মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পোশাকের ব্যাপারে-ঐসব সীমারেখা ও বিধানের অনুসরণের সাথে, যা উপরের হাদীসসমূহ থেকে জানা গিয়েছে- ঐ ধরনের পোশাক পরতেন, যে ধরনের ও যে নমুনার পোশাকের ঐ যুগে তাঁর এলাকায় ও তাঁর সমাজে প্রচলিত ছিল। তিনি লুঙ্গি পরতেন, চাদর গায়ে দিতেন, কুর্তা পরিধান করতেন, পাগড়ী এবং টুপিও তাঁর মাথায় শোভা পেত। আর এসব কাপড় বেশীর ভাগ সাধারণ সূতী জাতীয় হত। কখনো কখনো অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের তৈরী এমন মূল্যবান জুব্বাও পরিধান করে নিতেন, যার উপর রেশমী ডোরা অথবা কারুকার্য থাকত। তেমনিভাবে কখনো কখনো অত্যন্ত সুন্দর ইয়ামানী চাদরও গায়ে জড়িয়ে নিতেন, যা ঐ যুগে সৌখিন লোকদের পোশাক ছিল।
এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, মৌখিক নির্দেশ ও উপদেশাবলী ছাড়া তিনি নিজের কর্মধারার মাধ্যমেও উম্মতকে এ শিক্ষাই দিয়েছেন যে, পানাহারের মত লেবাস পোশাকের ব্যাপারেও প্রশস্ততা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণের সাথে যে কোন ধরনের সাধারণ অথবা মূল্যবান পোশাক পরা যায়। আর প্রত্যেক অঞ্চল ও যুগের লোকদের জন্য অনুমতি রয়েছে যে, তারা শরী‘আত সীমারেখা ও বিধানকে সামনে রেখে নিজেদের আঞ্চলিক ও জাতীয় সুন্দর পোশাক পরতে পারবে।
এ কারণেই উম্মতের ঐসব মুক্তাকী ও পুণ্যবান লোকেরাও যাদের জীবনে সুন্নত অনুসরণের সীমাহীন গুরুত্ব ছিল- এটা জরুরী মনে করেননি যে, কেবল ঐ পোশাকই ব্যবহার করতে হবে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যবহার করতেন।
প্রকৃত প্রস্তাবে পোশাক এমন জিনিস যে, সভ্যতার উন্নতির সাথে এতে পরিবর্তন হয়ে আসছে এবং হতেই থাকবে। তেমনিভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যাবলী ও অন্যান্য কিছু বিষয়ও পোশাকের কাটিং ও ধরনের উপর প্রভাব ফেলে। এ জন্য এটা সম্ভব নয় যে, সারা দুনিয়ার মানুষের পোশাক একই ধরনের হবে অথবা কোন জাতির বা অঞ্চলের পোশাক সর্বদা একই থাকবে। এ জন্য শরী‘আত কোন বিশেষ প্রকার ও বিশেষ নমুনার পোশাককে অপরিহার্য করে দেয়নি। হ্যাঁ, এমন মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক অঞ্চলে সহজেই এগুলোর অনুসরণ করা যায়।
এই ভূমিকামূলক কয়েকটি লাইনের পর এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পোশাকের ব্যাপারে-ঐসব সীমারেখা ও বিধানের অনুসরণের সাথে, যা উপরের হাদীসসমূহ থেকে জানা গিয়েছে- ঐ ধরনের পোশাক পরতেন, যে ধরনের ও যে নমুনার পোশাকের ঐ যুগে তাঁর এলাকায় ও তাঁর সমাজে প্রচলিত ছিল। তিনি লুঙ্গি পরতেন, চাদর গায়ে দিতেন, কুর্তা পরিধান করতেন, পাগড়ী এবং টুপিও তাঁর মাথায় শোভা পেত। আর এসব কাপড় বেশীর ভাগ সাধারণ সূতী জাতীয় হত। কখনো কখনো অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের তৈরী এমন মূল্যবান জুব্বাও পরিধান করে নিতেন, যার উপর রেশমী ডোরা অথবা কারুকার্য থাকত। তেমনিভাবে কখনো কখনো অত্যন্ত সুন্দর ইয়ামানী চাদরও গায়ে জড়িয়ে নিতেন, যা ঐ যুগে সৌখিন লোকদের পোশাক ছিল।
এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, মৌখিক নির্দেশ ও উপদেশাবলী ছাড়া তিনি নিজের কর্মধারার মাধ্যমেও উম্মতকে এ শিক্ষাই দিয়েছেন যে, পানাহারের মত লেবাস পোশাকের ব্যাপারেও প্রশস্ততা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণের সাথে যে কোন ধরনের সাধারণ অথবা মূল্যবান পোশাক পরা যায়। আর প্রত্যেক অঞ্চল ও যুগের লোকদের জন্য অনুমতি রয়েছে যে, তারা শরী‘আত সীমারেখা ও বিধানকে সামনে রেখে নিজেদের আঞ্চলিক ও জাতীয় সুন্দর পোশাক পরতে পারবে।
এ কারণেই উম্মতের ঐসব মুক্তাকী ও পুণ্যবান লোকেরাও যাদের জীবনে সুন্নত অনুসরণের সীমাহীন গুরুত্ব ছিল- এটা জরুরী মনে করেননি যে, কেবল ঐ পোশাকই ব্যবহার করতে হবে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যবহার করতেন।
প্রকৃত প্রস্তাবে পোশাক এমন জিনিস যে, সভ্যতার উন্নতির সাথে এতে পরিবর্তন হয়ে আসছে এবং হতেই থাকবে। তেমনিভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যাবলী ও অন্যান্য কিছু বিষয়ও পোশাকের কাটিং ও ধরনের উপর প্রভাব ফেলে। এ জন্য এটা সম্ভব নয় যে, সারা দুনিয়ার মানুষের পোশাক একই ধরনের হবে অথবা কোন জাতির বা অঞ্চলের পোশাক সর্বদা একই থাকবে। এ জন্য শরী‘আত কোন বিশেষ প্রকার ও বিশেষ নমুনার পোশাককে অপরিহার্য করে দেয়নি। হ্যাঁ, এমন মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক অঞ্চলে সহজেই এগুলোর অনুসরণ করা যায়।
এই ভূমিকামূলক কয়েকটি লাইনের পর এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
২৮৮. আবূ বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. আমাদেরকে একটি দুই ভাজের মোটা চাদর ও একটি মোটা কাপড়ের লুঙ্গি বের করে দেখালেন এবং বললেন, এ দু'টি কাপড়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়েছিল। (অর্থাৎ, শেষ সময়ে তাঁর গায়ে এ দু'টি কাপড়ই ছিল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةُ كِسَاءً مُلَبَّدًا، وَإِزَارًا غَلِيظًا، فَقَالَتْ: «قُبِضَ رُوْحُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَيْنِ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে দুনিয়া থেকে বিদায়কালে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিহিত পোশাকের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যে, তা ছিল একটি কম্বল ও মোটা লুঙ্গি। এটা যেন তাঁর এক দু'আরই প্রতিফলন। তিনি দু'আ করতেন-
اللهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا, وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا, وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ المَسَاكِينِ يَوْمَ القِيَامَةِ
হে আল্লাহ! আমাকে গরীবরূপে জীবিত রাখুন, গরীবরূপে আমার মৃত্যু দিন এবং কিয়ামতের দিন গরীবদের দলেই আমার হাশর করুন।
তিনি সারা জীবন গরীব অবস্থায়ই কাটিয়েছেন। খাবার, পোশাক সব ক্ষেত্রেই সাদামাটাভাবে থেকেছেন। ওফাতকালে, যা কিনা তাঁর ইহজীবনের শেষ সময় এবং আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শুভযাত্রার সূচনা, গরীবানা পোশাকেই থেকেছেন। এভাবে জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি উম্মতের জন্য যুহদের শিক্ষা রেখে গেছেন, যাতে উম্মত গরীবানা অবস্থাকে পসন্দ করে, ঐশ্বর্যের জন্য লালায়িত না থাকে এবং গরীবদের ভালোবাসে, তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের জন্য লালায়িত হতে নেই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত থাকা উচিত।
اللهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا, وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا, وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ المَسَاكِينِ يَوْمَ القِيَامَةِ
হে আল্লাহ! আমাকে গরীবরূপে জীবিত রাখুন, গরীবরূপে আমার মৃত্যু দিন এবং কিয়ামতের দিন গরীবদের দলেই আমার হাশর করুন।
তিনি সারা জীবন গরীব অবস্থায়ই কাটিয়েছেন। খাবার, পোশাক সব ক্ষেত্রেই সাদামাটাভাবে থেকেছেন। ওফাতকালে, যা কিনা তাঁর ইহজীবনের শেষ সময় এবং আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য শুভযাত্রার সূচনা, গরীবানা পোশাকেই থেকেছেন। এভাবে জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি উম্মতের জন্য যুহদের শিক্ষা রেখে গেছেন, যাতে উম্মত গরীবানা অবস্থাকে পসন্দ করে, ঐশ্বর্যের জন্য লালায়িত না থাকে এবং গরীবদের ভালোবাসে, তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের জন্য লালায়িত হতে নেই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত থাকা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)