কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১১৬৫ টি

হাদীস নং: ১৩৭১
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭১. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে রমযান মাসের (রাতে) নামায আদায়ের ব্যপারে উৎসাহিত করতেন; তবে তিনি তা আদায়ের ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব (ফরয-ওয়াজিবের ন্যায়) আরোপ করতেন না। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাস ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় দণ্ডায়মান হয়ে তারাবীহ নামায আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পরেও এই নামাযের বিধান একইরূপ থাকে। অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালেও তদ্রূপ থাকে এবং উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও ঐরূপ ছিল।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ ثُمَّ يَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ رضى الله عنه . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُقَيْلٌ وَيُونُسُ وَأَبُو أُوَيْسٍ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ " . وَرَوَى عُقَيْلٌ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ " .
হাদীস নং: ১৩৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭২. মাখলাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এই হাদীসের সনদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে। আর যে ব্যক্তি “লায়লাতুল কদরে” ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভের জন্য নামায আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমুদয় (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ .
হাদীস নং: ১৩৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭৩. আল্-কানবী (রাহঃ) ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন। ঐ সময় তাঁর সাথে অন্যান্য লোকেরাও নামায আদায় করেন। পরবর্তীতে রাতে উক্ত নামায আদায় করাকালে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর তৃতীয় রাতেও লোকেরা উক্ত নামায (তারাবীহ) আদায় করার জন্য জমায়েত হলে সেদিন তিনি মসজিদে গমন করেন নাই।

অতঃপর প্রত্যুষে তিনি সকলকে লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমরা যা করেছ তা আমি অবলোকন করেছি। আমি একারণেই নামায জামাআতের সাথে আদায় করার জন্য আসি নাই যে, আমার ভয় হচ্ছিল তোমাদের উপর তা ফরয করা হয় কি না (তবে কষ্টকর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে)। এটা রমযান মাসের (তারাবীহ নামায আদায়ের) ঘটনা।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ " قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْكُمْ " . وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ .
হাদীস নং: ১৩৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭৪. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রমযান মাসে মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে নামায আদায় করত। ঐ সময় নবী করীম (ﷺ) একদা আমাকে মসজিদে মাদুর বিছিয়ে দিতে বলেন এবং তিনি তার উপর নামায আদায় করেন। অতঃপর রাবী পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করতে দিয়ে বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! আলহামদুলিল্লাহ! অদ্য রজনীতে আমি আল্লাহর ইবাদাত করতে গাফেল হই নাই এবং আমার নিকট তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই গোপন নাই।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ أَوْزَاعًا فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبْتُ لَهُ حَصِيرًا فَصَلَّى عَلَيْهِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَتْ فِيهِ قَالَ - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - " أَيُّهَا النَّاسُ أَمَا وَاللَّهِ مَا بِتُّ لَيْلَتِي هَذِهِ بِحَمْدِ اللَّهِ غَافِلاً وَلاَ خَفِيَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ " .
হাদীস নং: ১৩৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রমযান মাসে রোযাব্রত পালন করেছি। তিনি রমযান মাসের প্রথম দিকে (তারাবীহ নামায) আমাদের সাথে আদায় করেন নাই। অতঃপর উক্ত মাসের মাত্র সাতটি রাত অবশিষ্ট থাকতে তিনি আমাদের নিয়ে নামায (তারাবীহ) আদায় করেন; এভাবে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়। অতঃপর তিনি ষষ্ঠ রাতে (অর্থাৎ পরের রাত) আমাদের সাথে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন নাই। পরে পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের সাথে নামায আদায় করাকালে রাতের অর্ধাংশ অতিবাহিত করেন।

রাবী বলেনঃ ঐ সময় আমি তাঁকে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অদ্য রজনীতে আপনি যদি আমাদের সাথে সারা রাত নামায আদায় করতেন, তবে কত উত্তম হত। তখন তিনি বলেনঃ কেউ জামাআতের সাথে (ইশার নামায) আদায় করে ঘরে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে সারা রাতের জন্য নামাযী হিসাবে গণ্য করা হয়। রাবী বলেনঃ তিনি চতুর্থ রাতে (২৭শে রমযান) মসজিদে আসেন নাই (তারাবীর নামায আদায়ের জন্য)।

অতঃপর তৃতীয় রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও পরিবার-পরিজনদেরকে এবং অন্যান্য লোকদেরকে একত্রিত করে জামাআতের সাথে (তারাবীর) নামায আদায় করেন (এবং তার সময় এত দীর্ঘ হয় যে,) আমাদের আশঙ্কা হচ্ছিল যে, হয়ত আমারা “ফালাহ্”-র সুযোগ হারিয়ে ফেলব। রাবী বলেন, আমি তখন জিজ্ঞাসা করিঃ ‘ফালাহ’ কি? তিনি বলেনঃ সাহরী খাওয়া। অতঃপর তিনি উক্ত মাসের বাকী দিনগুলিতে (২৯ ও ৩০) আমাদের সাথে জামাআতে আর তারাবীহ আদায় করেন নাই।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ . قَالَ فَقَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ " . قَالَ فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلاَحُ . قَالَ قُلْتُ مَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ .
হাদীস নং: ১৩৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭৬. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রমযান মাসের (শেষ) দশ দিনে নবী করীম (ﷺ) সারা রাত জাগ্রত থাকতেন, স্ত্রীদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে জাগিয়ে দিতেন (ইবাদাতের জন্য)।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَدَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّ سُفْيَانَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، - وَقَالَ دَاوُدُ عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ، - عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَبُو يَعْفُورٍ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ .
হাদীস নং: ১৩৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।
১৩৭৭. আহমাদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রমযানের রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় গৃহ হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু লোক নামায আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এরা কি করছে? তাঁকে বলা হয়ঃ এদের কুরআন মুখস্ত না থাকায় তাঁরা উবাই ইবনে কা’বের (রাযিঃ) পিছনে (মুক্তাদী হিসাবে) তারাবীর নামায আদায় করছে। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তারা ঠিকই করছে।
كتاب الصلاة
باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أُنَاسٌ فِي رَمَضَانَ يُصَلُّونَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " مَا هَؤُلاَءِ " . فَقِيلَ هَؤُلاَءِ نَاسٌ لَيْسَ مَعَهُمْ قُرْآنٌ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي وَهُمْ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَصَابُوا وَنِعْمَ مَا صَنَعُوا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَيْسَ هَذَا الْحَدِيثُ بِالْقَوِيِّ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ ضَعِيفٌ .
হাদীস নং: ১৩৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৪. লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) এর বর্ণনা।
১৩৭৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... যির ইবনে হুবায়েশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, হে আবুল মুনযির! লায়লাতুল কদর সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। কেননা এ সম্পর্কে আমাদের সঙ্গী (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সারা বছর রাতে ইবাদাত করবে, সে তা প্রাপ্ত হবে। তিনি (কাব) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আবু আব্দুর রহমানের উপর রহম করুন! তিনি এটা অবগত আছেন যে, ‘শবে কদর’ রমযান মাসের মধ্যে নিহীত।

রাবী মুসাদ্দাদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেনঃ তিনি (ইবনে মাসুউদ) এটা প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। অতঃপর উভয় রাবী (সুলাইমান ও মুসাদ্দাদ) ঐক্যমতে পৌঁছে বলেনঃ আল্লাহ্ শপথ! এটা হল রমযানের ২৭ তারিখের রাত। উল্লেখ্য যে, তাঁরা তাঁদের এই শপথবাণী উচ্চারণের সময় ইনশাআল্লাহ ব্যবহার করেন নাই। রাবী বলেন, তখন আমি বলি, হে আবুল মুনযির! আপনি তা কিরূপে অবগত হতে পারলেন? তিনি বলেনঃ ঐ সমস্ত নিদর্শনাবলীর সাহায্যে আমরা জানতে পেরেছি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলে গিয়েছেন। রাবী আসেম তখন যির ইবনে হুবায়েশ (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ নিদর্শনাবলী কি? তিনি বলেনঃ সে রাতের প্রভাতের সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত তা নিষ্প্রভ থাকবে।
كتاب الصلاة
باب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، يَا أَبَا الْمُنْذِرِ فَإِنَّ صَاحِبَنَا سُئِلَ عَنْهَا . فَقَالَ مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْهَا . فَقَالَ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ - زَادَ مُسَدَّدٌ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يَتَّكِلُوا أَوْ أَحَبَّ أَنْ لاَ يَتَّكِلُوا ثُمَّ اتَّفَقَا - وَاللَّهِ إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ لاَ يَسْتَثْنِي . قُلْتُ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّى عَلِمْتَ ذَلِكَ قَالَ بِالآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ لِزِرٍّ مَا الآيَةُ قَالَ تُصْبِحُ الشَّمْسُ صَبِيحَةَ تِلْكَ اللَّيْلَةِ مِثْلَ الطَّسْتِ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ حَتَّى تَرْتَفِعَ .
হাদীস নং: ১৩৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৪. লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) এর বর্ণনা।
১৩৭৯. আহমাদ ইবনে হাফস (রাহঃ) ..... দুমরাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি বনু সালামার এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে আমিই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলাম। তাঁরা পরামর্শ করেন যে, আমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ‘লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে? এই মজলিস রমযান মাসের ২১ তারিখ সকালে অনুষ্ঠিত হয়। রাবী বলেনঃ তখন আমি (এটা জিজ্ঞাসার জন্য) বের হই এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায আদায় করি। নামায শেষে আমি তাঁর ঘরের সম্মুখে দণ্ডায়মান হই। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাবার সময় বলেনঃ ভিতরে প্রবেশ কর। আমি ভিতরে প্রবেশ করি। এই সময়ে তাঁর সম্মুখে রাতের খাবার হাযির করা হলে খাদ্যের পরিমাণ কম থাকায় আমি কম খেয়ছি।

অতঃপর তিনি খাওয়া শেষ করে বলেনঃ আমার জুতাগুলি দাও। তিনি দণ্ডায়মান হলে আমিও তাঁর সাথে দাঁড়াই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ নিশ্চয় তোমার কোন প্রয়োজন আছে। আমি বলিঃ বনী সালামার লোকেরা আপনার নিকট ‘লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য আমকে পাঠিয়েছে। তিনি বলেনঃ আজ কোন রজনী? আমি বলিঃ অদ্য রমযানের ২২তম রাত। তখন তিনি বলেনঃ আজকের রাত কদরের রাত। অতঃপর তিনি তা প্রত্যাহার করে বলেনঃ আগামী রাত এবং তিনি এর দ্বারা ২৩শে রমযানের রাতের প্রতি ইঙ্গিত করেন।
كتاب الصلاة
باب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسِ بَنِي سَلِمَةَ وَأَنَا أَصْغَرُهُمْ، فَقَالُوا مَنْ يَسْأَلُ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَذَلِكَ صَبِيحَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ . فَخَرَجْتُ فَوَافَيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ قُمْتُ بِبَابِ بَيْتِهِ فَمَرَّ بِي فَقَالَ " ادْخُلْ " . فَدَخَلْتُ فَأُتِيَ بِعَشَائِهِ فَرَآنِي أَكُفُّ عَنْهُ مِنْ قِلَّتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " نَاوِلْنِي نَعْلِي " . فَقَامَ وَقُمْتُ مَعَهُ فَقَالَ " كَأَنَّ لَكَ حَاجَةً " . قُلْتُ أَجَلْ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ رَهْطٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يَسْأَلُونَكَ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " كَمِ اللَّيْلَةُ " . فَقُلْتُ اثْنَتَانِ وَعِشْرُونَ قَالَ " هِيَ اللَّيْلَةُ " . ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ " أَوِ الْقَابِلَةُ " . يُرِيدُ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ .
হাদীস নং: ১৩৮০
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৪. লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) এর বর্ণনা।
১৩৮০. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলি, আমি দূরে বনভূমিতে অবস্থান করি এবং আল্লাহর ফযলে সেখানে নামাযও পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি সে রাতে আপনার মসজিদে এসে ইবাদাত করতে পারি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ২৩শে রমযানের রাতে আসবে।

মুহাম্মাদ ইবনে ইরাহীম (রাহঃ) বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, তোমর পিতা কিরূপ করতেন। তিনি বলেনঃ আমার পিতা রমযানের (২২ তারিখে) আসরের নামায আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের পর মসজিদের পাশে রক্ষিত তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে বনভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতেন।
كتاب الصلاة
باب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي بَادِيَةً أَكُونُ فِيهَا وَأَنَا أُصَلِّي فِيهَا بِحَمْدِ اللَّهِ فَمُرْنِي بِلَيْلَةٍ أَنْزِلُهَا إِلَى هَذَا الْمَسْجِدِ . فَقَالَ " انْزِلْ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ " . فَقُلْتُ لاِبْنِهِ كَيْفَ كَانَ أَبُوكَ يَصْنَعُ قَالَ كَانَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ فَلاَ يَخْرُجُ مِنْهُ لِحَاجَةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ الصُّبْحَ فَإِذَا صَلَّى الصُّبْحَ وَجَدَ دَابَّتَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَجَلَسَ عَلَيْهَا فَلَحِقَ بِبَادِيَتِهِ .
হাদীস নং: ১৩৮১
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৪. লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) এর বর্ণনা।
১৩৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে লায়লাতুল কদর অন্বেষণ করবে। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা তার অন্বেষণ কর- রমযানের ৯ দিন বাকী থাকতে, ৭ দিন অবশিষ্ট থাকতে অথবা ৫ দিন বাকী থাকতে।
كتاب الصلاة
باب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى وَفِي سَابِعَةٍ تَبْقَى وَفِي خَامِسَةٍ تَبْقَى " .
হাদীস নং: ১৩৮২
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৫. যারা বলেন, লাইলাতুল কদর একুশ রাতে।
১৩৮২. আল-কানবী (রাহঃ) ........... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণত রমযানের মধ্যম দশ দিনে ইতিকাফ করতেন। এরূপ তিনি (ﷺ) এক বছর ইতিকাফ করবার সময় রমযানের ২১শে রাতে, অর্থাৎ আমার সাথে ইতিকাফে শরীক হয়েছে সে যেন রমযানের শেষ দশ দিন ও ইতিকাফ করে এবং আমি লায়লাতুল-কদর দেখেছি, কিন্তু তা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেকে শবে কদরের সকালে কাদামাটির মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে অন্বেষন করবে।

রাবী আবু সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ উক্ত একুশের রাতে বৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন মসজিদের ছাদ খেজুর পাতার থাকায় তাতে পানি পড়েছিল। রাবী আবু সাঈদ (রাযিঃ) আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মোবারকে, নাকে ও চোখে ২১ তারিখের সকালে কাঁদামাটির চিহ্ন দেখতে পাই।
كتاب الصلاة
باب فِيمَنْ قَالَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ فَاعْتَكَفَ عَامًا حَتَّى إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ فِيهَا مِنَ اعْتِكَافِهِ قَالَ " مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفِ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ وَقَدْ رَأَيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ مِنْ صَبِيحَتِهَا فِي مَاءٍ وَطِينٍ فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ " . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَمُطِرَتِ السَّمَاءُ مِنْ تِلْكَ اللَّيْلَةِ وَكَانَ الْمَسْجِدُ عَلَى عَرِيشٍ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَبْصَرَتْ عَيْنَاىَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ أَثَرُ الْمَاءِ وَالطِّينِ مِنْ صَبِيحَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ .
হাদীস নং: ১৩৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৬. অন্য তারিখে শবে ক্কাদার হওয়া সম্পর্কে।
১৩৮৩. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ করবে এবং বিশেষ করে তার নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রজনীতে অন্বেষণ করবে।

আবু নাদর বলেনঃ তখন আমি বলি, হে আবু সাঈদ! আপনি তো আমাদের চাইতে গণনায় অধিক অভিজ্ঞ। জবাবে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। (রাবী বলেনঃ) আমি বলিঃ নবম, সপ্তম ও পঞ্চম কি? জবাবে তিনি বলেনঃ নবম রাত হল রমযানের একুশ তারিখের রাত্রি, সপ্তম হল, রমযানের তেইশ তারিখের রাত্রি এবং পঞ্চম রাত্রি হল, রমযানের পঁচিশ তারিখের রাত্রি (এটা অবশিষ্ট দিনের হিসাব মত গণনা)।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ " . قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّكُمْ أَعْلَمُ بِالْعَدَدِ مِنَّا . قَالَ أَجَلْ . قُلْتُ مَا التَّاسِعَةُ وَالسَّابِعَةُ وَالْخَامِسَةُ قَالَ إِذَا مَضَتْ وَاحِدَةٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا التَّاسِعَةُ وَإِذَا مَضَى ثَلاَثٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا السَّابِعَةُ وَإِذَا مَضَى خَمْسٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا الْخَامِسَةُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لاَ أَدْرِي أَخَفِيَ عَلَىَّ مِنْهُ شَىْءٌ أَمْ لاَ .
হাদীস নং: ১৩৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৭. এক বর্ণনায় আছে, শবে ক্কাদার সতের তারিখে।
১৩৮৪. হাকীম ইবনে সায়েফ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলেনঃ তোমরা তাকে (শবে কদর) রমযানের সতের, একুশ ও তেইশের রাতে অন্বেষণ কর। অতঃপর তিনি চুপ থাকেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَوَى أَنَّهَا، لَيْلَةُ سَبْعَ عَشْرَةَ
حَدَّثَنَا حَكِيمُ بْنُ سَيْفٍ الرَّقِّيُّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اطْلُبُوهَا لَيْلَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ مِنْ رَمَضَانَ وَلَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَلَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ " . ثُمَّ سَكَتَ .
হাদীস নং: ১৩৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৮. শবে ক্কাদার রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়া সম্পর্কে।
১৩৮৫. আল-কানবী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা শবে কদরকে রমযানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অন্বেষণ কর।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَوَى فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .
হাদীস নং: ১৩৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩২৯. সাতাশে রমাযান শবেকদর অনুষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে।
১৩৮৬. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে শবে কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ রমযানের ২৭ তারিখ হল লাইলাতুল কদর।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ سَبْعٌ وَعِشْرُونَ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُطَرِّفًا، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ قَالَ " لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ " .
হাদীস নং: ১৩৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩৩০. শবে কদর রমযানের যে কোন রাতে হওয়া সম্পর্কে।
১৩৮৭. হুমায়েদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে শবে কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার সময় আমি তা শ্রবণ করি। তিনি বলেনঃ সেটা তো (শবে কদর) রমযানের প্রতিটি রাতের মধ্যে নিহিত আছে (অর্থাৎ এর কোন এক রাতে তা নিহিত আছে)।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُويَهْ النَّسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ لَمْ يَرْفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
হাদীস নং: ১৩৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩৩১. কুরআন মাজিদ কত দিনে খতম করতে হবে সে সম্পর্কে।
১৩৮৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম এবং মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বলেনঃ এর চাইতে কম সময়ে খতম করার সামর্থ্য আমার আছে। তখন তিনি বলেনঃ তবে বিশ দিনে খতম করবে। তিনি (ইবনে আমর) বলেনঃ এর চাইতেও কম সময়ে আমি তা খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তাহলে পনের দিনে খতম করবে। আবার আমি বলিঃ এর চাইতেও কম সময়ে তা খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে দশ দিনে খতম করবে। পুনরায় আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে সাত দিনে খতম করবে এবং এর চাইতে কম দিনে খতম করবে না।
كتاب الصلاة
باب فِي كَمْ يُقْرَأُ الْقُرْآنُ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي عِشْرِينَ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي خَمْسَ عَشْرَةَ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي عَشْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي سَبْعٍ وَلاَ تَزِيدَنَّ عَلَى ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ مُسْلِمٍ أَتَمُّ .
হাদীস নং: ১৩৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩৩১. কুরআন মাজিদ কত দিনে খতম করতে হবে সে সম্পর্কে।
১৩৮৯. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে এবং প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করবে। সময়ের ব্যাপারে তাঁর ও আমার মধ্যে মতভেদ হলে তিনি বলেন, তুমি এক দিন রোযা রাখবে এবং পরদিন ইফতার করবে (অর্থাৎ রোযা রাখবে না।)

রাবী আতা বলেনঃ আমার পিতার সাথে আমাদের এ সম্পর্কে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে যে, কেউ বলেছেন সাত দিনে এবং কেউ বলেছেন পাঁচ দিনে কুরআন খতম করবে।
كتاب الصلاة
باب فِي كَمْ يُقْرَأُ الْقُرْآنُ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَاقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ " . فَنَاقَصَنِي وَنَاقَصْتُهُ فَقَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا " . قَالَ عَطَاءٌ وَاخْتَلَفْنَا عَنْ أَبِي فَقَالَ بَعْضُنَا سَبْعَةَ أَيَّامٍ وَقَالَ بَعْضُنَا خَمْسًا .
হাদীস নং: ১৩৯০
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩৩১. কুরআন মাজিদ কত দিনে খতম করতে হবে সে সম্পর্কে।
১৩৯০. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কুরআন কত দিনে খতম করব? তিনি বলেনঃ এক মাসে। আমি বলিঃ আমি এর চাইতে কম সময়ে খতম করতে সামর্থ রাখি। অতঃপর তাঁর সাথে আলাপ-আলোচনার পর তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে সাত দিনে খতম করতে নির্দেশ দেন। আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে সক্ষম। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করেছে, সে (কুরআন) হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب فِي كَمْ يُقْرَأُ الْقُرْآنُ
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَمْ أَقْرَأُ الْقُرْآنَ قَالَ " فِي شَهْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ - يُرَدِّدُ الْكَلاَمَ أَبُو مُوسَى - وَتَنَاقَصَهُ حَتَّى قَالَ " اقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ " . قَالَ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " لاَ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَهُ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلاَثٍ " .