কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
كتاب السنن للإمام أبي داود
২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১১৬৫ টি
হাদীস নং: ১১৭১
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭১. আল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিজের দুই হাত বেশ উপরে তুলে পানি বর্ষণের জন্য দুআ করেন। তিনি ওই সময় তাঁর হাতের ভিতরের দিক (সামনের অংশ) মাটির দিকে রাখেন, ফলে আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْتَسْقِي هَكَذَا يَعْنِي وَمَدَّ يَدَيْهِ وَجَعَلَ بُطُونَهُمَا مِمَّا يَلِي الأَرْضَ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ″আহজার আয-যায়েত″ নামক স্থানে ইস্তিস্কার নামায আদায় কালে নবী করীম (ﷺ)-কে উপরের দিকে দুই হাত তুলে দুআ করতে যারা দেখেছেন, তাঁরা আমাকে এই হাদীস অবহিত করেছেন।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنِي مَنْ، رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ بَاسِطًا كَفَّيْهِ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১১৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭৩. হারুন ইবনে সাইদ আল-আয়লি (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করে। তখন তিনি ময়দানে মিম্বর স্থাপনের নির্দেশ দিলে তা স্থাপিত হয়। তিনি দিন ক্ষণ ঠিক করে সকলের নিকট থেকে ময়দানে যাওয়ার ওয়াদা নেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সেদিন সূর্য উঠা আরম্ভ হতেই নবী করীম (ﷺ) ময়দানে গিয়ে উক্ত মিম্বরে আরোহণ করে সর্বপ্রথম তাকবীর বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহর প্রশংসা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করেছ। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা দিয়েছেনঃ ″যদি তোমরা তাঁর নিকট দুআ কর, তবে তিনি তা কবুল করবেন″।
অতঃপর তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের রব। তিনি পরম দাতা মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। ইয়া আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া আর কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আমরা ফকির। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে সবসময় খাদ্যশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর তিনি উভয় হাত এত উপরে উত্তোলন করেন যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।
অতঃপর তিনি লোকদের প্রতি পীঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়য়ও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরণের পর দুই রাকআত নামায আদায় করলেন। এই সময় আল্লাহ তাআলা আকাশে মেঘের সঞ্চার করেন এবং তার গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী করীম (ﷺ) মসজিদে নববীতে আসার পূর্বে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে আদ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যস্ত-সমস্ত হতে দেখেন, তখন এমন ভাবে হেসে দেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর উপর অধিক ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের রব। তিনি পরম দাতা মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। ইয়া আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া আর কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আমরা ফকির। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে সবসময় খাদ্যশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর তিনি উভয় হাত এত উপরে উত্তোলন করেন যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।
অতঃপর তিনি লোকদের প্রতি পীঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়য়ও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরণের পর দুই রাকআত নামায আদায় করলেন। এই সময় আল্লাহ তাআলা আকাশে মেঘের সঞ্চার করেন এবং তার গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী করীম (ﷺ) মসজিদে নববীতে আসার পূর্বে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে আদ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যস্ত-সমস্ত হতে দেখেন, তখন এমন ভাবে হেসে দেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর উপর অধিক ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ نِزَارٍ، حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ شَكَى النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُحُوطَ الْمَطَرِ فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَبَّرَ صلى الله عليه وسلم وَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ قَالَ " إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ دِيَارِكُمْ وَاسْتِئْخَارَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَدْعُوهُ وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ " . ثُمَّ قَالَ " ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلاَغًا إِلَى حِينٍ " . ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ فِي الرَّفْعِ حَتَّى بَدَا بَيَاضُ إِبْطَيْهِ ثُمَّ حَوَّلَ عَلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ وَقَلَّبَ أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَنْشَأَ اللَّهُ سَحَابَةً فَرَعَدَتْ وَبَرَقَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللَّهِ فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَهُ حَتَّى سَالَتِ السُّيُولُ فَلَمَّا رَأَى سُرْعَتَهُمْ إِلَى الْكِنِّ ضَحِكَ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ فَقَالَ " أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ وَأَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادُهُ جَيِّدٌ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَقْرَءُونَ ( مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) وَإِنَّ هَذَا الْحَدِيثَ حُجَّةٌ لَهُمْ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় একবার মদীনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঐ সময় জুমআর নামাযে বক্তৃতা দেয়াকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনাবৃষ্টির জন্য উট বকরী ইত্যাদি প্রায় ধংসোম্মুখ। আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দুআ করুন। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে দুআ করেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি দুআ করার পূর্বে আকাশ সচ্ছ ও রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল (এবং দুআর পর) বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং মেঘমালা একত্রিত হয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত হতে থাকে।
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করি এবং একাধারে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকে। সেদিন ঐ ব্যক্তি অথবা অন্য কোন ব্যক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বসে যাচ্ছে, আপনি তা বন্ধের জন্য দুআ করুন। তখন তিনি মুচকি হেসে দুআ করেনঃ (ইয়া আল্লাহ) তা (মেঘমালা) আমাদের উপর হতে অন্য দিকে সরিয়ে নাও।
রাবী বলেন, এই সময় আমি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পাই যে, পুঞ্জীভূত মেঘমালা মদীনার আকাশ হতে সরে গিয়ে চতুর্দিকে গোলাকার ধারণ করেছে।
রাবী বলেন, অতঃপর আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করি এবং একাধারে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকে। সেদিন ঐ ব্যক্তি অথবা অন্য কোন ব্যক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বসে যাচ্ছে, আপনি তা বন্ধের জন্য দুআ করুন। তখন তিনি মুচকি হেসে দুআ করেনঃ (ইয়া আল্লাহ) তা (মেঘমালা) আমাদের উপর হতে অন্য দিকে সরিয়ে নাও।
রাবী বলেন, এই সময় আমি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পাই যে, পুঞ্জীভূত মেঘমালা মদীনার আকাশ হতে সরে গিয়ে চতুর্দিকে গোলাকার ধারণ করেছে।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَيُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَصَابَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ قَحْطٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُوَ يَخْطُبُنَا يَوْمَ جُمُعَةٍ إِذْ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْكُرَاعُ هَلَكَ الشَّاءُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَسْقِيَنَا فَمَدَّ يَدَيْهِ وَدَعَا قَالَ أَنَسٌ وَإِنَّ السَّمَاءَ لَمِثْلُ الزُّجَاجَةِ فَهَاجَتْ رِيحٌ ثُمَّ أَنْشَأَتْ سَحَابَةً ثُمَّ اجْتَمَعَتْ ثُمَّ أَرْسَلَتِ السَّمَاءُ عَزَالِيَهَا فَخَرَجْنَا نَخُوضُ الْمَاءَ حَتَّى أَتَيْنَا مَنَازِلَنَا فَلَمْ يَزَلِ الْمَطَرُ إِلَى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى فَقَامَ إِلَيْهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَوْ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَحْبِسَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا " . فَنَظَرْتُ إِلَى السَّحَابِ يَتَصَدَّعُ حَوْلَ الْمَدِينَةِ كَأَنَّهُ إِكْلِيلٌ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭৫. ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। অতঃপর রাবী হাদীসটি আব্দুল আযীযের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হস্তদ্বয় মুখমণ্ডল পর্যন্ত উঠিয়ে বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ بِحِذَاءِ وَجْهِهِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِنَا " . وَسَاقَ نَحْوَهُ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।
১১৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ও সাহল ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামাযের সময় বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দা ও পশু পক্ষীদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ কর। তোমার রহমত বিস্তৃত কর এবং তোমার মৃত ভূমিকে (শুষ্ক জমিনকে) জীবিত (সুজলা সুফলা উর্বর) করে দাও। এটা মালিক বর্ণিত হাদীসের মতন (মূল পাঠ)।
كتاب الصلاة
باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ح وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَسْقَى قَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهَائِمَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْىِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ " . هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ مَالِكٍ .
হাদীস নং: ১১৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৬. কুসুফের (সূর্যগ্রহণের সময়) নামায।
১১৭৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের সাথে নামায (কুসুফ) আদায়কালে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি রুকু করে দণ্ডায়মান হন, পুনঃ রুকু করে দাঁড়ান এবং পরে রুকু করে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। এভাবে তিনি প্রত্যেক নামাযে তিনবার রুকু করার পর সিজদায় যান। সেদিন দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে যায় এবং তাদের মাথায় পানি ঢালতে হয়। তিনি রুকুতে যেতে ″আল্লাহু আকবার″ বলতেন এবং রুকু থেকে উঠার সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন। এইরূপে নামায শেষ করার মধ্যেই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম মৃত্যুর কারণে সংগঠিত হয়না, বরং তা আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাবলির অন্যতম দুইটি নিদর্শন। আল্লাহ এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। তিনি আরও বলেনঃ যখন সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে তখন তোমরা দ্রুত নামায আদায়ে মনোনিবেশ করবে।
كتاب الصلاة
باب صَلاَةِ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَخْبَرَنِي مَنْ، أُصَدِّقُ وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُرِيدُ عَائِشَةَ قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قِيَامًا شَدِيدًا يَقُومُ بِالنَّاسِ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثَلاَثُ رَكَعَاتٍ يَرْكَعُ الثَّالِثَةَ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى إِنَّ رِجَالاً يَوْمَئِذٍ لَيُغْشَى عَلَيْهِمْ مِمَّا قَامَ بِهِمْ حَتَّى إِنَّ سِجَالَ الْمَاءِ لَتُصَبُّ عَلَيْهِمْ يَقُولُ إِذَا رَكَعَ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . وَإِذَا رَفَعَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . حَتَّى تَجَلَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ فَإِذَا كُسِفَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৭৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে তাঁর প্রিয় পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর দিন সূর্যগ্রহণ হলে লোকেরা বলাবলি করতে থাকে যে, ইবরাহীমের ইন্তিকালের ফলে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। নবী করীম (ﷺ) লোকদের নিয়ে ছয়টি রুকু ও চারটি সিজদাহ সহকারে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। তিনি ″আল্লাহু আকবার″ বলে তাহরিমা বাঁধার পর দীর্ঘক্ষণব্যাপী কিরাত পাঠের পর রুকুতে গিয়ে অনুরূপ সময় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি মাথা তলার পর পূর্বের কিরাতের চেয়ে ছোট কিরাত পাঠ করে পুনরায় রুকুতে যান এবং দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সময় রুকুতে থাকার পর পুনরায় মাথা উঠিয়ে দ্বিতীয় বারের চেয়ে আরও ছোট সূরা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত করে মাথা তোলেন এবং পরে সিজদায় যান।
তিনি দুইটি সিজদা করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং এখানেও তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তিনটি রুকু করেন। তাঁর দ্বিতীয় রাকআতের (দাঁড়ানোর) সময়ও দীর্ঘ ছিল, কিন্তু তার পরিমাণ প্রথম কিয়ামের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিয়ামের সময় যথাক্রমে কম ছিল এবং তাঁর রুকুতে অবস্থানের সময় কিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর দাঁড়ানোর স্থান হতে পেছনে সরে আসেন, যার ফলে মুসল্লীদের কাতার কিছুটা পিছনের দিকে সরে যায়। পুনরায় তিনি সস্থানে আসেন, এবং মুসল্লীগণও স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসেন। এবং এইরূপে নামায শেষ করার মুহূর্তে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি ইরশাদ করেনঃ হে লোকগণ! নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহ তাআলার মহান নিদর্শনাবলির অন্যতম। এরা কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে রাহুগ্রস্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নামাযে রত থাকবে। এইরূপে হাদীসের বাকি অংশ বর্ণিত হয়েছে।
তিনি দুইটি সিজদা করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং এখানেও তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তিনটি রুকু করেন। তাঁর দ্বিতীয় রাকআতের (দাঁড়ানোর) সময়ও দীর্ঘ ছিল, কিন্তু তার পরিমাণ প্রথম কিয়ামের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিয়ামের সময় যথাক্রমে কম ছিল এবং তাঁর রুকুতে অবস্থানের সময় কিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর দাঁড়ানোর স্থান হতে পেছনে সরে আসেন, যার ফলে মুসল্লীদের কাতার কিছুটা পিছনের দিকে সরে যায়। পুনরায় তিনি সস্থানে আসেন, এবং মুসল্লীগণও স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসেন। এবং এইরূপে নামায শেষ করার মুহূর্তে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি ইরশাদ করেনঃ হে লোকগণ! নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহ তাআলার মহান নিদর্শনাবলির অন্যতম। এরা কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে রাহুগ্রস্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নামাযে রত থাকবে। এইরূপে হাদীসের বাকি অংশ বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ ذَلِكَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّاسُ إِنَّمَا كُسِفَتْ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ ابْنِهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ كَبَّرَ ثُمَّ قَرَأَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الثَّالِثَةَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَانْحَدَرَ لِلسُّجُودِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلاَّ الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا إِلاَّ أَنَّ رُكُوعَهُ نَحْوٌ مِنْ قِيَامِهِ قَالَ ثُمَّ تَأَخَّرَ فِي صَلاَتِهِ فَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَامَ فِي مَقَامِهِ وَتَقَدَّمَتِ الصُّفُوفُ فَقَضَى الصَّلاَةَ وَقَدْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ بَشَرٍ فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى تَنْجَلِيَ " . وَسَاقَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১১৭৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৭৯. মুয়াম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীদের নিয়ে নামায শুরু করেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় নামাযে দণ্ডায়মান থাকেন যে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, অতঃপর রুকু হতে উঠে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর রুকুতে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। অতঃপর মাথা তুলে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে দুটি সিজদাহ করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং তাতেও প্রথম রাকআতের অনুরূপ রুকু সিজদা করেন। তিনি এই দুই রাকআত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন। এইরূপে পূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْحَرِّ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصْحَابِهِ فَأَطَالَ الْقِيَامَ حَتَّى جَعَلُوا يَخِرُّونَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ نَحْوًا مِنْ ذَلِكَ فَكَانَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮০
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮০. ইবনুস সারহ (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি মসজিদে যান। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করেন। এ সময় লোকেরা তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠের পর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান এবং বহুক্ষণ রুকুতে অতিবাহিত করার পর ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ″ বলে রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ান।
এসময় তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের কিরাত হতে সংক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের রুকু হতে কম ছিল। অতঃপর তিনি ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ″ বলে দণ্ডায়মান হন (এবং পরে দুইটি সিজদা আদায় করেন)। এইরূপে তিনি দ্বিতীয় রাকআতও আদায় করেন। তিনি দুই রাকআত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন এবং নামায শেষ করে ফেরার পূর্বেই সূর্য রাহুমুক্ত হয়ে যায়।
এসময় তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের কিরাত হতে সংক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের রুকু হতে কম ছিল। অতঃপর তিনি ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ″ বলে দণ্ডায়মান হন (এবং পরে দুইটি সিজদা আদায় করেন)। এইরূপে তিনি দ্বিতীয় রাকআতও আদায় করেন। তিনি দুই রাকআত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন এবং নামায শেষ করে ফেরার পূর্বেই সূর্য রাহুমুক্ত হয়ে যায়।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ وَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَاقْتَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮১
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮১. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যগ্রহণ কালে নামায আদায় করেছেন। অতঃপর রাবী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি দুই রাকআত কুসূফের নামাযের প্রতি রাকআতে দুইটি করে রুকূ করেছেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ مِثْلَ حَدِيثِ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ رَكْعَتَيْنِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮২
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮২. আহমাদ ইবনুল ফুরাত (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীগণকে নিয়ে নামায আদায় করেন। তিনি এই নামাযে সুদীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। তিনি প্রথম রাকআতে পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন এবং দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ে দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন এবং পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হয়ে বসে দুআ করতে করতে সূর্য রাহুমুক্ত হয়।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ بْنِ خَالِدٍ أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحُدِّثْتُ عَنْ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، - وَهَذَا لَفْظُهُ وَهُوَ أَتَمُّ - عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ فَقَرَأَ بِسُورَةٍ مِنَ الطُّوَلِ وَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتٍ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ الثَّانِيَةَ فَقَرَأَ سُورَةً مِنَ الطُّوَلِ وَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتٍ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ كَمَا هُوَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ يَدْعُو حَتَّى انْجَلَى كُسُوفُهَا .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১১৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) কুসুফের নামায আদায়কালে দণ্ডায়মান হয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকু করেন। পরে তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান এবং শেষে সিজদা করেন। অতঃপর তিনি সিজদা শেষে দ্বিতীয় রাকআত অনুরূপভাবে আদায় করেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ وَالأُخْرَى مِثْلُهَا .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮৪. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... বসরার অধিবাসী সালাবা ইবনে আব্বাদ আল-আব্দি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) এর ভাষণ শুনেছিলেন। তিনি বলেন, সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) বলেন, আমি এবং একজন আনসার যুবক নির্ধারিত স্থানে তীর চালনা করছিলাম। এসময় সূর্য যখন দুই তিন তীর পরিমাণ উপরে উঠেছিল, তখন তা দর্শকের চোখে তানুমা ঘাসের ন্যায় বিবর্ণ হয়ে যায়। তখন আমরা পরস্পরকে বলি, চল আমরা মসজিদে যাই। আল্লাহর শপথ! সূর্যের এই কাল হওয়াটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উম্মতের উপর কোন বিপদ সংগঠিত হতে যাচ্ছে।
রাবী বলেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, তিনি বের হয়ে আসছেন। তিনি ইমামতির স্থানে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করেন এবং আমরাও তাঁর সাথে শরীক হই। তিনি উক্ত নামাযে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন যে, ইতিপূর্বে কোন নামাযে এত দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন নি। আমরা তাঁর কিরাত পাঠের কোন শব্দ শুনি নাই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি রুকুতেও এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে ইতিপূর্বে কখনও এরূপ করেন নি। এসময়ও আমরা কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যা ইতিপূর্বের কোন সিজদায় করেন নি এবং এসময়ও আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি নামাযের দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপ ভাবে আদায় করেন।
রাবী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে থাকাকালীন সূর্য রাহুমক্ত হয়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসায় বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) মহানবী (ﷺ) এর ভাষণের বর্ণনা দেন।
রাবী বলেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, তিনি বের হয়ে আসছেন। তিনি ইমামতির স্থানে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করেন এবং আমরাও তাঁর সাথে শরীক হই। তিনি উক্ত নামাযে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন যে, ইতিপূর্বে কোন নামাযে এত দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন নি। আমরা তাঁর কিরাত পাঠের কোন শব্দ শুনি নাই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি রুকুতেও এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে ইতিপূর্বে কখনও এরূপ করেন নি। এসময়ও আমরা কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যা ইতিপূর্বের কোন সিজদায় করেন নি এবং এসময়ও আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি নামাযের দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপ ভাবে আদায় করেন।
রাবী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে থাকাকালীন সূর্য রাহুমক্ত হয়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসায় বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) মহানবী (ﷺ) এর ভাষণের বর্ণনা দেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنِي ثَعْلَبَةُ بْنُ عِبَادٍ الْعَبْدِيُّ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ أَنَّهُ شَهِدَ خُطْبَةً يَوْمًا لِسَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ سَمُرَةُ بَيْنَمَا أَنَا وَغُلاَمٌ مِنَ الأَنْصَارِ نَرْمِي غَرَضَيْنِ لَنَا حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ قِيدَ رُمْحَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ فِي عَيْنِ النَّاظِرِ مِنَ الأُفُقِ اسْوَدَّتْ حَتَّى آضَتْ كَأَنَّهَا تَنُّومَةٌ فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَاللَّهِ لَيُحْدِثَنَّ شَأْنُ هَذِهِ الشَّمْسِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُمَّتِهِ حَدَثًا قَالَ فَدَفَعْنَا فَإِذَا هُوَ بَارِزٌ فَاسْتَقْدَمَ فَصَلَّى فَقَامَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا قَامَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا قَالَ ثُمَّ رَكَعَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا رَكَعَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا ثُمَّ سَجَدَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا سَجَدَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ فَوَافَقَ تَجَلِّي الشَّمْسِ جُلُوسَهُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَشَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَشَهِدَ أَنَّهُ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ سَاقَ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ خُطْبَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... কাবীসা আল হিলালি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে একদা সূর্যগ্রহণ হয়। এ সময় তিনি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এত দ্রুত বের হয়ে আসেন যে, তাঁর চাদর মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল এবং এ সময় মদীনাতে আমি তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি দুই রাকআত নামায আদায় করেন, যাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। তাঁর নামায শেষ করার সময় সূর্যগ্রহণও শেষ হয়। তখন তিনি বলেন, এটা আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। যখন তোমরা এরূপ হতে দেখবে তখন দ্রুত তোমাদের সর্বশেষ ফরয নামাযের ন্যায় নামায আদায় করবে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ الْهِلاَلِيِّ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَئِذٍ بِالْمَدِينَةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَانْجَلَتْ فَقَالَ " إِنَّمَا هَذِهِ الآيَاتُ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهَا فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَصَلُّوا كَأَحْدَثِ صَلاَةٍ صَلَّيْتُمُوهَا مِنَ الْمَكْتُوبَةِ " .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১১৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।
১১৮৬. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... হিলাল ইবনে আমের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। কাবিসা আল হিলালি (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে ......... অতঃপর মুসা ইবনে ইবরাহীমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আরও আছে যে, সে সময় এমনভাবে সূর্যগ্রহণ হয় যার ফলে আকাশের নক্ষত্রমণ্ডলী দৃষ্টিগোচর হতে থাকে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ قَبِيصَةَ الْهِلاَلِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ الشَّمْسَ كُسِفَتْ بِمَعْنَى حَدِيثِ مُوسَى قَالَ حَتَّى بَدَتِ النُّجُومُ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১১৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৮. কুসুফের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।
১১৮৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের নিয়ে বের হয়ে নামায আদায় করেন। নামাযে তিনি যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারণা মতে তা ছিল সূরা বাকারা। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে .... তিনি সিজদায় গিয়ে দুইটি সিজদা আদায়ের পর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকআতে যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারণামতে তা ছিল সূরা আলে ইমরান।
كتاب الصلاة
باب الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، كُلُّهُمْ قَدْ حَدَّثَنِي عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَقَامَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ - وَسَاقَ الْحَدِيثَ - ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ آلِ عِمْرَانَ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৮. কুসুফের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।
১১৮৮. আল আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুসুফের নামায আদায়কালে উচ্চস্বরে দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন।
كتاب الصلاة
باب الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً فَجَهَرَ بِهَا يَعْنِي فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ১১৮৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৮. কুসুফের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।
১১৮৯. আল কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনগণের সাথে নামায আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হন। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে, সম্ভবত তিনি সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকু করেন ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
كتاب الصلاة
باب الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - كَذَا عِنْدَ الْقَاضِي وَالصَّوَابُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - قَالَ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ مَعَهُ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً بِنَحْوٍ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثُمَّ رَكَعَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৯০
আন্তর্জাতিক নং: ১১৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬৯. কুসুফের নামাযের জন্য আহবান করা।
১১৯০. আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ শুরু হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে লোকদের নামাযের জন্য ডাকতে বলেন। ঐ ব্যক্তি নামায জামাআতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আহবান করেন।
كتاب الصلاة
باب يُنَادَى فِيهَا بِالصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ فَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَنَادَى أَنَّ الصَّلاَةَ جَامِعَةٌ .
তাহকীক: