। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ সুসংবাদ ঐসব বান্দার জন্য, যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা এত ধন-দৌলত দিয়েছেন যে, তারা খুবই উঁচু মানের ও মূল্যবান পোশাকও ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তারা এই পবিত্র মানসিকতার কারণে দামী পোশাক পরে না যে, এর কারণে অন্যদের উপর আমার প্রাধান্য ও বড়ত্ব প্রকাশ পাবে এবং হয়ত কোন গরীব ও অক্ষম বান্দা অন্তরে কষ্ট পাবে। নিঃসন্দেহে এটা বড়ই মুবারক ও পবিত্র মানসিকতা।

এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, যে বান্দারা এই মানসিকতার কারণে এরূপ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা সকল হাশরবাসীর সামনে তাদেরকে এ পুরস্কারে ভূষিত করবেন যে, ঈমানদার জান্নাতীদের জন্য যে উন্নততর পোশাক সেখানে মওজুদ থাকবে, তাদেরকে বলা হবে যে, এখান থেকে যে জোড়া তোমার পছন্দ হয়, সেটাই নিয়ে পরিধান কর।

একটি প্রশ্ন ও এর উত্তর
যদি কারো কারো মনে এ প্রশ্নের উদ্ভব হয় যে, মাত্র একটু আগেই আবুল আহ্ওয়াস ও আমর ইবনে শুআইবের দু'টি হাদীস অতিক্রান্ত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে অর্থ-সম্পদ ও সামর্থ্য থাকার অবস্থায় ভালো পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এখানে এ হাদীসে শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভালো পোশাক না পরার উপর বিরাট পুরস্কার ও সম্মান লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু এর পূর্বের আবূ উমামা বর্ণিত হাদীসে খুব গুরুত্ব ও জোর দিয়ে বলা হয়েছে: إن البذاذة من الإيمان إن البذاذة من الإيمان যার মর্ম এই যে, ভালো পোশাকের ব্যবস্থা না করা এবং সাধারণ লেবাসে সাধারণ মানুষের মত থাকা ঈমানের একটি শাখা।

প্রকৃতপক্ষে এ দু'কথার মধ্যে কোন বৈপরীত্য নেই; বরং এগুলোর প্রয়োগ ক্ষেত্র ভিন্ন ভিন্ন। আবুল আহ্ওয়াস ও আমর ইবনে শুআইব বর্ণিত হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, এর সম্বোধিত ব্যক্তি তারা, যারা আল্লাহর দেওয়া আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল কৃপণতা অথবা স্বভাবের উদাসীনতার কারণে জীর্ণদশায় থাকে, যেমন কাপড় তাদের ভাগ্যে জুটেইনি। এমন লোকদের জন্য বলা হয়েছে যে, যখন কোন বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ হয়, তখন তার থাকা-খাওয়া ও লেবাস পোশাকে এর লক্ষণ বুঝা চাই। অপরদিকে আবূ উমামা ও মু'আয ইবনে আনাস রাযি.-এর হাদীসে যাকিছু বলা হয়েছে, এর সম্বোধিত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তারা, যারা পোশাকের কৌলিন্যকে বেশী গুরুত্ব দেয় এবং এ ব্যাপারে বেশী ব্যবস্থাপনা ও লৌকিকতার আশ্রয় নেয়। যেন মানুষের মান-মর্যাদার মানদণ্ড এটাই।

সংশোধন প্রচেষ্টা ও প্রশিক্ষণের পদ্ধতি এটাই যে, যারা সীমালঙ্ঘন ও বাড়াবাড়ির রোগে আক্রান্ত তাদের সাথে তাদের অবস্থা অনুযায়ী এবং যারা সীমার নীচে অবস্থান করার রোগে আক্রান্ত তাদের সাথে তাদের অবস্থা অনুযায়ী সংশোধনের কথা বলা হবে। কোন ব্যক্তি যদি ক্ষেত্র ও সম্বোধিত লোকদের পার্থক্যকে সামনে না রাখে, তাহলে অনেক সময় সংশোধনকারীদের নির্দেশ ও উপদেশ সমূহের মধ্যে বৈপরীত্য অনুভব হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান