কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১১৬৫ টি

হাদীস নং: ৪১১
আন্তর্জাতিক নং: ৪১১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬. মধ্যবর্তী নামায (সালাতুল উসতা)।
৪১১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... যায়দ ইবনে ছাবেত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুসুল্লাহ (ﷺ) সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর যোহরের নামায প্রচন্ড গরম থাকাবস্থায় আদায় করতেন। সাহাবীদের জন্য এই নামাযের চাইতে কষ্টদায়ক (প্রচন্ড গরমের কারণে) অন্য কোন নামায ছিল না। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমরা নামাযসমূহের হেফাযত কর, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাযের”। তিনি বলেন, এর পূর্বে দুই ওয়াক্ত ও পরে দুই ওয়াক্তের নামায আছে।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الزِّبْرِقَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي صَلاَةً أَشَدَّ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا فَنَزَلَتْ ( حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى ) وَقَالَ " إِنَّ قَبْلَهَا صَلاَتَيْنِ وَبَعْدَهَا صَلاَتَيْنِ " .
হাদীস নং: ৪১২
আন্তর্জাতিক নং: ৪১২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭. যে ব্যক্তি (সূর্যাস্তের পূর্বে) এক রাকআত নামায পড়তে পারবে, সে যেন পুরা নামায পেয়ে গেল।
৪১২. আল-হাসান-ইবনুর-রাবী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাকআত আদায় করতে সক্ষম হয়েছে- সে যেন পুরা নামায (ওয়াক্তের মধ্যে) আদায় করল (এবং তা কাযা গণ্য হবে না)। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাকআত আদায় করতে পারল সে যেন পুরা নামাযই (ওয়াক্ত থাকতেই) আদায় করল।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ " .
হাদীস নং: ৪১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৮. সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের নামায আদায়ে বিলম্ব করা সম্পর্কে।
৪১৩. আল্-কানবী .... আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহরের নামায আদায়ের পর আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি আসরের নামায আদায় করছেন। তাঁর নামায সমাপ্তির পর আমরা তাকে বললাম, নামায বেশী আগে আদায় করা হয়েছে। অথবা (আনাস) নিজেই নামায আগে আদায়ের কারণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি (আনাস) বলেন, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায। এদের কেউ বসে থাকে অতঃপর সূর্যের রং যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের উভয় শিংয়ের উপর অবস্থান করে (সূর্য অস্তগামী হয়) তখন সে নামায আদায় করার জন্য দণ্ডায়মান হয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে থাকে (অতি দ্রুত নামায সম্পন্ন করে, যাতে রুকু-সিজদা ঠিক মত আদায় হয় না) এবং সে ঐ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলার যিক্‌র অতি সামান্যই করে থাকে।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلاَةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ فَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ أَوْ عَلَى قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً " .
হাদীস নং: ৪১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৯. আসরের নামায পরিত্যাগকারী সম্পর্কে।
৪১৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায হারাল (পড়ল না) সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধনসস্পদ সব থেকে বঞ্চিত হল।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ " أُتِرَ " . وَاخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وُتِرَ " .
হাদীস নং: ৪১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৯. আসরের নামায পরিত্যাগকারী সম্পর্কে।
৪১৫. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... আবু আমর আল্-আওযাঈ (রাহঃ) বলেছেন, আসরের নামাযের সর্বশেষ সময় হল যখন সূর্যের হলুদ রং জমীনে প্রতিভাত হতে দেখা যায় (এরপর মাকরূহ সময় শুরু হয়)।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ أَبُو عَمْرٍو يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ وَذَلِكَ أَنْ تَرَى، مَا عَلَى الأَرْضِ مِنَ الشَّمْسِ صَفْرَاءَ .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৪১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১০. মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত।
৪১৬. দাউদ ইবনে শাবীব ..... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায পড়তাম। অতঃপর আমরা তীর নিক্ষেপ করতাম। তা পতিত হওয়ার স্থান আমাদের যে কেউ দেখতে পেত।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْمِي فَيَرَى أَحَدُنَا مَوْضِعَ نَبْلِهِ .
হাদীস নং: ৪১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১০. মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত।
৪১৭. আমর ইবনে আলী ..... সালামা ইবনুল আক্ওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অস্তগামী সূর্যের উপরের অংশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরপরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عِيسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا .
হাদীস নং: ৪১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১০. মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত।
৪১৮. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ..... মারছাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবু আইয়ুব (রাযিঃ) গাযী (সৈনিক) হিসাবে মিসরে আসেন উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) সেখানকার গভর্নর ছিলেন। উকবা (রাযিঃ) একদা মাগরিবের নামায আদায়ে বিলম্ব করলে তিনি (আবু আইয়ুব) দাঁড়িয়ে বলেন, হে উকবা! এ কেমন নামায? উকবা (রাযিঃ) ওযর পেশ করে বলেন, আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আবু আইয়ুব (রাযিঃ) দাড়িঁয়ে তাঁর সামনে বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেন নিঃ আমার উম্মতগণ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে অথবা আসল অবস্থায় থাকবে যতদিন তারা মাগরিবের নামায নক্ষত্ররাজী আলোক বিকিরণ করবার আগেই আদায় করবে।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ عَلَيْنَا أَبُو أَيُّوبَ غَازِيًا وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ يَوْمَئِذٍ عَلَى مِصْرَ فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ فَقَامَ إِلَيْهِ أَبُو أَيُّوبَ فَقَالَ لَهُ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ يَا عُقْبَةُ فَقَالَ شُغِلْنَا . قَالَ أَمَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ - أَوْ قَالَ عَلَى الْفِطْرَةِ - مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلَى أَنْ تَشْتَبِكَ النُّجُومُ " .
হাদীস নং: ৪১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১১. এশার নামাযের ওয়াক্ত।
৪১৯. মুসাদ্দাদ ..... নোমান ইবনে বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এশার নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই নামায তৃতীয়ার চাঁদ অস্তমিত হওয়া পরিমাণ সময়ের পর আদায় করতেন।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ، بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلاَةِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ .
হাদীস নং: ৪২০
আন্তর্জাতিক নং: ৪২০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১১. এশার নামাযের ওয়াক্ত।
৪২০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আসার অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা আরো কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আগমন করেন। তিনি কি কারণে বিলম্ব করেন তা আমরা অবগত ছিলাম না। তিনি এসে বলেনঃ তোমরা কি এই নামাযের প্রতীক্ষায় ছিলে? যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক না হত, তবে আমি প্রত্যহ এশার নামায এই সময়ে আদায় করতাম। অতঃপর তিনি মুয়াযযিনকে ইকামত দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ بَعْدَهُ فَلاَ نَدْرِي أَشَىْءٌ شَغَلَهُ أَمْ غَيْرُ ذَلِكَ فَقَالَ حِينَ خَرَجَ " أَتَنْتَظِرُونَ هَذِهِ الصَّلاَةَ لَوْلاَ أَنْ تَثْقُلَ عَلَى أُمَّتِي لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ " . ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ .
হাদীস নং: ৪২১
আন্তর্জাতিক নং: ৪২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১১. এশার নামাযের ওয়াক্ত।
৪২১. আমর ইবনে উছমান ..... আসেম (রাহঃ) থেকে মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য নবী (ﷺ)-এর প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি সেদিন এত বিলম্ব করেন যে, ধারণাকারীর নিকট এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আদৌ বের হবেন না। আমাদের কেউ কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়ত তিনি ঘরেই নামায আদায় করেছেন।

আমরা যখন এরূপ অবস্থায় ছিলাম, তখন নবী (ﷺ) বের হলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম যা বলাবলি করছিলেন নবী (ﷺ)-কে তাই বলেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এই নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা এই নামাযের কারণেই অন্যান্য উম্মতগণের উপরে তোমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। ইতিপূর্বে কোন নবীর উাম্মাত এই নামায আদায় করে নি।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، يَقُولُ ارْتَقَبْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْعَتَمَةِ فَأَخَّرَ حَتَّى ظَنَّ الظَّانُّ أَنَّهُ لَيْسَ بِخَارِجٍ وَالْقَائِلُ مِنَّا يَقُولُ صَلَّى فَإِنَّا لَكَذَلِكَ حَتَّى خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا لَهُ كَمَا قَالُوا فَقَالَ لَهُمْ " أَعْتِمُوا بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فَإِنَّكُمْ قَدْ فُضِّلْتُمْ بِهَا عَلَى سَائِرِ الأُمَمِ وَلَمْ تُصَلِّهَا أُمَّةٌ قَبْلَكُمْ " .
হাদীস নং: ৪২২
আন্তর্জাতিক নং: ৪২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১১. এশার নামাযের ওয়াক্ত।
৪২২. মুসাদ্দাদ ...... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে এশার নামায আদায় করি সেদিন আনুমানিক তিনি অর্ধ-রাত অতিবহিত হওয়ার পর এশার নামায আদায় করতে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। অতএব আমরা নিজেদের স্থানে বসে থাকি। অতঃপর তিনি বলেনঃ অনেকেই এশার নামায আদায় করে শুয়ে পড়েছে। তোমরা যতক্ষণ এই নামাযের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ তোমরা নামায আদায়কারী হিসাবে পরিগণিত হয়েছ। যদি দুর্বলের দুর্বলতা ও রোগীর রোগগ্রস্ততার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এই নামায আদায়ের জন্য অর্ধ-রজনী পর্যন্ত বিলম্ব করতাম।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعَتَمَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ حَتَّى مَضَى نَحْوٌ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَقَالَ " خُذُوا مَقَاعِدَكُمْ " . فَأَخَذْنَا مَقَاعِدَنَا فَقَالَ " إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَأَخَذُوا مَضَاجِعَهُمْ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ وَلَوْلاَ ضَعْفُ الضَّعِيفِ وَسَقَمُ السَّقِيمِ لأَخَّرْتُ هَذِهِ الصَّلاَةَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ " .
হাদীস নং: ৪২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২. ফজরের নামাযের ওয়াক্ত।
৪২৩. আল্-কানবী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন সময় ফজরের নামায পড়তেন যে, মহিলারা চাঁদর গায়ে দিয়ে প্রত্যাবর্তন করত এবং অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الصُّبْحِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ .
হাদীস নং: ৪২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২. ফজরের নামাযের ওয়াক্ত।
৪২৪. ইসহাক .... রাফে ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পূর্ব দিগন্ত পরিষ্কার হওয়ার পর ফজরের নামায আদায় করবে; কেননা এর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম বিনিময় রয়েছে।
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ الصُّبْحِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأُجُورِكُمْ " . أَوْ " أَعْظَمُ لِلأَجْرِ " .
হাদীস নং: ৪২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪২৫. মুহাম্মাদ ইবনে হারব ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনুস-সুনাবিহী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদের মতানুযায়ী বেতেরের নামায ওয়াজিব (ফরয)। উবাদা ইবনুস-সামিত (রাযিঃ) বলেন, আবু মুহাম্মাদের ধারণা সঠিক নয়। আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পাঁচ ওয়াক্তের নামায ফরয করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে নির্ধারিত সময়ে বিনয়ের সাথে নামায আদায় করবে-তার জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, আল্লাহ্ তার সমস্ত পাপ মাফ করবেন। অপরপক্ষে যারা এরূপ করবে না তাদের জন্য আল্লাহর কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাদের ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দেবেন।
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصُّنَابِحِيِّ، قَالَ زَعَمَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَنَّ الْوِتْرَ، وَاجِبٌ، فَقَالَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ تَعَالَى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ " .
হাদীস নং: ৪২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪২৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... উম্মে ফারওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে নামায আদায় করা সর্বোত্তম কাজ।

আল-খুযাঈ তাঁর হাদীসে বলেন, তাঁর ফুফু উম্মে ফারওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট বাই’আত হয়েছিলেন।
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ غَنَّامٍ، عَنْ بَعْضِ، أُمَّهَاتِهِ عَنْ أُمِّ فَرْوَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " الصَّلاَةُ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا " . قَالَ الْخُزَاعِيُّ فِي حَدِيثِهِ عَنْ عَمَّةٍ لَهُ يُقَالُ لَهَا أُمُّ فَرْوَةَ قَدْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ .
হাদীস নং: ৪২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪২৮. মুসাদ্দাদ .... আবু বকর ইবনে উমরা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে বসরার এক লোক প্রশ্ন করে, আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যা শুনেছেন তা আমাকে কিছু বলুন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায (ফজর ও আসর) আদায় করবে সে দোযখে প্রবেশ করবে না।

তখন তিনি বলেন, আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে শুনেছেন? এরূপ উক্তি তিনি তিনবার করেন। জবাবে উমরা (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এর সবটাই আমি আমার দুই কানে শুনেছি এবং অন্তরের সাথে হিফাজত করেছি। তখন ঐ ব্যক্তি (সাহাবী) বলেন, আমিও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি।
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْبِرْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ " . قَالَ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . قَالَ نَعَمْ . كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . فَقَالَ الرَّجُلُ وَأَنَا سَمِعْتُهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ .
হাদীস নং: ৪২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪২৭. আমর ইবনে আওন .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে ফাদালা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছিলেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের হিফাযত সঠিকভাবে করবে। আমি বলি, এই সময়ে আমি কর্মব্যস্ত থাকি। অতএব আমাকে এমন একটি পরিপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা দিন যা আমল করলে আমার অন্য কিছু করার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেনঃ তুমি দু’টি আসরের (সময়ের) হিফাযত কর। রাবী বলেন, তা আমাদের পরিভাষায় না থাকায় আমি তাঁকে দু’টি আসর কি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বের নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের নামায (অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায) সঠিক সময়ে আদায় করবে।*

* নবী করীম (ﷺ) উক্ত সাহাবীকে ফজর ও আসরের নামায তার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেন এবং অন্যান্য নামায তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করতে বলেন। সাধারণত দেখা যায় যে, ফজর ও আসরের নামায আদায় করতে মানুষ বেশী অবহেলা করে। কেননা ফজরের সময় লোকেরা ঘুমের মধ্যে থাকে এবং আসরের সময় কর্মব্যস্ত থাকে। সেজন্য উক্ত দুই ওয়াক্তের নামাযের জন্য তিনি অধিক তাকিদ করেছেন। – (অনুবাদক)
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ فِيمَا عَلَّمَنِي " وَحَافِظْ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ " . قَالَ قُلْتُ إِنَّ هَذِهِ سَاعَاتٌ لِي فِيهَا أَشْغَالٌ فَمُرْنِي بِأَمْرٍ جَامِعٍ إِذَا أَنَا فَعَلْتُهُ أَجْزَأَ عَنِّي فَقَالَ " حَافِظْ عَلَى الْعَصْرَيْنِ " . وَمَا كَانَتْ مِنْ لُغَتِنَا فَقُلْتُ وَمَا الْعَصْرَانِ فَقَالَ " صَلاَةٌ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٌ قَبْلَ غُرُوبِهَا " .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৪২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪২৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ..... আবুদ-দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচটি জিনিস ঈমানের সাথে সস্পাদন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার উযু ও রুকু-সিজদা সহকারে এবং ওয়াক্ত মত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে, সামর্থ থাকলে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে, মনকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে যাকাত দিবে এবং আমানত আদায় করবে। লোকেরা বলল, হে আবুদ-দারদা! আমানত আদায়ের অর্থ কি? তিনি বলেন, নাপাকীর গোসল।
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، وَأَبَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ خُلَيْدٍ الْعَصَرِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ مَعَ إِيمَانٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ عَلَى وُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ وَمَوَاقِيتِهِنَّ وَصَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَأَعْطَى الزَّكَاةَ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ وَأَدَّى الأَمَانَةَ " . قَالُوا يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ وَمَا أَدَاءُ الأَمَانَةِ قَالَ الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ .
হাদীস নং: ৪৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।
৪৩০. হায়ওয়াত ইবনে শুরায়হ্ আল-মিসরী ..... আবু কাতাদা ইবনে রিবঈ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ বলেন, নিশ্চিত আমি আপনার উম্মতের উপর পাচঁ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে; আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না; তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই।
كتاب الصلاة
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ
حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ ضُبَارَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلِيكٍ الأَلْهَانِيِّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ إِنَّ أَبَا قَتَادَةَ بْنَ رِبْعِيٍّ أَخْبَرَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى إِنِّي فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ جَاءَ يُحَافِظُ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلاَ عَهْدَ لَهُ عِنْدِي " .